মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

ব্যাংকে গিয়ে কি করবেন কি করবেন না

প্রকাশিত : ১৮ মে ২০১৫
  • রেজাউল করিম খোকন

আধুনিক সময়ের নাগরিক জীবনে ব্যাংক অতি প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হয়ে উঠেছে। এখন ব্যাংক ছাড়া সভ্য সমাজে জীবনযাপনের কথা ভাবা যায় না। ব্যাংক হয়ে উঠেছে আমাদের জীবনযাপনের অঙ্গ। অর্থনৈতিক কর্মকা-ের জন্য সবাইকে কোন না কোনভাবে ব্যাংকের দ্বারস্থ হতে হয়। ব্যাংকও বিভিন্ন ধরনের আর্থিক সেবা দেয়ার জন্য মানুষের খুব কাছাকাছি চলে এসেছে। ব্যাংকের শাখা সব পাড়া-মহল্লায় না থাকলেও এটিএম বুথের মাধ্যমে বড় বড় শহরগুলোতে পাড়া-মহল্লায় নগদ টাকা তোলার সুযোগ করে দিয়েছে ব্যাংকগুলো। আজকের দিনে শুধুমাত্র নিজের জমানো টাকা ব্যাংক হিসাব থেকে তুলতে কিংবা নিজের হিসাবে টাকা জমা করতেই ব্যাংকে যায় না কেউ। বিভিন্ন ধরনের ইউটিলিটি বিল পরিশোধ, পেনশনের টাকা তোলা, বিভিন্ন জায়গায় টাকা পাঠানো, হজের টাকা জমা, বিসিএস ফরম তোলা, ইন্স্যুরেন্সের প্রিমিয়ামের টাকা জমা প্রভৃতি আর্থিক কর্মকা-ের জন্য ব্যাংকে যেতে হয় সবাইকে। ব্যাংকে নিজের প্রয়োজনীয় কাজটি সারতে গিয়ে অনেকেই নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হন। প্রতিবারই একই ধরনের ভুল করে হয়রানির মধ্যে পড়েছেনÑ এমন মানুষের সংখ্যাও কম নয়। মূলত কিছু বিষয়ে সঠিক তথ্য না জানা, না বোঝার কারণে এই ভুলগুলো করে থাকেন তাঁরা। এক্ষেত্রে ব্যাংকে লেনদেনের জন্য যাবার সময়ে কিছু বিষয়ে সতর্কতা প্রয়োজন। সুন্দরভাবে ঝামেলামুক্ত ব্যাংকিং কাজ সারতে কিছু টিপস এখানে তুলে ধরা হলোÑ

* ব্যাংকে লেনদেনের নির্দিষ্ট সময়সীমা রয়েছে। আপনার লেনদেন কাজ সারতে ওই নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে ব্যাংকে যাওয়া উচিত। সময়সীমার আগে কিংবা পরে লেনদেনের জন্য গেলে নানা ধরনের বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে পড়তে হতে পারে আপনাকে।

* ব্যাংকে টাকা তোলার জন্য গেলে আপনার হিসাবের চেকবই কিংবা চেকের পাতাটি নিয়ে যাবেন। চেকটি ব্যাংকের কাউন্টারে দেয়ার আগে ভালভাবে পরীক্ষা করে নিন। চেকটিতে তারিখ, ব্যাংকের নাম, শাখা, টাকার পরিমাণ অঙ্কে এবং কথায় সঠিকভাবে লেখা হয়েছে কিনা যাচাই করে নিন। চেকে নির্দিষ্ট স্থানে স্বাক্ষর করা হয়েছে কিনা দেখে নিন। চেকের কোথাও কাটাকাটি, ঘষামাজা করবেন না। লিখতে গিলে ভুল হলে একদাগে কেটে তার পাশে কিংবা উপরে সঠিকভাবে লিখে সেখানে ছোট করে স্বাক্ষর করুন। একইভাবে টাকা জমা দেয়ার ক্ষেত্রেও জমা সিøপে হিসাব নম্বর, হিসাবধারীর নাম টাকার পরিমাণ অঙ্কে ও কথায় সঠিকভাবে জমা দিন। জমাসিøপে জমাকারীর স্বাক্ষর থাকাও জরুরী। মনে রাখবেন, জমাসিøপে হিসাব নম্বর ও হিসাবধারীর নামে গরমিল হলে নির্দিষ্ট হিসাবে জমা না হয়ে ব্যাংকের অন্য একটি হিসাবে জমা করা হবে। পরবর্তীতে জমাকারীর আবেদনের প্রেক্ষিতে হিসাবধারীর সঠিক নাম ও নম্বর প্রদানের পর সংশ্লিষ্ট হিসাবে টাকা জমা হবে। এজন্য টাকা জমা দেয়ার সময় খেয়াল করুন, জমাসিøপে সঠিক হিসাব নম্বর ও হিসাবধারীর নাম, শাখার নাম যথাযথভাবে লেখা হয়েছে কিনা।

* ব্যাংকের শাখায় ঢোকার পর যে কাজে গিয়েছেন সে সম্পর্কে সম্পর্কে পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকলে হেলপ ডেস্কে গিয়ে সহযোগিতা নিন। সঠিক তথ্য জেনে সে অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কাউন্টারে ব্যাংকিং সেবা গ্রহণের জন্য লাইনে দাঁড়ান। ব্যাংকের শাখায় গিয়ে লক্ষ্যহীনভাবে ঘোরাঘুরি করা উচিত নয়। যে কাজে গেছেন তা যথাযথভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা অথবা শাখার ম্যানেজারকে ধন্যবাদ জানিয়ে শাখা থেকে বেরিয়ে আসুন।

* আজকাল ব্যাংকের অনেক শাখায় প্রতারক, ছিনতাইকারী, টাউট, বাটপার অসৎউদ্দেশ্যে ঘোরাঘুরি করে। তারা গ্রাহক সেজে প্রতারণা করে, ছিনতাই, চুরির কাজে লিপ্ত হয়। তারা সুযোগের অপেক্ষায় থাকে। এদের কাছ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে আপনাকে সব সময় সতর্ক থাকতে হবে। এজন্য আপনাকে যথাসম্ভব সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। ব্যাংকের ভেতরে অচেনা, অপরিচিত, সন্দেহজনক কেউ সহযোগিতা করতে চাইলে তার সহযোগিতা নেয়ার আগে তার পরিচিতি সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হবে আপনাকে। ব্যাংকের কাউন্টারের বাইরে অন্য কারও সঙ্গে আর্থিক লেনদেন এড়িয়ে চলুন। এক্ষত্রে প্রতারণার শিকার হলে তার দায়দায়িত্ব ব্যাংক কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করবে না। এক্ষেত্রে নিজ দায়িত্বে আপনাকে লেনদেন করতে হবে।

* ব্যাংকের ভেতরে আপনার ব্যাগ, টাকা পয়সা, মূল্যবান সামগ্রী নিজ দায়িত্বে সামলে রাখুন। ব্যাংক থেকে চেক দিয়ে নগদ টাকা তোলার সময় ভালভালে গুনে নিন। কোন ধরনের অসঙ্গতি থাকলে সঙ্গে সঙ্গে টাকা প্রদানকারী কর্মকর্তাকে জানান। পরবর্তী সময়ে এ সম্পর্কে কোন অসঙ্গতির অভিযোগ জানালে তা ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না।

প্রকাশিত : ১৮ মে ২০১৫

১৮/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: