কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৩ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

রাজাকার কমান্ডার মাহিদুর-চুটুর রায় কাল

প্রকাশিত : ১৯ মে ২০১৫, ১১:৪২ এ. এম.

স্টাফ রিপোর্টার‌॥ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগজ্ঞের রাজাকার কমান্ডার মাহিদুর রহমান ও আফসার হোসেন চুটুর মামলার রায় কাল বুধবার ঘোষনা করা হবে।

মঙ্গলবার চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান শাহীনের নেতৃত্বে তিন সদস্য বিশিষ্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল -২ মামলার রায় ঘোষণার এই দিন ধার্য করেন। ট্রাইব্যুনাল অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো:মুজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো:শাহিনুর ইসলাম।

২২ এপ্রিল রাজাকার কমান্ডার মাহিদুর রহমান ও আফসার হোসেন চুটুর মামলায় সর্বশেষ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজ ও প্রসিকিউটর সাহিদুর রহমান। অন্যদিকে আসামীপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন এ্যাডভোকেট আব্দুস সুবহান তরফদার ও আব্দুস সাত্তার পালোয়ান। যুক্তিতর্ক শেষে ব্যারিষ্টার তুরিন আফরোজ সাংবাদিকদের বলেন ,দুই আসামীর বিরদ্ধে আনা অভিযোগ প্রসিকিউশন প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। তাই তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড কামনা করছি। অপর দিকে আসামীপক্ষে আইনজীবী আব্দুস সুবহান তরফদার বলেন, আসামীদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রসিকিউশন প্রশান করতে পারেনি। তাই তারা খালাস পাবেন।

১৯৭১ সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ এলাকায় হত্যা ও গণহত্যার সুনির্দিষ্ট তিনটি অভিযোগ রয়েছে এই দুইজনের বিরুদ্ধে। গত ২৭ জানুয়ারি থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত মাহিদুর-আফসারের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা জেডএম আলতাফুর রহমানসহ রাষ্ট্রপক্ষের মোট ১০ জন সাক্ষী। তবে মাহিদুর-আফসারের পক্ষে কোনো সাফাই সাক্ষী ছিলেন না। গত ১২ জানুয়ারি মাহিদুর-আফসারের বিরুদ্ধে সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে মামলার কাজ শুরু হয়। ২০১৪ সালের ১১ ডিসেম্বর তিনটি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মাহিদুর রহমান ও মো. আফসার হোসেন চুটুর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল। এর আগে গত বছরের ১ ডিসেম্বর অভিযোগ গঠনের পক্ষে প্রসিকিউটর সাহিদুর রহমান ও আসামীপক্ষে শুনানি করেন তাদের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলাম। ২০১৪ সালের ২৪ নভেম্বর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে (শ্যোন অ্যারেস্ট) মাহিদুর-আফসারের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। একই বছর ১৬ নভেম্বর এ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেন প্রসিকিউটর। ২০১৪ সালের ২৭ অক্টোবর তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে তদন্ত সংস্থা। পরদিন ২৮ অক্টোবর তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনের জমা দেয়। তার আগে তদন্ত শুরু হয় ১১ ফেব্রুয়ারি ৭ খন্ডে ৯৫৬ পৃষ্ঠার চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি করা হয়।

তদন্ত সংস্থার তথ্যানুযায়ী, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় এই দুজন বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে অস্বীকার করে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীকে সহযোগিতা করার জন্য সশস্ত্র রাজাকার বাহিনীতে যোগ দেন। সশস্ত্র প্রশিক্ষণ শেষ করার পর অস্ত্র ও প্রয়োজনীয় সংখ্যক গুলি সংগ্রহ করে অন্যান্য রাজাকারের সঙ্গে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার আদিনা ফজলুল হক ডিগ্রি কলেজ দখল করে রাজাকার ক্যাম্প স্থাপন করে এলাকায় হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ ও ধর্মান্তরিত করাসহ অন্যান্য মানবতাবিরোধী অপরাধ করতে থাকেন।

অভিযোগের মধ্যে রয়েছে , ১৯৭১ সালের ৬ অক্টোবর সকাল ৬টা থেকে ৭ অক্টোবর সন্ধ্যা পর্যন্ত দুই দিনে মাহিদুর ও আফসারের সহায়তায় পাকিস্তানি দখলদার ও রাজাকার বাহিনী অপারেশন চালিয়ে ৩৯ জনকে আটক, অপহরণ, নির্যাতন করে এবং ২৪ জনকে হত্যা করে। ১৯৭১ সালের ১৩ অক্টোবর বেলা ১টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাহিদুর ও আফসারের সহায়তায় রাজাকার বাহিনী শিবগঞ্জের এরাদত বিশ্বাসের টোলা এবং কবিরাজ টোলা গ্রামের ৭০টি বাড়িতে লুণ্ঠন চালায় এবং আগুন ধরিয়ে দেয়। ১৯৭১ সালের ২ নভেম্বর বেলা ২টা থেকে পরের দিন ৩ নভেম্বর রাত পর্যন্ত তৎকালীন চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহকুমার শিবগঞ্জ থানাধীন শেরপুর ভান্ডার (লক্ষ্মীপুর), আদিনা ফজলুল হক সরকারি ডিগ্রি কলেজ, শিবগঞ্জ সিও অফিস আর্মি ক্যাম্প এবং উপজেলা সংলগ্ন ইয়াকুব বিশ্বাসের আমবাগান এলাকায় মাহিদুর ও আফসারের সহায়তায় রাজাকার বাহিনী অপারেশন চালিয়ে আটক, নির্যাতন, অপহরণ, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ করে এবং চার জনকে হত্যা করে।

##

প্রকাশিত : ১৯ মে ২০১৫, ১১:৪২ এ. এম.

১৯/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: