কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

নিয়ন্ত্রণহীন মাদ্রাসা শিক্ষা

প্রকাশিত : ১৯ মে ২০১৫
  • বেতনসহ শতভাগ সুযোগ-সুবিধা সরকার থেকে পেলেও চলে সুপার-প্রিন্সিপাল আর গবর্নিং বডির ইচ্ছায়
  • নিয়োগ ও ভর্তি বাণিজ্য হাতিয়ার
  • প্রভাবশালী গবর্নিং বডির স্বেচ্ছাচারিতা আর অর্থ লোপাটের মহোৎসব চলে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে

বিভাষ বাড়ৈ ॥ সারাদেশের এমপিওভুক্ত মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারীদের শতভাগ বেতন সরকার দিলেও অসংখ্য প্রতিষ্ঠানে চলছে সুপার, প্রিন্সিপালসহ গবর্নিং বডির স্বেচ্ছাচারিতা আর অর্থ লুপাটের মহোৎসব। ১৬ হাজারেরও বেশি মাদ্রাসার প্রায় পৌনে দুই লাখ শিক্ষক-কর্মচারীর শতভাগ বেতন দিলেও পরিচালনায় নেই সরকারের কোন নিয়ন্ত্রণ। কার্যকর নেই কোন নীতিমালা। দুর্বল এক আদেশের ওপর ভর করে দায়সারাভাবে চলছে হাজার হাজার মাদ্রাসা। সরকারের অনুদানে পরিচালিত হলেও এসব মাদ্রাসা চলছে সুপার, প্রিন্সিপালসহ গবর্নিং বডির সদস্যদের ইচ্ছেমতো। নিয়োগ বাণিজ্য, উন্নয়নের নামে অর্থ লোপাট, ধর্মীয় শিক্ষার জন্য অর্থ এনে আত্মসাত, জামায়াতের রাজনীতিসহ নানা অপকর্মে জড়িত অনেক সুপার ও প্রিন্সিপাল। সরকারের আদেশ-নির্দেশ অমান্য করে এরা গঠন করছেন গবর্নিং বডি। সরাসরি জামায়াত-শিবিরের রাজনীতির প্রমাণ মিলেছে অনেক সুপার ও প্রিন্সিপালের বিরুদ্ধে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাদ্রাসা বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট দফতরে ভারি হচ্ছে অভিযোগের পাল্লা। এদিকে দাখিল, আলিম, ফাজিল, কামিল মাদ্রাসার সুপার, প্রিন্সিপালসহ গবর্নিং বডির সদস্যদের কাছে রীতিমতো অসহায় হয়ে পড়া সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ‘আল্লাহর পরেই যেন তাদের ক্ষমতা। অনেক প্রতিষ্ঠান সত্যিকারের শিক্ষা দিলেও বহু প্রতিষ্ঠানেই এদের কারণে প্রতারিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। আবার অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গেলেও জামায়াত-শিবিরসহ উগ্রবাদী গোষ্ঠীকে দিয়ে অপপ্রচার চালানো হয় যে, সরকার মাদ্রাসার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।’ মাদ্রাসা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এ কে এম ছায়েফ উল্লা বলছিলেন, অনেক অভিযোগ আছে। তবে মাদ্রাসায় দুর্নীতি অনিয়মের বিষয়টি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এলাকাভিত্তিক। যেমন গত কয়েক মাস ধরে যে সব অভিযোগ সুপার ও প্রিন্সিপালসহ গবর্নিং বডির সদস্যদের বিরুদ্ধে আসছে তার অধিকাংশই উত্তরাঞ্চল বিশেষত চাঁপাইনবাবগঞ্জ, দিনাজপুর, গাইবান্ধা, রংপুর, বগুড়াসহ নির্দিষ্ট কয়েকটি এলাকার। অন্যান্য এলাকায় অভিযোগ থাকলেও তা কম। সরকার এখন স্বচ্ছতার বিষয়টি কঠোরভাবে নিশ্চিত করছে। আমরা সব সময় নজরদারির মধ্যে রাখছি। তার পরেও সম্ভব হয় না। তিনি আরও বলেন, আসলে বেসরকারী এসব প্রতিষ্ঠানের গবনিং বডি বিধান অনুসারে এতই শক্তিশালী যে তারা ইচ্ছেমতো অনেক কিছুই করতে চায়। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অনেক প্রতিষ্ঠান খুব ভাল চললেও কিছু প্রতিষ্ঠানের গবর্নিং বডির সদস্যরা তাদের পদটিকে মনে করেন একটি চাকরি। এমনও অভিযোগ পাই, যেখানে সকালে সুপারদের কাছে সকাল বেলা এসে গবর্নিং বডির কোন কোন সদস্য বলছেন, ‘সুপার বাজারে যাইতে হবে।’ মানে হলো তিনি বাজারে যাবেন তো মাদ্রাসা ফান্ড থেকে টাকা দেন! তবে এ ধরনের চিত্র খুব অল্প প্রতিষ্ঠানে বলেই দাবি করলেন চেয়ারম্যান।

জানা গেছে, এই মুহূর্তে মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে পরিচালিত মাদ্রাসার সংখ্যা ১৬ হাজার ২২৬। এর মধ্যে ইবতেদায়ী, দাখিল, আলিম, ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসা আছে। যেখানে শিক্ষার্থী আছে প্রায় অর্ধকোটি। এমপিওভুক্ত শিক্ষক আছেন এক লাখ ২০ হাজার। কর্মচারী আছেন ৪০ হাজারের কিছু বেশি। এর বাইরেরও নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী আছেন। দাখিল বা মাধ্যমিক স্তরের প্রধানকে বলা হয় সুপার। আর আলিম বা উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের প্রধানকে বলা হয় প্রিন্সিপাল।

সরকার শতভাগ বেতন দিলেও কর্তৃত্ব সুপার, প্রিন্সিপালসহ গবর্নিং বডির ॥ প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষক-কর্মচারীর ১০০ ভাগ বেতনই দিচ্ছে সরকার। দেয়া হচ্ছে অন্যান্য ভাতাসহ নানা সুযোগ সুবিধা। এর সঙ্গে গত বছর যুক্ত হয়েছে বহুযুগের দাবি অনুসারে শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়িভাড়া ও উৎসব ভাতা বৃদ্ধির সরকারী ঘোষণা। কিন্তু বাস্তবতা হলো, শতভাগ বেতন, সুয়োগ সুবিধা দেয়া হলেও পরিচালনায় সরকারের নেই তেমন কোন নিয়ন্ত্রণ।

কার্যকর নেই কোন নীতিমালা। ১৯৬১ সালের ঢাকা জেলা প্রশাসকের আদেশের ওপর ভর করে দায়সারাভাবে চলছে এ হাজার হাজার প্রতিষ্ঠান। সরকারের অনুদানে পরিচালিত হলেও চলছে সুপার, প্রিন্সিপালসহ গবনিং বডির ইচ্ছায়। গবনিং বাডিতে সুপার ও প্রিন্সিপালরা হচ্ছেন সদস্য সচিব। নিয়ম অমান্য করে গবর্নিং বডি হস্তক্ষেপ করছে একাডেমিক বিষয়েও। গবর্নিং বডিতে এসে প্রভাবশালীরা সরকারের আদেশ নির্দেশ অমান্য করে ইচ্ছেমতো প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন। ফলে দিন দিন প্র্রতিষ্ঠান পরিণত হচ্ছে নিয়োগ ও ভর্তি বাণিজ্যের হাতিয়ার হিসেবে। সুপার ও প্রিন্সিপলরা অনেক ক্ষেত্রেই নিজেদের পছন্দের লোক দিয়ে কমিটি গঠন করছেন। অনেকেই পাত্তা দিচ্ছেন না প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতাকেও। এ অবস্থায় এখন অনেক অঞ্চলেই দাবি উঠেছে, এখন যেখানে সরকারই শতভাত বেতন-ভাতা দিচ্ছে সেখানে পুরনো আইন এখন আর মেনে নেয়া যায় না। প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় এমপিওভুক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সরকারী নিয়ন্ত্রণ আনা জরুরী। শতভাগ বেতন সরকার দিচ্ছে-এ বিষয়টি মাথায় রেখে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন ও প্রয়োগ করতে হবে। আর অশিক্ষিত মোড়ল মাতব্বররা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আসছে। তাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় যারা আসেন তাদের অবশ্যই শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ করে দেয়া অনেক বেশি প্রয়োজন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষা অধিদফতর ও শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা বেতন-ভাতা দেয়ার পরেও সরকারের নিয়ন্ত্রণ না থাকা প্রসঙ্গে জানালেন, বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের কাছে আছে কেবল ১৯৬১ সালের একটি আদেশ। কিন্তু ঐ আদেশ জারির সময় কোন প্রতিষ্ঠানই সরকারের অর্থে পরিচালিত হতো না। আদেশও হয়েছিল সরকারী অর্থায়ন না থাকার বিষয়টি মাথায় রেখেই। আর এখন শিক্ষক-কর্মচারীদের শতভাগ বেতন সরকারীভাবে দেয়া হলেও সেই একই নীতিমালা টিকে থাকায় তা কার্যকর করা যাচ্ছে না। সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এখন শতভাগ বেতন সরকারীভাবে দেয়া হচ্ছে। তাই আগের নীতিমালা দিয়ে কোনভাবেই প্রতিষ্ঠানেও ওপর নিয়ন্ত্রণ ফলপ্রসূ হচ্ছে না, হবেও না। শতভাগ বেতন সরকার দিচ্ছে-এই বিষয়টি মাথায় রেখে এসব প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় সুনির্দিষ্ট একটি নীতিমালা প্রণয়ন ও প্রয়োগ করা জরুরী।

একের পর এক অভিযোগে অস্থির অনেক মাদ্রাসা ॥ ময়মনসিংহ জেলার কৈতরবাড়ি জয়নাতলী বাজার দাখিল মাদ্রাসার নিয়মিত কমিটি অনুমোদন না করার জন্য একটি আবেদন পড়েছে মাদ্রাসা বোর্ডের রেজিস্ট্রারের দফতরে। যেখানে মাদ্রাসাটির প্রতিষ্ঠাতাই তুলেছেন অভিযোগ। বলেছেন, ‘আমাকে ও এলাকাবাসীকে না জানিয়ে কোন প্রকার নোটিস না দিয়ে নিজ স্বার্থে সুপার কমিটি অনুমোদন করেছেন। আমার নামে একটি মনোনয়নপত্র উত্তোলন করে তাতে আমার স্বাক্ষর জাল করে নির্বাচন হয়েছে বলে বোর্ডকে দেখিয়েছেন, যা মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমি মাদ্রাসার নির্বাচন সম্পর্কে কিছুৃই জানি না। এর আগে ২০১২ সালে আমার স্বাক্ষর জাল করে জুুনিয়র মৌলভী পদে হাবিবুর রহমানকে নিয়োগ দেয়া হয়। এ অবস্থার আবার অপকর্মের খবর জানতে পেরে বোর্ডের কাছে কমিটি অনুমোদন প্রক্রিয়া বন্ধ করার আবেদন করেছেন প্রতিষ্ঠাতা মোঃ রজব আলী।

সম্প্রতি চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার আট ও পনেরো রশিয়া আনক কারিগরি দাখিল মাদ্রাসার সুপার মনিরুল ইসলামের অনিয়ম, দুর্নীতি ও পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও ক্লাস বর্জন করেছে শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা জানায়, সুপার মনিরুল ইসলাম দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে নিয়মিত ক্লাস না হওয়াসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি চালিয়ে যাচ্ছে। শিক্ষক নিয়োগের নামে লাখ লাখ টাকা আত্মসাত করেছে। তারা আরও বলেন, বর্তমান মাদ্রাসা পরিচালনার যে কমিটি রয়েছে সেটিও অবৈধ।

লাকসাম পৌর এলাকার গাজিমুড়ায় দৌলতগঞ্জ-গাজিমুড়া কামিল মাদ্রাসায় দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতির কারণে শিক্ষা ব্যবস্থার অচলাবস্থা ও প্রশাসনিক চরম সঙ্কট দেখা দিয়েছে। ওই মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল ও একজন প্রদর্শকসহ তাদের অনুসারী কয়েক শিক্ষকের হাতে মাদ্রাসাটি জিম্মি। স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত পরিচালনা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি।

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ঈদগাহ সফিকিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা সুপার জামায়াত নেতা মুহা. আইউব মজুমদারের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও মাদ্রাসার বিভিন্ন ফান্ডের মোটা অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসনসহ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদফতর কর্তৃক তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগসমূহ বিভিন্ন সময়ে তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত ওই সুপারকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করলেও তিনি তার কর্মস্থলে অবস্থানের মাধ্যমে প্রভাব খাটিয়ে চলছেন। মাদ্রাসার সুপার মুহা. আইউব মজুমদার মাদ্রাসার মালিকানাধীন দোকান ভাড়ার টাকা, ছাত্র ভর্তি ফি, পরীক্ষার ফি, এককালীন চাঁদা, ইউনিয়ন পরিষদ অনুদানের টাকা, দাতা সদস্যের বিপরীতে আদায়কৃত টাকাসহ বিগত প্রায় ১৮ বছর যাবত ওই মাদ্রাসা ফান্ডের লাখ লাখ টাকা আত্মসাত করেন। কমিটির সাবেক সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান অভিযোগকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল বাহার জানান, বিভিন্ন সময়ে দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে সুপার ও জামায়াত নেতা আইউব মজুমদার মাদ্রাসার বিভিন্ন ফান্ডের হিসাব গরমিল করে লাখ লাখ টাকা আত্মসাতসহ ক্যাডারভিত্তিক রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে তাকে গত ২০১৩ সালের ১ অক্টোবর চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত হয়। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগসমূহ একাধিক তদন্তে প্রমাণিত হলেও তিনি মাদ্রাসায় আসা-যাওয়া ও অবস্থানের মাধ্যমে প্রভাব খাটিয়ে দুর্নীতি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছেন। এতে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়াসহ স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘিœত হচ্ছে।

রাবেতা ইসলামী ব্যাংক রেসিডেন্সিয়াল মাদ্রাসার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি, দলীয়করণ, শিক্ষক নিয়োগে বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব অনিয়মে জড়িত রয়েছে মাদ্রাসার সুপার ও কো-অর্ডিনেটর। শিক্ষক নিয়োগ ও দলীয়করণের কারণে মাদ্রাসার শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়াসহ চেন অব কমান্ড না থাকায় শিক্ষার পরিবেশ ভেঙ্গে পড়ার আশঙ্কা করছে সচেতন অভিভাবক মহল।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ ভোলাহাটে আলালপুর মাদ্রাসা সুপার দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম-দুর্নীতি আর মাদ্রাসা তহবিলের লাখ লাখ টাকা আত্মসাত করে নিজের সংসারে ব্যয় করছেন কিন্তু বিষয়টি দেখার কেউ নেই। প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ সংশিষ্ট বিভিন্ন অধিদফতরে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।

সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার বসন্তপুর দাখিল মাদ্রাসার সুপারের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, অবৈধ নিয়োগ, অর্থ আত্মসাত ও মাদ্রাসা ধ্বংসের নানামুখী ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদ জানিয়েছে বসন্তপুর মাদ্রাসা রক্ষা কমিটি।

জামালগঞ্জ উপজেলা কালিপুর নেছারিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মোঃ নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অর্থ লোপাটের অভিযোগ উঠেছে। সভাপতি আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ আলী বলেন, আমরা নির্বাচিত কমিটি নানা অনিয়মের বিষয় নিয়ে মাদ্রাসা সুপারের কাছে জবাবদিহিতা চেয়েছি। তিনি কমিটিকে পাস কাটিয়ে ছুটিসহ অনেক সুবিধাই অবৈধভাবে ভোগ করে যাচ্ছেন। জবাবদিহিতা না থাকায় তার বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছি।

দুর্নীতির মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে লাপাত্তা হয়ে গেছেন ভোলার লালমোহন উপজেলার পূর্ব ধলীগৌরনগর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা শফিউল্যাহ। প্রায় ৪ মাস ধরে লাপাত্তা থাকার কারণে একই মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা তোফাজ্জল হোসেনকে ভারপ্রাপ্ত সুপার নিয়োগ দিয়েছে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটি।

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার রঘুনাথপুর ফাজিল মাদ্রাসায় টাকার বিনিময়ে পরিচালনা পর্যদ শিক্ষক নিয়োগ দেয়ার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এক নিয়োগ প্রাার্থী স্থানীয় সাংসদ, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার টাটেরা হাজী মাস্টার রেহান উদ্দিন আখন্দ মহিলা দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আবদুল মুবিন আখন্দের বিরুদ্ধে সর্টিফিকেট জালিয়াতি করে সুপার পদে নিয়োগ, প্রতারণা ও দুর্নীতি করে লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সম্প্রতি সাতক্ষীরায় একাধিক সহিংসতা মামলার আসামি ও জামায়াত নেতা মনিরুজ্জামানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সাতক্ষীরা শহরতলীর কাশেমপুর সিদ্দিকিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি ওই মাদ্রাসার সুপার ও স্থানীয় ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি। মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে সহিংসতা সৃষ্টিসহ হরতাল অবরোধে গাছকাটা, রাস্তাকাটা, সরকারী কাজে বাধা দেয়ার একাধিক অভিযোগে মামলা রয়েছে

সাতক্ষীরার ২১৬টি মাদ্রাসার অধিকাংশ শিক্ষক নাশকতা মামলার আসামী ॥ জেলার ২১৬টি মাদ্রাসার প্রায় আড়াই হাজার শিক্ষকের অধিকাংশই রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকা-ে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। বিগত ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে তারা সরকার বিরোধী কর্মকা-ে জড়িয়ে পড়ে। ছাত্রদের লেলিয়ে দিয়ে সাধারণ মানুষকে রাস্তায় নাজেহাল করার কাজে। রাস্তাকাটা, গাছকাটা, বোমা বিস্ফোরণ, বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ভাংচুর লুটপাট, এমনকি কুপিয়ে ও পিটিয়ে একাধিক নেতাকর্মীদের হত্যার অভিযোগে এক একজন মাদ্রাসা শিক্ষকের নামে ৫ থেকে ১৫/২০টি করে মামলা রয়েছে। এ সমস্ত মামলায় অনেকেই গ্রেফতার হয়েছে। অনেকেই পালিয়ে আছে। আবার অনেকেই পালিয়ে থাকায় তদন্তকারী কর্মকর্তারা আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করলেও মাদ্রাসার হাজিরা খাতায় নিয়মিত উপস্থিত স্বাক্ষর দেখিয়ে বেতন উত্তোলন করছেন। সাতক্ষীরা জেলায় দাখিল মাদ্রাসা রয়েছে ১৬৮টি, আলিম মাদ্রাসা রয়েছে ২৬টি, ফাজিল মাদ্রাসা রয়েছে ১৮টি এবং কামিল মাদ্রাসা রয়েছে ৩টি। মোট ২১৬টি মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক রয়েছে দুই হাজার ৪৬৬ জন।

প্রকাশিত : ১৯ মে ২০১৫

১৯/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: