আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৬ ডিসেম্বর ২০১৬, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

এবার ভারতকে হারাতে মুখিয়ে টাইগাররা!

প্রকাশিত : ২০ মে ২০১৫
এবার ভারতকে হারাতে মুখিয়ে টাইগাররা!
  • রোকসানা বেগম

গতবছরও এমনটি হয়েছিল। ভারত দলের গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটাররা বাংলাদেশে খেলতে আসেননি। তাতে সিরিজ হার কিংবা ম্যাচ হারও হয়নি। তবে একটি ওয়ানডেতে হারের শঙ্কাতেই পড়ে গিয়েছিল ভারত। তখন বাংলাদেশ দলটি এতটা আত্মবিশ্বাসে ভরপুর ছিল না। যখন আবারও ভারত ‘দুর্বল’ দল পাঠানোর ভাবনায় মশগুল, তখন কিন্তু ‘এবার বাংলাদেশের সামনে ভারতকে হারানোর সুবর্ণ সুযোগ’ কথাটিই সবার কণ্ঠে ভাসছে।

কেন এমন সুযোগ? ভারত যদি দুর্বল দল পাঠায়, সেই দলে বিরাট কোহলিদের মতো নির্ভরযোগ্য ক্রিকেটাররা না থাকেন, তাহলে বাংলাদেশই এবার শক্তিশালী ও ফেবারিট দলে পরিণত হবে। ঠিক যেমনটি পাকিস্তানের বিপক্ষে হয়েছে। তাতে করে ভারতকে হারানোর সুযোগটি ধরা দিতেও পারে। সাকিব যেমন আগেই বলেছেন, ভারতের বিপক্ষে সিরিজ জয়েরও সুযোগ আছে। ঠিক তেমনি সেই সুযোগটি ধরা দিয়ে দিতে পারে। তাতে বাংলাদেশেরই লাভ হবে। কিভাবে? এরপর আর কোন দলই বাংলাদেশে ‘দুর্বল’ দল পাঠানোর সাহস দেখাবে না। সেরা দলটি নিয়েই বাংলাদেশে আসবে। এ জন্য অবশ্য মুশফিক, মাশরাফি, তামিম, সাকিবদেরই জয় এনে দেখাতে হবে। ১০ জুন শুরু হবে একমাত্র টেস্ট। ১৮, ২১ ও ২৪ জুন যথাক্রমে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় ওয়ানডে অনুষ্ঠিত হবে। এ সিরিজে এখন বাংলাদেশ কি করে সেটিই দেখার বিষয়।

এখন পর্যন্ত যে খবর জানা যাচ্ছে, তাতে কোহলি শেষপর্যন্ত বাংলাদেশে বোধ হয় আসছেনই না। মঙ্গলবারের খবর অনুযায়ী, আজ ভারত দল ঘোষণা করা হবে। মহেন্দ্র সিং ধোনির টেস্ট থেকে বিদায়ের পর বিরাট কোহলি টেস্টের নেতৃত্বে থাকলেও ভারতীয় ক্রিকেটে বাংলাদেশ সফরে টেস্টে অধিনায়ক হতে চলেছেন রোহিত শর্মা! আসন্ন বাংলাদেশ সফরে বিশ্রাম নেবেন বিরাট কোহলি।

বুধবার মুম্বাইয়ে বিসিসিআইয়ের সদর দফতর ক্রিকেট সেন্টারে বাংলাদেশ সফরের দল বেছে নেবে সন্দীপ পাতিলের নেতৃত্বাধীন জাতীয় নির্বাচক কমিটি। আজ দুপুর ১২টায় টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজের দল বাছবেন পাতিল এ্যান্ড কোং। বোর্ড সূত্রের খবর, টানা ম্যাচ খেলার জন্য বোর্ডের কাছে বিশ্রামের আবেদন জানিয়েছেন সিনিয়র ক্রিকেটাররা। বিশ্রাম দেয়া হতে পারে টেস্ট অধিনায়ক বিরাট কোহলি, ওয়ানডে অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি এবং সুরেশ রায়নাকে। সচিব অনুরাগ ঠাকুরের সঙ্গে এ বিষয়ে কথাও হয়েছে কোহলির।

অস্ট্রেলিয়া সফরে টেস্ট সিরিজের মাঝ পথে পাঁচদিনের ক্রিকেট থেকে অবসর নেন ধোনি। এরপর টেস্টে কোহলির হাতেই নেতৃত্ব ভার তুলে দেয় নির্বাচক কমিটি। ফলে বাংলাদেশ সফরে একমাত্র টেস্টে কোহলি বিশ্রাম নেয়ায় রোহিত শর্মাকে নেতা হিসেবে বেছে নিতে চাইছেন জাতীয় নির্বাচকরা। আইপিএলের মুম্বই ইন্ডিয়ান্সকে দারুণভাবে নেতৃত্ব দেয়ায় রোহিতে ভরসা রাখতে চাইছে পাতিল এ্যান্ড কোং। বিশ্বকাপের পর এই প্রথম আন্তর্জাতিক সিরিজ খেলতে চলেছে ভারত।

কোহলিসহ সিনিয়র ক্রিকেটাররা না থাকলেও শোনা যাচ্ছে, ২০১৩ সালের পর যাদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে দেখা যায়নি, যাদের অবসরের সময় হয়ে গেছে, তাদের মধ্যে বীরেন্দর শেবাগ, যুবরাজ সিং, হরভজন সিং ও জহির খানদের এ সিরিজে ‘ফেয়ারওয়েলে’র সুযোগ ধরা দিতে পারে। ভারতের সংবাদ মাধ্যম থেকে এমনই ইঙ্গিত মিলছে। এ চার ক্রিকেটারই এবার বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজে খেলতে পারেন। খুব বেশিদিন আগের কথা নয়, ভারতীয় দলে ছিলেন শেবাগ, যুবরাজ, হরভজন আর জহির খানের মতো ক্রিকেটাররা। ওয়ানডে এবং টেস্ট ক্রিকেটে এই তারকারাই ভারতকে নিয়ে যান সেরা র‌্যাঙ্কিংয়ে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে এই চার ক্রিকেটারই হারিয়ে যান টিম ইন্ডিয়া থেকে। ফিটনেসের সমস্যা আর ফর্মের সমস্যার কারণে শেবাগ, যুবরাজ, জহির খান আর হরভজন সিংকে জাতীয় দলে থেকে বাইরে রাখলেও ঘরোয়া ক্রিকেট আর আইপিএলের মতো দলগুলোতে তারা বেশ ভাল পারফর্ম করে যাচ্ছেন। তাতে ফেয়ারওয়েলের একটি সুযোগ ধরা দিলেও দিতে পারে।

দল ঘোষণা করা হবে আজ। তবে এর আগে কোহলিকে বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট খেলতে দেখতে চান সুনীল গাভাস্কার। গাভাস্কারের এ ইচ্ছা বোধ হয় আপাতত অপূরণই থাকছে। বাংলাদেশ সফরে দলের সঙ্গে থাকতে চাচ্ছেন না বিরাট কোহলি। নতুন এ টেস্ট অধিনায়ক বাংলাদেশ সফরে না এসে চান বিশ্রাম। এমন সংবাদ যখন রটে গেছে, তখন ভারতের কিংবদন্তি ক্রিকেটার সুনীল গাভাস্কার টেস্ট দলে কোহলিকে চান। গাভাস্কার বলেন, ‘আমি চাই সে (কোহলি) টেস্ট ম্যাচে খেলুক, তারপর ওয়ানডে সিরিজে বিশ্রামে থাকুক। আসলে বিরাটের মতো অশ্বিন ও উমেশ যাদবেরও বিশ্রাম প্রয়োজন। এই দুজন দীর্ঘ সময় ধরে টানা বোলিং করে যাচ্ছে। গত সাড়ে চার মাস ধরে তারা কঠোর পরিশ্রম করে আসছে। সুতরাং, তাদের বিশ্রাম একান্ত প্রয়োজন।’

এ সিরিজে শুধু কোহলিই নন, ভারতের কয়েক সিনিয়র ক্রিকেটারও আসতে চাইছেন না। গত বছর জুনে যে বাংলাদেশে ওয়ানডে সিরিজ হয়েছে, তখনও ধোনি, কোহলিরা ছিলেন না। এবারও একই দশা হতে চলেছে। সুনীল গাভাস্কার তাই চান কোহলি খেলুক। এর পেছনে অবশ্য তার যুক্তিও আছে। বাংলাদেশ যে এখন অনেক ভাল খেলছে। যদি এ দলটিকে সমীহ না করা হয়, তাহলে বিপদ ঘনিয়েও আসতে পারে ভারতের।

তাই তো গাভাস্কার বলেছেন, ‘গতবার ভারত দ্বিতীয় সারির মানের একটা দল বাংলাদেশের মাটিতে গিয়ে সাফল্য পেয়েছিল। ওয়ানডে সিরিজ জিতে এসেছিল ওরা। কিন্তু এবারের চিত্রটা একেবারেই আলাদা। এবার কিন্তু বিষয়টা অতটা সহজ হবে না। বাংলাদেশের সম্প্রতি পারফর্মেন্স তেমনটাই বলছে।’ সঙ্গে যোগ করেন, ‘বাংলাদেশ পাকিস্তানের বিপক্ষে সম্প্রতি দারুণ ক্রিকেট খেলেছে। তাই ওদের হাল্কাভাবে নিলে হবে না। ওরা এখন অনেক শক্তিশালী দল। আমি মনে করি, ভারতও ভাল দলই পাঠাবে বাংলাদেশে। পুরো শক্তির দল না নিয়ে গেলে এবার কিন্তু বেগ পেতে হবে।’

গাভাস্কারের মতো সবাই এমনভাবেই ভাবছেন। পাকিস্তান দুর্বল দল পাঠিয়েছে তিন ম্যাচের সিরিজে ‘বাংলাওয়াশ’ হয়েছে। এবার ভারতও দুর্বল দল পাঠানোর ইঙ্গিতই দিচ্ছে। তাই যদি হয়, তাহলে এবার ভারতের হারানোর বাংলাদেশের সামনে সুবর্ণ সুযোগই ধরা দিচ্ছে। এখন সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেটাররা কতটা বিশ্ব দরবারে আবারও হুঙ্কার দিতে পারে, সেটিই দেখার অপেক্ষায় থাকতে হবে। বাংলাদেশকে হালকা ভাবার পরিণতি যে করুণ হতে পারে, বার বার সেটি এখন বুঝিয়ে দিতে পারে কি না বাংলাদেশ ক্রিকেটাররা; সেইদিকেই সবার দৃষ্টিও থাকবে।

প্রকাশিত : ২০ মে ২০১৫

২০/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: