মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

বাগেরহাটে যৌতুকলোভী স্বামীর নির্যাতনে লাশ হয়ে ফিরল গৃহবধূ

প্রকাশিত : ২১ মে ২০১৫

স্টাফ রিপোর্টার, বাগেরহাট ॥ ‘টাকা নিয়ে না গেলে ওরা আমাকে মেরে ফেলবে মা। আমাকে শেষ দেখা দেখে রাখ। কোন অন্যায় করলে মাফ করে দিও। আর কোন দিন হয়ত তোমরা আমকে দেখতে পারবে না।’ এক মাস পূর্বে মায়ের গলা জড়িয়ে ধরে এ কথাগুলো বলেছিল বাগেরহাট জেলার মোরেলগঞ্জ উপজেলার জিউধরা গ্রামের মোস্তফা গাজীর মেয়ে ফাতেমা আক্তার সুখী (২৫)। তার এ কথা সত্য প্রমাণিত হয়েছে। ২১ দিন হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে বুধবার সকালে লাশ হয়ে ফিরতে হয়েছে সুখীকে।

আদর করে নাম রাখা হয়েছিল ‘সুখী’। কিন্তু সুখ যে তার কাছে ধরা দেয়নি। ছোট বেলায় পিতা দ্বিতীয় বিয়ে করে। অন্যত্র বিয়ে হয় মায়ের। ফাতেমা আক্তার সুখী মামার বাড়িতে বড় হয়। স্বপ্ন ছিল লেখাপড়া শিখে স্বাবলম্বী হবে। কিন্তু অভাবের কাছে হার মেনে মাত্র নবম শ্রেণীতে পড়া অবস্থায় গোপালগঞ্জের বাহার উদ্দিনের সঙ্গে বিয়ে হয়ে যায় তার।

সুখীর স্বামী বাহার উদ্দিন বিয়ের ২/৩ মাস পর থেকে সুখীকে যৌতুকের জন্য চাপ দিতে থাকে। চালাতে থাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। সুখীর সুখের কথা চিন্তা করে তার ৮ মামা কয়েক দফায় তারা দেড় লাখ টাকা যৌতুক দেয়। কিন্তু মাসখানেক আগে এক লাখ টাকা যৌতুক নিয়ে দেয়ার জন্য সুখীকে চাপ দিতে থাকে। শুরু করে শারীরিক নির্যাতন। এপ্রিল মাসের ২৭ বা ২৮ তারিখ সুখীকে তার স্বামীর পরিবারের ৪/৫ সদস্য মিলে নির্যাতন করে চেপে ধরে মুখে বিষ ঢেলে দেয়। এদিন রাতে তাকে ঘরে ঢুকতে দেয়া হয়নি। সারা রাত ঘরের বাইরে থেকে অসুস্থ হয়ে পড়লে পরের দিন তাকে স্থানীয় একটি ক্লিনিতে ভর্তি করে। ৪ দিন পর গোপালগঞ্জ হাসপাতালে নিয়ে যায়। অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে ৩ দিন পর ৫ মে তাকে ঢাকার গ্রীনলাইফ হাসপাতালে ভর্তি করে। সুখীর মামাদের এ বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি। গত ১৫ মে সুখীর মুমূর্ষু অবস্থায় তার মামাদের খবর দেয়া হয়। এভাবে ২১ মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে মঙ্গলবার বিকেলে সে মারা যায়। সুখীর মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতাল থেকে তার স্বামীসহ সকলে পালিয়ে যায়।

সুখীর মামা অভিযোগ করে বলেন, মঙ্গলবার রাতে তারা মকসুদপুর থানায় অভিযোগ করতে যান। কিন্তু ডিউটি অফিসার তাদের সঙ্গে খারাপ আচারণ করে মামলা নেয়া হবে না জানিয়ে তাদের নিজেদের থানায় (বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ) মামলা দিতে পরামর্শ দেন।

যশোরে ঘুমন্ত গৃহবধূকে

কুপিয়েছে বর্বর স্বামী

স্টাফ রিপোর্টার, যশোর থেকে জানান, যশোরে নাসিমা বেগম (২৭) নামে এক গৃহবধূকে ঘুমন্ত অবস্থায় কুপিয়ে তার স্বামী ও স্বজনরা। যৌতুকের টাকা না পেয়ে শ্বশুর বাড়ির লোকজন ওই গৃহবধূর ওপর এই বর্বর নির্যাতন চালায়। বুধবার ভোরে যশোর সদর উপজেলার রূপদিয়া খানপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। বর্বরতার শিকার গৃহবধূ রূপদিয়া খানপাড়ার জামাল খানের স্ত্রী এবং একই উপজেলার হাটবিলা গ্রামের হাসান হাওলাদারের মেয়ে।

নাসিমাকে সকালে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় গৃহবধূর স্বামী, দেবর, শ্বশুর ও শাশুড়ির নামে থানায় মামলা হয়েছে।

নির্যাতিত নাসিমার ভাই মহিদ হাওলাদার জানান, বিদেশে যাওয়ার জন্য তার ভগ্নিপতি জামাল খান যৌতুক হিসেবে এক লাখ টাকা দাবি করেন। বোনের সুখের জন্য তারা দিতেও চেয়েছিলেন।

প্রকাশিত : ২১ মে ২০১৫

২১/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

দেশের খবর



ব্রেকিং নিউজ: