মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

ওয়ানডে- বিদায় বললেন হ্যাডিন

প্রকাশিত : ২০ মে ২০১৫
  • মোঃ নুরুজ্জামান

রঙিন পোশাক তুলে রাখলেন অস্ট্রেলিয়ান উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান ব্র্যাড হ্যাডিন। বয়স আটত্রিশ ছুঁই ছুঁই, খেলেছেন তিন তিনটি বিশ্বকাপে। সর্বশেষ ঘরের মাটিতে শিরোপা পুনরুদ্ধারে উইকেটের পেছনে ছিলেন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে। এক জীবনে আর কী লাগে! অসি তারকা তাই এবার আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানালেন ওয়ানডেকে। ‘সত্যি বলতে, অস্ট্রেলিয়ার হয়ে আমি যা পেয়েছি, তা অনেকের ভাগ্যে হয় না। ঘরের মাটিতে বিশ্বকাপ জিতে ওয়ানডেকে বিদায় জানানোর সুযোগটা তাই হাতছাড়া করতে চাইনি। সব ভেবেই রঙিন পোশাক খুলে রাখার সিদ্ধান্ত। তবে দেশের হয়ে আরও কিছুদিন টেস্ট খেলতে চাই।’ সংবাদ মাধ্যমকে বলেন হ্যাডিন।

বিশ্বকাপ শুরুর পর মাইকেল ক্লার্ক সবার আগে ইঙ্গিতটা দিয়েছিলেন। অধিনায়ক তখন বলেছিলেন, হ্যাডিনের সঙ্গে রঙিন পোশাকে এটিই হতে যাচ্ছে শেষ টুর্নামেন্ট। কিন্তু হ্যাডিন নিজে কিছু জানাননি। বলেছিলেন, তার ভাবনায় কেবলই বিশ্বকাপ। অস্ট্রেলিয়াকে ফের চ্যাম্পিয়ন দেখতে চান। শেষ অবধি স্বপ্ন সত্যি হয়েছে। মেলবোর্নের গ্র্যান্ড ফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে ৭ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে উল্লাসে মাতে ক্লার্ক-বাহিনী। উৎসবের সেই মিছিলে ছিলেন বর্ষীয়ান হ্যাডিনও অথচ থাকতে পারতেন, জর্জ বেইলি! কারণ ফর্মের বিচারে দেশটির নাম্বার-ওয়ান উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান বেইলিই। সে ভিন্ন কাহিনী।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের উদ্দেশে বিমানে চড়ার একদিন আগে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়া হ্যাডিন আরও বলেন, ‘ক্যারিয়ারে অস্ট্রেলিয়াকে র‌্যাঙ্কিংসেরা হতে দেখেছি, ছিলাম তিন তিনটি বিশ্বকাপে। তার ওপর ঘরের মাটিতে বিশ্বকাপ পুনরুদ্ধারে দলের সঙ্গে থাকা অনেক গৌরবের। দেশের জার্সিতে প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে খুশি আমি। অস্ট্রেলিয়ার অনেক অর্জনে সাক্ষী হতে পেরে গর্বিত।’ দীর্ঘ চৌদ্দ বছরের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে হ্যাডিন দেশের জন্য অনেক কিছু করেছেন বলে তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়াও (সিএ)। সিএর প্রধান জেমস সাদারল্যান্ড বলেন, ‘দারুণ একটি ওয়ানডে ক্যারিয়ার উপহার দেয়ার জন্য হ্যাডিনকে ধন্যবাদ জানাচ্ছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘এক যুগের বেশি সময় ক্রিকেটীয় মেধা দিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে দারুণ কিছু উপহার দিয়েছে হ্যাডিন। তাঁর জন্য পুরো অস্ট্রেলিয়াই গর্বিত। আশা আসন্ন সিরিজে টেস্ট ক্রিকেটকে আরও কিছু দিয়ে যাবেন তিনি।’ ধারণা করা হচ্ছে, আসন্ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে (ফ্র্যাঙ্ক ওরেল ট্রফি) ও ইংল্যান্ডের মাটিতে গৌরবময় এ্যাশেজ সিরিজ খেলে টেস্ট থেকেও অবসর নেবেন হ্যাডিন। আসন্ন দুটি সফরই যে সাদা পোশাকে তার শেষ সিরিজ, সেই ইঙ্গিতও দিয়েছেন সাদারল্যান্ড। উইন্ডিজ সফরে ফ্র্যাঙ্ক ওরেল ট্রফিতে দুটি টেস্ট খেলবে অসিরা। ডমিনিকায় প্রথম টেস্ট শুরু ৩ জুন। ইংল্যান্ডের কার্ডিফে ৮ জুলাই শুরু হবে পাঁচ ম্যাচ সিরিজের এ্যাশেজ সিরিজ, যেটিতে অংশ নিয়ে সব ধরনের ক্রিকেটকে বিদায় জানাতে পারেন হ্যাডিন।

তবে যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও হ্যাডিনকে অধিনায়ক করেনি অস্ট্রেলিয়া। বিশ্বকাপের ঠিক আগে ভারতের বিপক্ষে সিরিজে ক্লার্ক ইনজুরিতে পড়ায় নাম উঠে এসেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হয়নি। ক্লার্ক নিজে বলেছিলেন, তার পরিবর্তে দায়িত্বটা দেয়া উচিত হ্যাডিনকেই। ‘দলের অন্য খেলোয়াড়রা তাকে সব ধরনের সহায়তা দেবে এবং সাহায্য নিয়েই হ্যাডিন সিরিজের বাকি টেস্টগুলোতে সঠিক নেতৃত্ব দেবে।’ অভিজ্ঞ সতীর্থ সম্পর্কে তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমার মনে হয় হ্যাডিনের পারফর্মেন্স দুর্দান্ত। সে এ্যাডিলেডেও উইকেটের পেছনে দারুণ করছে। ওর ওপর আমার অগাধ বিশ্বাস আছে। এই সাফল্য সে বাকি ম্যাচগুলোতেও নিয়ে যেতে পারবে।’ সিরিজের তৃতীয় টেস্টে হ্যাডিনের নেতৃত্ব দেয়াটা ছিল সময়ের ব্যাপার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে অভিষেক হয়ে যায় স্টিভেন স্মিথের!

সেই সূত্রে বিশ্বকাপেও এ নিয়ে নাটক কম হয়নি। ইনজুরির জন্য ক্লার্কের অংশগ্রহণ নিয়ে ছিল বড় রকমের সংশয়।

গত দ্ইু বছর তার অনুপস্থিতিতে দারুণ নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন জর্জ বেইলি। নাম উঠে আসার পরও তাই প্রথম ম্যাচে হ্যাডিন নয়, অস্ট্রেলিয়ার আর্মব্যান্ড ছিল বেইলির বাহুতে। মজার বিষয়, ক্লার্ক ফেরার পর দলেই জায়গা হয়নি বেইলির! হ্যাডিন ছিলেন ক্লার্কের ছায়া হয়ে। এ নিয়ে অবশ্য এতটুকু আক্ষেপ নেই। ‘ক্যারিয়ারে একাধিক অধিনায়কের অধীনে খেলেছি। অনেক কিছু দেখেছি। অধিনায়ক হিসেবে রিকি পন্টিং যেমন, তেমনি তরুণ স্মিথও সম্মানীয়। মাঝে ক্লার্কের সঙ্গে সময়টা দারুণ উপভোগ করেছি। আমি আসলে অস্ট্রেলিয়ার সেবা করতে পেরেই খুশি। আশা করছি টেস্টে বাকি সময়টা ভাল কাটবে।’ বলেন তিনি।

হোবার্টে ২০০১ সালে জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আবির্ভাব। বিশ্বকাপের ফাইনাল পর্যন্ত ১২৬ ওয়ানডেতে নিয়েছেন ১৭০টি ক্যাচ, স্টাম্পিং ১১। উইকেটের পেছনে কঠিন দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি ২ সেঞ্চুরিতে ব্যাট হাতে করেছেন ৩১২২ রান। সবচেয়ে বড় এই বয়সেও দলের বোঝা হয়ে নয়, প্রতিনিধিত্ব করেছেন সামনে থেকে। ওয়ানডের হ্যাডিনকে অনেক দিন মনে রাখবে অস্ট্রেলিয়া। হ্যাডিনও মনে রাখবেন রঙিন পোশাকের একদিবসীয় ক্রিকেটকে।

প্রকাশিত : ২০ মে ২০১৫

২০/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: