আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৭ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

একুশ শতক ॥ ভুলে যাওয়া মুজিব বাহিনী

প্রকাশিত : ১৭ মে ২০১৫
  • মোস্তাফা জব্বার

॥ তিন ॥

যদি এমন হতো যে, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধটা অনেকটা প্রলম্বিত হয়েছে- যেমনটি হয়েছিল ইন্দোচীনে, তবে তার গতিপ্রকৃতি এবং প্রকৃত রাজনৈতিক পোলারাইজেশন কিন্তু অন্যরকম হতে পারত। মুক্তিবাহিনী একটি রাজনৈতিক বাহিনী না হওয়ার ফলে মুক্তিযুদ্ধের পরে এই বাহিনী তার রাজনৈতিক লড়াইটা শেষ করতে পারেনি। নয় মাসের জন্য খ-কালীন একটি কাজে আমরা যোগ দিয়েছিলাম এবং নয় মাস পর সেই কাজটি শেষ হয়ে গেল, যেন একটি প্রকল্প শেষ হলো। মনে করা হয়ে থাকে যে, নানা স্থান থেকে আসা মানুষেরা একটি কাজ সম্পন্ন করে আবার তাদের স্ব-স্ব কাজে ফিরে গেল। আমি মনে করি, আমাদের ক্ষেত্রেও এই ঘটনাটি ঘটেছিল। জাতীয় রক্ষীবাহিনী গঠন করে মানুষকে একটি সংগঠিত বাহিনীতে একত্রিত করার চেষ্টা ছিল বটে। কিন্তু একদিকে রক্ষীবাহিনীতে অতি সামান্য সংখ্যক যোদ্ধাকে ঠাঁই দেয়া সম্ভব হয়েছিল এবং অন্যদিকে পঁচাত্তরের পটপরিবর্তনের পর সেই প্রচেষ্টা একবারেই বিলীন হয়ে গিয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধের পরপরই এদের সংগঠিত করে রাখার তেমন জোরালো কোন প্রচেষ্টা ছিল না। কেবল মুজিববাহিনীর একটি অংশ রাজনৈতিকভাবে জাসদ হিসেবে সংঘবদ্ধ হয়েছিল। জাসদ গঠন সঠিক ছিল কি-না সেটি নিয়ে বিতর্ক হতে পারে তবে এর বাইরে বিশেষ করে আওয়ামী লীগে মুজিববাহিনীকে রাজনৈতিকভাবে একত্রিত করার কোন উদ্যোগ চোখে পড়েনি।

স্বাধীনতার পর মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের রাজনীতির জন্য একটি বড় মুষ্ঠাঘাত ছিল যে, মুক্তিযুদ্ধের রাজনীতি সচেতন এই মুজিববাহিনীর প্রায় পুরোটাই জাসদ রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়া এবং যে মুজিবের নামে এই বাহিনীর জন্ম হয়েছিল সেই মুজিবের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হয়ে ওঠে। অন্যথায় মুজিববাহিনী স্বাধীনতা উত্তর রাজনীতির একটি কেন্দ্রবিন্দুই থেকে যেতে পারত, যেমনটা তারা স্বাধীনতার আগে ছিল।

জাসদ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন মহিউদ্দিন আহমদ। তিনি তাঁর বইতে মুজিববাহিনী সম্পর্কে লিখেছেন, “মণি-সিরাজ-রাজ্জাক-তোফায়েলÑ এই চার যুব নেতা বসে ছিলেন না। ১৭ এপ্রিল ১৯৭১ কুষ্টিয়ার বৈদ্যনাথতলায় ব্যানার্জী নামের এক ভারতীয় সরকারী কর্মকর্তার সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ হয়। তাঁর মাধ্যমে তাঁদের সঙ্গে ভারতীয় সেনাবাহিনীর মেজর জেনারেল সুজন সিং উবানের দেখা হয়। তিনি ছিলেন স্পেশাল ফ্রন্টিয়ার ফোর্সের ইন্সপেক্টর জেনারেল। তাঁকে অপ্রচলিত (গেরিলা) যুদ্ধের একজন বিশেষজ্ঞ হিসেবে দেখা হতো। তাঁকে বাংলাদেশের তরুণদের বিশেষ সামরিক প্রশিক্ষণের দায়িত্ব দেয়া হয়। জেনারেল উবান স্বাধীনভাবেই তাঁর দায়িত্ব পালন করার প্রতিশ্রুতি পেয়েছিলেন। তাঁকে জবাবদিহি করতে হতো ভারত সরকারের সচিব রামেশ^র নাথ কাওয়ের কাছে। কাও ছিলেন একই সঙ্গে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এরও (রিসার্চ এ্যান্ড এ্যানালিসিস উইং) পরিচালক। সংস্থাটি ১৯৬৮ সালে সিআইয়ে (যুক্তরাষ্ট্র) এবং এমআই সিক্সের (যুক্তরাজ্য) আদলে গড়ে তোলার চেষ্টা করা হয়। এর প্রথম প্রকল্পটির নাম ‘বাংলাদেশ’। বাংলাদেশের স্বাধীনতায় ভারতীয় সেনাবাহিনীর যে অসামান্য সাফল্য তার পেছনে ‘র’-এর অবদান ছিল অনেকখানি।”

নানা সমীকরণে ভারতের সেনাবাহিনীর এমন একটি বাহিনীর প্রয়োজন ছিল যেটি রাজনীতি সচেতন, মুজিবের অনুগত, সাহসী ও প্রজ্ঞাবান। অন্যদিকে ২ মার্চের আগে যারা স্বাধীন সমাজতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার লড়াইতে নেতৃত্ব দিয়েছেন তাঁরাও গড্ডালকা প্রবাহে গা ভাসাতে চাননি।

এ প্রসঙ্গে উবানের বক্তব্য এখানে উদ্ধৃত করা যেতে পারে- “গোলযোগের অশান্ত দিনগুলোতে আমরা একদল নিবেদিতপ্রাণ যুব নেতার কথা জানতে পারলাম, যাঁরা বাংলাদেশে বেশ পরিচিত। তাঁরা হলেন- শেখ ফজলুল হক মণি, সিরাজুল আলম খান, আবদুর রাজ্জাক ও তোফায়েল আহমেদ। তাঁদের মনে হলো অত্যন্ত অনুপ্রাণিত করতে অথবা মরতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং বাংলাদেশের ভেতরে ও বাইরে মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে তাঁদের নেতৃত্বে গ্রহণযোগ্যতা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত ছিল। দুর্ভাগ্যজনক ব্যাপার হলো, অস্থায়ী সরকার এঁদের তেমন মর্যাদা দিতে প্রস্তুত ছিল না। তাঁরা চাইছিলেন, এঁরা মুক্তিবাহিনীর নেতৃত্বে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবেন ও যুদ্ধে অংশ নেবেন। কিন্তু এই যুব নেতাদের তাতে দৃঢ় আপত্তি ছিল। (মুজিবের প্রতি তাঁদের গভীরতর আনুগত্যের ও নৈকট্যের কারণে তাঁরা সবাই পাকিস্তানী সামরিক কর্তৃপক্ষের নির্দেশে জেল খেটেছেন মুজিবের সঙ্গে) তাঁরা মুজিববাহিনী নামে অভিহিত হতে পছন্দ করলেন। তাঁরা তাঁদের পুরনো সহকর্মীদের ক্যাডার হিসেবে বেছে বেছে সত্যায়িত করলেন।

ক্যাবিনেট সেক্রেটারিয়েটের সেক্রেটারি শ্রী আরএন কাও এ সময় আমার উর্ধতন সিভিলিয়ান কর্মকর্তা ছিলেন। আওয়ামী লীগের যুব উইংয়ের নেতৃত্বে এবং খোদ সংগঠনটি সম্পর্কে বিস্তারিত গোয়েন্দা তথ্য জানার সুযোগ তাঁর হয়েছিল। তাঁর গভীর উপলব্ধি ছিল যে, তিনি আমার তত্ত্বাবধানে যে যুব নেতাদের দিয়েছিলেন কেবল তাঁদের দ্বারাই আসল কাজটি হবে এবং তাঁদের বাংলাদেশের সবচেয়ে স্পর্শকাতর রাজনৈতিক অঞ্চলে কাজ করার জন্য বিশেষ মর্যাদা দেয়া দরকার। তিনি তাঁদের প্রতি অস্থায়ী সরকারের মন্ত্রীদের ঈর্ষার কথা জানতেন তাঁদের আপোসহীন মনোভাবের জন্য এবং মন্ত্রীদের উচ্চাকাক্সক্ষা ও অভিসন্ধির জন্য।”

যুব নেতাদের সম্পর্কে উবানের ধারণা ছিল অত্যন্ত উঁচু। বিএলএফের প্রধান দুই নেতা সম্পর্কে তাঁর মন্তব্য এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে। শেখ ফজলুল হক মণি সম্পর্কে তিনি বলছেন : “হাল্কা-পাতলা গড়নের মানুষটি যেন এক জ্বলন্ত মশাল। তাঁদের স্বাভাবিক নেতা বলে মনে হতো তাঁকে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রতি অত্যন্ত নিবেদিতপ্রাণ ছিলেন এবং যে কোনো আত্মত্যাগের জন্য প্রস্তুত ছিলেন তিনি। তোফায়েল ও রাজ্জাক তাঁকে শ্রদ্ধা করতেন। সিরাজও তা করতেন, কিন্তু মাত্র অল্প পরিমাণে। প্রায়ই আলোচনা গরম হয়ে উঠত। সিরাজ অপেক্ষা করতে চাইতেন না। কিন্তু সব সময় তাঁরা একটা টিম হয়ে কাজ করতেন এবং যৌথ নেতৃত্বের ভাল উদাহরণ তুলে ধরতেন। তিনি রেডিক্যাল ধ্যানধারণা পোষণ করতেন। আপোসহীন মনোভাবের ছিলেন। যুদ্ধ করতেন বাঘের মতো। কাজ করতেন নিবেদিতপ্রাণ ক্রীতদাসের মতো। একসঙ্গে অনেকদিন তিনি না খেয়ে না ঘুমিয়ে শুধু চায়ের ওপর থাকতে পারতেন। বক্তৃতা দিতে তিনি পছন্দ করতেন না। কথা এমন বলতেন যে, বোঝা যেত তিনি কাজের লোক, কথার নয়। তৃণমূল কর্মীর মতো তিনি কথা বলতেন। তিনি প্রচার অপছন্দ করতেন। মুখ বুজে কাজ করে যেতে চাইতেন। চিরকুমার। বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলার ধরন ছিল আক্রমণাত্মক। তিনি এমন মানুষ যাঁকে ভালবাসতে হয়। তিনি আত্মোৎসর্গের প্রতীক। আমার শুধু এই ভয়ই ছিল যে দারিদ্র্যমুক্তির পথের ধীরগতিতে তিনি সন্তুষ্ট হতে পারবেন না এবং হয়ত রূঢ় ও অগ্রহণযোগ্য ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করে অপ্রিয় হয়ে যাবেন।”

মহিউদ্দিন আহমদ রিখেছেন, “বিএলএফের (তখনও মুজিববাহিনী নামকরণ হয়নি) প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা হয়েছিল উবানের সরাসরি তত্ত্বাবধানে স্পেশাল ফ্রন্টিয়ার ফোর্সের (এসএফএল) এক দল প্রশিক্ষকের হাতে। এর দুটি প্রশিক্ষণকেন্দ্র ছিল, একটা দেরাদুনের চাকরাতা, অন্যটি আসামের হাফলং। প্রশিক্ষণার্থী বাছাই করার জন্য চারটি ট্রানজিট ক্যাম্প স্থাপন করা হয়। এগুলোর অবস্থান ছিল দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জন্য ব্যারাকপুর। আঞ্চলিক অধিনায়ক ছিলেন তোফায়েল আহমেদ। তাঁর সহকারী ছিলেন নূরে আলম জিকু। উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ট্রানজিট ক্যাম্প ছিল জলপাইগুড়ির কাছে পাংগা নামক স্থানে। এই অঞ্চলের অধিনায়ক ছিলেন সিরাজুল আলম খান। তাঁর সহকারী ছিলেন মনিরুল ইসলাম। মধ্যঞ্চলের ক্যাম্প ছিল মেঘালয়ের তুরা শহরে। এই অঞ্চলের অধিনায়ক ছিলেন আবদুর রাজ্জাক। তাঁর সহকারী ছিলেন সৈয়দ আহমদ। পূর্বাঞ্চলের (ঢাকাসহ) ক্যাম্প ছিল আগরতলায়। এই অঞ্চলের অধিনায়ক ছিলেন শেখ ফজলুল হক মণি। সহকারী ছিলেন আ স ম আবদুর রব। কাজী আরেফ ছিলেন বিএলএফের গোয়েন্দা প্রধান। বিএলএফের পক্ষ থেকে প্রবাসী সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার কাজটি করতেন শাজাহান সিরাজ। চার যুব নেতা নিজেদের নতুন নামকরণ করলেন। তাঁরা নতুন নামেই অনেক জায়গায় নিজেদের পরিচয় দিতেন। নামগুলো সংক্ষেপে ছিল- মনো (মণি), সরোজ (সিরাজ), রাজু (রাজ্জাক) ও তপন (তোফায়েল)। বিএলএফের চার আঞ্চলিক অধিনায়ককে লে. জেনারেল মর্যাদা ও প্রটোকল দেয়া হয়েছিল।”

প্রশিক্ষণার্থী বাছাই করা হতো মূলত ছাত্রলীগের সদস্যদের মধ্য থেকে। এ ছাড়া শ্রমিক লীগের অনেক সদস্যকেও প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। প্রশিক্ষণ দেয়ার কাজটি শুরু হয় মে মাসের শেষ সপ্তাহে এবং তা একটানা চলে অক্টোবর পর্যন্ত। প্রশিক্ষণ ছিল ছয় সপ্তাহের। প্রশিক্ষণে হাল্কা ও মাঝারি অস্ত্র চালনা, বিস্ফোরক তৈরি ও পরিকল্পনা- এই তিনটি বিষয়েই গুরুত্ব দেয়া হয়। মোট কতজন প্রশিক্ষণ পেয়েছিলেন, তার সঠিক হিসাব জানা যায়নি। উবানের হিসাবমতে সংখ্যাটি ১০ হাজার। নির্দেশ ছিল, প্রশিক্ষণ শেষে দেশের ভেতরে গিয়ে প্রত্যেক সদস্য আরও ১০ জনকে প্রশিক্ষণ দেবেন এবং এভাবেই ৭০ হাজার সদস্যের একটি যোদ্ধাবাহিনী গড়ে উঠবে। দেশের ভেতরে গিয়ে ছাত্রলীগের কর্মীদের খুঁজে বের করা, চারটি বেস ক্যাম্প চালানো, প্রশিক্ষণার্থীদের বেস ক্যাম্পে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা ইত্যাদির খরচ মেটানোর জন্য ৭৬ লাখ টাকার একটা বাজেট তৈরি করে উবানের হাতে দেয়া হয়। বরাদ্দ হয়েছিল ৭০ লাখের কিছু বেশি। কয়েক কিস্তিতে টাকাটা দেয়া হয়।

অস্ত্র চালনার পাশাপাশি রাজনৈতিক মতাদর্শের ওপর প্রশিক্ষণ দেয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছিল। ছাত্রলীগের চারজন নেতাকে প্রশিক্ষণার্থীদের নিয়মিত রাজনৈতিক পাঠ দেয়ার জন্য বাছাই করা হয়। তাঁরা হলেন হাসানুল হক ইনু, শরীফ নুরুল আম্বিয়া, আ ফ ম মাহবুবুল হক ও মাসুদ আহমেদ রুমি। তাঁরা সবাই ছিলেন সিরাজপন্থী।

আওয়ামী লীগের নেতারা প্রথাগত সরকার-পদ্ধতির বাইরে অন্য কিছু ভাবার অবকাশ পাননি। তাঁদের অনেকেই মনে করতেন, দলের মধ্যকার ‘চরমপন্থী যুবকদের হঠকারী কার্যকলাপের’ ফলেই তাঁদের ভারতের মাটিতে এত কষ্ট করতে হচ্ছে। এ জন্য তাঁরা বিএলএফের ব্যাপারে খুবই ক্ষুব্ধ ছিলেন। সেক্টর কমান্ডাররা, যাঁরা অস্থায়ী সরকারের নিয়ন্ত্রণে ছিলেন, বিএলএফের ব্যাপারে তাঁদেরও অনেক ক্ষোভ ছিল। তাঁরা যুবকদের জন্য যাঁর যাঁর সেক্টরে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছিলেন। কিন্তু তাঁদের হাতে সম্পদ ছিল অপ্রতুল। অন্যান্য অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা ছিল না বললেই চলে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তাঁরা পাঁচ-ছয় দিনের একটা মামুলি প্রশিক্ষণের পর তরুণদের নামমাত্র অস্ত্র দিয়ে দেশের ভেতরে পাঠিয়ে দিতেন। তাঁরা চেয়েছিলেন বিএলএফ আলাদা বাহিনী হিসেবে না থেকে তাঁদের কমান্ডে থাকুক। তাঁরা এটা বুঝতে অক্ষম ছিলেন যে বিএলএফ প্রথাগত সেনাবাহিনী নয়, এটা একটা রাজনৈতিক সংগঠন। তাজউদ্দীন বিএলএফের কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত ছিলেন। কিন্তু তিনি না পারতেন এদের তাঁর নিয়ন্ত্রণে আনতে, না পারতেন এদের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নিতে। তিনি ভাল করেই জানতেন, বিএলএফ ছিল শেখ মুজিবের নির্দেশিত একটি ‘অপশন’। এ প্রসঙ্গে এক আলাপচারিতায় আবদুর রাজ্জাক বলেছিলেন- “১৮ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু আমাদের চারজন- মণি ভাই, সিরাজ ভাই, আমাকে আর তোফায়েলকে ডাকলেন। ব্রিফিং দিলেন : ‘ওরা আমাদের হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দেবে না, তোমরা প্রস্তুতি সংঘবদ্ধ কর, সশস্ত্র বিপ্লব করে দেশ স্বাধীন করতে হবে।’ তাজউদ্দীন ভাই একা উপস্থিত ছিলেন। আরও বললেন, ‘আমি না থাকলে এই তাজউদ্দীন হবে তোমাদের নেতা।”

ঢাকা, ১৫ মে, ২০১৫

লেখক : তথ্যপ্রযুক্তিবিদ, দেশের প্রথম ডিজিটাল নিউজ সার্ভিস আবাস-এর চেয়ারম্যান, বিজয় কীবোর্ড ও সফটওয়্যারের জনক ॥

ই-মেইল : mustafajabbar@gmail.com,

ওয়েবপেজ: www.bijoyekushe.net, www.bijoydigital.com

প্রকাশিত : ১৭ মে ২০১৫

১৭/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: