মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

কারিগরি শিক্ষায় নারী

প্রকাশিত : ১৯ মে ২০১৫

কারিগরি শিক্ষায় নারী শিক্ষার্থীর সম্পৃক্ততা অতীতের তুলনায় বৃদ্ধি পাওয়াটা ইতিবাচক লক্ষণ। দৃশ্যত শুধু নারী শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ মনে হলেও কার্যত ব্যাপারটি সমাজ, রাষ্ট্র ও সরকারের প্রগতির পথে আরেক ধাপ এগোনোর দৃষ্টান্ত। এর উদ্দেশ্য বাস্তবায়িত হলে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার লক্ষ্যপথে সহায়ক শক্তি হিসেবে বিবেচিত হবে। এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, নারীর সর্বক্ষেত্রে অংশগ্রহণ বাড়লে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত হওয়ার পথ সুগম হবে।

একটা সময়ে নারী ছিল অবরোধবাসিনী। সে সময়ের সামাজিক বাস্তবতা ছিল ভিন্ন। নারী পর্দার অন্তরালে থেকে সংসার ও সন্তান সামলাবে- এমনটাই ছিল ধারণা। এ কথা বললে বোধ করি অত্যুক্তি হবে না- নারীর জন্য তা ছিল অনেকটা অবধারিত। সে সময় হয়েছে এখন বাসি। পৃথিবী অনেক এগিয়েছে। পরিবর্তন হয়েছে অনেক পুরনো ও পিছুটানের ধ্যান-ধারণা। এই পরিবর্তনের ঢেউ আমাদের সমাজেও লেগেছে। নারী এখন আর আগের মতো ঘরের কোণে বসে নেই। রাষ্ট্র শাসন থেকে শুরু করে সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে বেড়েছে তাঁর অংশগ্রহণ। তথাপি নারীর সামগ্রিক মুক্তি বা স্বাধীনতা বলতে যা বোঝায় তা প্রতিষ্ঠিত হয়নি এখনও। এ বিষয়ে এখনও কিছু প্রতিবন্ধকতা কাজ করছে, পাশাপাশি রয়েছে কুসংস্কার। দেশে কারিগরি শিক্ষায় নারী শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ বেড়েছে। এটা শুধু শহরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয়ই নয়, প্রত্যন্ত অঞ্চলেও এ সংখ্যা বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে।

সাধারণ কারিকুলামে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাগ্রহণের মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থীকে শিক্ষাজীবন শেষে কর্মসংস্থানের জন্য বেশ সময় অপেক্ষা করতে হয়, কাটাতে হয় বেকার জীবন। সাধারণ শিক্ষার হার ও মান বেড়ে যাওয়ায় কর্মক্ষেত্র হয়ে উঠেছে প্রচ- প্রতিযোগিতামূলক। এ অবস্থায় হাতে-কলমের কাজ বা কারিগরি ক্ষেত্রে বাড়ছে কর্মসংস্থানের সুযোগ। এ বিষয়টি উপলব্ধি করে যেসব নারী শিক্ষার্থী কারিগরি শিক্ষাক্ষেত্রে সম্পৃক্ত হচ্ছেন তাঁরা সময়ের চেয়ে অগ্রগামী বটে। তাঁদের এ সময়োচিত সিদ্ধান্তকে আমরা সাধুবাদ জানাই। পাশাপাশি অভিনন্দন জানাই সরকারকে এ যুগোপযোগী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের মাধ্যমে তাঁদের সুযোগ করে দেয়ায়।

আগামীর পৃথিবী তথ্যপ্রযুক্তি ও শিল্পের দুনিয়া বলে ক্রমান্বয়ে প্রতিভাত হচ্ছে। নারী শিক্ষার্থীরা ইনফর্মেশন টেকনোলজি, মাল্টিমিডিয়া, ইঞ্জিনিয়ারিংসহ পুরুষের পাশাপাশি বেশ কিছু ঝুঁকিপূর্ণ কাজও শিখছেন, যা তাঁরা একরকম চ্যালেঞ্জ হিসেবেই নিয়েছেন। এটা সময়ের সাহসিকতাপূর্ণ সিদ্ধান্ত। এমন বাস্তবতায় বলতে কেউ দ্বিধাবোধ করবে নাÑ প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে নারী তাঁর স্বাধীনতার পথে আগুয়ান, অন্তত আর্থিক স্বাবলম্বিতার লক্ষ্যে।

এই প্রগতিশীল কর্মযজ্ঞ অব্যাহত রাখা অবশ্যই জরুরী। এখন কথা হলোÑ নারীদের এই স্রোতে অঙ্গীভূত করতে হলে পাঠ্যসূচী, পাঠদান পদ্ধতি ও শিক্ষার সামগ্রিক পরিবেশ নারীবান্ধব করা প্রয়োজন। অধিকসংখ্যক নারী শিক্ষার্থীকে কারিগরি শিক্ষার আওতায় আনতে স্বল্প খরচ নিশ্চিত করার জন্য এক্ষেত্রে সরকারের আরও ভর্তুকি থাকা প্রয়োজন। কারিগরি শিক্ষার উপকরণ যেহেতু ব্যয়বহুল; তা সহজলভ্য ও সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখাও আবশ্যক। মনে রাখা দরকার, নারীর স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে তাঁর স্বাবলম্বিতার বিকল্প নেই। দেশের প্রায় অর্ধেক নারীসমাজকে জাতীয় অর্থনীতিতে অবদানের সুযোগ সৃষ্টির জন্য অন্য কর্মপন্থার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমেই কর্মোপযুক্ত করা একান্ত প্রয়োজন।

প্রকাশিত : ১৯ মে ২০১৫

১৯/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: