কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৩ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

কিংবদন্তির অবসর

প্রকাশিত : ২০ মে ২০১৫
কিংবদন্তির অবসর
  • বিউটি পারভীন

এ্যানফিল্ড যেন খাঁ খাঁ হয়ে গেল। দীর্ঘ ১৭ বছর যে ফুটবলার লিভারপুলের মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণ করেছেন সেই স্টিভেন জেরার্ড শেষ ম্যাচ খেলে ফেলেছেন। আর রেডস শিবিরে দেখা যাবে না তাঁকে। দীর্ঘদিনের ভরসাটাকে হারিয়ে এবার লিভারপুল তাঁর জায়গায় বসানোর কাউকে খুঁজে পেতেও হিমশিম খেয়ে যাবে। ক্লাবের বর্তমান কোচ ব্রেন্ডন রজার্স অকপটেই বলে ফেললেন, ‘স্টিভেনের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার মতো কেউ নেই।’ কিন্তু এরপরও আর ৩৪ বছর বয়সী জেরার্ডকে পাওয়া সম্ভব নয়। কারণ জুলাইয়ে মেজর লীগ সকারের (এমএলএস) দল লস এ্যাঞ্জেলস গ্যালাক্সিতে যোগ দিচ্ছেন তিনি। তাই পাড়ি দিতে হবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। বিদায়টা খুব শক্ত থেকে, আবেগতাড়িত না হয়ে জয়ের আনন্দ নিয়েই হোক-এমনটা চেয়েছিলেন জেরার্ড। কিন্তু ক্রিস্টাল প্যালেসের মতো দুর্বল দলের কাছেও ৩-১ গোলের নিজেদের মাঠে বিধ্বস্ত হয়েছে লিভারপুল। তাই সুখকর হলো না জেরার্ডের এ্যানফিল্ড থেকে চলে যাওয়ার দিনটা। তবে আবারও ফেরার আশা প্রকাশ করেছেন। অবশ্য ফুটবলার হিসেবে আর হয়ত ফেরা হবে না। বাস্তবতাটুকু নিজেও জানেন জেরার্ড। সে কারণে তাঁর আশা কোন একদিন রেডসদের কোচ হিসেবেই ফিরবেন এ্যানফিল্ডে।

৩৪ বছরের জীবনটার প্রায় পুরো সময়ই কাটিয়েছেন এ্যানফিল্ডে। ৭ বছর বয়সে যোগ দেয়ার পর এখানেই পুরোদস্তুর ফুটবলার হিসেবে গড়ে উঠেছিলেন জেরার্ড। লিভারপুলের হয়ে ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচটা খেলে ফেলেছেন ইংল্যান্ডের মিডফিলল্ডার জেরার্ড। তবে দলকে হারতে হয়েছে ৩-১ গোলের বড় ব্যবধানে। সে কারণেই ম্যাচশেষে বিপর্যস্ত জেরার্ড বললেন, ‘আমি ধ্বংস হয়ে চলে যাচ্ছি।’ নিজেদের মাঠ এ্যানফিল্ডে আর খেলা হবে না জেরার্ডের। জুলাইয়ে জেরার্ড পাড়ি জমাবেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। এবার সেখানেই ফুটবল নিয়ে পড়ে থাকবেন। অতীতে অবশ্য অনেক বড় ইংলিশ তারকাই গ্যালাক্সির হয়ে খেলেছেন। তাঁরা আবার বিভিন্ন সময়ে ধারে খেলেছেন পুরনো ক্লাবের হয়ে। এর বড় উদাহরণ তারকা ফুটবলার ডেভিড বেকহ্যাম। গ্যালাক্সির কাছ থেকে তাঁকে বিভিন্ন সময়ে ধারে নিয়ে খেলিয়েছে ইউরোপের সেরা ক্লাবগুলো। সেক্ষেত্রে আগামী মৌসুমে হয়ত দেখা যেতে পারে জেরার্ডও তেমন কোন সুযোগ নিয়ে লিভারপুলের জার্সি গায়ে ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগে খেলছেন। কারণ কোচ রজার্স নিজেই জানালেন এ মিডফিল্ডারের কোন বদলি নেই। কারণ যা করেছেন দীর্ঘ ক্যারিয়ারে সেটা তো সোনায় মোড়ানো। দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে শুধু রেডস শিবিরে থেকেই পেশাদার ক্যারিয়ার কেটে দিয়েছেন। অন্য কোন ক্লাবে যাননি।

শুধু পেশাদার ক্যারিয়ারই নয় ১৯৮৭ সালে যখন ফুটবল রপ্ত করার জন্য এ ক্লাবে এসেছিলেন তখনও জেরার্ডকে অন্য কোন ক্লাব আকর্ষণ করেনি। যদিও লিভারপুলের একাডেমিতে থাকার সময় বিভিন্ন ক্লাবের সঙ্গেও অনুশীলন করেছেন। রেডস শিবিরের জুনিয়র দলে খেলেছেন। এরপর মাত্র ১৭ বছর বয়সে ১৯৯৭ সালের ৫ নবেম্বর পেশাদার চুক্তিতে আবদ্ধ হন তিনি লিভারপুলের সঙ্গে। তখন থেকে আর পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে। রেডস শিবিরে তিনি যেমন অপরিহার্য হয়ে ওঠেন তেমনি নিজেও আর কোন ক্লাবে যাওয়ার ব্যাপারে মনোযোগী হননি। সবমিলিয়ে ৭০৯ ম্যাচ খেললেন লিভারপুলের হয়ে। ১০টি শিরোপা জিতেছেন এবং নিজে করেছেন ১৮৫ গোল। তবে একটি বড় আক্ষেপ আছে জেরার্ডের। দীর্ঘ এ ক্যারিয়ারে ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগের শিরোপা জিততে পারেননি তিনি। শনিবার এ্যানফিল্ডে নিজের সর্বশেষ ম্যাচ খেলতে নেমে আরেকটি বড় কষ্ট সঙ্গী হলো তাঁর। ম্যাচশেষে ভক্তদের ভিড় জমে যায় তাঁর পাশে। এ সময় জেরার্ড বলেন, ‘আমার খুব অদ্ভুত অনুভূতি হচ্ছে। আমি এমন একটি মুহূর্তের আশঙ্কাই এতদিন করেছি। বিশেষ করে গত জানুয়ারিতে যখন আমি যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার কথা ঘোষণা করি তখন থেকেই এ অনুভূতি হয়েছে। কিন্তু এখন এটা সত্যিই মিস করতে যাচ্ছি। আমি ক্যারিয়ারের প্রতিটি মিনিট উপভোগ করেছি। আমি সত্যিই ধ্বংস হয়ে গেলাম যে এ ধরনের ভাল সমর্থকদের সামনে আর কখনও খেলতে পারব না। আমি কখনও এমন মুহূর্ত আসুক সেটা চাইনি। আমি সবসময়ই নিজের মানুষদের সামনে খেলতে ভালবেসেছি। আমি এই স্টেডিয়ামকে ভালবাসি। এখানে আমার বিস্ময়কর কিছু মুহূর্ত কেটেছে।’

জেরার্ডের শেষ ম্যাচ। তাই হুমড়ি খেয়ে পড়েছিলেন দর্শকরা। শনিবার রাতে নিজেদের চেয়ে দুর্বলতর ক্রিস্টাল প্যালেসের বিরুদ্ধে মুখোমুখি হয়েছিল লিভারপুল। ম্যাচ শুরুর আগেই দু’দলের খেলোয়াড় গার্ড অব অনার প্রদান করলেন জেরার্ডকে। মাত্র ২৩ বছর বয়সেই এ্যানফিল্ডে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে ফেলেছিলেন সাবেক কোচ জেরার্ড হোলিয়েরের কারণে। তাঁকে নিজের পিতার আসনে বসিয়েছেন তাই জেরার্ড। হোলিয়েরের অধীনে জেরার্ড তিনটি শিরোপা জয়ের স্বাদ নিয়েছেন। জেরার্ড লিভারপুলের হয়ে ২৫৩ ম্যাচ খেলেছেন শুধু ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগেই। জেরার্ড এ মৌসুমে তেমন ফর্মে ছিলেন না। তবে মাঝমাঠের এ নির্ভরযোগ্য ফুটবলার নিজেকে ফিরে পেয়েছিলেন আগের দুই ম্যাচে। কুইন্স পার্ক রেঞ্জার্স ও চেলসির বিরুদ্ধে দারুণ দুটি গোলও করেছিলেন। কিন্তু এ্যানফিল্ডে হয়ত আবেগতাড়িত থাকার কারণেই স্বাভাবিক খেলাটা দেখা গেলনা তাঁর কাছ থেকে। জেরার্ড অবশ্য চেয়েছিলেন দারুণভাবে শেষ করতে। এদিন এ্যানফিল্ডে ছিল ৪৪ হাজার ৬৭৩ জন দর্শক উপস্থিতি। এমন বিদায়ের সময় জেরার্ড বলেছেন, ‘আবারও আসব, হয়ত খেলোয়াড় হিসেবে নয়; কিন্তু কোচ হিসেবে।’ মাত্র ৭ বছর বয়সেই এ্যানফিল্ডে যোগ দিয়েছিলেন ১৯৮৭ সালে। সেদিক থেকে লিভারপুলে প্রায় ২৮ বছরের ক্যারিয়ার শেষ হল তাঁর। দীর্ঘ এ ক্যারিয়ারে লিভারপুলের হয়ে তিনি জিতেছেন দুটি এফএ কাপ, তিনটি লীগ কাপ এবং একটি করে কমিউনিটি শিল্ড, চ্যাম্পিয়ন্স লীগ, উয়েফা কাপ এবং উয়েফা সুপার কাপ। ইংল্যান্ড জাতীয় দলের হয়ে ১১৪ ম্যাচ খেলে ২১ গোল করেছেন। ব্যক্তিগতভাবে তিনি প্রফেশনাল ফুটবলার্স এ্যাসোসিয়েশন, ফুটবল রাইটার্স এ্যাসোসিয়েশন এবং উয়েফা ক্লাব আসরের বর্ষসেরা ফুটবলার হিসেবে স্বীকৃতিও পেয়েছেন।

প্রকাশিত : ২০ মে ২০১৫

২০/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: