মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

তুচ্ছ ঘটনার জেরে বড় দুর্ভোগ পোহাচ্ছে যাত্রীরা

প্রকাশিত : ২২ মে ২০১৫
  • ২৪ জেলায় দ্বিতীয় দিনের মতো পরিবহন ধর্মঘট
  • আজ থেকে এসব রুটে সব লোকাল বাস চলাচল বন্ধের হুমকি

স্টাফ রিপোর্টার ॥ তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২৪ জেলায় দ্বিতীয় দিনের মতো অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট পালিত হয়েছে। পূর্ব কোন ঘোষণা ছাড়াই ধর্মঘটের কারণে যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে ওঠেছে। বেনাপোল বন্দরসহ বিভিন্ন স্থানে আটকে আছেন হাজারো যাত্রী। পরিবহন মালিক শ্রমিক থেকে শুরু করে পুলিশ প্রশাসন নিজ-নিজ অবস্থানে অনড় থাকায় সঙ্কটের সমাধান হচ্ছে না। এদিকে যে কোন ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিবহন সংশ্লিষ্টদের হুটহাট করে কঠোর কর্মসূচী দেয়ার বিষয়টি ইতিবাচক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছেন না কেউই। বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত ধর্মঘট প্রত্যাহারে কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি বলে জানা গেছে। এর মধ্যে দাবি আদায়ে আরও কঠোর কর্মসূচীতে যাচ্ছে পরিবহন নেতারা।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ফরিদপুরের মধুখালীতে বেনাপোলগামী সোহাগ পরিবহনের একটি নৈশকোচে সোমবার রাতে ডাকাতির পর যাত্রীদের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাসটির চালক আয়নাল হোসেন (৪০) ও তার সহকারী শাকিলকে (২৬) আটক করে। পরে ডাকাতির মামলা করে তাদের দু’জনকে গ্রেফতার দেখানো হয় বলে মধুখালী থানার ওসি রুহুল আমিন জানান। তবে সোহাগ পরিবহনের বেনাপোল অফিসের ব্যবস্থাপক সহিদুল ইসলাম দাবি করেছেন, ডাকাতির পর চালক বাস নিয়ে মধুখালী থানায় জিডি করতে গেলে পুলিশ তাদের আটক করে কারাগারে পাঠায়। এরই প্রতিবাদে বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। মঙ্গলবার ভোর ৫টা থেকে পরিবহন শ্রমিকদের এই ধর্মঘট শুরু হয়।

সোহাগ পরিবহনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাছির জনকণ্ঠকে জানান, পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, ডাকাতির পেছনে বাস সংশ্লিষ্টদের হাত রয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো-যাত্রাপথে রাস্তায় ডাকাতির স্থান মধুখালীতে বিরতি ছিল না। যাত্রীবেশে ডাকাতরা গাড়িতে অবস্থান নেয়। তার দাবি, ডাকাতদলের ছবি, ভিডিও ফুটেজসহ টিকেট সংরক্ষণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী রাতে জনকণ্ঠকে জানিয়েছেন, সঙ্কট সমাধানে সরকারের পক্ষ থেকে সাড়া মেলেনি। বাস্তবতা হলো কোন পক্ষই এ ব্যাপারে যোগাযোগ না করায় ধর্মঘট বন্ধের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জনদুর্ভোগের বিষয়টি আমাদের মাথায় রয়েছে। কিন্তু একটি অন্যায় কাজকে পরিবহন শ্রমিকরা সমর্থন করতে পারে না। ভবিষ্যতে যেন অন্যায়ভাবে কোন পরিবহন শ্রমিককে গ্রেফতার করা না হয় এজন্য এ কর্মসূচী চালিয়ে যাওয়ার কথা জানান তিনি। সমাধান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগে গ্রেফতারকৃত শ্রমিকদের নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে। গ্রেফতার করতে হবে ডাকাতদের। এরপরই বাস চলবে। তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে পুলিশের উচ্চ পর্যায়ে কথা হয়েছে। সরকার বা প্রশাসন এ ব্যাপারে কোন উদ্যোগ নেয়নি। স্থানীয় পুলিশের বক্তব্য হলো, গ্রেফতারকৃতদের পক্ষে আদালতে জামিন চাওয়া হোক। আমরা বলেছি, তারা অপরাধ করেনি। তাই নিঃশর্ত মুক্তি চাই। তিনি বলেন, ধর্মঘটের কারণে বৃহত্তর ফরিদপুর, বরিশালসহ খুলনা রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। শুক্রবার থেকে এসব রুটে লোকাল বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়া হবে। রবিবার থেকে গোটা উত্তরবঙ্গজুড়ে ধর্মঘট চলবে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর গাবতলী থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কোন বাস ছেড়ে যায়নি। বাস কাউন্টারগুলো দিনভর বন্ধ ছিল। কিছু কিছু কাউন্টার খোলা থাকলেও টিকেট দেয়া হয়নি। জরুরী প্রয়োজনে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা দিতে পারছেন না যাত্রীরা। অনেককেই দিনভর টার্মিনালে বাস ছাড়ার অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। বাস চলাচল বন্ধ থাকায় ট্রেনে বেড়েছে যাত্রী চাপ। জরুরী প্রয়োজনে অনেকেই মাইক্রো ভাড়া করে যাচ্ছেন।

স্টাফ রিপোর্টার, যশোর অফিস থেকে জানান, চালকের বিরুদ্ধে ডাকাতি মামলা ও গ্রেফতারের প্রতিবাদে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে পরিবহন ধর্মঘট অব্যাহত রয়েছে। ধর্মঘটের কারণে হঠাৎ করেই মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে পরিবহন যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। খুলনা বিভাগীয় পরিবহন মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ ধর্মঘটের ডাক দেয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বাস যোগাযোগ বন্ধ থাকায় দুর্ভোগের পড়েছেন এ অঞ্চলের যাত্রীরা। ধর্মঘটে যাওয়া সংগঠনটি বলছে, ডাকাতি মামলায় আটক চালককে মুক্তি না দেয়া পর্যন্ত ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে।

বাংলাদেশ পরিবহন সংস্থা শ্রমিক সমিতির সভাপতি আজিজুল আলম মিন্টু জানান, নিরপরাধ চালককে ডাকাতির মামলায় আসামি করার প্রতিবাদে এ ধর্মঘটের ডাক দেয়া হয়েছে।

প্রকাশিত : ২২ মে ২০১৫

২২/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: