কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

সালাহউদ্দিনকে উন্নত চিকিৎসার্থে সিঙ্গাপুর নিতে চান স্ত্রী হাসিনা

প্রকাশিত : ২০ মে ২০১৫
  • আইনে সুযোগ নেই

গাফফার খান চৌধুরী ॥ উন্নত চিকিৎসার জন্য স্বামীকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যেতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বিএনপির যুগ্মমহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদের স্ত্রী বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য হাসিনা আহমেদ। বিচারাধীন মামলার আসামিকে বিদেশে পাঠানো বিষয়ে ভারতের মেঘালয়ের অপরাধ বিষয়ক জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এসপি মাহান্তর সঙ্গে সালাহউদ্দিনের স্ত্রীর বিস্তারিত আলোচনার কথা রয়েছে। যদিও সর্বশেষ তথ্যমতে এসপি মাহান্তর সঙ্গে সালাহউদ্দিনের স্ত্রীর কোন যোগাযোগ হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। তবে এসপি মাহান্তর কয়েকজন কনিষ্ঠ আইনজীবীর সঙ্গে মাহান্তর চেম্বারেই সালাহউদ্দিনের স্ত্রী হাসিনা আহমেদের বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

এদিকে বাংলাদেশের আইনমন্ত্রী এ্যাডভোকেট আনিসুল হক বলছেন, সালাহউদ্দিনের বিদেশ যাওয়ার বিষয়টি অসম্ভব। কারণ তিনি অবৈধপথে ভারতে প্রবেশ করেছেন। অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের অপরাধে তার বিরুদ্ধে ভারতে একটি মামলাও রয়েছে। ভারতের আইনে সালাহউদ্দিন অপরাধী। ভারতে দায়েরকৃত মামলার আইনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর সালাহউদ্দিনকে আইন অনুযায়ী বাংলাদেশে পাঠানোর কথা। বাংলাদেশেও তাঁর বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। সেসব মামলায়ও তাকে আদালতের শরণাপন্ন হতে হবে। অতএব সালাহউদ্দিনের বিদেশ যাওয়ার বিষয়টি জটিল এবং প্রায় অসম্ভব বলে জনকণ্ঠকে জানান আইনমন্ত্রী।

মঙ্গলবার দুপুরে গণমাধ্যমকর্মীদের স্বামীকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন তার স্ত্রী হাসিনা আহমেদ। হাসিনা আহমেদের দাবি, তার স্বামীর শারীরিক অবস্থা খুবই খারাপ। ইতোপূর্বেও সিঙ্গাপুরেই সালাহউদ্দিনের চিকিৎসা হওয়ায় এবারও তিনি স্বামীকে সেখানেই নিয়ে যেতে চান। সোমবার শিলং সিভিল হাসপাতালে স্বামীর সঙ্গে সাক্ষাত করেন হাসিনা আহমেদ।

গত ১১ মে মেঘালয়ের শিলং পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয় সালাহউদ্দিন। প্রথমে তাকে মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করেছিল পুলিশ। কিন্তু চিকিৎসকরা সালাহউদ্দিন মানসিক রোগী নয় বলে মতামত দেন। এরপর তাকে ভর্তি করা হয় শিলং সিভিল হাসপাতালে। বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে হাসপাতালটিতে থাকা আসামিদের জন্য নির্ধারিত ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন সালাহউদ্দিন। সেই ওয়ার্ডে সোমবার বিকেলে সালাহউদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাত করেন তার স্ত্রী হাসিনা আহমেদ।

মঙ্গলবার হাসিনা আহমেদ স্বামীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর নিয়ে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে বলেন, তাঁর স্বামীর শরীর খুবই খারাপ। একটানা দুই মিনিটও দাঁড়িয়ে থাকতে পারেন না। হাত-পা কাঁপতে থাকে। দ্রত তাঁর উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন। তার স্বামীর হার্টের সমস্যা রয়েছে। কিডনি সমস্যাও দিন দিন জটিল হচ্ছে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভারতের চিকিৎসা যথেষ্ট উন্নত। তাতে সন্দেহ নেই। কিন্তু গত প্রায় বিশ বছর ধরে তার স্বামীর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা হয়ে আসছে। হার্টের সমস্যার কারণে তিনবার অস্ত্রোপচার হয়েছে। হার্টে রিং পরানো রয়েছে। স্পাইনাল কর্ড ও ব্যাক পেইন হচ্ছে তার। কিডনির চিকিৎসাও সিঙ্গাপুরেই হচ্ছে। তাই সিঙ্গাপুরেই তিনি স্বামীকে নিয়ে যেতে চান।

হাসিনা আহমেদ আরও বলেন, বিচারাধীন মামলার আসামিকে অন্যদেশে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আইনী জটিলতা আছে কিনা এ ব্যাপারে তিনি ভারতীয় আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলবেন। তারা মেঘালয়ের অপরাধ-বিষয়ক আইনজীবী এসপি মাহান্তর সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছেন। যদিও ওই আইনজীবীর সঙ্গে মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত কথা বা দেখা কোনটিই হয়নি বলে জানা গেছে। তবে ওই আইনজীবীর কার্যালয়ের কনিষ্ঠ আইনজীবীদের সঙ্গে বিকেলে এ ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে। আইনজীবী মাহান্তর সঙ্গে দেখা করার কথা রয়েছে বলে জানান হাসিনা আহমেদ।

এদিকে শিলং সিভিল হাসপাতালে সালাহউদ্দিন আহমেদ হাসপাতালটির চিকিৎসক হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ জি কে গোস্বামীর তত্ত্বাবধায়নে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসক গোস্বামী সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সালাহউদ্দিনকে হাসপাতাল থেকে ছাড়ার ব্যাপারে মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত কোন মেডিক্যাল বোর্ড বসেনি। সোমবার সালাহউদ্দিনের সিটিস্ক্যান। রিপোর্টে স্বাস্থ্যগত কিছু ত্রুটি ধরা পড়েছে। সালাহউদ্দিনের আরও কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হয়েছে। একটি পরীক্ষায় সালাহউদ্দিনের চর্মরোগ ধরা পড়েছে। অসুস্থতার বিষয়গুলো গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সব ডাক্তারি পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়ার পর সালাহউদ্দিনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।

এদিকে গত সোমবার দুপুরে শিলং সিভিল হাসপাতালের ওয়ার্ড থেকে সিটিস্ক্যান করতে হাসপাতালের মূল ভবনে নেয়ার সময় সালাহউদ্দিন আহমেদ গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে দাবি করেন, তাকে হাত ও চোখ বাঁধা অবস্থায় শিলংয়ে নেয়া হয়েছে। শিলং পৌঁছানোর আগে কয়েক দফায় গাড়ি বদল করা হয়েছে। হাত ও চোখ বাঁধা অবস্থায়ই তাকে অনেক জায়গায় ঘুরানো হয়। এরপর তাকে শিলং নিয়ে যাওয়া হয়। তবে কূটনৈতিক ও সীমান্ত সূত্রগুলো বলছে, হাত ও চোখ বাঁধা অবস্থায় একজন ভিনদেশী নাগরিককে অন্য দেশে আকাশপথে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে সালাহউদ্দিনের সাম্প্রতিক সময়ে বিদেশ যাওয়া বিষয়ে কোন তথ্য নেই। এমনকি হাত ও চোখ বাঁধা অবস্থায় একজন ভিনদেশী নাগরিককে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিবি) ও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) চোখ ফাঁকি দিয়ে স্থল সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করানো অসম্ভব ব্যাপার।

বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জনকণ্ঠকে বলেন, সালাহউদ্দিনের বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তবতার কোন মিল নেই। এ ধরনের বক্তব্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। সালাহউদ্দিনকে দেশে ফেরত আনা সম্ভব হলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে। তবে কবে নাগাদ সালাহউদ্দিনকে বাংলাদেশে ফেরত আনা সম্ভব হবে তা নির্ভর করছে ভারতের আদালতের ওপর।

সালাহউদ্দিন এখন শিলং সিভিল হাসপাতালের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ জি কে গোস্বামীর তত্ত্বাবধানে রয়েছেন। চিকিৎসক গোস্বামী বলছেন, সালাহউদ্দিন স্বাভাবিক আছেন। সালাহউদ্দিনের শরীরে কোন আঘাতের চিহ্ন নেই। তার মানসিক কোন সমস্যা নেই। তিনি পুরোপুরি মানসিকভাবে সুস্থ এবং স্বাভাবিক। স্মৃতিভ্রম হওয়ার কোন লক্ষণ সালাহউদ্দিনের মধ্যে দেখা যায়নি।

প্রকাশিত : ২০ মে ২০১৫

২০/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: