কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

দখলে বুড়িগঙ্গার শাখা নদী

প্রকাশিত : ২১ মে ২০১৫

নদীমাতৃক বাংলাদেশের গৌরবময় ইতিহাস যেন ম্লান হতে যাচ্ছে! যেভাবে নদীগুলো দখলে-দূষণে হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে তাতে এ আশঙ্কা একেবারে অমূলক নয়। বিশেষ করে বলা যায় ঢাকার প্রাণ বুড়িগঙ্গার কথা। দেশের মেরুদণ্ড তথা রাজধানী বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত। বলা চলে বুড়িগঙ্গার প্রাণধারায় সঞ্জীবিত হয়ে গড়ে উঠেছে ঢাকা। দেশের বহু নদীর মতো বুড়িগঙ্গাও মৃতপ্রায়। এই বুড়িগঙ্গাকে নিয়ে নানা আশঙ্কার কথা বিভিন্ন সময়ে উঠে এসেছে পত্র-পত্রিকায়। মঙ্গলবার সহযোগী একটি দৈনিকে এমন সংবাদই প্রকাশিত হয়েছে। রাজধানীর ইসলামবাগ, সুলতানগঞ্জ, কামরাঙ্গীরচর ও হাজারীবাগ এলাকায় বুড়িগঙ্গার শাখা নদী ও খাল ভরাট করে কয়েক শ’ বাড়ি গড়ে তোলা হয়েছে বাঁশের খুঁটির ওপর। নির্মিত অধিকাংশ বাড়িই দোতলা-তিনতলা। এসব বাড়ি ধসে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এতে যে কোন সময় ঘটতে পারে রামপুরার ঘটনার মতো আরেকটি হৃদয়বিদারক ঘটনা। ভূমিদস্যুদের দখলবাজি, সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরের নির্লিপ্ততা এবং নাগরিক সচেতনতার অভাব বুড়িগঙ্গা নদীকে মৃতপ্রায় করে তুলেছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা না গেলে নদীটি আর রক্ষা করা যাবে না।

অনেকটা বাধাহীনভাবেই গড়ে উঠেছে এসব টিন, কাঠ ও বাঁশের তৈরি শত শত বাড়ি। নদী দখলের বিরুদ্ধে সরকার এবং দেশের উচ্চতর আদালত পর্যন্ত সোচ্চার। পরিবেশ আন্দোলনসহ বিভিন্ন সংস্থা নদী দখলমুক্ত করার জন্য আন্দোলনসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে, নিচ্ছেÑ এমন সংবাদ আমরা প্রায়ই পত্র-পত্রিকায় দেখছি। মাঝেমধ্যে উচ্ছেদ অভিযানের কথাও শোনা যায়। সেটাও অনেকটা কানামাছি খেলার মতো। রাজধানী ঢাকার চারপাশে চারটি নদী। শীতলক্ষ্যা, বুড়িগঙ্গা, তুরাগ ও বালু নদী। সব নদীর অবস্থা একই রকম। তবে সবচেয়ে নাজুক বুড়িগঙ্গার অবস্থা। যেভাবে মূল নদী ও শাখাগুলো দখল হয়ে যাচ্ছে, একে রক্ষায় ত্বরিত পদক্ষেপ না নিলে কয়েক বছর পর বুড়িগঙ্গাকে খুঁজে পাওয়া কষ্টকর হবে।

নদীর সঙ্গে দেশের অর্থনীতির সম্পর্ক গভীর। পৃথিবীর বেশিরভাগ সভ্যতাই গড়ে উঠেছে নদীতীরে। কোন দেশের অভ্যন্তরে প্রবাহিত নদ-নদীগুলো নাব্য হারালে বা অকাল মৃত্যুর শিকার হলে সে দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকাও অনেকাংশে নদীনির্ভর। বুড়িগঙ্গা নদীতে নির্বিচারে ময়লা-আবর্জনা ফেলে পানি দূষিত ও বিষাক্ত করে তোলা হচ্ছে। নদী বাঁচলে নগরী বাঁচবে। সরকার তথা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কি সত্যিকারের উদ্যোগ নেবে বুড়িগঙ্গা ও তার শাখা নদীগুলোকে দূষণ-দখলমুক্ত করতে ও নগরীকে বাঁচাতে? ঢাকাকে বাঁচাতে বুড়িগঙ্গাকে রক্ষা করা ছাড়া গত্যন্তর নেই।

প্রকাশিত : ২১ মে ২০১৫

২১/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: