আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

ব্রিটিশ পার্লামেন্টে তিন বাঙালী নারী

প্রকাশিত : ২২ মে ২০১৫

ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের নানা পর্যায়ে নারীদের অবদান কোন অংশেই কম নয়। পর্দাপ্রথা ভেদ করে নারীরা রাজনৈতিক ক্ষেত্রে চলে এসেছেন সামনে সারিতে। বিশেষভাবে বিগত প্রায় ২৫ বছর ধরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পদটি ধরে রেখেছেন দুই নারী। বাংলাদেশের স্পীকারের পদটিও একজন নারী যোগ্যতার সঙ্গে পরিচালনা করে আসছেন। সাম্প্রতিক সময়ে ব্রিটেনের সাধারণ নির্বাচনে তিন বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত নারী এমপি পদে নির্বাচিত হয়েছে। এই তিন নারী হলেন- রুশনারা আলী, টিউলিপ সিদ্দিকী এবং রূপা হক। রুশনারা আলী এর আগেও নির্বাচিত এমপি ছিলেন। টিউলিপ সিদ্দিক ও রূপা হক প্রথমবারের মতো এমপি হয়েছেন। টিউলিপ সিদ্দিক বাংলাদেশের জাতির পিতা ও সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালী শেখ মুজিবুর রহমানের নাতনি। তিন নারীর এই সাফল্য অবশ্যই অনেক তাৎপর্য বহন করে।

দক্ষিণ এশিয়ায় বিশেষভাবে নারী নেতৃত্বের অস্তিত্ব এবং সাফল্য লক্ষণীয়। বিশে^র প্রথম মহিলা সরকারপ্রধান হয়েছেন এই অঞ্চলের শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট শ্রীমাভো বন্দরনায়েকে। তাঁরই কন্যা চন্দ্রিকা কুমারাতুঙ্গা পরবর্তীতে দেশের পেসিডেন্ট হন। এ অঞ্চলের সবচেয়ে বড় দেশ ভারতে ইন্দিরা গান্ধী দক্ষতার সঙ্গে সরকার পরিচালনা করেছেন। বর্তমানে তাঁর পুত্রবধূ সোনিয়া গান্ধী ভারতের সবচেয়ে প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ। তিনি ইউপিএ জোট এবং এই মোর্চার প্রধান দল কংগ্রেসের প্রধান। ভারতে প্রথমবারের মতো প্রতিভা পাতিল প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস হয়ে থাকবেন। দেশটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে কয়েকজন নারী মুখ্যমন্ত্রী রয়েছেন। ভারতের পার্লামেন্টে ছিলেন মীনা কুমারী নামের একজন স্পীকার।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন বেনজীর ভুট্টো। হিনা রাব্বানী পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে বেশ সাফল্য দেখিয়েছেন। মোট কথা, নারী নেতৃত্ব আর পিছিয়ে নেই। এখন বাঙালী নারীরা স্থান করে নিয়েছেন ইংল্যান্ডের মতো দেশে। ‘ব্রিটিশ’ শাসনের সঙ্গী বাঙালী নারীদের অংশগ্রহণের প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিলে দেখা যাবে, একটি সুস্থ ধারার গণতান্ত্রিক দেশে বাংলাদেশের নারীরা এগিয়ে যেতে পারছেন। পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক কর্মকা- বিচার-বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ব্রিটেনের নাগরিকরা সাধারণত যোগ্য পার্থী বাছাই করতে দ্বিধা বোধ করেন না।

রুশনারা আলী সিলেটের কন্যা যিনি দ্বিতীয়বারের মতো এমপি পদে নির্বাচিত হয়েছেন। এবারের নির্বাচনে পূর্ব লন্ডনের ‘বেথনাল গ্রিন এ্যান্ড বো’ আসনে লেবার পার্টির প্রার্থী হিসেবে তিনি ৩২ হাজার ৩৮৭ ভোট পান। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কনজারভেটিভ পার্টির প্রার্থী ম্যাথিও স্মিথের ভোট ৮ হাজার ৭০। ২০১১ সালে এই আসন থেকেই রুশনারা আলী নির্বাচিত হয়েছিলেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাতনি টিউলিপ সিদ্দিক প্রথমবারের মতো পার্লামেন্ট সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি স্থানীয় ক্যামেডন কাউন্সিলের প্রথম বাঙালী নারী কাউন্সিলর। টিউলিপ জন্মসূত্রে ব্রিটিশ নাগরিক। লন্ডনের মিচামে জন্ম নেয়া এই নারী কিংস কলেজ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেন। লেবার পার্টির সদস্য হিসেবে হ্যাম্পস্টেড এ্যান্ড কিলবার্ন আসন থেকে তিনি নির্বাচত হন। টিউলিপ সিদ্দিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি ‘দ্য এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যশনাল’, ‘গ্রেটার লন্ডন অথরিটি’ এবং ‘সেভ দ্য চিলড্রেন’- এই সংস্থাগুলোর সঙ্গে কাজ করেছেন।

রূপা হক বাংলাদেশের পাবনার মেয়ে। তিনি ইংল্যান্ডের কিংস্টন বিশ^বিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সিনিয়র লেকচারার। তিনি ইলিং সেন্ট্রাল এ্যান্ড এ্যাকটন থেকে নির্বাচত হন।

এই তিন বাঙালী নারী দক্ষতার সঙ্গে তাঁদের দায়িত্ব পালন করবেন- এটাই সবার প্রত্যাশা।

আবু সুফিয়ান কবির

প্রকাশিত : ২২ মে ২০১৫

২২/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: