রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

থাকুন ক্যান্সারমুক্ত

প্রকাশিত : ১৮ মে ২০১৫

অসুস্থতার কথা কানে আসলেই মনে কেমন যেন এক ধরনের অনুভূতি হয়। এ এক অজানা আতঙ্ক। আর অসুস্থতাটি যদি হয় ক্যান্সার নামক মরণ ঘাত তাহলে তো কথাই নেই। ব্যক্তি নিজে যেমন হতাশাগ্রস্ত তার সঙ্গে পুরো পরিবারটি হয়ে পরে আর্থিকভাবে, মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। ক্যান্সার নামটা শুনলে প্রথমেই প্রিয়জনের হারানোর ভয় হয়। মনে হয় যার ক্যান্সার ধরা পড়েছে তিনি আর বাঁচবেন না। আবার তার সঙ্গে সঙ্গেই নিজের মৃত্যুর কথা মনে পড়ে যায়।

সব ক্যান্সার আগে থেকে বুঝা যায় না বা চিকিৎসা করা যায় না। তবে সামান্য সতর্কতা আর নিয়ম মেনে চললে আপনি ক্যান্সারের মতো মারাত্মক একটি রোগ থেকে অনেকাংশেই দূরে থাকতে পারবেন। একটু খেয়াল রাখলেই নিজের এবং পরিবারের সবার বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারেন। ক্যান্সার থেকে দূরে থাকার কিছু প্রয়োজনীয় বিষয় আপনার জানা থাকা ভালোÑ

এক : আপনার অতিরিক্ত ওজন ক্যান্সারের সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে দেয় বহু গুণ। যদি আপনি অতিরিক্ত মোটা হন, তবে নিয়মিতভাবে ওজন কমিয়ে আপনার ইগও ঠিক রেখে ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে পারেন।

দুই : দামী বা অপ্রতুল ফলমূল না খেয়ে নিয়মিত মৌসুমী ফল খেতে চেষ্টা করুন। প্রচুর তাজা ফলমূল, সবুজ শাক, লতাপাতা জাতীয় খাবার এবং তাজা সবজি খান। অরগানিক ফলমূল, শাকসবজিও আপনার ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করবে।

তিন : পরিবারের সবার মাঝে প্রচুর পানি পান করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। সকালে খালি পেটে আর সারা দিনের কাজের মাঝেও পর্যাপ্ত পানি পান করুন।

চার : দৈনন্দিন জীবনে আপনার ব্যবহৃত আসবাবপত্র থেকেও ক্যান্সার হতে পারে। আর এ ক্ষেত্রে আপনার সচেতনতাই পারে ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে। বাসার ফ্রাইং প্যানটি কিছুদিন পর পর পরিবর্তন করুন। চেষ্টা করুন ননস্টিক, দাগ পড়ে না এমন সব বাসন কোসন ব্যবহার করতে।

পাঁচ : এমনি এমনি ডাক্তারের কাছে আমরা যেতে ভয় পাই। আমাদের অধিকাংশেরই ধারণা অসুস্থ হওয়ার পর ডাক্তারের কাছে যেতে হবে, আগে নয়। আবার অনেকে শুধু পয়সা নষ্ট হবে ভেবে অবহেলা করেন। বছরে অন্তত একবার রুটিন চেকআপের প্রয়োজন রয়েছে। আপনাকে মনে রাখতে হবে, ক্যান্সার ধরা পড়ার পর চিকিৎসার চাইতে প্রথম পর্যায়ে ক্যান্সারের উপসর্গ ধরতে পারলে তা দশ গুণ সহজে নিরাময়যোগ্য হয়। আর তাই আপনার শরীরে ক্যান্সারের বীজ রয়েছে কিনা তা নিয়মিত ডাক্তারি চেকআপের মাধ্যমে পরীক্ষা করে অনেক আগে থেকেই প্রতিরোধের সুযোগ নিন।

ছয় : যান্ত্রিক এই জীবনে বর্তমানে আপনার হয়ত ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও শারীরিক পরিশ্রম করতে পারছেন না। কিন্তু শারীরিক পরিশ্রম ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। শারীরিক পরিশ্রম আপনার সম্পূর্ণ দেহের জন্যই স্বাস্থ্যকর। ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে দৈনিক ৩০ মিনিটের জন্য হলেও হাল্কা ব্যায়াম করতে চেষ্টা করুন।

সাত : আমাদের শরীরে কিছুু অসুস্থতা আসে বংশগত কারণে আর তাই আপনার পরিবারের মেডিক্যাল ইতিহাস জানতে চেষ্টা করুন। কোলন, স্তন, এবং ওভারিয়ান ক্যান্সারের মতো বিশেষ ধরনের ক্যান্সার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সঞ্চালিত হতে পারে। আপনার পরিবারে ক্যান্সারের কোন ধরনের পারিবারিক ইতিহাস থাকলে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন। পরামর্শ, যথার্থ স্কিনিং এবং সঠিক খাদ্য পরিকল্পনা ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করবে।

আট : অসুস্থতার প্রাথমিক ধাপ হলো মানসিক টেনশন দুঃখ চিন্তা। চেষ্টা করুন মানসিক চাপমুক্ত থাকতে। অতিরিক্ত টেনশনের কারণগুলো খুঁজে বের করুন আর সেই কাজগুলো করা থেকে বিরত থাকুন।

নয় : পছন্দের সাবান, লিকুইড সোপ কিংবা বডিকেয়ার সামগ্রীগুলোতে ঞৎরপষড়ংধহ নামের উপাদানটি আছে কিনা দেখে নিন। যদি থাকে তাহলে অবশ্যই তা ব্যবহার বন্ধ করুন। ঞৎরপষড়ংধহ ভরা এইসব পণ্য ক্যান্সারের কারণ হতে পারে। এমনকি অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল সাবানের বদলে সাধারণ সাবান ব্যবহার করাই যথেষ্ট।

দশ : মাংস বলতেই আমাদের জিভে অন্যরকম স্বাদ জাগে কিন্তু এই মাংসই মরণ ব্যাধি ক্যান্সারের উপকরণ। তাই মনে রাখতে চেষ্টা করুন সব সময় খাদ্য তালিকায় মাংস আপনার ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। এক্ষেত্রে প্রক্রিয়াজাত মাংসের পরিবর্তে মাছ বা মুরগির মাংস বেছে নিন। যদি খেতেই হয় অল্প খান।

এগারো : বাজার থেকে আনা ফল ও সবজি ভাল করে ধুয়ে নিন। ফল ও সবজিতে প্রচুর কীটনাশক স্প্রে করা হয়। ভালভাবে না ধুয়ে এসব কীটনাশকযুক্ত খাবার খেলে তা আপনার ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেক বেশি বাড়িয়ে দেয়।

বারো : প্রযুক্তি ব্যবহারে নিরাপত্তার দিক লক্ষ্য রাখুন। আপনার মুঠোফোন থেকে নির্গত ফ্রিকোয়েন্সি মস্তিষ্কের ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই কথা সংক্ষিপ্ত করুন আর ক্ষুদে বার্তা ব্যবহারে নিজেকে অভ্যস্ত করুন।

তেরো : অপ্রয়োজনীয় মেডিক্যাল স্ক্যান এড়িয়ে চলুন। যদি সিটি স্ক্যান ও ী-রে মেডিক্যাল পরীক্ষার প্রয়োজন হয় তবে সতর্ক থাকুন। কারণ এসব ডায়াগনস্টিক সরঞ্জাম থেকে উচ্চ রে বের হয়। আর তা লিউকেমিয়ার কারণ হতে পারে।

চৌদ্দ : খাবার পানি ভাল করে ফিল্টার করুন।

পনেরো : ছোটবেলা থেকেই ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে বিরত থাকতে চেষ্টা করুন। অভ্যস্ত হয়ে গেলে ধীরে ধীরে তা থেকে নিজেকে মুক্ত করার পদক্ষেপ নিন। ধূমপানের কারণে ফুসফুস, কিডনি, গলা ও মুখের ক্যান্সার হতে পারে। আপনার জীবনের সবচাইতে সহজ এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হলো সিগারেট বর্জন। এর পরোক্ষ ধোঁয়া আরও বেশি বিপজ্জনক। নিজ দেহের আশঙ্কার সঙ্গে সঙ্গে পরিবার-পরিজনদের মাঝেও আপনার এই ধূমপানের মাধ্যমে ক্যান্সার হতে পারে। আর তাই এখনই ধূমপানকে না বলুন।

ষোলো : দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় মাছ রাখতে চেষ্টা করুন। বিশেষ করে সামুদ্রিক মাছ, কারণ সামুুদ্রিক মাছে ক্যান্সার প্রতিরোধক অনেক জরুরি উপাদান থাকে। তবে মাছের শুঁটকি খাওয়া থেকে বিরত থাকতে চেষ্টা করুন।

সতেরো : মেডিটেশন করুন। বলা হয় মেডিটেশন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। বর্তমানে অধিকাংশ ক্যান্সার রোগীদের মেডিটেশনের পরামর্শ দিয়ে থাকেন ডাক্তাররা। মেডিটেশন শুধু মাত্র ক্যান্সার প্রতিরোধক নয়, আপনার শারীরিক, মানসিক এবং পারিবারিক প্রশান্তির জন্যও এটা বিশেষ করে কার্যকর।

যাপিত ডেস্ক

মডেল : সনি ও শানু

প্রকাশিত : ১৮ মে ২০১৫

১৮/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: