মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

আগাছা নাশক প্রয়োগ করে সর্বস্বান্ত টাঙ্গাইলের পাটচাষী

প্রকাশিত : ২২ মে ২০১৫
  • ক্ষতি পূরণের আশ্বাস দিলেও পায়নি ভুক্তভোগী

নিজস্ব সংবাদদাতা, টাঙ্গাইল, ২১ মে ॥ একটি নামকরা কোম্পানির আগাছা নাশক ব্যবহার করে সর্বস্বান্ত হয়েছে অনেক পাটচাষী। শুধু সদর উপজেলার হুগড়া ইউনিয়ন ও আশপাশের কয়েকটি গ্রামের প্রায় ৫০ একর জমির পাট নষ্ট হয়ে গেছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কোম্পানির উর্ধতন কর্মকর্তারা বৈঠক করে ক্ষতিপূরণ দেয়ার আশ্বাস দিয়েও তারা তা দিচ্ছেন না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই কোম্পানির কর্মকর্তারা কিছুদিন পূর্বে তাদের নতুন পাটের আগাছা নাশক একিউরেটর ও সারপাস ব্যবহার ও বাজারজাতকরণের জন্য খামারবাড়িতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কর্মকর্তা, কীটনাশক ব্যবসায়ী ও কৃষকদের নিয়ে দিনব্যাপী কর্মশালা করেন। সেখানে কোম্পানির কর্মকর্তা এসব ওষুধের গুণাগুণ বর্ণনা করেন। টাঙ্গাইল সদর উপজেলার হুগড়া ইউনিয়নের চিনাখালী বাজারের কীটনাশক ব্যবসায়ী মেসার্স শান্তা ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী হাজী শামসাদ আলী কোম্পানির টাঙ্গাইল শহরের ডিলার মেসার্স হালিম সরকারের মাধ্যমে ঐ দু’টি আগাছা নাশক এনে কৃষকদের কাছে বিক্রি করেন। কৃষকরা পাটের জমিতে এসব ওষুধ ব্যবহারের ফলে আগাছা তো মরেইনি উল্টো পাটের চারাগুলোই মরে গেছে। হুগড়া ইউনিয়নের ধুলবাড়ি ও কচুয়া এলাকা ও আশপাশের গ্রামের প্রায় ৫০ একর পাটের জমি নষ্ট হয়ে গেছে। এসব জমির আশপাশে যেসব পাটের জমিতে অন্য কোম্পানির আগাছা নাশক ব্যবহার হয়েছে সেগুলো ভালো রয়েছে। সরেজমিনে ধুলবাড়ি ও কচুয়া গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, যেসব জমিতে পদ্মা’র আগাছা নাশক ব্যবহার হয়েছে সেগুলোর পাটের চারা মরে গেছে। কীটনাশক ব্যবসায়ী মেসার্স শান্তা ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী হাজী শামসাদ আলী জানান, স্থানীয় কৃষকরা সাধারণত অন্য কোম্পানির পাটের আগাছা নাশক ব্যবহার করত। ওই কোম্পানি স্থানীয় প্রতিনিধি নতুন এই আগাছা নাশক ব্যবহারের পরামর্শ দেয়। তার দোকান থেকে কৃষকরা এই আগাছা নাশক নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তার ওপর সব দোষ চাপাচ্ছেন। ওই কোম্পানির ডিলার শামীম আল আলম বলেন, কোম্পানির উর্ধতন কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত জমিগুলো দেখেছেন। তাদের ওষুধ ব্যবহারে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তারা ক্ষতিপূরণ দেয়ার কথা বললেও এখন আর যোগাযোগ করছেন না।

ওই কোম্পানির ডেপুটি ম্যানেজার রেজা ই করিম জানান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। তাদের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত পাট চাষীদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার ব্যবস্থা হয়েছে। এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর টাঙ্গাইলের উপ-পরিচালক আবুল হাশিম বৈঠকের কথা স্বীকার করে বলেন, হুগড়া এলাকার প্রায় ৫০ একর জমির পাট তাদের কীটনাশক ব্যবহারে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোম্পানির কর্মকর্তারা ক্ষতিপূরণ দেয়ার আশ্বাস দিলেও তারা আর আমাদের সঙ্গে কোন যোগাযোগ করেনি।

প্রকাশিত : ২২ মে ২০১৫

২২/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

দেশের খবর



ব্রেকিং নিউজ: