মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

ভয়ঙ্কর যত ভূমিকম্প

প্রকাশিত : ১৫ মে ২০১৫

ভালদিভিয়া, চিলি : ১৯৬০ সালে চিলির ভালদিভিয়া অঞ্চলে প্রায় ৯ দশমিক ৫ মাত্রার প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্প আঘাত হানে। পরবর্তীতে গবেষকরা জানিয়েছিলেন যে, ওই ভূমিকম্পটির শক্তিমত্তা ছিল প্রায় ১৭৮ গিগাট্রন। ভূমিকম্পটি ভালদিভিয়া ছাড়াও পার্শ্ববর্তী হাওয়াই দ্বীপেও আঘাত হেনেছিল। প্রাথমিক ধাক্কাতেই প্রায় ছয় হাজার মানুষ মারা যায় এই ভূমিকম্পে এবং এক বিলিয়ন ডলার সমপরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হয়। তবে ভূমিকম্প পরবর্তীতে আঘাতপ্রাপ্ত অনেক মানুষ মারা যায়।

শানসি, চীন : চীনের শানসি প্রদেশের এই ভূমিকম্পটিকে বলা হয় ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ভূমিকম্প। ১৫৫৬ সালের ২৩ জানুয়ারি চীনের শানসি প্রদেশকে কেন্দ্র করে এই ভূমিকম্পটি মোট ৯৭টি দেশে একযোগে আঘাত হেনেছিল। বেশ কয়েকটি দেশের সমতল ভূমি প্রায় ২০ মিটার দেবে গিয়েছিল। ৮ দশমিক শূন্য মাত্রার এই ভূমিকম্পটির শক্তিমত্তা এক গিগাট্রন হওয়া সত্ত্বেও এতে প্রায় সাড়ে আট লক্ষাধিক মানুষ মারা যায়। শানসি প্রদেশের মোট জনসংখ্যার ৬০ শতাংশই এই ভূমিকম্পে মারা গিয়েছিল।

সুমাত্রা, ইন্দোনেশিয়া : ২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর ভারতীয় মহাসাগরে সৃষ্ট ৯ দশমিক ১ থেকে ৯ দশমিক ৩ মাত্রার ভূমিকম্পটি ৩২ গিগাট্রন শক্তি নিয়ে ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রায় আঘাত হানে। পার্শ্ববর্তী দেশ মালদ্বীপ এবং থাইল্যান্ডেও এই ভূমিকম্পের ধাক্কা লাগে। এই ঘটনায় প্রায় আড়াই লাখ মানুষ রাতারাতি মারা যায় এবং আনুমানিক সাত বিলিয়ন ডলার সমপরিমাণের ক্ষয়ক্ষতি হয়। তবে পরবর্তী সময়ে বিশ্লেষকরা জানান যে, ভূমিকম্পটি আট মিনিট থেকে দশ মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী ছিল।

আলেপ্পো, সিরিয়া : সময়টা ১১৩৮ সালের অক্টোবর মাসের ১১ তারিখ। ঐতিহাসিক নগরী সিরিয়ার আলেপ্পোয় তখন মাত্র ভোর হতে শুরু করেছে। ঠিক তখনই ৮ দশমিক ৫ মাত্রার একটি ভূমিকম্প প্রায় তিন গিগাট্রন শক্তি নিয়ে নাড়িয়ে দেয় আলেপ্পোকে। ভূমিকম্পের ইতিহাসে এই ভূমিকম্পটিকে বলা হয় চতুর্থ ভয়ঙ্কর দুর্যোগ। ওই ভূমিকম্পে প্রায় আড়াই লাখ মানুষ মারা যায় এবং গোটা একটি শহর মাটির সঙ্গে মিশে যায়। সবচেয়ে প্রাণঘাতী ব্যাপারটি হলো, আলেপ্পোর ওই সকালে একটি গীর্জায় প্রাতঃকালীন প্রার্থনার সময় এক স্থানেই ৬০০ মানুষ মারা যায় ভূমিকম্পে।

তাংসান, চীন : প্রায় সাত লাখ মানুষের মৃত্যুর জন্য দায়ী এই ভূমিকম্প। ১৯৭৬ সালের ২৮ জুলাই চীনের তাংসান এবং হেবেই অঞ্চলে ৮ দশমিক ২ মাত্রার এই ভূমিকম্পটি আড়াই গিগাট্রন শক্তিমত্তা নিয়ে আঘাত হানে। মাত্র দশ সেকেন্ডের ভূমিকম্পে পুরো একটি অঞ্চল ধ্বংস হয়ে যায়। প্রাথমিক হিসেবে বলা হয়েছিল যে এই ভূমিকম্পে আড়াই লাখ মানুষ মারা যায়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে চীন সরকার পূর্ণাঙ্গ মৃত্যু তালিকা প্রকাশ করলে বিশাল মৃতের তালিকা দেখা যায়।

দামহান, ইরান : এশিয়ার দেশ ইরানে হাতে গোনা কয়েকবার ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর মধ্যে ৮৫৬ সালের ২২ ডিসেম্বর ইরানের দামহানে (ইরানের তৎকালীন রাজধানী) ৮ দশমিক শূন্য মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে প্রায় দুই লাখ মানুষ মারা যায় এবং গোটা শহরটির পার্শ্ববর্তী স্থানগুলো পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়। দামহান পার্শ্ববর্তী বিখ্যাত বাস্তাম নগরী পুরোপুরি মাটির সঙ্গে মিলিয়ে যায় এই ভূমিকম্পে।

থোকো, জাপান : ভূমিকম্পের দেশ জাপানের থোকো অঞ্চলে ২০১১ সালের ১১ মার্চ ৯ দশমিক শূন্য ৩ মাত্রার ভূমিকম্প হয়। এই ভূমিকম্পে ১৫ হাজার ৮৭৮ জন মানুষ মারা যায়। আহত হয় প্রায় সাড়ে ছয় হাজার এবং আরও তিন হাজার মানুষকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। থোকো শহরের প্রায় দেড় লাখ বাড়ি বিধ্বস্ত হয়ে যায়। তবে এই ভূমিকম্পের ফলে দেশটির একটি পারমাণবিক স্থাপনা মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং ভয়ানক তেজস্ক্রিয় পদার্থ বায়ুতে ছড়িয়ে যায়। দূরবর্তী কানাডা এবং হাওয়াইয়েও এই ভূমিকম্পের কিছুটা ছোঁয়া লাগে।

আসগাবাত, সোভিয়েত ইউনিয়ন : তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের আসগাবাত অঞ্চলে ১৯৪৮ সালের ৬ অক্টোবর ৭ দশমিক ৩ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। এই ঘটনায় প্রায় দুই লাখ মানুষ মারা যায়। আসগাবাতসংলগ্ন বেশ কয়েকটি শহরের মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

কাশ্মীর, পাকিস্তান : পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর অংশে ২০০৫ সালের ৮ অক্টোবর ৭ দশমিক ৬ মাত্রার এই ভূমিকম্প আঘাত হানে। প্রাথমিক ধাক্কাতেই ৮৫ হাজার মানুষ নিহত এবং ৬৯ হাজার আহত হয়। পাশাপাশি জম্মুতে এই ভূমিকম্পের কারণে মারা যায় আরও ১৪ হাজার। চীনের একাংশ এবং তাজাখস্তানেও এই ভূমিকম্প আঘাত হানে এবং প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার সমপরিমাণের ক্ষয়ক্ষতি হয় এতে।

সিসিলি, ইতালি : ৭ দশমিক ৪ মাত্রার প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্পটি ১৬৯৩ সালের ১১ জানুয়ারি হঠাৎ করেই আঘাত হানে ইতালির সিসিলিতে। ইতালিসহ পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর মোট ৭০টি শহর এতে আঘাতপ্রাপ্ত হয় এবং প্রায় ৬০ হাজার মানুষ নিহত হয়। ইতালির ইতিহাসে এটাই সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ভূমিকম্প হিসেবে ঠাঁই পায়।

এছাড়াও ইতালির ক্যালাব্রিয়া, ইরানের রুদবার, তুরস্কের ইজমিত, জাপানের নানকাইদো এবং আজারবাইযানের শেমাখা অঞ্চলেও প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। প্রত্যেকটি ভূমিকম্পেই বিপুলসংখ্যক প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এ যাবত যত দেশেই ভূমিকম্প হয়েছে, সেই দেশগুলোকে ভূমিকম্প পরবর্তীতে অর্থনৈতিক ধাক্কা সামলাতে অনেক বেগ পেতে হয়েছে। মানবিক বিপর্যয় এবং অর্থনৈতিক বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে অনেকটা সময়ে লেগেছে ওই দেশগুলোর।

নেপাল, ভারত ও বাংলাদেশ : নেপাল, ভারত ও বাংলাদেশে সর্বশেষ ভূমিকম্প অনুভূত হয় ১২ মে, ২০১৫। এর আগেও দুইবার এ তিন দেশে ভূমিকম্প অনুভূত হয়। গত তিন বারের ভূমিকম্পে নেপালে এখন পযর্ন্ত দশ হাজারের বেশি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং মৃতের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নেপাল ছাড়াও সমগ্র্র উত্তর ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ জুড়ে এই ভূকম্পন অনুভূত হয়।

বাংলা মেইল

প্রকাশিত : ১৫ মে ২০১৫

১৫/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: