কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

১৩০ বছর পর চেখভের বই

প্রকাশিত : ২২ মে ২০১৫

বইটা ১৩০ বছর আগেই লিখেছিলেন আন্তন চেখভ। কিন্তু সেটা ছাপাখানা হয়ে বেরোচ্ছে আগামী সপ্তাহে। প্রকাশ করছে দ্য নিউইয়র্ক রিভিউ অব বুকস। ‘দ্য প্রাংক’ নামের ছোটগল্পের এই বইটিতে রয়েছে বেশ কিছু রম্য রচনা, স্কেচ ও ছোটগল্প। কিন্তু বেশ কিছু বিতর্কিত বিষয় থাকায় বিংশ শতকে কোনো প্রকাশক তখন বইটি ছাপতে চাননি। রাশিয়ায় একাধিক প্রকাশকের কাছে গিয়েছিলেন চেখভ। ১৮৬০ সালে রাশিয়ায় জন্ম নেওয়া আন্তন চেখভ পেশায় ছিলেন একজন ডাক্তার। ১৮৮০ সালের দিকে লেখালেখিতে জড়িয়ে পড়েন চেখভ। সে সময়ে ডাক্তারি পড়ছিলেন তিনি। লেখাপড়ার খরচ চালাতে লেখালেখি শুরু করেন। এর দুই বছরের মধ্যেই প্রায় ৬০টি ছোটগল্প প্রকাশিত হয় তাঁর। চেখভ বলতেন, ‘ঘর করছি ডাক্তারির সঙ্গে আর প্রেম করছি লেখালেখির সঙ্গে।’ ছোটগল্প ছাড়াও বেশ কিছু বিখ্যাত মঞ্চনাটক লেখেন তিনি। তাঁর বিখ্যাত নাটকগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘আংকেল ভানইয়া’, ‘দ্য সিগাল’, ‘থ্রি সিস্টার্স’ এবং ‘দ্য চেরি অর্চার্ড’। রাশিয়ার বিভিন্ন রম্য ম্যাগাজিনের জন্য তিনি কার্টুন এঁকেছেন, স্কেচ করেছেন এবং রম্যরচনা লিখেছেন। ১৮৮২ সালে চেখভ সিদ্ধান্ত নেন লেখক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য ছোটগল্পের একটি সংস্করণ তৈরি করবেন। সে জন্য নিজের লেখা ছোটগল্পগুলো থেকে ১২টি গল্প বেছে তৈরি করেন পা-ুলিপি, যার প্রচ্ছদ এঁকেছিলেন তাঁর ভাই নিকোলাই।

ছোটগল্পের বইটির নাম ‘দ্য প্রাংক’ রেখেছিলেন চেখভ। মোট ১২টি গল্প নিয়ে পা-ুলিপিটি তৈরি করেছিলেন চেখভ। বইটি সম্পর্কে নিজের এক বন্ধুকে চেখভ লিখেছিলেন, ‘আমার সেরা গল্পগুলো এই বইয়ে আছে।’ বিদ্রুপাত্মক রচনা, ছাত্রজীবন, শৈল্পিক উচ্চাকাক্সক্ষা, পারিবারিক টানাপড়েন, ভালোবাসা এবং বিশ্বাসঘাতকতা- এসব বিষয় নিয়েই গল্পগুলো রচনা করেছিলেন চেখভ। যদিও বেঁচে থাকতে বইটি প্রকাশ করতে পারেননি তিনি। এসব গল্পের মধ্যে রয়েছে ‘আর্টিস্টস’, ‘ওয়াইভস’। ১৯০৪ সালে মাত্র ৪৪ বছর বয়সে মারা যান চেখভ।

পেন অ্যাওয়ার্ডে প্রতিবাদ

পেন আমেরিকান সেন্টারের বিদ্রুপাত্মক সংবাদপত্র শার্লি হেবদোকে ফ্রিডম অব এক্সপ্রেশন কারেজ অ্যাওয়ার্ড দেওয়ার প্রতিবাদে ছয় লেখক নিজেদের অনুষ্ঠান থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। ম্যানহাটনের আমেরিকান মিউজিয়াম অব ন্যাচারাল হিস্টোরিতে সাহিত্যিক পিটার ক্যারি, মাইকেল ওদাৎজে, ফ্রেঞ্চাইন প্রোস, তেজু কোল, তাইয়ে সেলাসি, র্জাচেল কুশনার নিজেদের প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। এক বার্তায় কুশনার জানান, ম্যাগাজিনটা ‘সাংস্কৃতিতে অসহিষ্ণুতা’ প্রকাশ করে বলে মনে করি। তার এ বক্তব্য অন্য লেখকদের কণ্ঠেও প্রতিধ্বনিত হয়। অন্যদিকে লেখক ক্যারি বলেন, বাকস্বাধীনতার জন্য সরকারি নিপীড়নের বিপরীতে অবস্থান নিতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে উৎসাহ দিতে এ অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়। তিনি শার্লির বিরুদ্ধে ‘সহিংস অপরাধ’ ঘটার বিষয়টি স্বীকার করলেও প্রতিষ্ঠানটিকে অ্যাওয়ার্ড দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, পেন জটিলতা সৃষ্টি করছে। যা আপাতদৃষ্টিতে সাংস্কৃতিক দাম্ভিকতাকে অনুপ্রাণিত করবে বলেই মনে করা হচ্ছে। পেন প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড্রু সোলোমন অবশ্য স্বীকার করেছেন অ্যাওয়ার্ড দেওয়ার বিষয়টি ষড়যন্ত্র হতে পারে। তবে এ বিষয়ে প্রচ সমালোচনাতে তিনি বেশি বিস্মিত হয়েছেন। এদিকে সাহিত্যিকদের এই সিদ্ধান্তকে ‘ভয়ঙ্কর ভুল’ বলে আখ্যায়িত করেছেন লেখক সালমান রুশদি।

‘দেশে-বিদেশে’র ইংরেজি অনুবাদ

সৈয়দ মুজতবা আলীর ‘দেশে-বিদেশে’ বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ ভ্রমণ কাহিনীগুলোর একটি। সৈয়দ মুজতবা আলী শান্তিনিকেতনে উচ্চশিক্ষা সমাপ্ত করে আফগান সরকারের অনুরোধে কাবুল কৃষি কলেজে ফারসি ও ইংরেজি ভাষার শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন ১৯২৭ সালে। তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ২৩ বছর। বাংলা থেকে পেশোয়ার হয়ে কাবুলে যাওয়ার বর্ণনা দিয়ে তাঁর ভ্রমণকাহিনী শুরু হয়। শেষ হয় রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে বিপর্যস্ত কাবুল ত্যাগের মধ্য দিয়ে। সাবলীল বর্ণনা ও সূক্ষ্ম রসবোধে বইটিতে উঠে এসেছে আফগানিস্তানের মানুষের জীবনযাত্রা, আচার-আচরণ ও আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট। সৈয়দ মুজতবা আলীর সাড়া জাগানো এ বইটি এবার প্রকাশিত হলো ইংরেজি অনুবাদে। বইটি অনুবাদ করেছেন বিবিসির সাবেক দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া-বিষয়ক নির্বাহী সম্পাদক নাজেস আফরোজ। ‘ইন অ্যা ল্যান্ড ফার ফ্রম হোম : অ্যা বেঙ্গলি ইন আফগানিস্তান’ শিরোনামে বইটি সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে স্পিকিং টাইগার পাবলিশিং প্রাইভেট লিমিটেড থেকে। বইটির ভূমিকা লিখেছেন আফগান ইতিহাসের একনিষ্ঠ গবেষক ন্যান্সি হ্যাচ ডুপ্রি।

অঞ্জন আচার্য

ইন্টারনেট অবলম্বনে

প্রকাশিত : ২২ মে ২০১৫

২২/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: