কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৩ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

বোস্টন ম্যারাথনে বোমা হামলাকারীর মৃত্যুদণ্ড

প্রকাশিত : ১৬ মে ২০১৫, ১২:২৭ পি. এম.

অনলাইন ডেস্ক ॥ যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন ম্যারাথনে বোমা হামলাকারী জোখার সারানায়েভকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে দেশটির একটি কেন্দ্রীয় আদালত।

শুক্রবার আদালতের দেয়া রায়ে ২১ বছর বয়সী সারানায়েভকে প্রাণঘাতী ইঞ্জেকশন প্রয়োগে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আদেশ দেয়া হয়।

১৫ ঘণ্টার বিবেচনা-পর্যালোচনা শেষে জামিন অযোগ্য আজীবন কারাবাস ও প্রাণঘাতী ইঞ্জেকশন প্রয়োগে মৃত্যুদণ্ড, এ দুটির শাস্তির মধ্যে বিচারক দ্বিতীয়টি বেছে নেন।

২০১৩ সালের ১৫ এপ্রিল বোস্টন ম্যারাথন দৌড়ের শেষ পর্যায়ে ফিনিশ লাইনের কাছে চালানো বোমা হামলায় তিনজন নিহত ও ২৬৪ জন আহত হয়েছিলেন। বড় ভাই তামারলেন সারানায়েভকে এই বোমা হামলা চালানোয় সহায়তা করেছিলেন জোখার।

বোমা হামলার দুদিনের মধ্যেই পুলিশের গুলিতে নিহত হন তামারলেন আর আহত গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গ্রেপ্তার হন জোখার।

এপ্রিলে একই আদালত ঘরে তৈরি দুটি প্রেসার কুকার বোমা ম্যারাথন দর্শকের মাঝে রেখে দেয়ার জন্য জোখারকে দোষী সাব্যস্ত করেছিল। এছাড়া গুলি করে এক পুলিশ সদস্যকে আহত করায়ও দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন তিনি।

মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পরও জোখারের শাস্তি সহসাই কার্যকর করা হচ্ছে না। এই রায়ের বিরুদ্ধে আসামীপক্ষের আইনজীবীরা আপিল করতে পারেন। সেক্ষেত্রে এসব প্রক্রিয়া শেষ হতে আরো অনেক বছর লেগে যেতে পারে।

বোমা হামলার স্থান বোস্টন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যে। রাজ্যটির আইনে মৃত্যুদণ্ডের কোনো বিধান নেই। কিন্তু জোখারের বিচার রাজ্যের কোন আদালতে নয় হচ্ছে কেন্দ্রীয় আদালতে এবং কেন্দ্রীয় আইনে। ওই আইনে প্রাণঘাতী ইঞ্জেকন প্রয়োগে মৃত্যুদণ্ডের বিধান আছে।

অবশ্য জরিপে দেখা গেছে, বোস্টনের বাসিন্দারা জোখারকে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার বিরোধী।

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কের টুইন টাওয়ারে হামলার পর বোস্টন বোমা হামলাটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রে ঘটা সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা।

রায় পড়ে শোনানোর সময় ঘন রঙয়ের স্পোর্ট কোট ও হালকা রঙয়ের শার্ট পরা জোখার নিশ্চুপ দাঁড়িয়েছিলেন। এ সময় তার চেহারায় তেমন কোনো অভিব্যক্তি প্রকাশ পায়নি।

বিচারে ১০ সপ্তাহ ধরে চলা সাক্ষ্যে প্রায় ১৫০ জন প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষ্য দিয়েছেন। এদের মধ্যে বোমার আঘাতে পা হারানো মানুষ থেকে শুরু করে আট বছর বয়সী ছেলে সন্তান ও এক পা হারানো কন্যার পিতা উইলিয়াম রিচার্ডও ছিলেন।

বিচার চলাকালে জোখারকে আল কায়েদার জঙ্গি ইসলামি চিন্তাধারার সমর্থক বলে বর্ণনা করেন সরকার পক্ষের আইনজীবীরা। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে ক্ষুব্ধ হয়ে জাতিগতভাবে চেচেন বংশোদ্ভূত দুই ভাই বোস্টনে বোমা হামলা চালান বলে উল্লেখ করেন তারা।

প্রকাশিত : ১৬ মে ২০১৫, ১২:২৭ পি. এম.

১৬/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: