কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

ভুল সিদ্ধান্ত নেয়ার নেপথ্যে

প্রকাশিত : ১৮ মে ২০১৫
  • নজরুল হোসেন

প্রাত্যহিক জীবনে আমরা নানা রকম সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকি। ব্যক্তিগত, পেশাগত, অর্থনৈতিক ইত্যাদি সব বিষয়েই কোন সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে আমাদের মনে বার বার একটি প্রশ্ন মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। তা হলো, আমরা ঠিক সিদ্ধান্ত নিচ্ছি তো? ১৭৩৮ সালে ড্যানিয়েল বার্নুলি নামের একজন ডাচ গণিতবিদ এই সমস্যার সমাধান বের করেন। তাঁর মতে, আমাদের প্রতিটি সিদ্ধান্তের যথার্থতা নির্ভর করে দুটি বিষয়ের ওপর। প্রথমত, সিদ্ধান্তটি কাক্সিক্ষত সাফল্য লাভে আপনাকে কতটুকু সহায়তা করবে এবং দ্বিতীয়ত, সেই নির্দিষ্ট খাতে সাফল্য লাভ করা আপনার কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এই দুটো বিষয় সম্পর্কে মানুষের ধারণা একেবারেই নগণ্য। তাই বার্নুলির এই অসাধারণ মতবাদ আমরা এখনও পর্যন্ত কাজে লাগাতে পারিনি! হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড্যান গিলবার্ট। তিনি একজন মনোবিজ্ঞানীও, গবেষণা করেছেন মানুষের দৈনন্দিন জীবনের নানা আচরণবিধি নিয়ে। মানুষের সিদ্ধান্ত গ্রহণের গতিপ্রকৃতি নিয়ে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি ইংরেজী থেকে অনূদিত অংশ এখানে তুলে ধরা হলো।

অনেকের ধারণা, সাফল্য লাভের সম্ভাবনা সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করা খুবই সহজ। কারণ, আমরা সবাই সম্ভাব্যতার ব্যাপারগুলো সম্পর্কে কমবেশি জানি। কিন্তু ধারণাটি একেবারেই ভ্রান্ত। যেকোন সিদ্ধান্ত নেয়ার পেছনে মানুষের যে মনন্তাত্ত্বিক ব্যাপার রয়েছে, তার রহস্য ভেদ করা সাধারণের পক্ষে সম্ভব নয়। আমাদের মস্তিষ্ক তার নিজের নিয়ম-ধারা অনুসরণ করে চলে। উদাহরণস্বরূপ, আপনাকে এমন একটি ইংরেজী শব্দ বের করতে বলা হলো যার তৃতীয় অক্ষরটিতে ‘জ’ রয়েছে। চট করে এই প্রশ্নের উত্তর দিতে স্বভাবতই আপনার সমস্যা হবে। এর কারণ, আমাদের মস্তিষ্ক সবসময় শব্দের শুরুর অক্ষরটি মনে রাখতে অভ্যস্ত। তাই মাঝের অক্ষর দিয়ে কোন শব্দ খুঁজে বের করতে বলা হলে মস্তিষ্ক সেটা প্রক্রিয়া করতে একটু সময় নেয়। কোন আইডিয়া বাছাই করার ক্ষেত্রেও আমাদের মস্তিষ্ক ঠিক এই এক মেকানিজম প্রয়োগ করে।

ধরুন আপনার বাড়ির পাশের কোন ডিলারের কাছ থেকে ২০০ ডলারে আপনি গাড়ির জন্য একটি স্টেরিও কিনতে পারছেন। অন্যদিকে পাশের শহরেই সেই একই স্টেরিও ১০০ ডলারে বিক্রি হচ্ছে। আপনি অবশ্যই অর্ধেক দামে স্টেরিওটি কিনতে চাইবেন। এবার একটু ভিন্ন পরিস্থিতি কল্পনা করুন। আপনার শহরে একটি গাড়ির মূল্য ৩০,০০০ ডলার, কিন্তু পাশের শহওে সেই একই গাড়ি ২৯,৯০০ ডলারে বিক্রি হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে মাত্র ১০০ ডলার বাঁচানো আপনার কাছে অনর্থক মনে হবে। এই ধরনের মানসিকতা অর্থনীতিবিদদের যথেষ্ট ভোগায়। দুটো ক্ষেত্রেই আপনার সমপরিমাণ অর্থ সঞ্চয় হচ্ছে। তাই এখানে বুদ্ধিমানের কাজ হবে দুটো সুযোগেরই সদ্ব্যবহার করা। আপনি কোথা থেকে কিভাবে সঞ্চয় করছেন সেটা মুখ্য বিষয় নয়, কতটা সঞ্চয় করলেন সেটাই আসল কথা ।

তবে সম্ভাব্যতা নিয়ে অনুমান করার চেয়ে কোন কিছুর মূল্য অনুমান করা যায় অনায়াসেই। আপনাকে যদি ম্যাকডোনাল্ডসের জনপ্রিয় পণ্য ‘বিগ ম্যাক’-এর মূল্য জিজ্ঞেস করা হয়, আপনি খুব সহজেই তার উত্তর দিতে পারবেন। কিন্তু যদি আপনাকে এই মূল্যের যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন করা হয় তবে আপনার উত্তর বিভিন্ন পরিস্থিতিতে বিভিন্ন রকম হবে। আমেরিকায় বসে একটি বিগ ম্যাকের জন্য ২৫ ডলার খরচ করা আপনার কাছে যুক্তিসঙ্গত মনে হলেও, একটি উন্নয়নশীল বা কম উন্নত দেশে বাস করে আপনি কিছুতেই এর পেছনে ২৫ ডলার খরচ করতে চাইবেন না। তাছাড়া আমরা বাজারমূল্যের বর্তমান অবস্থা েিব্বচনা না করে সবসময় পূর্বের বাজারদরের সাথে এর তুলনা করে থাকি। এই কাজটি করা একদমই অনুচিত। মনোবিজ্ঞানীরা গবেষণার মাধ্যমে জানতে পেরেছেন যে, পূর্বের বাজার পরিস্থিতির সাথে বর্তমান পরিস্থিতি গুলিয়ে ফেলা ভোক্তা অসন্তোষের অন্যতম প্রধান কারণ।

প্রকৃত আমাদের মস্তিষ্ক বর্তমান পৃথিবীর উপযোগী করে গড়েন তোলেনি। সীমিত পরিম-লের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর উদ্দেশ্যকে ঘিরেই আমাদের চিন্তা-ভাবনা আবর্তিত হয়। এই অবস্থা থেকে বের হয়ে আসার সময় এসেছে। আমরা এই পৃথিবীর একমাত্র প্রজাতি যারা নিজেদের ভাগ্যকে হাতের মুঠোয় ধরে রেখেছি। একমাত্র আমাদের নিজেদের ভুল সিদ্ধান্তগুলোই মানবজাতিকে বিলুপ্তির পথে নিয়ে যেতে পারে।

ছবি : সামির ও সাবাব

মডেল : অজান্তা ও রুম্মান

প্রকাশিত : ১৮ মে ২০১৫

১৮/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: