কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

পোশাক কারখানার ২০ শতাংশ ত্রুটি সংশোধন হয়েছে - অ্যাকর্ড

প্রকাশিত : ২১ মে ২০১৫, ০৭:০৪ পি. এম.

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ ইউরোপভিত্তিক ক্রেতাদের সমন্বয়ে গঠিত কারখানা পরিদর্শন জোট অ্যাকর্ড জানিয়েছে, বাংলাদেশের প্রায় ১ হাজার ৫শ’ কারখানা পরিদর্শন করে প্রায় ৫৪ হাজার নিরাপত্তা সংক্রান্ত ত্রুটি চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব ত্রুটি সমাধানের জন্য তিন মাস থেকে শুরু করে বিভিন্ন মেয়াদে সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়। এ পর্যন্ত ২০ শতাংশ নিরাপত্তা ত্রুটি সংশোধন বা সংস্কার কাজ সম্পন্ন করতে সমর্থ হয়েছে কারখানাগুলো।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে এক সাংবাদিক সম্মেলনে অ্যাকর্ডের পক্ষ থেকে এসব তথ্য জানানো হয়।

তাজরীন ও রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর আন্তর্জাতিক চাপে বাংলাদেশের পোশাক কারখানার নিরাপত্তা ব্যবস্থার পরীক্ষার লক্ষ্যে অ্যাকর্ড গঠিত হয়। এ উদ্যোগের সঙ্গে জড়িত রয়েছে ২০৮টি ক্রেতা প্রতিষ্ঠান। এসব ক্রেতার বেশিরভাগই ইউরোপভিত্তিক। বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করার পর দুই বছর সম্পন্ন করেছে অ্যাকর্ড। আলোচ্য সময় শেষে অ্যাকর্ডের কার্যক্রম ও কারখানার নিরাপত্তা ব্যবস্থার অগ্রগতি সম্পর্কে জানাতে এ সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশে অ্যাকর্ডের নির্বাহী পরিচালক রব ওয়েজ, প্রধান নিরাপত্তা পরিদর্শক ব্র্যাড লোয়েন এ সময় বিস্তারিত তুলে ধরেন।

এ সময় অ্যাকর্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়, বেঁধে দেয়া সময়সীমায় কাঙ্খিত সংস্কার কাজ সম্পন্ন হয় নি। অনেক কারখানার পরিদর্শন কার্যক্রম খুবই ধীর গতিতে এগুচ্ছে। কোন কোন কারখানা সংস্কার কার্যক্রমে সাড়া দিচ্ছে না। আবার কাউকে চিঠি পাঠিয়ে স্মরণ করিয়ে দেয়ার পর তারা কার্যক্রম চালাচ্ছে। এ পেছনে মালিকপক্ষের সদিচ্ছার অভাব রয়েছে উল্লেখ করে তাদের সতর্ক করা হয়েছে বলেও জানানো হয়।

অ্যাকর্ডে অন্তর্ভূক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো আগামী ৫ বছর কারখানার সংস্কার প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভূক্ত থাকতে চুক্তিবদ্ধ। এতে স্বাক্ষরকারী ক্রেতা প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনে অর্থ সহায়তা দিবে বলে অঙ্গীকারাবদ্ধ। কিন্তু পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র দাবি, অ্যাকর্ডের দাবি অনুযায়ী কারখানা সংস্কারে গড়ে ৫ কোটি টাকা প্রয়োজন। অনেক ক্ষুদ্র ও মাঝারি কারখানার পক্ষে এ অর্থায়ন সম্ভব হয়ে উঠছে না। অথচ অ্যাকর্ড অসমর্থ কারখানার মালিকদের অর্থায়নের অঙ্গীকার করলেও বাস্তবে তা করছে না। গতকাল সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে অ্যাকর্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়, কারখানা সংস্কারে অ্যাকর্ডের সুনির্দিষ্ট কোন তহবিল নেই। এক্ষেত্রে অ্যাকর্ডের এ উদ্যোগে স্বাক্ষরকারী ক্রেতা সহায়তা করবে। ইতিমধ্যে কিছু কারখানাকে বিভিন্ন উপায়ে সহায়তা করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, অ্যাকর্ড ছাড়াও অ্যালায়েন্স নামে আলাদা একটি জোটও কারখানা পরিদর্শন করছে। এ দুটি উদ্যোগে প্রায় আড়াই হাজার কারখানা নিরাপত্তা মান পরিদর্শন, ত্রুটি চিহ্নিত ও সংস্কার কর্মসূচী চালানো হবে। বাদবাকী কারখানা সংস্কারের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) ও মালিকপক্ষের সমন্বয়ে জাতীয় ত্রিপক্ষীয় কমিটি (এনটিপিএ) কাজ করছে।

প্রকাশিত : ২১ মে ২০১৫, ০৭:০৪ পি. এম.

২১/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: