কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

শিক্ষা সফরে বাকৃবি শিক্ষার্থীরা

প্রকাশিত : ১৭ মে ২০১৫

কৃষিতে অগ্রণী ভূমিকা রাখার লক্ষ্যে প্রতি বছর এক ঝাঁক তরুণ-তরুণী ভর্তি হয় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি)। আর এরপর থেকেই শুরু হয় কৃষি শিক্ষা। যুগের ধারাবাহিকতায় আমরাও কৃষি ও খাদ্যে বাংলাদেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার লক্ষ্যে ২০১৪ সালে ভর্তি হই কৃষি প্রকৌশল ও কারিগরি অনুষদের বিএসসি ফুড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে। আর ওই থেকেই শুরু হয় সারাদিন ক্লাস আর প্রাকটিক্যাল। দিনটা এভাবেই চলে যায়। সকলের মনে একান্ত ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও একসঙ্গে তেমন ঘোরা হয় না কোথাও। ছুটির দিন বলতে ওই শুক্র আর শনিবার। কিন্তু ওই দুই দিনও চলে যায় এ্যাসাইনমেন্ট করতে করতে। এর মাঝে যখনই একটু সময় পাই তখনই ঘুরে দেখার চেষ্টা করি আমাদের প্রিয় এই দেশের নানা দর্শনীয় স্থান। বাংলাদেশের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে হাজারো হৃদয়স্পর্শী পর্যটন স্থান। আমাদের এই প্রিয় মাতৃভূমি দেখার জন্য প্রতি বছর হাজার হাজার বিদেশী পর্যটক আসে। কিন্তু আমাদের কাছে দেশটি পড়ে থাকে শুধুই মাতৃভূমি হিসেবে। যেই চিন্তা সেই কাজ। তাই তো এবার ঘুরে এলাম ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার জমিদারবাড়ি (রাজবাড়ি) থেকে।

সেদিন ছিল শুক্রবার। হঠাৎ করেই বৃহস্পতিবার ব্যবহারিক ক্লাসের ফাঁকে নেয়া সিদ্ধান্তে শুক্রবার বের হয়ে পড়লাম মুক্তাগাছা জমিদারবাড়ির উদ্দেশ্যে আমরা ২৪ বন্ধু। সেদিন ভোর ৭টার দিকে ঘুম থেকে উঠেই প্রস্তুতি চলে সকলের। যেহেতু আমরা এক একজন এক এক হলে থাকি তাই সকাল ৮টার মধ্যে আমরা সকলে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে এসে একত্রিত হই। ওইখান থেকেই শুরু হয় সকল জল্পনা-কল্পনা। অনেকেই নানা ঢঙে তুলে ছবি। এর আগে সবাই যে যার মতো নাস্তা করে নিয়েছিল। আনুমানিক সকাল ৯টার দিকে আমার অটো বাইকে করে চলে আসি ময়মনসিংহের টাউন হল। টাউন হল থেকে মুক্তাগাছা যেহেতু কাছেই তাই ৬টি সিএনজি নিয়ে রওনা হই মুক্তাগাছার উদ্দেশে। সকলের মনেই ছিল অন্য রকম চাঞ্চল্য। এর ভিতর কখন যে পৌঁছে গেলাম তা বুঝতেই পারলাম না। ওইখান থেকে ভ্যানে করে চলে আসি জমিদারবাড়িতে।

এশিয়া মহাদেশের ভারত উপমহাদেশে সুপরিচিত ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা জমিদারবাড়ি (রাজবাড়ি) সংস্কার হওয়ায় পর্যটকদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। বিশাল আকারের পুকুর বিষ্ণু সাগর, প্রাচীন স্থাপনা যুগল মন্দির, চাঁনখার মসজিদ, বিবির ঘর, ঘূর্ণায়মান নাট্যমঞ্চ, সাত ঘাটের পুকুর, জলটং, রসুলপুর বনসহ অসংখ্য দর্শনীয় স্পট দেখে ঐতিহ্যবাহী ম-ার স্বাদ নিয়ে যাচ্ছেন পর্যটকরা। জানা যায়, সতেরোশ’ দশকের মাঝামাঝি সময়ে নির্মাণ করা হয় মুক্তাগাছার জমিদারবাড়ি। ১৮শ’ দশকে ভূমিকম্পে বাড়িটি ভেঙ্গে পড়লে লন্ডন আর ভারত থেকে সুদক্ষ কারিগর এনে ভূমিকম্পসহিষ্ণু করে পুনর্নির্মাণ করা হয় জমিদারবাড়ি। ১৯৪৭ সালের পর মুক্তাগাছার জমিদারদের প্রতিষ্ঠাতা শ্রীকৃষ্ণ আচার্য চৌধুরীর ১৬ জন বংশধরের প্রায় সবাই চলে যান ভারতে। তখন পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে তাদের নির্মিত ১৬টি বাড়ি। ক্রমান্বয়ে ওই বাড়িগুলোতে (রাজবাড়ি ব্যতীত) গড়ে তোলা হয় শহীদ স্মৃতি সরকারী কলেজ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন ক্যাম্প, সাব রেজিস্ট্রি অফিস, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, নবারণ বিদ্যানিকেতনসহ বিভিন্ন সরকারী বেসরকারী প্রতিষ্ঠান। বর্তমান সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রতœতত্ত্ব বিভাগের মাধ্যমে জমিদারবাড়ি সংস্কার কার্যক্রম হাতে নেয়। সংস্কারের ফলে ফিরে আসতে থাকে বাড়িটির আগের চেহারা।

আমরা এক এক করে পড়ে থাকা পুরনো সকল ইতিহাস জানতে থাকি আর ঘুরে ঘুরে দেখি ওই সব স্থান। এমন সব স্থাপনা আমাদের সকলকেই আশ্চর্য করে। তাই স্মৃতির পাতায় এসব ধরে রাখার জন্য যে যার মতো তুলে নেয় কিছু ছবি। আর আনন্দ, আড্ডা, নাচ, গান তো চলছেই। কিছু সময় চলে গিয়েছিলাম ওই জমিদারদের যুগে। নিজেকে মনে হয়েছিল জমিদারদের সেই জলসা ঘর, রানীর হাওয়া ভবন, বিবির ঘর, ঘূর্ণায়মান নাট্যমঞ্চ ইত্যাদি জায়গা দিয়ে ঘুরছি। পর্যটন কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন শেষে প্রসিদ্ধ ম-ার স্বাদ ফিরিয়ে দেয় প্রশান্তি। আজ থেকে ২শ’ বছর আগে গোপাল পাল এই ম-া তৈরি করেন। স্বপ্নে এক সাধু তাকে এই ম-া তৈরির কলাকৌশল শেখান। মুক্তাগাছা ছাড়া দেশের আর কোথাও এ ম-া পাওয়া যায় না। ম-ার স্বাদটাও মনে রাখার মতো।

এবার ফেরার পালা। ফেরার পথে ময়মনসিংহ শহর থেকে দুপুরের খাবার সেরে নেই সবাই। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সকল বন্ধুদের সঙ্গে ভ্রমণটা কাটল দারুণ। একসময় ছেড়ে চলে যেতে হবে চিরচেনা এই ক্যাম্পাস থেকে, হয়ত বন্ধুরাও একসময় চলে যাবে নিজেদের ব্যস্ততায়। কিন্তু রয়ে যাবে আমাদের এই আনন্দ ভ্রমণের স্মৃতি। ফেরার পথে এনাম, সৌরভ, মিঠু, মনু, সজিব, সুজন, আলমগীর, তন্দ্রা, মোমো, কানিজসহ সকলের মুখে শোনা গেল, আজকের দিনটা ছিল জীবনের ভাল দিনগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি। যখনই সময় পাব তখনই বেরিয়ে পড়ব আমার সোনার বাংলা দেখতে।

নাজিব মুবিন

প্রকাশিত : ১৭ মে ২০১৫

১৭/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: