আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৬ ডিসেম্বর ২০১৬, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

মস্তিষ্ক ছাড়া প্রাণী

প্রকাশিত : ২২ মে ২০১৫
  • এনামুল হক

মস্তিষ্ক ছাড়া কি আমরা চলতে পারি? মোটেও না। মস্তিস্ক ছাড়া বেঁচে থাকা কল্পনাও করা যায় না। কিন্তু অতিমাত্রায় সরল কিছু কিছু প্রাণী আছে যেগুলোর এক সময় মস্তিষ্ক ছিল, এখন নেই। ওদের মস্তিষ্কের কোন প্রয়োজন নেই বলেই ওরা মস্তিষ্ক থেকে মুক্তিলাভ করেছে। ফলে মস্তিষ্ক বলে এখন কিছুই নেই ওদের। এমনই একটি প্রাণী হলো স্পঞ্জ। মস্তিষ্ক ছাড়াই ওরা দিব্যি আছে। বেশ ভালভাবেই আছে।

লাখ লাখ বছরেরও বেশি সময় ধরে বেঁচে আছে স্পঞ্জ। সাগর তলদেশে থেকে তারা সেখানকার পুষ্টিকর উপাদান শরীরের অসংখ্য রন্ধপথ দিয়ে ছাঁকুনির মতো ছেঁকে গ্রহণ করে বেঁচে থাকে। আমাদের মস্তিষ্ক না হলে চলে না। কিন্তু স্পঞ্জ ও আরও কিছু প্রাণী মস্তিষ্ক ছাড়া ভালভাবেই চলতে পারে।

মস্তিষ্ক আর কিছুই নয়, নিউরণ নামক অসংখ্য স্নায়ুকোষের একটি দলাবিশেষ। অনেক প্রাণীর সত্যিকারের কোন মস্তিষ্ক নেই, বরং সারাদেহে ছড়িয়ে থাকা। নিউরণের নার্ভ নেই। স্পঞ্জের সেটাও নেই।

জটিল মস্তিষ্কের উৎপত্তি প্রায় ৫২ কোটি বছর আগে। আর প্রায় চার শ’ কোটি বছর আগে যখন প্রথম প্রাণের আবির্ভাব ঘটে, তখন থেকে মস্তিষ্কেরও উৎপত্তি ঘটতে শুরু করে। আমাদের আদিমতম পূর্বপুরুষরা ছিল এককোষী প্রাণী। এতে প্রায় সাড়ে তিন শ’ কোটি বছর পর অধিকতর জটিল প্রাণীদের উৎপত্তি ঘটে। তবে তাদের কোন স্নায়ুকোষ ছিল কিনা, তা পরিষ্কার নয়।

জটিল মস্তিষ্কসম্পন্ন সবচেয়ে পুরনো যে জীবাশ্মটির কথা আমরা জানি, সেটা প্রায় ৫২ কোটি বছরের পুরনো। তখন জীবনের প্রাচুর্য ও বৈচিত্র্য দুটোই ছিল। ওটা ক্যামব্রিয়ান বিস্ফোরণের অধ্যায় বলে পরিচিত। যে জীবাশ্মর কথা বলা হলো, সেটা আবিষ্কৃত হয় চীনে। ওটা ছিল ঘুণপোকার মতো দেখতে এক ধরনের প্রাণী, যার নখর ছিল, বড় ধরনের মস্তিষ্কের মতো কাঠামো ছিল এবং সেই মস্তিষ্কের বিশেষ ধরনের স্নায়ুর সার্কিট ছিল। এ থেকে বোঝা যায়, ৫২ কোটি বছর আগে জটিল মস্তিষ্কের অস্তিত্ব ছিল। কিন্তু সেগুলো সম্ভবত থেকে যেতে পারেনি।

বিবর্তনের আদি অসস্থায় স্পঞ্জের নিউরণ ছিল। পরে তারা তা খুইয়ে বসে। এমন ঘটনার নজিরের অভাব নেই। অনেক প্রজাতিই এই মৌলিক অঙ্গটি খুইয়ে ফেলেছিল। যেমন অন্ধকার গুহায় বাস করা খোলসযুক্ত প্রাণীরা দৃষ্টিশক্তি বা চোখ হারিয়ে ফেলছে। স্পঞ্জকে অনেক আগে থেকেই অন্যসব জীবিত প্রাণীর সমগোত্রীয় ভাবা হতো, যারা দীর্ঘকাল আগে বিচ্ছিন্ন হয়ে আলাদা এক শাখায় পরিণত হয়েছে। অদ্ভুত ব্যাপার হলো, স্পঞ্জের না থাকলেও কৌম জেলির জটিল স্নায়ুতন্ত্র আছে। তার মানে তাদের পূর্বপুরুষ যারা কিনা স্পঞ্জদেরও পূর্বপুরুষ তাদেরও সম্ভবত এই জটিল স্নায়ুতন্ত্র ছিল। সেটা যদি সত্য হয়, তাহলে বিবর্তনের যাত্রাপথে কোথাও না কোথাও স্পঞ্জরা তাদের স্নায়ুতন্ত্র হারিয়ে ফেলেছিল।

স্নায়ুতন্ত্র গড়ে ওঠার মতো প্রচুর জিন স্পঞ্জের শরীরে আছে। প্রশ্ন হচ্ছেÑ স্পঞ্জের যদি স্নায়ুতন্ত্র ছিলই তাহলে সেটা তারা খোয়ালো কেন? ওটা থেকে নিষ্কৃতি পেতে গেল কেন? মস্তিষ্ক বাদ দিয়ে বসা নিশ্চয়ই ভাল কিছু নয়। তারপরও ওটা তারা কেন করতে গেল?

কারণ নিশ্চয়ই আছে। প্রথমত মস্তিষ্ক বিপুল পরিমাণ এনার্জি খেয়ে ফেলে। মানুষের ক্ষেত্রেও দেখা যায়, আমাদের মোট এনার্জির ২০ শতাংশ মস্তিষ্ককে খাওয়ানোর পেছনেই চলে যায়। স্পঞ্জের কাজ হচ্ছে পানি থেকে শুধু দরকারী পুষ্টি উপাদান ছেঁকে তুলে নেয়া। সমুদ্র তলদেশে বসে বসে স্পঞ্জ কেবল এই কাজটাই করে। এর জন্য মস্তিষ্কের প্রয়োজন হয় না। মস্তিষ্ক থাকলে বাড়তি কোন লাভ তো হতোই না, উল্টো এর পেছনে এনার্জির অপচয় হতো এবং বাড়তি এনার্জির চাহিদা বজায় রাখতে পারা হয়ত সম্ভব হতো না। সেজন্যই তারা মস্তিষ্ককে বাদ দিয়ে ফেলে।

সূত্র : এ্যানিমেল সায়েন্স

প্রকাশিত : ২২ মে ২০১৫

২২/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: