আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৬ ডিসেম্বর ২০১৬, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

স্বপ্নদল প্রযোজনা ‘চিত্রাঙ্গদা’

প্রকাশিত : ২১ মে ২০১৫

ঢাকার মঞ্চে রবীন্দ্রনাথের নাটক বরাবর দর্শককে টেনে এনেছে মঞ্চে। সম্প্রতি নাটকের দল স্বপ্নদল মঞ্চস্থ করল কাব্যনাট্য চিত্রাঙ্গদার ৩৭ তম মঞ্চায়ন। নাটকটির মান বিচারে মূলত দুটি বিষয়কে পাশাপাশি রাখতে হয়, এক বাঙালীর প্রাণপুরুষ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচিত কাব্যনাট্য চিত্রাঙ্গদা। দুই, ঐতিহ্য সন্ধানী নাট্যদল স্বপ্নদল কর্তৃক প্রযোজিত লোকনাটক ‘চিত্রাঙ্গদা’। নাটকটি দেখে দর্শকমাত্রই উপলব্ধি করতে সক্ষম হবেন যে , নাটকটির নাট্যকার এবং নির্দেশকের দর্শন চিন্তা এক এবং অভিন্ন। নির্দেশক শুধু প্রায়োগিক পরিবেশনায় দেশজ নাট্য আঙ্গিক বেছে নিয়েছেন। কিন্তু প্রথম প্রশ্ন হচ্ছে নাটকের যে দর্শন চিন্তা তা দর্শকের চিত্তের সঙ্গে মিলেমিশে একাকার হয় কিনা বা হতে পারে কিনা? কাব্যনাট্য ‘চিত্রাঙ্গদা’ এর অন্তর্নিহিত ভাষ্য মতে এবং রবীন্দ্রনাথের নাট্য প্রসঙ্গে, ‘সুন্দরী যুবতীর বাইরের সৌন্দর্যই সম্বল নাকি ভেতরের লুক্কায়িত শক্তি জীবনের ধ্রুব সম্বল? এই প্রশ্ন সামনে রেখেই তিনি যেন উত্তর দিয়েছেন- বাইরে নয় ভেতরের রূপই আসল সত্য- সম্বল। যদিও ভেতরবাহির মিলিয়েই পূর্ণতা, তাতে রবীন্দ্রনাথ আগ্রহ দেখাননি। রবীন্দ্রনাথের নাটকের দেশজ উপস্থাপনায় নির্দেশক ধন্যবাদ পেতেই পারেন। কেননা, নাটকের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দারুণভাবে কাঠামোবদ্ধ। যা বাঙালীর চিরায়ত লোকনাটককেই স্মরণ করিয়ে দেয়। দর্শক হয়ত ভুল করবেন যদি না আগে থেকে জানেন যে এটি রবীন্দ্রনাথের নাটক। সেক্ষেত্রে যে কেউ বলবেন, এটি একটি পুরনো লোকনাটক। সুতরাং প্রায়োগিক এবং আঙ্গিকগত দিক দিয়ে এটি একটি সফল নাটক। ঢাকার মঞ্চে যে সব রবীন্দ্রনাথের নাটক হয়েছে, তার বেশিরভাগ অভিনীত হয়েছে ক্লাসিক্যাল আঙ্গিকে। তবে স্বপ্নদল এই জন্য ধন্যবাদ পাবেন কারণ, তারা রবীন্দ্রনাথকে লোকায়ত মানুষের জীবনাচরণের সঙ্গে মিলিয়ে উপলব্ধি করতে চেয়েছে। তবে কোন কোন কুশীলবের অভিনয় দর্শককে কিছুটা নিরাশ করে। কিন্তু ‘চিত্রাঙ্গদা’ চরিত্রে রূপদানকারী অভিনেত্রীদ্বয় দর্শকের চিত্তে স্থান করে নিতে পেরেছেন তাদের পৌরুষিক অভিনয়ের বলে। এছাড়া নাটকটির সেট ডিজাইন নিপুণ, তবে তার সঠিক প্রয়োগ হয়নি বলে মনে হয়েছে। মাঝে মাঝে মনে হয়েছে মঞ্চ উপাদানগুলো না থাকলেও কিছু ক্ষতিবৃদ্ধি হতো না। বিশেষ করে চারবার ধোঁয়া ব্যবহার করার ফলে দর্শক কিছুটা বিরক্ত হয়েছে। শুধু মাত্র ধোঁয়া না দিয়ে কিভাবে অন্য উপায়ে দর্শককে মোহাবিষ্ট করা যেতে পারে, সেটা নির্দেশক ভাবতে পারতেন। তবে নাটকটির পোশাক পরিকল্পনা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। সর্বোপরি রবীন্দ্রনাথের ’চিত্রাঙ্গদা’ এবং জাহিদ রিপনের ‘চিত্রাঙ্গদা’ প্রযোজনা বাংলা লোকনাট্য আঙ্গিকে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করেছে। যা দর্শককে অনেক বেশি আপ্লুত করেছে, এই ধরনের দেশজ আঙ্গিকের প্রযোজনা আমাদের নাট্য আন্দোলনকে আরও বেগবান করবে এমনটাই প্রত্যাশা।

শেখ জাহিদ আজিম

প্রকাশিত : ২১ মে ২০১৫

২১/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: