মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

সাগর পাড়ের মেয়েরাও পিছিয়ে নেই

প্রকাশিত : ১৬ মে ২০১৫

সাগরপারের জনপদ কলাপাড়ায় কারিগরি শিক্ষার দিকে এখন আরও বেশি ঝুঁকছে শিক্ষার্থীরা। ঘটছে দ্রুত প্রসার। শিক্ষাজীবন শেষ করার সঙ্গে সঙ্গে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি; এমন আকাক্সক্ষা নিয়েই কারিগরি শিক্ষায় শুরু হয়েছে নতুন দিগন্ত। বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীরা এগিয়ে আসছে কারিগরি শিক্ষায়। প্রতিদিন এদের সংখ্যা বাড়ছে। কারিগরি কিংবা কর্মমুখী এ শিক্ষার মানও ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। নবম শ্রেণীর সাথী রাণী, খুকুমনি, বন্যা ঘরামী, কাজী কবির উদ্দিন, শাকিল আহম্মেদ, সাগর খান ও মোঃ মিজান জানায়, ইট বালুর মান যাচাই-বাছাই করতে পারছে তারা। একদিনে, একই সময় দেড় মিটারের বেশি ইটের গাঁথুনি করা ঠিক নয়। এর বেশি করলে মজবুত হয় না। এরা সবাই কারিগরি শাখার বিল্ডিং মেনটেনেন্সের শিক্ষার্থী।

শিক্ষার্থী দিপীকা, মার্জানা, বন্যা ঘরামী, একমি, তানজিলা, ফাতেমা তানজিলা, নিলয় হালদার, মলয় পাল, মহসিন, তামিম, রাকিব, সুব্রত, সমর্থ জানায়, কারিগরি শিক্ষায় কর্মসংস্থান বেশি। তারা নিজেরাই হাতে-কলমে করে দেখায় কিভাবে ওয়েল্ডিং, ড্রিলিং, টার্নিং, থ্রেডিংসহ লেদ মেশিনে কাজ করতে হয়। প্রত্যেকেরই বাস্তবে এসব কাজ শেখার প্রচ- উদ্যমী মানসিকতা রয়েছে। সবাই মনের মধ্যে পুষে রেখেছে ইঞ্জিনিয়ারিং লাইনে স্বাবলম্বী হওয়ার সুপ্ত বাসনা। এক সময় মেয়েরা এসব কর্মের মধ্যে পেশার স্বপ্ন দেখতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেনি। খুঁজে পায়নি ভবিষ্যত জীবনের কোন পথ। কিন্তু বিশ্বায়নের এ যুগে ছেলেদের পাশাপাশি মেয়ে শিক্ষার্থীরা কর্মমুখী শিক্ষার মধ্য দিয়ে দেখছে জীবন গড়ার স্বপ্ন। ১৯৯৮ সালে মাত্র ২৬ শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করে বর্তমানে কলাপাড়ার খেপুপাড়া মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কারিগরি শাখায় রয়েছে ১৮২ শিক্ষার্থী। এর মধ্যে মাত্র ৪০ জন মেয়ে। এক সময় কারিগরি শাখায় শিক্ষার্থী খুঁজতে হতো। একটি নেতিবাচক ধারণা রয়েছে কারিগরি শিক্ষার প্রতি। যারা কম মেধাবী তারাই এ বিভাগে পড়ে। কিন্তু ওই অবস্থা আর নেই। খেপুপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কারিগরি কিংবা ভোকেশনাল শাখা থেকে উত্তীর্ণ হয়ে জার্মান, ইল্যান্ড, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে প্রকৌশলী হিসেবে অনেকে সুনামের সঙ্গে চাকরি করছেন এমন তথ্য দিলেন শিক্ষকরা। এখান থেকে পাস করে উচ্চশিক্ষা নিতে না পারলেও কেউ বেকার থাকেনি; এমন বহু উদাহরণ দেখালেন শিক্ষকরা। এক সময় লেদ, ড্রিলিং, ওয়েল্ডিং কিংবা বিল্ডিং মেনটেন্যান্স কাজ নারী শিক্ষার্থীরা করবে, এ চিন্তা করাও ছিল দুরূহ ব্যাপার। কিন্তু এখন এসব কাজ অনায়াসে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় পরিণত হয়েছে; এটাই বাস্তবতা। ইতোমধ্যে বহু শিক্ষার্থী কারিগরি শাখা থেকে উত্তীর্ণ হয়ে বিভিন্ন স্তরে সফলতার সঙ্গে ব্যবসাবাণিজ্য করছে। যা সাধারণ শিক্ষায় সম্ভব নয়। খেপুপাড়া মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় কারিগরি শাখায় শিক্ষক রয়েছেন আট জন। সপ ও ল্যাব এসিস্ট্যান্ট রয়েছেন দু’জন।

Ñমেজবাহউদ্দিন মাননু

কলাপাড়া থেকে

প্রকাশিত : ১৬ মে ২০১৫

১৬/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: