কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

ভূমিকম্পের আগাম বার্তা জানাবে স্মার্টফোন

প্রকাশিত : ১৬ মে ২০১৫
  • রেজা নওফল হায়দার

হাতের নাগালে থাকা মোবাইল ফোনটিই হতে পারে ভূমিকম্পের সময় সবচেয়ে কাছের বন্ধু। ভূমিকম্পে ভবন কেঁপে ওঠার কয়েক সেকেন্ড আগেই আপনাকে ভূমিকম্প আসার খবর দিয়ে সতর্ক করে দিতে পারে স্মার্টফোনটি। ইতিমধ্যে এ্যান্ড্রয়েড ও আইওএস প্ল্যাটফর্মে কিছু এ্যাপ রয়েছে যাতে ভূমিকম্প হলে তার নোটিফিকেশন পাওয়া যায়। কিন্তু গবেষকেরা এর চেয়ে উন্নত পদ্ধতি উদ্ভাবনে কাজ করছেন।

গবেষকরা বলছেন, কম খরচে ভূমিকম্প সতর্কব্যবস্থা হতে পারে স্মার্টফোনের উন্নত এ্যাপস। সম্প্রতি গবেষকরা জানিয়েছেন, ভূমিকম্প নজরদারি নেটওয়ার্ক ব্যবস্থার সাশ্রয়ী বিকল্প হিসেবে স্মার্টফোন ব্যবহার করা যেতে পারে। তাঁরা এ তথ্য জানানোর পর এ্যাপস ব্যবহার করে ভূমিকম্পের আগাম বার্তা পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার এ তথ্য জানিয়েছে।

স্মার্টফোনে থাকা গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম বা জিপিএস ভূমিকম্প শনাক্ত করতে পারে এবং শক্তিশালী কম্পন আঘাত হানার কয়েক সেকেন্ড আগেই তা জানিয়ে দিতে পারে।

সায়েন্স এ্যাডভান্সেস নামের একটি মার্কিন সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে গবেষণা সংক্রান্ত এ নিবন্ধ।

ভূমিকম্প সতর্কীকরণ ব্যবস্থা প্রসঙ্গে গবেষক বেঞ্জামিন ব্রুকস জানিয়েছেন, অধিকাংশ বিশ্ববাসী ভূমিকম্প সংক্রান্ত সতর্কবার্তা পান না। কারণ, ভূমিকম্প নজরদারির জন্য প্রয়োজনীয় বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি বসানোর প্রয়োজন পড়ে।

কিন্তু প্রশ্ন হলো, স্মার্টফোন ও ফিটনেস ট্র্যাকারের সাহায্যে সংগৃহীত এসব তথ্য-উপাত্ত কি পূর্বাভাস দেয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ? মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ (ইউএসজিএস) বিভাগের গবেষকরা বলছেন, ‘হ্যাঁ’। স্মার্টফোনে জিপিএস (গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেমস) প্রযুক্তির সংবেদী বা সেন্সর থাকে। সেগুলো কোন একটি দিকে আকস্মিক পরিবর্তন শনাক্ত করতে পারে। যদি হাজার হাজার স্মার্টফোন একসঙ্গে একই পরিবর্তন শনাক্ত করে, তাহলে সেটাই হবে ভূমিকম্পের আগাম সঙ্কেত।

ইউএসজিএসের বিজ্ঞানী বেঞ্জামিন ব্রুকস বলেন, কল্পনা করা যেতে পারে যে পোর্টল্যান্ড এলাকার একটি ক্যাফেতে কোন এক রৌদ্রোজ্জ্বল দিনে সবার স্মার্টফোন টেবিলের ওপরে রাখা। তখনই সেগুলো বড় ভূমিকম্পের সঙ্কেত দিল। এতে সারা শহর দুলে ওঠার আগেই লোকজন সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেয়ার সুযোগ পাবে।

বিজ্ঞানীরা একটি কম্পিউটার মডেল ব্যবহার করে পরীক্ষা করে দেখেছেন, ভূমিকম্পের সময় এবং আগে ও পরে স্মার্টফোনের তথ্য-উপাত্ত ঠিক কেমন হয়। ওই কম্পিউটার মডেলের সাহায্যে সানফ্রান্সিসকোর হেওয়ার্ড ফল্ট জোনে সাত মাত্রার কল্পিত ভূমিকম্প ঘটানো এবং জাপানে ২০১১ সালে সংঘটিত ভয়াবহ ভূমিকম্পের প্রকৃত তথ্য-উপাত্তের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করেন। এতে দেখা যায়, অন্তত পাঁচ হাজার স্মার্টফোন ব্যবহারকারী প্রস্তুত থাকলে বড় কোন ভূমিকম্প শুরু হওয়ার সময়টা আগে থেকে জানার সুযোগ রয়েছে। ফলে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোয় বিপর্যয় শুরু হওয়ার আগে পাঁচ সেকেন্ডের একটি সতর্কসঙ্কেত দেয়া যাবে। তবে পাঁচ সেকেন্ড সময় খুব সামান্য মনে হলেও গবেষকরা বলেন, সঙ্কেত বাজানো, গ্যাস-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা এবং দমকল বাহিনীর গ্যারেজের দরজা খুলে দেয়ার জন্য পাঁচ সেকেন্ডই যথেষ্ট।

গবেষকেরা বলেন, স্মার্টফোনের জিপিএস রিসিভার বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতির তুলনায় যদিও নিখুঁত নয়, তবুও মাঝারি থেকে বড় মাত্রার ভূমিকম্প সহজে ধরতে পারে। গবেষকেরা ২০১১ সালে জাপানের ভূমিকম্প ও সুনামির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখেছেন, স্মার্টফোনের জিপিএস পদ্ধতিতে যদি সতর্ক করা সম্ভব হতো তবে অনেক প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হতো।

হাউসটন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও গবেষণা নিবন্ধের লেখক ক্রেইগ গ্লেনি বলেন, ‘ভূমিকম্পের কম্পনের চেয়ে দ্রুত ছুটতে পারে ইলেকট্রনিক বার্তা।’ যুক্তরাষ্ট্রের ইউএসএআইডি নামের সংস্থাটি স্মার্টফোন সেন্সরের মাধ্যমে ভূমিকম্প নির্ণয়ের একটি পরীক্ষা চালিয়ে দেখতে সম্মত হয়েছে।

এ্যাপস ছাড়াই ভূমিকম্প সতর্কতা

হাই এ্যান্ড বা দামী স্মার্টফোন না হলেও তাতে ভূমিকম্প টের পাওয়া যাবে। এতে অবশ্য কোন এ্যাপ ডাউনলোড করার দরকার পড়বে না। স্মার্টফোন ও ট্যাবলেটে মৌলিক সিসমোমিটার থাকে, যা কম্পন শনাক্ত করতে পারে।

এ জন্য সমতল টেবিলের ওপর ফোনটিকে রাখতে হয়। ডিজিটাল ইনসপাইরেশন নামের একটি ব্লগের তথ্য অনুযায়ী, যে ফোনে সিসমোমিটার থাকে তাতে আলাদা এ্যাপ ডাউনলোড ছাড়াই শুধু ওয়েব ব্রাউজার ব্যবহার করে ভূমিকম্প টের পাওয়া যায়। এই পদ্ধতিতে ভূমিকম্প টের পেতে ওয়েব ব্রাউজার থেকে যঃঃঢ়://পঃৎষয়.ড়ৎম/বধৎঃযয়ঁধশবং/ংবরংসড়মৎধঢ়য.যঃসষ লিংকটি চালু করতে হয়। এতে চলমান একটি তরঙ্গ দেখা যায়। কোন কম্পন শনাক্ত করলে তখন এই তরঙ্গটি রিয়েল টাইমে তা সিসমোগ্রাফের মতো ধরতে পারে।

ভূমিকম্প নিয়ে এ্যাপস

ভূমিকম্প সংক্রান্ত নোটিফিকেশন দিতে পারে, এমন কয়েকটি এ্যাপ গুগলের প্লেস্টোর, এ্যাপলের এ্যাপ স্টোরে রয়েছে। কিছু এ্যাপ অর্থের বিনিময়েও ডাউনলোড করা যায়। বিনা মূল্যের এ্যাপগুলোর মধ্যে রয়েছে আর্থকোয়াক এ্যালার্ট, কোয়াকস-আর্থকোয়াক নোটিফিকেশনস, জেমপালোকা, আর্থকোয়াক এ্যাপ প্রভৃতি।

প্রকাশিত : ১৬ মে ২০১৫

১৬/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: