হালকা কুয়াশা, তাপমাত্রা ১৮.৯ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

মহাবিশ্ব কি দ্বিমাত্রিক?

প্রকাশিত : ২২ মে ২০১৫

মহাবিশ্ব কি একটি হলোগ্রাম বা দ্বিমাত্রিক কিছু? প্রথম দর্শনে আমাদের সন্দেহ করার সামান্যতম অবকাশ নেই যে, মহাবিশ্বকে দেখতে লাগে ত্রিমাত্রিক। তবে গত দুই দশকের মধ্যে তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের ফলপ্রসূ একটি মতবাদে এমন ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। হলোগ্রাফিক এই মতবাদে জোর দিয়ে বলা হয়েছে, মহাবিশ্বের যতটা মাত্রা আছে বলে মনে হয়, এই বিষয়ক গাণিতিক ব্যাখ্যায় প্রকৃতপক্ষে তার চেয়ে একটা মাত্রা কম প্রয়োজন। ত্রিমাত্রিক বলে যেটাকে আমরা ধারণা করি, সেটা হয়ত বিশাল মহাজাগতিক দিগন্তে দ্বিমাত্রিক প্রক্রিয়ারই রূপমাত্র।

এতদিন পর্যন্ত হলোগ্রাফিক সূত্রটিকে ঋণাত্মক বক্রতাসংবলিত বিচিত্র ধরনের স্থানের ক্ষেত্রেই কেবল পরীক্ষা করে দেখা হয়েছিল। এমন স্থানগুলো আমাদের নিজস্ব মহাবিশ্বের স্থান থেকে একেবারেই আলাদা। এখন ভিয়েনার একদল বিজ্ঞানীর গবেষণায় দেখা গেছে যে, হলোগ্রাফিক সূত্রটি সমতল স্থানকালের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

ক্রেডিট কার্ড ও ব্যাংকনোট থেকে হলোগ্রামের কথা সবাই জানেন। এই হলোগ্রামগুলো দ্বিমাত্রিক। অথচ আমাদের কাছে সেগুলো ত্রিমাত্রিক বলেই মনে হয়। আমাদের মহাবিশ্বও ঠিক একই রকম হতে পারে। ১৯৯৭ সালে পদার্থবিজ্ঞানী জুয়ান মালদাসেনা বলেছিলেন, একদিকে বক্রতাসম্পন্ন এন্টি-ডি-সিটার স্থানের মাধ্যাকর্ষণগত তত্ত্ব এবং অন্যদিকে একটি কম মাত্রাসম্পন্ন স্থানের কোয়ান্টাম ক্ষেত্র তত্ত্বের মধ্যে সাদৃশ্য বা সামঞ্জস্য আছে। মাধ্যাকর্ষণগত আচরণ তিন স্থানিক মাত্রার ক্ষেত্রে বর্ণনা করা হয়ে থাকে। আর কোয়ান্টাম অনুকণার আচরণ নির্ণীত হয় স্রেফ দুই স্থানিক মাত্রার ক্ষেত্রে। অথচ দুটো হিসেবের ফলাফলকে পরস্পরের সঙ্গে সামঞ্জস্য বিধান করা যায়। এই সামঞ্জস্য বা সাদৃশ্য বেশ বিস্ময়কর। যেটাই হোক, মালদাসেনার তত্ত্ব ও ব্যাখ্যাটি অত্যন্ত সফল প্রমাণিত হয়েছে।

তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে এই ব্যাপারটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে আমাদের নিজস্ব মহাবিশ্বের ক্ষেত্রে এটার তেমন কিছু করার নেই। বাহ্যত আমরা এমন এক এন্টি-ডি-সিটার স্থানে বাস করি না। এই স্থানগুলোর বড় অদ্ভুত বৈশিষ্ট্য আছে। এগুলো ঋণাত্মক বক্রতাসম্পন্ন। তাই কোন বস্তু সরলরেখায় ছুড়ে মারা হলে শেষ পর্যন্ত সেটা ফিরে আসবে। ড্যানিয়েল নামে এক পদার্থবিজ্ঞানী বলেন, পক্ষান্তরে আমাদের মহাবিশ্ব যথেষ্ট সমতল এবং জ্যোতির্বিজ্ঞানীর দূরত্বের বিচারে এটি ধনাত্মক বক্রতাসম্পন্ন। অবশ্য ড্যানিয়েল বেশ কিছু সময় ধরে সন্দেহ করছিলেন যে, আমাদের প্রকৃত মহাবিশ্বের ক্ষেত্রে একটা সমদর্শী সূত্র প্রযোজ্য হতে পারে। বাস্তবে ড্যানিয়েল ও তাঁর সহকর্মীরা পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে সমতল মহাবিশ্বের এই সূত্রের সত্যতা খুঁজে পেয়েছেন। তাঁরা নিশ্চিত হয়েছেন যে, হলোগ্রাফিক সূত্র সমতল স্থানের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে পারে।

সূত্র : সায়েন্স ডেইলি

প্রকৃতি ও বিজ্ঞান ডেস্ক

প্রকাশিত : ২২ মে ২০১৫

২২/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: