মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

মুখোমুখি লাকী ইনাম

প্রকাশিত : ১৪ মে ২০১৫

নাট্যদল নাগরিক নাট্যাঙ্গনের আয়োজনে আগামী ২০ মে থেকে ২৮ মে পর্যন্ত বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় শুরু হতে যাচ্ছে ‘চিত্ত আমার ভয় শূন্য উচ্চ

আমার শির’ শিরোনামে নাগরিক নাট্যাঙ্গনের ২০ বছরপূর্তি নাট্যোৎসব ২০১৫।

উৎসবের প্রাসঙ্গিকতা এবং আয়োজন নিয়ে আনন্দ কণ্ঠের সঙ্গে কথা বলেছেন

অভিনেত্রী-নাট্যকার-নির্দেশক-সাংগঠনিক পরিচালক এবং উৎসবের আহ্বায়ক

লাকী ইনাম। সাক্ষাতকারটি গ্রহণ করেছেন অপূর্ব কুমার কু-ু

আনন্দ কণ্ঠ : চিত্ত আমার ভয় শূন্য উচ্চ আমার শির শিরোনামে নাগরিক নাট্যাঙ্গনের ২০ বছরপূর্তি নাট্যোৎসবের আয়োজনের প্রেক্ষপট নিয়ে বলুন।

লাকী ইনাম : সাংস্কৃতিক কর্ম প্রবাহে অংশ নেয়া যে, কোন নাট্যদলের পক্ষে কোন রকম বিরতি ছাড়া নিয়মিত নতুন নতুন নাট্য প্রযোজনা এবং প্রদর্শন চালিয়ে যাওয়া একটা কঠিন সাধনা। প্রযোজনার পাশাপাশি নাটক বিষয়ক পত্রিকা বের করা, নাট্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সৃজন করে যোগ্য নাট্যকর্মী গড়ে তোলা, সময় উপযোগী নাট্য বিষয়ক সেমিনার-সিম্পোজিয়াম আয়োজন করা, বারো মাসে তেরো পার্বণের আবহে দেশ-বিদেশের নাট্যদলের মিলনমেলায় উৎসব উদ্যাপন করা প্রভৃতিতে নাগরিক নাট্যাঙ্গনের উপস্থিতি সরগরম-স্বতন্ত্র এবং গৌরবের। কর্মযজ্ঞে ধাবিত হয়ে কিভাবে দলটি যে উনিশটি বসন্ত পেরিয়ে বিশে এসে উপস্থিত হলো তা ভাবতেই অবাক লাগছে। মনে হচ্ছে এই তো সেদিনের ঘটনা। অথচ এ পথ চলা তো সব সময় সহজ ছিল না, কণ্টকমুক্ত ছিল না, বাধাহীন ছিল না, সাংস্কৃতিকবান্ধব আবহ ছিল না। সে সবকে মনে রেখেই এবারের উৎসবে আমাদের শিরোনাম ‘চিত্ত আমার ভয় শূন্য উচ্চ আমার শির।’ আবার চলার পথে সহযোগিতায় কত সঙ্গী নাট্যদল, কত নাট্যপুরধা ব্যক্তিত্ব, কত অগণিত দর্শক-শ্রোতা। তাদের সবার কথা মনে রেখেই সকলের অংশগ্রহণে এবারে উৎসবমুখর মিলনমেলায় নাগরিক নাট্যাঙ্গনের ২০ বছরপূর্তি নাট্যোৎসবের আয়োজন।

আনন্দ কণ্ঠ : উৎসবে আমন্ত্রিত দলীয় প্রযোজনা নিয়ে আপনার অভিমত।

লাকী ইনাম : এবারে আমরা আমাদের উৎসব নিবেদন করছি প্রাচ্য এবং পাশ্চাত্যের দুজন প্রথিতযশা নাট্যকার স্মরণে। একদিকে প্রাচ্যের নাট্যকার শম্ভু মিত্রের জন্মের এক শত বছরপূর্তি অপরদিকে প্রাশ্চাত্যের নাট্যকার উইলিয়াম-শেক্সপিয়ারের ৪৫০ বছর পূর্তির প্রাক বছরে দাঁড়িয়ে আমাদের এই সশ্রদ্ধ নিবেদন। থিয়েটার যখনই সাহিত্য থেকে দূরে সরে আসে তখনই তার ফুসফুসে বাতাসের শূন্যতা তৈরি হয়। তা যাতে না হয় সে কারণে নাট্যকারদের মিলনমেলা আমাদের অভীষ্ট লক্ষ্য। ফলে উৎসবে প্রযোজনা নির্বাচনে রবীন্দ্রনাথ- শম্ভু মিত্র -শেক্সপিয়ার-মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়-মলিয়ের-এভাল্ড ফ্লিসার হয়ে সেলিম আল দীন পর্যন্ত সকলকে বেছে নিয়েছি। ঢাকা থিয়েটার, সময়, লোকনাট্যদল (সিদ্ধেশ্বরী), পদাতিক নাট্য সংসদের (টিএসসি) সঙ্গে আমাদের দলীয় প্রযোজনা যেমন মঞ্চস্থ হবে ঠিক তেমনিভাবে ওপার বাংলার নয়ে নাটুয়া এবং আভাষ তাদের নাটক মঞ্চায়ন করবে।

আনন্দ কণ্ঠ : নয়ে নাটুয়া এবং আভাসকে আমন্ত্রণ জানালেন যে মানদ-ে।

লাকী ইনাম : নাটক তো একই সঙ্গে জ্ঞান-শিক্ষা এবং বিনোদন। ফলে মেঘনাদ বধখ্যাত অভিনেতা গৌতম হালদার অভিনীত-নির্দেশিত নয়ে নাটুয়া প্রযোজিত ‘হাওয়াই’ নাটক দেখে দর্শক আনন্দে যেমন আপ্লুত হবে তেমনি বর্তমান সভ্যতার সঙ্কটের জায়গাগুলো থেকে একটা মূল্যবোধও নেবে। উপরন্তু প্রফেশনাল এবং তারুণ্যনির্ভর প্রযোজনা বলয়ের একটা আঁচও নাট্যকর্মীরা অনুধাবন করবে। মঞ্চের সেট সজ্জা এবং প্রজেক্টরের মিশেলে মঞ্চের শক্তির জায়গাটাও দর্শককে ভাবাবে। অপরদিকে নাট্যদল আভাসের অভিনেতা-নির্দেশক এবং নাট্য সমালোচক শেখর সমাদ্দারের নির্দেশনায় আনন্দ এবং রূপকথা চুপকথা নাটক দুটি সাহিত্যের রসস্বাদন পাইয়ে দেবে বলেই বিশ্বাস। আমরা আমাদের দলের প্রতিষ্ঠানলগ্ন থেকেই বিশ্বাস করে এসেছি, সঙ্কীর্ণতার বিপরীতে বিশ্বজনীনতা আমাদের লক্ষ্য। মাটিতে পা রাখব আবার দিগন্তে চোখ ভাসাব। ফলে সেভাবেই প্রযোজনা নির্বাচন করা হয়েছে।

আনন্দ কণ্ঠ : উৎসবে সম্মাননা জানানোর বিষয়টি নিয়ে বলুন।

লাকী ইনাম : এবার আমাদের উৎসবে সম্মাননা জানানোর দুটি পর্ব রয়েছে। প্রথম পর্বে অর্থাৎ উৎসবের উদ্বোধনী দিনে আমরা আজীবন সম্মাননা জানাচ্ছি, গৌড়জন ফেরদৌসী মজুমদারকে। শিক্ষক-অভিনেত্রী এবং দৃষ্টান্তকারী হিসেবে তিনি অদ্বীতিয়া। আমরা মঞ্চে এসছি তাঁর এক দশক পরে। তাঁকে দেখেই আমাদের মঞ্চে আসা। আমাদের প্রজন্মের কাছে তিনি যেমন আইডল তেমনি ভাবি প্রজন্মও তাঁকে দেখে কাজের শক্তি পাবে, অভিনয়ে প্রেরণা পাবে এবং মঞ্চকে ভালবাসবে। ফলে নাগরিক নাট্যাঙ্গন তাদের ২০ বছরের পথচলায় ফেরদৌসী আপাকে যে এই সম্মাননা প্রদানের সুযোগ পেল তাতে দল গর্বিত। অপরদিকে আমাদের দলীয় প্রযোজনা প্রাগৈতিহাসিকের শততম মঞ্চায়ন হবে ২৩ মে। সেদিন শততম মঞ্চায়নে ধারাবাহিকভাবে অংশ নেয়া ৭ জন অভিনেতা-অভিনেত্রী-কলাকুশলীকে সংবর্ধিত করব।

আনন্দ কণ্ঠ : উন্মুক্ত মঞ্চে নিশ্চয়ই সাংস্কৃতিক আয়োজন থাকবে।

লাকী ইনাম : হ্যাঁ, সে দায়িত্বে রয়েছে হৃদি হক ও তার দলের দলীয় প্রযোজনা। প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৬:৪৫ পর্যন্ত তারা সঙ্গীত-নৃত্য ও আবৃত্তি পরিবেশন করবে। এটি থাকবে সকলের জন্য উন্মুক্ত। সাতটা থেকে জাতীয় নাট্যশালায় নাটক হবে।

আনন্দ কণ্ঠ : দর্শকদের উদ্দেশে আপনার নিবেদন।

লাকী ইনাম : আমাদের অভিনেতা-অভিনেত্রী, মিউজিশিয়ান-লাইটেশিয়ান, সেট ডিজাইনার- কোরিওগ্রাফারদের মতোই দর্শকরাও আমাদের একান্ত আপনজন-আপনার। সংস্কৃতির প্রবহমানতা ধরে রাখতে, বাংলাদেশের সাংস্কৃতিকে আলোকিত করতে, শুদ্ধ রুচির চর্র্চার স্বার্থে এবং সমৃদ্ধ হতে সকলেই পরিবারসহ উৎসবে নাটক ও অনুষ্ঠান অনুষঙ্গ দেখতে আসবেন। নাগরিক নাট্যাঙ্গনের ২০ বছরপূর্তি নাট্যোৎসবের মিলনমেলায় রইল সবার নিমন্ত্রণ।

প্রকাশিত : ১৪ মে ২০১৫

১৪/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: