মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

সাগরে আরও বহু অভিবাসীর প্রাণহানির আশঙ্কা

প্রকাশিত : ২০ মে ২০১৫
  • ওদের তাড়ানো বন্ধের আন্তর্জাতিক আহ্বানেও সাড়া মিলছে না
  • এরই মধ্যে আজ কুয়ালালামপুরে হচ্ছে ত্রিদেশীয় বৈঠক

মোয়াজ্জেমুল হক/এইচএম এরশাদ ॥ সাগর পথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যেতে গিয়ে বাধাগ্রস্ত হয়ে বর্তমানে থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া দিনের পর দিন ভাসমান থেকে অনাহারে অর্ধাহারে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে থেকে আরও ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিদেশী বিভিন্ন গণমাধ্যম সূত্রে এ খবর দিয়ে বলা হয়েছে, এসব অবৈধ অভিবাসীদের অধিকাংশ মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিক। সঙ্গে রয়েছে বাংলাদেশী হতদরিদ্র শ্রেণীর কিছু মানুষ। এ পর্যন্ত দু’শতাধিক অভিবাসীর প্রাণহানির ঘটনার পর আরও অনেকে মৃত্যু পথযাত্রী হয়ে আছে। থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া এসব অভিবাসীদের আশ্রয়ের বদলে বিতাড়িত করার যে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে আইওএম, ইউএনএইচসিআর ও এসআর-এসজি। এ চারটি সংস্থার পক্ষ থেকে সোমবার এক যৌথ বিবৃতিতে উক্ত তিন দিনের জলসীমায় ভাসমান অভিবাসীদের সর্বোচ্চ নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। এদিকে, আজ মালয়েশিয়ায় বসছে ত্রিদেশীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক। অপর দুটি দেশ হচ্ছে থাইল্যান্ড ও ইন্দোনেশিয়া।

মানব পাচার নিয়ে উদ্ভূত সর্বশেষ ঘটনায় মঙ্গলবার বাংলাদেশী জলসীমা থেকে মারাত্মক অসুস্থ অবস্থায় মালয়েশিয়াগামী ৫ বাংলাদেশীকে উদ্ধার করেছে বিজিবি। এছাড়া অবৈধ প্রবেশের দায়ে মিয়ানমারে গ্রেফতার ১৪ বাংলাদেশী নাগরিক সাজা ভোগ শেষে মংডু থেকে টেকনাফে ফেরত আনা হয়েছে বিজিবির মাধ্যমে।

অপরদিকে, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার সাগর উপকূলে ভাসমান অবৈধ অভিবাসীরা এখন জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। ইন্দোনেশিয়ার উপকূলে এ পর্যন্ত উদ্ধারকৃত অভিবাসীর সংখ্যা প্রায় দেড় হাজার। এদের মধ্যে অনেকে সে দেশের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অনেকে ইতোমধ্যে পঙ্গুত্ব বরণ করেছে। আর যারা সাগরে ভাসমান অবস্থায় অনাহারে দিন কাটাচ্ছে তাদের অনেকের প্রাণহানির সম্ভাবনা রয়েছে। অভিবাসীদের নিয়ে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া কঠোর মনোভাবের কারণে সেসব দেশের সাগর এলাকায় জেলেরাও এ মানবিক বিপর্যয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এসব অভিবাসীরা সাগরে ডুবে মরলেও তাদের উদ্ধারের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে।

এদিকে, থাইল্যান্ডের সেনাবাহিনীর একশ্রেণীর অসৎ সদস্য মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। খোদ সে দেশের পুলিশ এ অভিযোগ আনার পর থাইল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট এ অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ দাখিলের নির্দেশ প্রদান করেছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে থাইল্যান্ড সরকারের পক্ষে মানব পাচারের সঙ্গে সে দেশের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ নতুন করে অস্বীকার করা হয়েছে।

মানব পাচারের ঘটনাবলীতে উদ্বিগ্ন বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, মানব পাচারকারীর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি সাগরে জেলে ও মাঝিদের পরিচয়পত্র ছাড়া কর্মকা- না চালানোর ওপর ব্যবস্থা গ্রহণ ও উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। এছাড়াও সাগরে মানব পাচার রোধে সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ কোস্টগার্ডকে শক্তিশালী করতে মঙ্গলবার সরকার পক্ষে আটটি প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

আরও ৫ বাংলাদেশী উদ্ধার ॥ বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিবি) মঙ্গলবার ভোরে বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশী জলসীমা থেকে মারাত্মক অসুস্থ অবস্থায় আরও ৫ বাংলাদেশীকে উদ্ধার করেছে। এরা সাগরে একটি বোটে ভাসমান অবস্থায় থেকে ঢেউয়ের তোড়ে শাহপরীর দ্বীপ এলাকা সংলগ্ন চরে আটকা পড়েছিল। খবর পেয়ে বিজিবি সদস্যরা গরু ব্যবসায়ী বোট নিয়ে তাদের উদ্ধার করে টেকনাফে নিয়ে আসে। ৪২ বিজিবি অধিনায়ক লে. কর্নেল মোঃ আবুজার আল জাহিদ জনকণ্ঠকে জানান, স্থানীয় জেলেরা ভাসমান অবস্থায় বোটটি দেখে খবর দেয়ার পর তাদের উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃতরা হচ্ছে সিরাজগঞ্জের রবিউল ইসলাম, ইসমাইল হোসেন, ঝিনাইদহের মনজুর বিশ্বাস ও জয়পুরহাটের মোঃ নুরুল ইসলাম। উদ্ধারকৃতদের তাৎক্ষণিক খাদ্য সরবরাহ ও চিকিৎসা দিয়ে তাদের টেকনাফ থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

মিয়ানমারে জেল খেটে ১৪ বাংলাদেশী ফেরত ॥ অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের দায়ে মিয়ানমারে গ্রেফতার ১৪ বাংলাদেশীকে মঙ্গলবার বিজিবির হাতে হস্তান্তর করেছে সে দেশের বিজিপি। মিয়ানমার অভ্যন্তরে ১নং পয়েন্ট এন্ট্রি এ্যান্ড এক্সিট এলাকায় দু’দেশের পতাকা বৈঠক শেষে সাজা ভোগকারী এ ১৪ বাংলাদেশী ফেরত এসেছে। এরা হচ্ছে- মহেশখালীর তাজিয়াকাটার আবদুর রহিম, উখিয়ার পালং খালির জয়নাল আবেদিন, নুর কবির, এবাদুল্লাহ, ঢাকা দোহারের মোঃ রাজিব খান, চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার মোঃ জসিম, মোঃ বাদশা মিয়া, বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ইউক্য মং, সাতকানিয়া বাজালিয়ার মোঃ আবদুর রহিম, আলী কদমের মোঃ আমিন, বান্দরবানের ডুলুপাড়ার মোঃ ইউনুস, টেকনাফের গোদারবিলের মোঃ নুরুল আমিন, লেদার মোঃ ইউসুফ ও নাজির পাড়ার সৈয়দ আলম।

মিয়ানমারের জলসীমায় ভাসছে দু’শতাধিক বাংলাদেশী ॥ এদিকে, মিয়ানমারের জলসীমা অভ্যন্তরে একটি ট্রলারে দু’শতাধিক বাংলাদেশী ভাসছে বলে টেকনাফের একাধিক সূত্রে জানানো হয়েছে। এরা মিয়ানমার ও বাংলাদেশী দালালদের হাতে জিম্মি অবস্থায় রয়েছে। এসব অবৈধ অভিবাসীরা নিদারুণ অবস্থায় অনাহারে অর্ধাহারে রয়েছে। তারা দেশে ফেরত আসতে চাইলেও পাচারকারীরা মুক্তিপণ আদায়ের জন্য আটকে রেখেছে। থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় যাওয়ার পথে বাধাগ্রস্ত হয়ে বর্তমানে মিয়ানমার জলসীমায় রয়েছে। বাংলাদেশ কোস্টগার্ড সূত্রে জানানো হয়েছে, ভাসমান দু’শতাধিক বাংলাদেশীকে উদ্ধারে তাদের তৎপরতা শুরু হয়েছে।

পাচারকারীদের ধরতে অভিযান চলছে ॥ এদিকে মানব পাচারকারীদের গ্রেফতারে সরকারী কঠোর নির্দেশের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে। উখিয়া পুলিশের অভিযানে মঙ্গলবার হলদিয়া গ্রামের দালার সৈয়দ হোছন ও টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপের ওমর হালিম গ্রেফতার হয়েছে। গ্রেফতার ওমর হালিমের বিরুদ্ধে সাগর পথে মালয়েশিয়া পাচারের একাধিক মামলা রয়েছে। অনুরূপ মামলা রয়েছে দালাল সৈয়দ হোছনের বিরুদ্ধেও।

আরও শতাধিক দালালের তথ্য ॥ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার প্রেক্ষাপটে কক্সবাজারের বিভিন্ন থানা পুলিশ মানব পাচারকারী গডফাদার ও দালালদের তালিকা তৈরির কাজ শুরু করেছে। জেলা পুলিশ সূত্র জানায়, ইতোপূর্বে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রেরিত তালিকা ছাড়াও আরও শতাধিক মানব পাচারকারী দালাল চক্রের সুনির্দিষ্ট তথ্য তাদের হাতে এসেছে। অচিরেই তাদের গ্রেফতারের মাধ্যমে আইনের কাছে সোপর্দ করা হবে।

এখনও যারা ধরা পড়েনি ॥ কুখ্যাত মানব পাচারকারী ওমর হালিম গ্রেফতার হলেও উখিয়ার মনখালির মোঃ হোছন, আবদুর রাজ্জাক, মোঃ ফয়সাল, তোফায়েল আহমদ, বাহাদুর, নুরুল বশর, চ্যাপ্টখালির ফয়েজুর রহমান শিকদার, সোনাইছড়ির শামসুল আলম, আবুল কালাম, সোনারপাড়ার রেজিয়া আক্তার, কালাজমির, মাদার বুনিয়ার আবদুল জলিল, আবুল কালাম, জুম্মাপাড়ার বেলাল মেম্বার, সানাউল্লাহ, আবদুস সালাম প্রকাশ লম্বা সালাম, লম্বরীপাড়ার বেলাল ওরফে লাল বেলাল, চোয়াংখালীর বর্মাইয়া হাশেম মাঝি, রুবেল, মাদারবুনিয়ার আবদুল আজিজ, আবদুর রহিম, মঞ্জুর আলম, আবু তাহের, করিম উল্লাহ, পূর্ব সোনারপাড়ার নুরুল কবির, সোনাইছড়ির রুস্তম আলী, সোনারপাড়ার কাউসার আহমদ জনি, আলমগীর হোছন রানা, গোয়ালি গ্রামের মফিজ মিয়া, মাহমুদুল হক, নুরুল কবির, হুমায়ুন রশিদ বাপ্পু, বেলাল ও রোহিঙ্গা শীর্ষ মানবপাচারকারী উখিয়ার নয়াপাড়া শরণার্থী ক্যাম্পের মৃত হোছন আহমদের পুত্র জয়নাল প্রকাশ ডাঃ জয়নাল এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে।

মালয়েশিয়াতে সহায়তা দিতে চায় ইউএনএইচসিআর ॥ ইউনাইটেড নেশনস হাই কমিশন ফর রিফিউজি (ইউএনএইচসিআর) মঙ্গলবার অবৈধ অভিবাসী সমস্যা নিরসনে মালয়েশিয়াকে সহায়তা প্রদানে আশ্বাস দিয়েছে। ইউএনএইচসিআর-এর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা আটকেপড়া এবং উদ্ধারকৃতদের খাদ্য ও চিকিৎসা সেবা প্রদানে প্রস্তুত। সংস্থার পক্ষ থেকে মালয়েশিয়া সরকার অভিবাসীদের আগমনে বাধা সৃষ্টি তুলে ফেলার আহ্বান জানিয়েছে। কিন্তু মালয়েশিয়া সরকারের পক্ষে জাতিসংঘকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে তারা গত কয়েক বছরে ৪৫ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গাকে সে দেশে আশ্রয় দিয়েছে। কিন্তু এখন আর একজনকেও আশ্রয় দিতে সরকার নারাজ। গেল সপ্তাহে ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশ ৭ শতাধিক অবৈধ অভিবাসীকে উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে সে দেশের বিভিন্ন ক্যাম্পে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশী নাগরিকদের সংখ্যা কমপক্ষে দেড়হাজার বলে জানানো হয়েছে।

জাতিসংঘের আহ্বান মানছে না ইন্দোনেশিয়া ॥ সাগর এলাকায় ডুবন্ত দেখা গেলেও ইন্দোনেশিয়া সে দেশের জেলেদের অভিবাসীদের তীরে না আনার নির্দেশে দিয়েছে। তাই পাশাপাশি আরও নির্দেশ দিয়েছে কোন ধরনের মানবিক সহায়তা না দেয়ার জন্য। এ অবস্থায় সে দেশের জেলেরা উৎকণ্ঠিত। তারা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে অভিবাসীদের উদ্ধারে তৎপর ছিল। কিন্তু এখন সরকারী নির্দেশনার কারণে এ তৎপরতা থমকে গেছে। এ ব্যাপারে জাতিসংঘ অভিবাসীদের উদ্ধারে এবং মানবিক সহায়তা দিতে যে আহ্বান জানিয়েছে ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া সরকার মানছে না। এ ব্যাপারে মালয়েশিয়াভিত্তিক অভিবাসন বিষয়ক সংস্থা কারাম এশিয়ার সমন্বয়ক হারুন আর রশিদ বিদেশী সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, এসব অভিবাসীদের আশ্রয় দেয়া হলে ভবিষ্যতে আরও এ জাতীয় অভিবাসী আসতে পারে। এ কারণেই অভিবাসীদের তীরে ভেড়ানো থেকে বিতাড়িত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

চরম খাদ্য সঙ্কটে অভিবাসীরা ॥ থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া অভিবাসীদের সে দেশের জলসীমায় প্রবেশে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পর সাগরে ভাসমান হাজার হাজার হতদরিদ্র মানুষ চরম খাদ্য সঙ্কটে রয়েছে। তাদের নেই খাদ্য, নেই পানি, পাচ্ছে না কোন চিকিৎসা সেবা। তারা শুধু ভাসছে। এ জলসীমা থেকে ওই জলসীমায় গিয়ে বিতাড়িত হচ্ছে। এ অবস্থায় আজ কুয়ালালামপুরে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

জাতিসংঘের নিন্দা ॥ থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া সংলগ্ন সাগরে ভাসমান অবৈধ অভিবাসীদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় এ তিন দেশের সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর-এর মুখপাত্র ভিভিয়ান তান মঙ্গলবার জানিয়েছেন, এটা একটা খারাপ ইঙ্গিত। এ তিনদেশের এ ধরনের সিদ্ধান্তের ফলে আন্দামান সাগরে এক মানবিক সঙ্কট তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে যারা উদ্ধার হয়েছে তারা জানিয়েছে, ভাসমান অবস্থায় বিভিন্ন ইঞ্জিন বোটে অভিবাসীদের অমানবিক অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। উল্লেখ্য, ইন্দোনেশিয়া শুরুতে অভিবাসী নিয়ে নমনীয় থাকলেও হঠাৎ করে কঠোর অবস্থানে চলে গেছে। যার ফলে সাগরে ভাসমান মানুষগুলোকে ইন্দোনেশিয়া সরকার কোন ধরনের সহায়তা দিচ্ছে না।

থাইল্যান্ডে শীর্ষ এক পাচারকারী গ্রেফতার ॥ মানব পাচার চক্রের শীর্ষ এক হোতাকে গত সোমবার থাইল্যান্ড পুলিশ গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃত পাচু বান আংচোতি পান সে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে সাতুন প্রদেশের সাবেক সরকারী কর্মকর্তা বলে থাই পুলিশ জানিয়েছে। পুলিশ আরও জানিয়েছে, এ ব্যক্তি মানব পাচারের অন্যতম মূল হোতা। তার বহু অনুসারী রয়েছে।

মানব পাচারে ২৪ চক্র ॥ সাগর পথে মানব পাচারে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের ২৪ চক্রের সন্ধান মিলেছে। এরমধ্যে ১১টি বাংলাদেশ ও ১৩টি মিয়ানমার কেন্দ্রিক। মিয়ানমারের মানব পাচারকারী চক্রের এক প্রধানকে গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে গত ১ মে শংখলা প্রদেশের জঙ্গলে গণকবর আবিষ্কৃত হয়। বাংলাদেশের শীর্ষ একটি মানব পাচারকারী চক্রের প্রধান শরীফ ওরফে শরীফ বস বলে জানা গেছে। তিনি অধিকাংশ সময় মালয়েশিয়ায় থাকেন।

প্রকাশিত : ২০ মে ২০১৫

২০/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: