মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

রমজান মাস সামনে রেখে সক্রিয় হয়ে উঠছে সিন্ডিকেট

প্রকাশিত : ২৩ মে ২০১৫
  • দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানে সরকার
  • বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ক্রাশ প্রোগ্রাম
  • পর্যবেক্ষণে ১৪ মনিটরিং টিম

এম শাহজাহান ॥ রমজান মাস সামনে রেখে ৩৪ জনের সেই সিন্ডিকেট চক্রটি আবার সক্রিয় হয়ে উঠছে। এই ৩৪ আমদানিকারক-ব্যবসায়ী দেশের ভোজ্যতেল, চিনি, পেঁয়াজ, ছোলা এবং ডালের বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। আবার এই পাঁচটি পণ্যই রোজায় সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয়ে থাকে। চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ এবং ঢাকার মৌলভীবাজার কেন্দ্রিক এসব ব্যবসায়ীদের দম ফেলার সময় নেই। কারণ রোজা আসছে। এখন সারাদেশের পাইকারি ব্যবসায়ীদের আনাগোনা এসব পণ্যের মোকামগুলোতে। ইতোমধ্যে ছোলা ও পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেছে। বেশি নেয়া হচ্ছে ভোজ্যতেলের দাম। আশঙ্কা করা হচ্ছে, দুর্বল মনিটরিংয়ের সুযোগ নিয়ে পুরো রমজান মাসজুড়ে বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে পারে এই সিন্ডিকেট চক্র। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে এ তথ্য। এদিকে রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানে রয়েছে সরকার। ন্যায্যমূল্যে পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করার স্বার্থে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ক্রাশ প্রোগ্রাম হাতে নিয়েছে। এই প্রোগ্রামের আওতায় পুরো রমজান মাসজুড়ে বাজার পর্যবেক্ষণে নিয়োজিত থাকবে ১৪টি মনিটরিং টিম। সারাদেশের কোথাও যাতে পণ্যের দাম নিয়ে কেউ কারসাজি না করতে পারে সেজন্য আগামী সপ্তায় জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) কাছে চিঠি দেয়া হচ্ছে। কাঁচা মরিচ, টমেটো, বেগুন ও কিছু সবজি রফতানি রোজার মাসে বন্ধ রাখার ঘোষণা আসছে। খোলা ট্রাকে পণ্য বিক্রি করবে সরকারী সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ টিসিবি। পাঁচ পণ্য- ভোজ্যতেল, চিনি, পেঁয়াজ, ছোলা এবং ডালের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে এসব পণ্যের আমদানি শুল্ক শূন্য শতাংশ করা হতে পারে। এছাড়া দ্রব্যমূল্য নিয়ে কারসাজি করলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীর লাইসেন্স বাতিলসহ কারাদ- এবং আর্থিক জরিমানার কথা ভাবছে সরকার। এজন্য পুরো রমজান মাসজুড়ে গোয়েন্দা সংস্থাও তাদের নজরদারি বাড়াবে বলে জানা গেছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ জনকণ্ঠকে বলেন, সরকার বাজারে হস্তক্ষেপ করবে না। ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করবেন। তবে দ্রব্যমূল্য নিয়ে কেউ সিন্ডিকেট বা কারসাজির আশ্রয় নিলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে সরকার বাধ্য থাকবে। তিনি বলেন, রোজা আসলে কিছু ব্যবসায়ী কারসাজির আশ্রয় নিয়ে থাকে। তবে এবার ব্যবসায়ীরা এ ধরনের কোন কাজ করবে না বলে তাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এছাড়া সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে সব খাতের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বৈঠক করেছেন। ওই বৈঠকের পরও তিনি জানিয়েছেন, শুধু রোজা নয়, সারাবছরই নিত্যপণ্যের দাম স্বাভাবিক থাকবে। তাই দ্রব্যমূল্য নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। তিনি বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যাদি ভোক্তা সাধারণের কাছে যৌক্তিক মূল্যে পৌঁছে দেয়া বর্তমান সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক-রাজনৈতিক অঙ্গীকার।

জানা গেছে, বাণিজ্যমন্ত্রীর ঘোষণা, দেশে প্রচলিত পরিবেশক আইন, গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারি এবং বাজার মনিটরিং ব্যবস্থাকে পাশ কাটিয়ে সিন্ডিকেট চক্র রোজার আগেই অযৌক্তিক মূল্য বাড়িয়ে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া শুরু করেছে। রোজার আগেই পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারসাজি ধরা পড়েছে বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের দ্রব্যমূল্য মনিটরিং সেলে। ভোজ্যতেল, পেঁয়াজ এবং ছোলায় অতিরিক্ত দাম নেয়া হচ্ছে বলে মনে করে এই সংস্থাটি। তাই এসব পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে একটি সুপারিশও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে ট্যারিফ কমিশন।

সাধারণ মানুষের স্বস্তি নিশ্চিত করতে রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও সরবরাহের লক্ষ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে ১০টি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে- ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে মূল্য তালিকা দোকানে বাধ্যতামূলক টাঙিয়ে রাখা, নিয়মিত বাজার মনিটরিং, ভেজালবিরোধী অভিযান পরিচালনা, অবৈধভাবে পণ্য মজুদ ও সাপ্লাই চেইনে বিঘœ ঘটালে জেল-জরিমানা ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, আমদানিতে ঋণ সুবিধা, সহজ শর্তে এলসি খোলা এবং কয়েকটি পণ্যের আমদানিতে শুল্ক সুবিধা প্রদান, রমজান মাসজুড়ে স্বল্পদামে টিসিবির পণ্য সামগ্রী বিক্রি অব্যাহত রাখা, পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত ও চাঁদাবাজি বন্ধ, বন্দরে সতর্কতা, গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারি বাড়ানো ও রোজা চলাকালীন সময়ে শাক-সবজি রফতানি বন্ধ রাখা। আগামী ২ জুন শবে-বরাতের পর সরকার এসব কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে যাচ্ছে।

এছাড়া রমজান সামনে রেখে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে ১৭টি পণ্যকে অত্যাবশ্যকীয় এবং জরুরী পণ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। পণ্যগুলো হচ্ছে- পেঁয়াজ, রসুন, মশুর ডাল, ছোলা, শুকনা মরিচ, দারুচিনি, লবঙ্গ, এলাচি, ধনিয়া, জিরা, আদা, হলুদ, তেজপাতা, সয়াবিন তেল, পামতেল, চিনি ও খাদ্য লবণ। এসব পণ্যের মধ্যে রমজানে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয়ে থাকে ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, পেঁয়াজ, ডাল ও খেজুর। এই ছয়টি পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে ব্যবসায়ীদের আমদানি বাড়ানোর পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে স্বল্প সুদে ঋণ সুবিধার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

জানা গেছে, সরকারের এসব পদক্ষেপ থাকলেও শবে-ই-বরাতের আগেই বেড়েছে পেঁয়াজ ও ছোলার দাম। এদিকে রমজান মাস সামনে রেখে অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজার দর, দেশীয় মজুদ এবং সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। সেখানে ভোজ্যতেল, চিনি, মশুর ডাল, ছোলা, খেজুর, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, হলুদ এবং বিবিধ মসলার মজুদ, চাহিদা এবং দরদামের বিষয়য়টি আনা হয়েছে।

প্রকাশিত : ২৩ মে ২০১৫

২৩/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: