মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

কষ্টগাথার বিবরণ

প্রকাশিত : ১৫ মে ২০১৫

বই

মুক্তিযুদ্ধ বীররসের কাব্য হলেও তার গায়ে লেপ্টে আছে বিষণœতম ভাবনার করুণগাথা। তার হৃদয়জুড়ে আছে অশ্রু ও আগুনের গল্প। স্বাধিকারের লড়াইয়ে যেসব নারীরা তাদের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হারিয়ে ছিলেন তারা আজ তুচ্ছতার আবর্তে বন্দী। তারা ইতিহাসের সোনালি পৃষ্ঠাজুড়ে থাকার কথা থাকলেও স্বীকৃতি পায়নি রাষ্ট্রের কাছে, সমাজের কাছে।

অভিজাত প্রকাশন ‘সাহিত্যপ্রকাশ’ ২০১৩ প্রকাশ করেছে অপূর্ব শর্মার ‘বীরাঙ্গনাকথা’- নামের ব্যতিক্রমিক বিষয় প্রকরণের বই। বারোজন বীরাঙ্গনার যুদ্ধকথা এই বই। তথ্য উপাত্তের খোঁজে তিনি ছুটে গেছেন গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে, চা-বাগান থেকে অগম্য স্থানে। আত্মত্যাগের মহত্তম বার্তা যা তাঁরা সঙ্গোপনে বহন করে জীবনের শেষপ্রান্তে এসে পৌঁছেছেন; সেইসব অজানা উপাত্ত এনে সাজিয়েছেন তিনি এক অচঞ্চল ইতিবৃত্ত কথা- যা এতদিন ছিল লোকচক্ষুর অন্তরালে। অপূর্ব শর্মার কৃতিত্ব এই যে বিরুদ্ধ পরিবেশের ভেতর থেকে তিনি তুলে এনেছেন মুক্তিযুদ্ধের এক অনন্য ইতিহাস।

বিভিন্ন অধ্যায়ের শিরোনাম পাঠককে আগ্রহী করে তোলে ভেতরে প্রবেশের। সেগুলো এমনÑ আমি আর কাঁদতে চাই না, পাঞ্জাবির বউ, আমি স্বাধীনতার কাজে লেগেছি, আমার তালাশ কে করে, মনোয়ারার মনোবেদনা, ছাবেদার যাতনা, আমার দুঃখ সইলে যাইব, অজানা শঙ্কা তাড়া করে ফিরে, কেউ নেই তার, জোৎস্নার বিদায়বেলা, তরও তো মা-বইন আছে, রক্তে মুছে গেছে সিঁথির সিঁদুর। বারোজন নারীর বারো রকম প্রেক্ষিত। নিপীড়নের বারো রকম চেহারা। নরপশু পাকিস্তানীদের অসুরের মুখ আর রাজাকারদের ঘৃণ্য সহযোগ সবই ধরা পড়েছে অপূর্ব’র লেখার মধ্যে।

‘বীরাঙ্গনা কথা’-র ভেতরে হীরামনি, প্রভারানী, সাবিত্রী, সাফিয়া, মনোয়ারা, ছাবেদা প্রমুখ বীর নারীরা নিজেদের দুর্ভাগ্যের বিবরণ দিয়েছেন। অপূর্ব অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে শুনেছেন সেসব কথা। উপস্থাপন করেছেন নির্মোহভাবে। একটা বিষয় বেশ উপলব্ধি করা যায়- এই বারোজন নারীযোদ্ধার পরবর্তী জীবনও ছিল দুঃখময়। রাষ্ট্রীয় কোন আনুকূল্য তাঁরা পাননি, সমাজ কোন সহানুভূতি দেখায়নি। তাঁদের গৌরবের সুসমাচার যে স্বাধীনতা এ উপলব্ধিও কেউ করেনি। অপূর্ব একটা জাতীয় দায়িত্ব পালন করেছেন।

নারী মুক্তিযোদ্ধারা যদি পুরুষ মুক্তিযোদ্ধার মতো রাষ্ট্রীয় শিরোপায় সম্মানিত হন- তবেই জাতি হিসেবে আমরা গৌরব করতে পারব মহান মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে। তা না হলে ইতিহাসের আস্তাবলে স্থান হবে একাত্তরের মহান যশগাথার। যুদ্ধশিশুরা বাঙালী পরিচয় মুছে ফেলে পাশ্চাত্য জাতিসত্তায় আত্মীকৃত হয়েছে। বাঙালী নারীরাও কি ‘পাঞ্জাবীর বউ’- হয়েই মৃত্যুবরণ করবে?

নৃপেন্দ্র লাল দাশ

প্রকাশিত : ১৫ মে ২০১৫

১৫/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: