আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৭ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

চট্টগ্রামে রেলের ২১ কোটি টাকার জমি উদ্ধারে বাধা

প্রকাশিত : ২৩ মে ২০১৫

মাকসুদ আহমদ, চট্টগ্রাম অফিস ॥ চট্টগ্রামে মাদ্রাসা ও এতিমখানার নামে রেলের ২১ কোটি টাকা মূল্যের ৩৫ গ-া জায়গা দখলে নিয়েছিল একটি ভূমিদস্যু চক্র। কয়েক বছর ধরে এই জায়গা দখলে রেখে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নামে অর্থ আদায় ও ভোগ দখল করে আসছে চক্রটি। কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট (এসআরডিআই) বাস্তবায়নাধীন ‘সার পরীক্ষাগার ও গবেষণা কেন্দ্র’ স্থাপন শীর্ষক প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়। রেলের পক্ষ থেকে এই ভূমি উদ্ধারে দফায় দফায় নোটিস ইস্যু করা হলেও তোয়াক্কা করেনি চক্রটি। অবশেষে বৃহস্পতিবার রেলের বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা ও ডেপুটি কমিশনার ও সহকারী ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তার নেতৃত্বে কয়েক প্লাটুন পুলিশ এ ভূমি উদ্ধারে অভিযানে নামে। স্থানীয়দের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে রেল মন্ত্রণালয়ের অশুভ হস্তক্ষেপের কারণে এ ভূমির আংশিক উচ্ছেদ করতে পারেনি দলটি।

অভিযোগ রয়েছে, প্রায় ২১ কোটি টাকা মূল্যের এ ভূমি অবৈধ দখলে রাখতে তারা সন্ত্রাসীও ভাড়া করে। স্থানীয় আলমগীর, হারুন, তসলিম, আলমগীর প্রকাশ চিটিং আলমগীর,সাহাবুদ্দিনসহ ১৫ সদস্যের একটি সিন্ডিকেট প্রায় ৮০ লাখ টাকার লেনদেন করেছে অবৈধ মাদ্রাসা ও মসজিদ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে। ফরহাদ আজাদ নামের এক ডেভেলপার এই চক্রের সঙ্গে জড়িত রয়েছে।

রেলের পূর্বাঞ্চলীয় ভূ-সম্পত্তি দফতর সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামের উত্তর হালিশহরে আনন্দপুর চৌধুরীপাড়ার মহিলা পলিটেকনিক্যাল কলেজ সংলগ্ন এলাকায় রেলের বিপুল পরিমাণ ভূমি রয়েছে। কিন্তু অবৈধভাবে রেলের প্রায় দশমিক ৭০ একর বা ৩৫ গ-া জমিতে দারুল আবরার মসজিদ ও এতিমখানা গড়ে তোলে স্থানীয় মোঃ নাছির উদ্দিন ও মোহাম্মদ বশির উদ্দিন। তারা যথাক্রমে নিজেদের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও সহকারী পরিচালক হিসেবে জাহির করে আসছেন। রেলের এই জায়গায় নিজেদের দানবীর হিসেবে পরিচয় দিয়ে মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানা গড়ে তোলা হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, এই প্রকল্পের জন্য বরাদ্দকৃত দশমিক ৭০ একর ভূমিতে দারুল আবরার মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানা গড়ে তুলতে প্রতীকী মূল্যে এ ভূমি লিজ বা লাইসেন্স প্রাপ্তির আবেদন করা হয়। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি রেলের মহা-পরিচালক বরাবর আবেদন করা হয় সম্পূর্ণ অনিয়মতান্ত্রিকভাবে। ফলে মহাপরিচালকের কার্যালয়ের গত ১০ মার্চ এক পত্রের মাধ্যমে বাংলাদেশ জমি-জমা ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত নীতিমালা অনুযায়ী দাখিলকৃত আবেদনটি বিবেচনা করার সুযোগ নেই মর্মে সাফ জানিয়ে দেয়া হয়।

এ ব্যাপারে ঐ অভিযানে থাকা সহকারী বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা আব্দুল বারী জনকণ্ঠকে জানিয়েছেন, অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে আমরা কঠোর অবস্থানে রয়েছি। এ ছাড়াও এই ভূমিটি মৃত্তিকা সম্পদ উন্নযন ইনস্টিটিউট (এসআরডিআই) বাস্তবায়নাধীন প্রকল্প “সার পরীক্ষাগার ও গবেষণা কেন্দ্র” স্থাপনে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এ সম্পত্তি দখলে রাখতে চক্রটি সন্ত্রাসী ভাড়া করেছে। কিন্তু স্থানীয়দের সহযোগিতায় উদ্ধার কাজ অনেকাংশে সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া তারা আগামী ২৮ মের মধ্যে সকল অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেয়ার বিষয়ে মুচলেকা দিয়েছে।

প্রকাশিত : ২৩ মে ২০১৫

২৩/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

দেশের খবর



ব্রেকিং নিউজ: