মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

এ্যানফিল্ডে ১৭ বছরের ক্যারিয়ারে ইতি ঘটল জেরার্ডের

প্রকাশিত : ১৭ মে ২০১৫
  • বিদায় লিভারপুল!

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ ‘আবারও আসব, হয়ত খেলোয়াড় হিসেবে নয়; কিন্তু কোচ হিসেবে’- এমনটাই গত কয়েকদিন ধরে বলছিলেন। সবকিছু আগেভাগেই ঠিকঠাক হয়ে আছে। এবার ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগ মৌসুম শেষ হয়ে গেলেই সুদূর যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমাবেন। যোগ দেবেন লস এ্যাঞ্জেলেস গ্যালাক্সিতে। শেষ ম্যাচটা দীর্ঘদিনের ক্লাব লিভারপুলের হয়ে শনিবার রাতেই খেলে ফেলেছেন স্টিভেন জেরার্ড। ৩৪ বছর বয়সী ইংলিশ এ মিডফিল্ডার ১৯৯৮ সালের ২৯ নবেম্বর ব্ল্যাকবার্ন রোভার্সের বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে লিভারপুলের হয়ে পেশাদার ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন। সব মিলিয়ে ১৭ বছর ধরে ৭০৮ ম্যাচ খেলেছেন এবং ১৮৫ গোল করেছেন তিনি। যদিও মাত্র ৭ বছর বয়সেই এ্যানফিল্ডে যোগ দিয়ে এখানেই পুরোদস্তুর একজন ফুটবলারে পরিণত হয়েছেন। সেদিক থেকে লিভারপুলে প্রায় ২৮ বছরের ক্যারিয়ার শেষ হল তার। দীর্ঘ এ ক্যারিয়ারে লিভারপুলের হয়ে তিনি জিতেছেন দুটি এফএ কাপ, তিনটি লীগ কাপ এবং একটি করে কমিউনিটি শিল্ড, চ্যাম্পিয়ন্স লীগ, উয়েফা কাপ এবং উয়েফা সুপার কাপ। ইংল্যান্ড জাতীয় দলের হয়ে ১১৪ ম্যাচ খেলে ২১ গোল করেছেন। ব্যক্তিগতভাবে তিনি প্রফেশনাল ফুটবলার্স এ্যাসোসিয়েশন, ফুটবল রাইটার্স এ্যাসোসিয়েশন এবং উয়েফা ক্লাব আসরের বর্ষসেরা ফুটবলার হিসেবে স্বীকৃতিও পেয়েছেন। ক্যারিয়ারের কিছু স্মরণীয় ম্যাচের বিষয়ে স্মৃতি রোমন্থন করেছেন জেরার্ড। সে সব নিচে তুলে ধরা হলোÑ

১. চ্যাম্পিয়ন্স লীগ ফাইনাল ২০০৫

এসি মিলান সে সময় দুরন্ত একটি দল। ইউরোপে ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসর চ্যাম্পিয়ন্স লীগের ফাইনালে তাদের মুখোমুখি হয় লিভারপুল। জেরার্ড তখন ২১ বছর ধরে ইউরোপীয় শিরোপা খরায় থাকা লিভারপুলের অধিনায়ক। ইস্তাম্বুলের আতার্তুক অলিম্পিক স্টেডিয়ামে প্রথমার্ধে ৩-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে লিভারপুল শিবির পরাজয়ের কালো মেঘটাকেই দেখতে পাচ্ছিল। কিন্তু দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন অধিনায়ক জেরার্ডের গোল দিয়ে। ৩-৩ গোলে সমতা আনার পর অতিরিক্ত সময়ের খেলাও থাকে অমীমাসিংত। শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে ৩-২ গোলে জিতে চ্যাম্পিয়ন্স লীগ শিরোপা জয় করে লিভারপুল।

২. এফএ কাপ ফাইনাল ২০০৬

এ ফাইনালকে বলা হয় জেরার্ড ফাইনাল। ওয়েস্টহ্যাম ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে এফএ কাপের শিরোপা যুদ্ধে মুখোমুখি হয় লিভারপুল। কার্ডিফ মিলেনিয়াম স্টেডিয়ামে শুরুতেই ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েছিল লিভারপুল। কিন্তু এর পরই যেন দুরন্ত হয়ে ওঠেন জেরার্ড। টানা দুই গোল করে দলকে সমতায় ফেরান। টাইব্রেকারেও দারুণ এক লক্ষ্য ভেদ করে দলের জয় নিশ্চিত করেছিলেন তিনি।

৩. ২০০৪ চ্যাম্পিয়ন্স লীগ

গ্রুপ পর্বের ম্যাচে অলিম্পিয়াকোসের বিরুদ্ধে আরেকটি স্মরণীয় ম্যাচ জেরার্ডের। এ ম্যাচে হারলেই গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিতে হবে। কিন্তু জেরার্ড সবাইকে তাক লাগিয়ে দিলেন তার নৈপুণ্য দিয়ে। তার কাছ থেকে বল পেয়েই জোড়া গোল করেন সিনামা পোঙ্গলে এবং নেইল মেলর। ম্যাচের ৮৬ মিনিটে জেরার্ড নিজেও পেনাল্টি বক্সের বাইরে থেকে আরেকটি দুর্দান্ত গোল করে দলকে জয়ী করেই মাঠ ছাড়েন।

৪. দুরন্ত জেরার্ডের প্রত্যাবর্তন, ২০১২

এ বছর ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগে নিজের ফর্ম নিয়ে বেশ সমালোচনায় ছিলেন জেরার্ড। অনেকেই বলাবলি করছিলেন জেরার্ডের মধ্যে আগের সেই আগুনটা এখন আর নেই, তিনি শেষ হয়ে গেছেন। কিন্তু মেরিসাইডের চিরশত্রু এভারটনের বিরুদ্ধে ম্যাচেই আবার পুরনো ভূমিকায় জ্বলে উঠলেন জেরার্ড। ম্যাচে অপ্রতিরোধ্য জেরার্ড হ্যাটট্রিক করে দলকে ৩-০ ব্যবধানের বড় জয় এনে দেন। ১৯৮২ সালে মেরিসাইড ডার্বিতে সর্বশেষ হ্যাটট্রিকটি করেছিলেন ইয়ান রাশ। দীর্ঘ ২২ বছর পর আবার হ্যাটট্রিক করেন জেরার্ড। আর এ্যানফিল্ডে লিভারপুলের হয়ে এ ম্যাচের আগে ১৯৩৫ সালে সর্বশেষ হ্যাটট্রিক করেছিলেন ফ্রেড হাও।

৫. লাল প্রতিশোধ, ২০০১

রেডসদের পুরনো শত্রু ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। জেরার্ড তার ক্যারিয়ারে খুব কম সময়ই রেড ডেভিলদের হারাতে পেরেছে লিভারপুল। ম্যান ইউয়ের বিরুদ্ধে ৯ গোল করেছিলেন জেরার্ড। তবে ২০০১ সালে জেরার্ড ও ফ্যাবিয়েন বার্থেজের গোলে ২-০ ব্যবধানের জয় তুলে নেয় লিভারপুল। আর এটাই ছিল ২২ বছরের মধ্যে রেড ডেভিলদের বিরুদ্ধে রেডসের প্রথম জোড়া জোড়া গোল। দারুণ প্রতিশোধ!

প্রকাশিত : ১৭ মে ২০১৫

১৭/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

খেলার খবর



ব্রেকিং নিউজ: