আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৭ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

মারিয়ার অভিষেক

প্রকাশিত : ১৪ মে ২০১৫

রুপালি পর্দায় অভিষেকের অপেক্ষায় নতুন নায়িকা মারিয়া। সিনেমাটির নাম যদিও হাস্যরসের জন্ম দিয়েছে। ‘অবলা নারী : ওয়াও বেবী ওয়াও’। সিনেমার পরিচালক প্রবীণ নির্মাতা সোহানুর রহমান সোহান। সম্প্রতি সিনেমাটির প্রথম লটের চিত্রধারণের কাজ শেষ হয়েছে। সোহানুর রহমান সোহান ঢালিউডের ব্যবসা সফল বাণিজ্যিক ঘরানার নামী নির্মাতা। তার সিনেমায় অভিনয় করেই তারকা খ্যাতি পেয়েছেন আজকের অনেক তারকা। মারিয়ার প্রত্যাশা তার হাত ধরে পৌঁছে যাবেন দর্শকের অন্তরে অন্তরে। নতুন এই নায়িকাকে নিয়ে লিখেছেন

ইমরান হোসেন

সকাল থেকে টানা বৃষ্টি। ফোনে কথা হয়েই ছিল মারিয়ার সঙ্গে। জিয়া উদ্যানে ছবি তোলা হবে এবং সেই সঙ্গে সাক্ষাতকার গ্রহণ। বৃষ্টির দৌরাত্ম্যে ভাবলাম, ক্যানসেল করে দিই। কিছুক্ষণ পরেই ঢাকার আকাশ পুরোপরি ফর্সা। কে বলবে একটু আগে কি ভারি বর্ষণ হয়ে গিয়েছে। ‘মণিং শোজ দ্য ডে’ কথাটা যে বলেছিল সে বোধ করি ঢাকার বৃষ্টির লুকোচুরির ব্যাপারটা জানত না। অগ্যতা রওয়ানা হলাম। সাথী ফটোগ্রাফার আরিফ আহমেদ। মারিয়া এল ঝাড়া আধঘণ্টা পর। মারিয়ার সঙ্গে কথা হচ্ছিল জিয়া উদ্যানের পাশে কৃষ্ণচুড়ার ছায়ায় বসে। ফটোগ্রাফার আরিফ আহমেদ ততক্ষণে ছবি তোলার প্রস্তুতি সেরে ফেলেছে। ছবি তোলার ফাঁকে ফাঁকেই কথা হচ্ছিল মারিয়ার সঙ্গে। নায়িকা হিসেবে ব্রেক পেয়ে গেলেও টিনএজ এখন পেরোননি তিনি। সবে উচ্চ মাধ্যমিকে প্রথম বর্ষে পড়ছেন তিনি। টিনএজার সুলভ হাসিতে উত্তর দিচ্ছিলেন প্রশ্নের। সিনেমার নাম ’অবলা নারী’ কেন? হাসতে হাসতে মারিয়ার উত্তর, ‘ছবির শুরুতে নারী অবলা থাকবে। এরপর সে শৃঙ্খল ভেঙ্গে বেরিয়ে আসবে। তখন সবাই বলবে ‘ওয়াও বেবী ওয়াও’। ’জীবনের প্রথম সিনেমা তাও আবার সোহানুর রহমান সোহানের মতো পরিচালকের সঙ্গে। বাড়তি চাপ অনুভব করছেন কিনা জানতে চাইলে চট জলদি উত্তর মারিয়ার, ‘আমি আসলে এটাকে চাপ হিসেবে দেখছি না। সোহান আঙ্কেল অনেক গুণী নির্মাতা। তাঁর সিনেমায় অভিনয় করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত অনেক কিছু শিখছি। তবে আমার লক্ষ্য শীর্ষস্থানে যাওয়া।’ এই সিনেমায় অভিনয়ের জন্য তাকে চার মাস ধরে কঠোর ফাইটিং এর অনুশীলন করতে হয়েছে। প্রচুর বই পড়েছেন, মুভি দেখেছেন। কিছুদিন আগে কক্সবাজারে সিনেমার প্রথম লটের কাজ শেষ করে এসেছেন। মারিয়ার বিপরীতে অভিনয় করেছেন আরেক নবাগত নায়ক ইমরান। সিনেমায় প্রথম শূটিংয়ের অভিজ্ঞতাটা কেমন? মারিয়া বললেন, আসলে সিনেমার আউটডোর অনেক দারুণ। সবাই একটা পরিবারের মতো। আমার সহ শিল্পীরা অনেক সাহায্য করেছে। বিশেষ করে সোহান আঙ্কেল অনেক হেল্পফুল। একবার রোদে আমার মেকাপ নষ্ট হয়ে যাচ্ছিল। সোহান আঙ্কেল নিজে এসে ঠিক করে দিয়েছেন। এটা কাজের প্রতি আমার সম্মানকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।’ কথা বলতে বলতেই ফটোগ্রাফারের তাড়া। ছবি তুলতে হবে এখনই, নইলে সূর্য মাথার ওপরে চলে গেলে আর ভাল ছবি হবে না। অগত্যা কি আর করা। শুরু হলো ছবি তোলা।

এর মধ্যেই আকাশ কালো করে এল। তবে ইতোমধ্যেই ছবি তোলার পর্ব শেষ। আবার শুরু হলো সাক্ষাতকার পর্ব। মারিয়া জানালেন ঢাকাতেই তার বেড়ে ওঠা। মিডিয়াতে কাজ শুরু করেছিলেন সেই সাড়ে চার বছর বয়সে। এটিএন বাংলার শিশু কিশোরভিত্তিক ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘শাপলা শালুকে’ উপস্থাপনা করতেন। এরপর বিটিভির ‘আনন্দভূবন’ অনুষ্ঠানেও উপস্থাপনা করেছেন। নিজে অভিনেত্রী শাবনূরের অনেক বড় ফ্যান। একদিন শাবনূরের মতো বড় পর্দায় রাজত্ব করার স্বপ্ন দেখেন তিনি। তবে কাউকে অভিনয়ে অনুসরণ না করে নিজস্ব স্টাইলেই অভিনয় করার ইচ্ছে মারিয়ার। ছোট পর্দার জন্য ইতোমধ্যেই রেদওয়ান রনির পরিচালনায় ‘মেরিল আদরে গড়া বাংলাদেশ’ বিজ্ঞাপন চিত্রে কাজ করেছেন। এখন থেকে নিয়মিত বিজ্ঞাপনে কাজ করার আগ্রহ রয়েছে মারিয়ার। সাক্ষাতকার পর্ব শেষ। এবার বিদায় নিয়ে অফিসের পথে যাত্রা শুরু করলাম। ততক্ষণে ঢাকার আকাশ একটু একটু করে রৌদ্রোজ্বল হতে শুরু করেছে।

প্রকাশিত : ১৪ মে ২০১৫

১৪/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: