কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৩ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

প্রাণবন্ত হাসি

প্রকাশিত : ১৮ মে ২০১৫
  • আরিফুর সবুজ

ওষুধে তেমন কৌতুক নেই, কিন্তু কৌতুকের মধ্যে প্রচুর ওষুধ আছে। কথাটি অনেকটা অদ্ভুত শোনালেও কিন্তু বাস্তবিক। কৌতুক আমাদেরকে হাসায়। যত দুঃখভারাক্রান্ত মনই থাকুক না কেন, কৌতুক পড়তে পড়তে বা শুনতে শুনতে অথবা দেখতে দেখতে আপনার হাসি চলে আসবেই। আর তখন দেখবেন কোথায় চলে গেছে আপনার সেই দুঃখবোধ। প্রচ- মানসিক চাপ ও মনোকষ্টে আছেন। কিছুই ভাল লাগছে না। এই রকম অবস্থায় সোজা চার্লি চ্যাপিলন, মিস্টার বিন দেখুন অথবা কার্টুন চ্যানেলে কার্টুন দেখতে থাকুন। দেখবেন মুখে হাসি চলে আসবে। আর আপনার মনোকষ্ট অনেকটাই লাঘব হয়ে যাবে। হাসলে শরীর ও মন দুটোই ভাল থাকে। আপনি সুস্থ-অসুস্থ যেমনই থাকুন না কেন, হাসুন। দেখবেন শরীর ও মন চনমনিয়ে উঠেছে। হাসি আপনাকে দেবে প্রয়োজনীয় বাড়তি প্রাণশক্তি। বিপদকালীন হাসি আসতে চাইবে না এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সেই সময়টিতেও গোমড়ামুখে বসে না থেকে জোর করে হলেও একটু হাসুন। নিজের মধ্যে তৈরি করুন রসবোধ। দেখবেন বিপদ থেকে উদ্ধারের সর্বোৎকৃষ্ট পথটি আপনি খুঁজে পেয়েছেন। হাসি মনকে যেমন প্রফুল্ল রাখে তেমনি খুলে দেয় বুদ্ধির দুয়ার।

রোগ বালাই আমাদের জীবনের সঙ্গে যেন ওতপ্রোতভাবে জড়িত। গবেষণায় দেখা গেছে, ৮৫% রোগ শরীরের নিজস্ব প্রতিরোধ ব্যবস্থার মাধ্যেমেই মোকাবিলা করা যায়। আর এই প্রতিরোধ ব্যবস্থার জন্য জীবনকে ভাবতে হয় সহজভাবে। জীবনে আগত জটিলসব সমস্যার মাঝেও হাসার চেষ্টা করতে হবে। দেখবেন সমস্যার সমাধান অনেকটাই সহজ মনে হবে তখন। আমাদের বেশিরভাগ মানুষেরই সমস্যা হলো জীবনে কোন সমস্যা এলেই আমরা নার্ভাস হয়ে পড়ি। নার্ভাস অবস্থায় কোন সিদ্ধান্তই সঠিকভাবে নেয়া যায় না। ফলে অনেক সময়ই দেখা যায় জীবনের জটিলতা আরো বৃদ্ধি পায়। জীবনে যত জটিল সমস্যার আবির্ভাবই ঘটুক না কেন, মনে রাখবেন সবকিছুরই সমাধান আছে। জীবনকে সহজ করে ভাবলে দেখবেন যত কঠিন সমস্যাতেই আপনি পড়–ন না কেন, আপনি ভেঙে পড়বেন না। সৎ চিন্তা, আশা, ভালবাসা, সর্বশুভচিন্তা, যতœবান হওয়া, ঘনিষ্ঠতা, আনন্দ, হাসি এবং রসবোধ আপনার জীবনকে সহজ করে ভাবতে সাহায্য করবে। জীবনকে সহজ করে ভাবার জন্য হাসির বিকল্প খুঁেজ পাওয়া ভার। আরেকটি কথা আপনার জীবনে জটিলতা নিয়ে আসতে পারে ঘৃণা, হতাশা, সর্বদুঃখ চিন্তা, উদাসীনতা, উদ্বিগ্নতা, বিষণœতা, নির্জনতা ইত্যাদি। তাই বদলে ফেলুন জীবনের যত সব জটিলতা। জটিলতা থেকে মুক্তির অন্যতম পথই হচ্ছে হাসি। প্রাণখুলে হাসুন। দেখবেন খুলে গেছে জীবনের সকল জট জটিলতা।

মনে রাখবেন, মন ভালো রাখা অর্থাৎ মেজাজ ভালো রাখা স্বাস্থ্যের জন্য প্রচ- গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের সব ধরনের আবেগ এক বিশেষ রাসায়নিক বার্তামাত্র। এই বার্তা শরীরে বিশেষ পরিচয়ে সংরক্ষিত থাকে। এসব রাসায়নিক বার্তাই দেহ ও মনের সংযোগ ঘটায়। আবেগ শরীরে এক ধরনের রাসায়নিক পরিবর্তন তৈরি করে যা চিন্তা ও কাজকে প্রভাবিত করে। আমাদের ভালো থাকা না থাকা এই চিন্তা ও আবেগের ওপর নির্ভরশীল। আপনি যদি আনন্দে থাকেন, শক্তিমান রসবোধ সম্পন্ন হন তাহলে এই রাসায়নিক পরিবর্তন ইতিবাচকই হবে। ফেলে বেড়ে যাবে আপনার ভালো থাকা। হাস্যরস স্বাস্থ্যের পক্ষে যেমন উপকারী তেমনি এটি মানসিক ও সামাজিক স্বাস্থ্যকেও সুন্দর করে তোলে । একটু হাসুন, দেখবেন আপনার টান টান পেশি শিথিল হয়ে যাবে। মানসিক চাপের কারণে শরীরে কিছু হরমোনের পরিবর্তন হয়। দিনের পর দিন মানসিক চাপকে বয়ে বেড়ালে তা শরীরের জন্য হুমকি হয়ে দেখা দেয়। তাই যেভাবেই হোক না কেন মানসিক চাপ থেকে আপনাকে মুক্তি পেতেই হবে। মানসিক চাপের কারণে শরীরে যে রাসায়নিক পদার্থ তৈরি হয়, হাসি সেগুলোকে কমিয়ে শরীরকে রাখে নিটোল। মানসিক চাপ থেকে মুক্তি পেতে চান, তবে প্রাণখুলে অট্টহাসিতে ফেটে পড়–ন। দেখবেন মানসিক চাপ আপনার থেকে দৌড়ে পালাবে। একটা মজার কথা হলো আপনি দশ মিনিট যদি হাসেন তা আপনাকে উপহার দিবে কমসে কম দু ঘণ্টার গভীর নিদ্রা। অনিদ্রা রোগে যারা ভুগছেন তারা একটু পরীক্ষা করেই দেখুন না।

ব্যথায় কাতর। ব্যথার কারণে কিছুই করতে পারছেন না। এমন অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে চাইলে বত্রিশটা দাঁত বের করে হাসুন। দেখবেন ব্যথা কমে গেছে। আসলে হাসি ব্যথা ভোলায়। এটি ব্যথার ওষুধের মতোই কার্যকর। বিশেষজ্ঞরা অনেক সময়ই মজা করে বলেন, একজন গোপালভাড় হলো অ্যাসপিরিনের বড়ির মতো বা তার চেয়েওে শক্তিশালী ব্যথানাশক। ফিজিওথেরাপি, মেডিটেশন বা শিথিলায়নের অন্যান্য পদ্ধতির পাশাপাশি হাসিও ব্যথা উপশমে অত্যন্ত কার্যকর। আরেকটি কথা হাসি হৃৎপি-ের চমৎকার ব্যায়াম। একটা দৌড় দিয়ে বুকে হাত দিলে যেমন ধড়ফড় করে তেমনি বেশ খানিকটা হেসে বুকে হাত দিলে একই অবস্থা হয়। অর্থাৎ হাসি দৌড়ের মতোই হৃৎপি-ের ব্যায়াম। এ তো গেল হৃৎপি-ের কথা। এবার আসি রক্তচাপের কথায়। হাসি রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। হাসতে থাকুন দেখবেন, রক্তচাপ স্বাভাবিক হয়ে যাচ্ছে। সুস্থ সবল দেহ-মনের জন্য হাসির ভূমিকা অনস্বীকার্য। অগভীর শ্বাস-প্রশ্বাসে কিছু বাতাস ফুসফুুসে থেকে যায়। যা কার্বন ডাই অক্সাইড তৈরি করে। ফলে ব্যাকটেরিয়ায় সংক্রমণসহ ফুসফুসের কার্যকারিতা কমে যায়। দম ফাটানো হাসি ফুসফুসের সব বাতাস বের করে দেয়। ফুসফুস হয়ে ওঠে নির্মল। অট্টহাসিতে কাশি আসে ,কাশির সঙ্গে বেরিয়ে যায় শ্লেষ্মা। গবেষণায় দেখা গেছে, হাস্যমুখরা গর্ভবতী মায়েদের সন্তানেরা অপেক্ষাকৃত বেশিদিন নিরোগ থাকে। এভাবেই হাসি আপনাকে নানা রোগ থেকে যেমন পরিত্রাণ পেতে সাহায্য করবে তেমনি মনকে করে তুলবে চাঙ্গা।

মডেল : ফারহানা রেইন

প্রকাশিত : ১৮ মে ২০১৫

১৮/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: