মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

আদালতে মামলাজট

প্রকাশিত : ১৭ মে ২০১৫

মামলাজটে ভারাক্রান্ত আমাদের বিচার বিভাগ। বছরের পর বছর নিষ্পত্তিকৃত মামলাকে ছাড়িয়ে অমীমাংসিত মামলার সংখ্যা বেড়েই চলেছে। অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, গত কয়েক বছরে উচ্চ ও নিম্ন আদালতে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৩০ লাখের নিচে নামছেই না। পঞ্চাশ হাজার নয়, এক লাখও নয়, ত্রিশ লাখ মামলা! এটি কল্পনা করতেও বুকের পাটা লাগে! ইংরেজীতে একটি কথা আছে- জাস্টিস ডিলেইড জাস্টিস ডিনাইড, অর্থাৎ বিচার বিলম্বিত হওয়া বিচার না পাওয়ারই শামিল। দুর্ভাগ্যজনকভাবে দেশে বিচারপ্রার্থীদের প্রায়শই এ পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়। বিশেষ করে উচ্চ আদালতে মামলা নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতার কারণে বিচারপ্রার্থীদের দুর্ভোগের শেষ নেই। তাদের হয়রানির শিকার হতে হয় নানাভাবে। যেমন- মামলা দায়েরের পর তা কার্যতালিকায় না ওঠা, সেকশন থেকে বেঞ্চে সময়মতো ফাইল না আসা ইত্যাদি কারণে মামলার সংখ্যা যেভাবে বাড়ছে, সে তুলনায় আদালত বা বিচারকের সংখ্যা বাড়ানো সম্ভব হয়নি। বিচার প্রক্রিয়ার এই দীর্ঘসূত্রতার কারণে বিচারপ্রার্থীর বিবিধ বিড়ম্বনার নজির পাওয়া যাবে। এমনও বিরল নয় যে, মামলার রায় পেতে পেতে বাদী কিংবা বিবাদী পরলোকে চলে গেছেন।

অস্বীকার করা যাবে না যে, মামলার সংখ্যার তুলনায় উচ্চ আদালতের জনবল, কর্মঘণ্টার স্বল্পতা একটি বড় কারণ। কিন্তু সীমাবদ্ধতার মধ্যেও নতুন একটি বেঞ্চ গঠন করে আপীল বিভাগ জট কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে এবং সফলও হয়েছে। মামলাজটের কারণ হিসেবে বহুল উচ্চারিত একটি অভিযোগ হচ্ছেÑ অনেক সময় আইনজীবীদের ব্যস্ততা কিংবা অহেতুক বিলম্বের কারণেও মামলার রায় পেতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। এ ব্যাপারে কী ধরনের প্রতিকার সম্ভব আইনজীবীদের ভাবা দরকার। অনেক ক্ষেত্রে মামলা পরিচালনায় বাদী-বিবাদীর অনাগ্রহও জট সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখে।

বিচার ব্যবস্থা রাষ্ট্রের চারটি স্তম্ভের অন্যতম। এই স্তম্ভকে সর্ব উপায়ে সর্বতোভাবে সুস্থ রাখার দায়িত্ব রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের। কয়েক সপ্তাহ আগে এক সেমিনারে প্রধান বিচারপতির প্রদত্ত বক্তব্যে উঠে এসেছে মামলাজটের বাস্তবতা ও তার সমাধানের ইঙ্গিত। তিনি যথার্থই বলেছেন, ‘এ জট কমাতে প্রয়োজন যথেষ্ট বিচারক এবং লজিস্টিক সাপোর্ট।’ আদালতে সনাতনী পদ্ধতিতে প্রশাসনিক কার্যক্রম চলার বাস্তবতাটিও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে। জাতীয় ও জেলা পর্যায়ে প্রশাসনিক অবকাঠামো, বিচারক স্বল্পতাসহ নানাবিধ সমস্যা রয়েছে। প্রতিটি সমস্যারই সঠিক সমাধান প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্ট সকলেই এ বিষয়ে আন্তরিকতার পরিচয় দেবেন। আগামীতে আদালতের পরিধি বাড়ালে এবং আরও বিচারক নিয়োগ দান করা হলে সমস্যা অনেকটাই কমে আসবে বলে সবার ধারণা।

প্রকাশিত : ১৭ মে ২০১৫

১৭/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: