আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৭ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

জলে স্থলে জোরালো অভিযান ॥ থমকে আছে মানব পাচার, চলছে ইয়াবা চোরাচালান

প্রকাশিত : ১৭ মে ২০১৫
  • থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলে আরও শতাধিক অভিবাসীকে ফেরত ॥ ক্ষুব্ধ দালালদের হাতে সাগরে ৯ বাংলাদেশীকে হত্যার চাঞ্চল্যকর তথ্য

মোয়াজ্জেমুল হক/এইচএম এরশাদ ॥ অবৈধভাবে সমুদ্রের ভয়ঙ্কর রুটে স্বপ্নের দেশ মালয়েশিয়ায় যাত্রার পর নিখোঁজদের স্বজনদের মাঝে এখন শোকের মাতম চলছে। কক্সবাজার অঞ্চলের উখিয়া-টেকনাফ-শাহপরীর দ্বীপসহ পাচারের ঘাটে ঘাটে স্থানীয় ও দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা স্বজনরা এখন উন্মাদের মতো কেউ খুঁজে বেড়াচ্ছে সন্তানকে, কেউ স্বামীকে, কেউ ভাইকে, কেউবা নিকটাত্মীয়দের। এদিকে, নতুন করে টেকনাফ উপকূলে ৫ যুবককে উদ্ধার করেছে বিজিবি। সাগরে থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া এবং বাংলাদেশের নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের কড়া তৎপরতার জের হিসেবে এ ৫ জনকে শনিবার সকালে টেকনাফ উপকূলে নামিয়ে দিয়েছে দালাল চক্র। অপরদিকে, পুলিশ মহাপরিদর্শক একেএম শহীদুল হক সমুদ্রপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়াগামী নিখোঁজ ব্যক্তিদের তালিকা প্রস্তুত করার জন্য দেশের প্রতিটি জেলার পুলিশ সুপারদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন। এছাড়া কক্সবাজারে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মানব পাচারের গডফাদার ধলু হোসেনসহ ৩ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় ক্ষুব্ধ দালাল চক্র মানব বোঝাই একটি ইঞ্জিনবোটে ৯ বাংলাদেশীকে বিষ প্রয়োগে হত্যা করেছে বলে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে গত বৃহস্পতিবার উদ্ধারকৃত ১১৬ জনের অনেকে। পাশাপাশি জাতিসংঘের আহ্বাান উপেক্ষা করে থাই সীমান্তবর্তী দক্ষিণ দ্বীপপুঞ্জ এলাকা থেকে আরও শতাধিক অবৈধ অভিবাসী বোঝাই একটি ইঞ্জিন বোটকে সে দেশের কোস্টগার্ড ফিরিয়ে দিয়েছে। এছাড়া সাগরে ভাসমান অসংখ্য অবৈধ অভিবাসী বোঝাই ছোট-বড় ইঞ্জিন বোট ও ট্রলারের নির্দিষ্ট কোন হদিস এখনও পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, এদের আন্দামান সাগর অঞ্চল সন্নিহিত উপকূলসমূহের যত্রতত্র নামিয়ে দিয়ে দালালরা পালিয়েছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সরকারের নির্দেশে কক্সবাজার অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের জল স্থলে জোরালো অভিযান অব্যাহত থাকায় এ মুহূর্তে মানব পাচার থমকে আছে। কিন্তু ইয়াবা চোরাচালান নানা ফাঁকফোকরে নজরদারি উপেক্ষা করে দেশে এসে পৌঁছাচ্ছে। সর্বশেষ গত শুক্রবার চট্টগ্রামে কোস্টগার্ড ২০ কোটি টাকার ইয়াবার একটি চালান আটক করেছে, যা চট্টগ্রামে এ যাবতকালের সর্ববৃহৎ ইয়াবার চালান হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

এদিকে, স্বরাষ্ট্র্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে প্রণীত তালিকাভুক্ত মানব পাচারকারী ও ইয়াবা চোরাচালানীদের সকলেই গা ঢাকা দিয়েছে। এদের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধে ৪ জন ও ডাকাত সন্দেহে ১ জন প্রাণ হারিয়েছে। এছাড়া তালিকাভুক্ত ইয়াবা চোরাচালানী টেকনাফ-উখিয়ার সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদিকে কঠোর নজরদারিতে রাখা হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে। তালিকাভুক্ত মানবপাচারকারী ও ইয়াবা চোরাচালানীদের গ্রেফতারের নির্দেশনা থাকলেও আবদুর রহমান বদি সংসদ সদস্য হওয়ায় স্পীকারের অনুমতি ছাড়া তাকে গ্রেফতার করা যাবে না বলে জানানো হয়েছে কক্সবাজার পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে।

এদিকে, মৃত্যুপুরী থেকে ফিরে আসা অসহায় আরও ৫ যুবককে শনিবার ভোরে উদ্ধার করেছে বিজিবি। কক্সবাজার সদর ঈদগাঁও এবং উখিয়ার আরও ৫৪ যুবক-কিশোর মানব পাচারকারীর খপ্পরে পড়ে নিখোঁজ রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তারা আদৌ বেঁচে আছে-নাকি হিংস্র দালালদের নির্মমতায় পৃথিবী থেকে চিরবিদায় নিয়েছে তা এখনও নিশ্চিত নয়। তাদের কোন হদিস না পেয়ে প্রায় পাগল হয়ে তাদের স্বজনদের আশায় কক্সবাজার সমিতিপাড়া, সোনারপাড়া থেকে টেকনাফ হয়ে শাহপরী দ্বীপে ঘুরে বেড়াচ্ছেন অনেকে। তাদের নিখোঁজ স্বজনদের ফিরে পাওয়ার দাবিতে শনিবার অভিভাবকদের অনেকে কয়েকজন দালালের নাম উল্লেখ করে সহকারী পুলিশ সুপার উখিয়ার কাছে অভিযোগ দাখিল করেছেন। শীর্ষ দালালদের যে কোনভাবে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদানের ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়ে শনিবার বিকেলে মানবপাচার প্রতিরোধ কমিটির নেতৃবৃন্দ কক্সবাজারে সফরে আসা স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন।

বদলা নিতে ৯ ব্যক্তিকে হত্যা ॥ টেকনাফে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মানব পাচারের অন্যতম গডফাদার ধলু হোছনসহ তিনজন নিহত হওয়ায় ক্ষোভে প্রতিশোধ নিতে দালাল চক্র সাগরে ইঞ্জিন বোটে অবস্থানরত ৯ বাংলাদেশীকে খাবারের সঙ্গে বিষ দিয়ে হত্যা করেছে। সেন্টমার্টিন সাগর থেকে উদ্ধার হওয়া ১১৬ জনের মধ্যে অনেকে এর সত্যতার তথ্য দিয়েছে। টেকনাফে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে গত ৮ মে ৩ মানবপাচারকারী নিহত হয়। আর ওই দিন বিকেলে এর বদলা নিতে গভীর সমুদ্রে থাকা মালয়েশিয়াগামী রোহিঙ্গা-বাংলাদেশীদের মধ্যে বাছাই করে ৯ জন বাংলাদেশীকে হত্যা করে পাচারকারী চক্রের হোতারা। ১২ মে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা বৃহস্পতিবার আদালত প্রাঙ্গণে জানিয়েছেন, কক্সবাজারে ৩ পাচারকারীকে মেরে ফেলা হয়েছে মর্মে দুপুরের দিকে খবর পাওয়ার পর থেকেই ওই ইঞ্জিন বোটে থাকা বাংলাদেশীদের উপর নির্মম নির্যাতন চালানো হয়। রোহিঙ্গা ব্যতীত অন্যদের এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। হবিগঞ্জের লাকাইর বড়পূর্ণি গ্রামের রফিক মিয়ার পুত্র মোঃ জাহিদ জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়ার সপ্তাহ খানেক আগে দুপুরের খাবার খেয়ে জাহাজে একসঙ্গে মারা গেছেন ৯ বাংলাদেশী। পাচারকারীদের বলতে শুনেছেন তাদের দলের ৩ জন লোক নিহত হওয়ার বদলা নেয়া হয়েছে এই ৯ জনকে হত্যা করে। তবে নিহতদের পরিচয় বলতে পারেননি ঐ জাহিদ। উদ্ধারকৃতদের মতে সাগরে বোটে, থাইল্যান্ডের জঙ্গলে, মালয়েশিয়ার রিসিভরুমে এবং কক্সবাজারে বিভিন্ন এলাকায় পাখির মত গুলি করে খুন করা হয়েছে বহু যুবককে। উল্লেখ্য, ইতোপূর্বে পুলিশ অজ্ঞাতনামা একাধিক লাশ উদ্ধার করেছে সৈকত ও বিভিন্ন স্থান থেকে।

ইয়াবার ভয়াবহতা ॥ কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ সীমান্ত এলাকা এখন মাদক ইয়াবার ভয়াবহতার চরমে। মিয়ানমারের নাগরিক ও রোহিঙ্গা তথা বাংলাদেশে অবস্থানরত তাদের আত্মীয়স্বজনরা মিলে ইয়াবা চালানের শক্ত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। প্রায় দিন একাধিক চালান জব্দ করা হলেও কোনভাবেই রোধ করা যাচ্ছে না ইয়াবা সিন্ডিকেটদের কর্মকা-। নাফ নদী ও টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে অভিনব কায়দায় ইয়াবা নিয়ে আসা হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

গডফাদার সানা উল্লাহ ॥ মানবপাচার ও ইয়াবা ব্যবসা চাঙ্গা করতে শাহপরীদ্বীপ থেকে উখিয়ার জুম্মাপাড়ায় ভিটে কিনেন বহু মামলার আসামি শীর্ষ মানবপাচারকারী সানা উল্লাহ। সেখানে বেলাল মেম্বারকে প্রধান করে ১৫ যুবকের সিন্ডিকেট গড়ে তোলা হয়। সানা উল্লাহ চট্টগ্রামে বসবাস করলেও সেখান থেকে পরিচালনা করত মানবপাচার। উত্তরবঙ্গের লোকজনকে বন্দী করে রাখতে জুম্মাপাড়া পাহাড়ে তৈরি করা হয়েছিল একাধিক বন্দীশিবির। জুম্মাপাড়ার বিভিন্ন বসতগৃহে বন্দী করে রাখা লোকজনকে রাতের আধারে তুলে দেয়া হতো ফিশিং ট্রলারে। মালয়েশিয়াগামীদের বড়জাহাজে তুলে দিয়ে ফিরে আসার পথে ট্রলারগুলোতে লুকিয়ে নিয়ে আসা হয়েছে বিপুল পরিমাণ ইয়াবার চালান। ইয়াবা ও মানব পাচার করে সানা উল্লাহ জুম্মাপাড়ায় গড়ে তুলেছে বিলাসবহুল বাড়ি। এছাড়াও চট্টগ্রামে রয়েছে তার বিশাল বাড়ি। তার সহযোগী ছেপটখালীর মোস্তাফিজ সিকদারের পুত্র ফয়েজ সিকদার মানব পাচার করে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছে। পাশাপাশি নুরুল কবির, রেজিয়া আকতার রেবি প্রকাশ ম্যাডাম, যুবদল নেতা শামসুল আলম সোহাগ, জালাল প্রকাশ শাহ জালাল, জমির আহমদ প্রকাশ কালা জমির, বেলাল মেম্বার, পাইন্যাসিয়ার হাঙ্গামা বেলাল ও আবুল কালামসহ অনেকে ইয়াবা ও মানব পাচার করে বর্তমানে অঢেল সম্পত্তির মালিক। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত মানব পাচারকারী উখিয়ার ফয়েজ সিকদারকে পুলিশ এ পর্যন্ত গ্রেফতার করতে পারেনি।

গডফাদার ফয়েজ সিকদার ॥ মানব পাচার কাজে জড়িত থেকে জিরো থেকে হিরো বনে যাওয়া ফয়েজ আহমদ ছিলেন এক সময়ের একজন সামান্য জেলে। উখিয়ার উপকূলীয় জালিয়া পালং-এর মানব পাচারকারী চক্রের গডফাদার স্বরাষ্ট মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত ফয়েজ আহমদ প্রায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তার গায়ে এখনও আঁচড় লাগাতে পারেনি। সে মানব পাচার করে কোটি টাকায় বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ করেছে উখিয়া সদর গার্লস স্কুলসংলগ্ন বটতলী এলাকায়। উখিয়া থানার ওসি মোঃ জহিরুল ইসলাম খান মানব পাচারকারী চক্রের গডফাদার ফয়েজ, রুস্তম আলী, আবুল কালাম, উখিয়া উপজেলা যুবদলের সদস্য আবদুল্লাহ আল মামুন ও জালিয়াপালং ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শামশুল আলম সোহাগসহ অনেককেই পুলিশ খুঁজছে বলে জানিয়েছেন। তিনি জানান, মানব পাচার রোধে এবং মানব পাচারকারীদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশী তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, মানব পাচার প্রতিরোধে ব্যর্থ হওয়ায় ইতোমধ্যে পুলিশের উর্ধতন কর্তৃপক্ষ ইনানী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আলাউদ্দিন ও হিমছড়ি পুলিশ ফাঁড়ির আইসি আবদুল মান্নানকে অন্যত্র বদলি করা হয়েছে। কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তোফায়েল আহমদ শনিবার জানান, থাইল্যান্ডের গণকবরে কয়েকজন বাংলাদেশী শনাক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি সবার নজরে এসেছে। এছাড়া মানব পাচার রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

নিখোঁজ তালিকা ॥ নিখোঁজ হিসেবে যাদের নাম উঠে এসেছে তাদের মধ্যে রয়েছে টেকনাফের সোনারপাড়ার আবদুল মোহাম্মদ বসু, দিদার মিয়া, মুফিজুর রহমান, মোহাম্মদ, আবছার মিয়া, সায়মন উদ্দিন, আলাউদ্দিন, কপিল উদ্দিন, রশিদ আহমদ, জামাল উদ্দিন, গফুর আলম, ইসলাম মিয়া, আবুল হাসিম, রিফাত উদ্দিন, মুহিবুল্লাহ, বাবুল মিয়া, আবুল কাশেম কালু, বেলাল উদ্দিন, আবদুর রহিম, ছিদ্দিক আহমদ, মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, মোজাম্মেল, আবুল কালাম, আবদুল মালেক, ওসমান গণি, মোহাম্মদ বসু, পেঠান আলী, আনোয়ার, আবদুল জলিল, আনোয়ার ও আবদু শুক্কুর। ঈদগাঁও কালিরছড়ার শিয়াপাড়ার নুরুল আমিন, মোঃ ইউনুছ, আবদুল্লাহ, সাহাব উদ্দীন, নুরুল আলম, জসিম উদ্দীন, ইয়াছিন, দেলোয়ার হোসেন, জুবাইর, চান্দেরঘোনার সেলিম মিয়া, মিজানুর রহমান, আবুল কালাম, নুরুল হুদা, মিজানুর রহমান, ইসলামাবাদ পূর্ব গজালিয়া গ্রামের জাহেদুল ইসলাম ও মিজানুর রহমান। এছাড়া এ তালিকা দিন দিন দীর্ঘ হচ্ছে। পাশাপাশি দেশের অন্যান্য জেলা থেকে যারা মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে নিখোঁজ রয়েছেন তাদের নাম এখনও জানা যায়নি।

আইজিপির হুঁশিয়ারি ॥ মানব পাচারকারীরা যতই শক্তিশালী কিংবা প্রভাবশালী হোক না কেন কাউকে ছাড় দেয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক একেএম শহিদুল হক বলেছেন-মানব পাচারের সঙ্গে কোন পুলিশ সদস্য যদি জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাকে শুধু চাকরিচ্যুত করা হবে না, মামলা করে আইনের আওতায় এনে বিচার করা হবে। শনিবার দুুপুরে কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্র মিলনায়তনে জেলা পুলিশের উদ্যোগে আয়োজিত মাদক ও মানব পাচারবিরোধী সচেতনতামূলক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথা বলেন।

স্বজনদের আহাজারি ॥ মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে সমুদ্রে বিয়োগান্তক ঘটনাবলী প্রতিনিয়ত প্রকাশ হতে থাকায় উখিয়া, ঈদগাঁও কালিরছড়া ও চান্দেরঘোনা এলাকায় নিখোঁজ যুবক-কিশোরের স্বজনদের পাশাপাশি এলাকাবাসীও এ ঘৃণ্যতম ঘটনায় মর্মাহত ও উদ্বিগ্ন। শিয়াপাড়ার কিশোর নিখোঁজ আবদুল্লাহর মা ছেলের স্মৃতিস্বরূপ রেখে যাওয়া একটি বড় আকারের ছবি হাতে নিয়ে এদিক ওদিক সন্তানের খোঁজে পাগলের মতো শুধু ঘুরছেন।

দালালের শাস্তি দাবি ॥ স্থানীয় সমাজ সেবিকা বাংলাদেশ মানবাধিকার কাউন্সিল (বামাকা) কক্সবাজার জেলা শাখার সমাজ কল্যাণ সম্পাদিকা রাবেয়া খানম জানান, নিখোঁজ শিশু ও যুবকরা এলাকার অত্যন্ত গরিব। অনেক বাড়িতে নিখোঁজ হওয়া ব্যক্তি ছাড়া উপার্জনকারী আর কেউ নেই। সরকারের কাছে জোর দাবি জানিয়ে শিশু পাচারের মতো জঘন্য কাজে যে সব দালাল জড়িত, তাদের উপযুক্ত শাস্তি দাবি জানান তিনি।

প্রকাশিত : ১৭ মে ২০১৫

১৭/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: