মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

পথিকৃৎ ভাস্কর নভেরা স্মরণে প্রদর্শনী কক্ষ উদ্বোধন

প্রকাশিত : ১৪ মে ২০১৫
পথিকৃৎ ভাস্কর নভেরা স্মরণে প্রদর্শনী কক্ষ উদ্বোধন
  • সংস্কৃতি সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশে আধুনিক ভাস্কর্যের পথিকৃৎ এবং কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের অন্যতম নক্শাকার নভেরা আহমেদের প্রয়াণে নাগরিক স্মরণসভা এবং ‘ভাস্কর নভেরা প্রদর্শনী কক্ষ’র শুভ উদ্বোধন হয় বুধবার বিকেলে। বাংলা একাডেমি আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চিত্রশিল্পী হাশেম খান। অনুষ্ঠানে নভেরার স্মৃতিচারণ ও শিল্পকর্ম নিয়ে বক্তব্য রাখেন নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার, স্থপতি রবিউল হুসাইন, অধ্যাপক সোনিয়া নিশাত আমিন, একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান, স্থপতি শামসুল ওয়ারেস, শিবু কুমার শীল প্রমুখ। শুরুতে একাডেমির নবনির্মিত ড. মুহম্মদ এনামুল হক ভবনের নিচতলায় ফিতা কেটে নভেরা প্রদর্শনী কক্ষর উদ্বোধন করেন অতিথিরা। পরে প্রদর্শনী কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পর্দায় নভেরাকে নিয়ে ২০ মিনিট দৈর্ঘ্যরে এক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এতে ভাস্কর্যশিল্পী নভেরার বিভিন্ন দেশে অনুষ্ঠিত একক ভাস্কর্যশিল্প ও চিত্র প্রদর্শনী তুলে ধরা হয়। এতে ১৯৭৩ সালে প্যারিসে অনুষ্ঠিত নভেরার ভাস্কর্য প্রদর্শনীর একটি ভিডিও ডকুমেন্টেশন, ১৯৯৮ সালে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরে নভেরার পরিবার স্থাপত্যকর্মটি প্রতিস্থাপন অনুষ্ঠানের ভিডিও ডকুমেন্টেশন এবং নভেরা বিষয়ে বিশিষ্টজনদের সাক্ষাতকার এবং তাঁর শেষকৃত্য অনুষ্ঠান সংবলিত শিবু কুমার শীলের প্রামাণ্যচিত্রের অংশবিশেষ প্রদর্শিত হয়। এরপর স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান। তিনি বলেন, ছাত্রজীবনে নভেরার ভাস্কর্যশিল্প দেখতাম আর অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকতাম। সেই থেকে তাঁর প্রতি জন্মেছিল গভীর শ্রদ্ধা আর ভালবাসা। এতবড় মাপের একজন মানুষকে জীবিতকালে তো নয়ই মৃত্যুর পরেও সেভাবে শ্রদ্ধা জানাতে পারলাম না এটাই আক্ষেপ থেকে গেল। সে কারণেই বাংলা একাডেমিতে তাঁর নামে ভাস্কর্য প্রদর্শনী কক্ষ নির্মাণে আগ্রহী হই। এখানে নিয়মিত প্রদর্শনী হবে।

পরে চিত্রশিল্পী রেজাউল করিম সুমন নভেরা সম্পর্কে তথ্যভিত্তিক এক প্রামাণ্যচিত্র তুলে ধরেন পর্দায়। তিনি নভেরা সম্পর্কে অনেকের ভ্রান্ত ও তথ্য বহির্ভূত ধারনণাকে পাল্টে দিয়ে তথ্যভিত্তিক কিছু উপস্থাপনা করেন।

নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার তাঁর বক্তব্যে বলেন, ষাটের দশকে যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি, তখন থেকেই ভাস্কর্যশিল্পী হিসেবে নভেরার নাম জানতে পারি। তাঁর নামে উপন্যাস হয়েছে কিন্তু তথ্যভিত্তক নয়। উপন্যাস সব সময় এমনই হয়। সত্যিকার অর্থে ভাস্কর্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশে পথিকৃতের ভূমিকা পালন করেছে নভেরা। কিন্তু তাঁর যথাযথ স্বীকৃতি দিতে আমরা ব্যর্থ হয়েছি। হয়ত সে কারণেই তিনি অভিমানে আর দেশে ফেরেননি। আমরা যদি তাঁর ভাস্কর্যগুলোকে সংরক্ষণ করে রাখতে পারি তাহলেই তিনি চিরভাস্বর হয়ে থাকবেন আমাদের সবার হৃদয়ে।

সভাপতির বক্তব্যে শিল্পী হাশেম খান বলেন, নভেরা আহমেদ ছিলেন একজন গুণী ভাস্কর। তাঁর অন্তর জুড়ে ছিল দেশ, মাটি, মানুষ, বিশ্ববোধ ও নিসর্গ। বাংলা একাডেমি তাঁর স্মরণে প্রদর্শনী কক্ষ স্থাপন এবং স্মরণসভার আয়োজন করে সকল শিল্পানুরাগী মানুষের ধন্যবাদার্হ হয়েছে।

জাদুঘরে রবীন্দ্রনাথের নৃত্যনাট্য ‘শ্যামা’ মঞ্চস্থ ॥ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কালজয়ী নৃত্যনাট্য ‘শ্যামা’। এক রাজনর্তকীর আত্মকাহিনী তুলেধরা হয়েছে এ নৃত্যনাট্যে। কবিগুরু শ্যামা চরিত্রের মধ্যদিয়ে নারীর জটিল মনস্তত্ত্ব¡ তুলে ধরেছেন এ নৃত্যনাট্যে। ধৃতি নর্তনালয়ের প্রযোজনায় ‘শ্যামা’ নৃত্যনাট্যের এক বিশেষ প্রদর্শনী হয় জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে বুধবার সন্ধ্যায়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৪তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এ নৃত্যনাট্যানুষ্ঠানের আয়োজন করে ঢাকার ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। নৃত্যনাট্যে শ্যামা অতি রূপবতী এক রাজ নর্তকী। এ গল্পের নায়ক বজ্রসেন একজন বণিক। জীবনসঙ্গী খুঁজতে শ্যামা যেখানে থাকে বজ্রসেনও সেখানে আসে। পরবর্তীতে বজ্রসেনের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে যায় শ্যামা। এক পর্যায়ে চুরির দায়ে বজ্রসেন কোটালের হাতে বন্দী হয়। তাঁকে মুক্ত করতে মরিয়া শ্যামা তখন হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে পড়ে। তাঁর একটাই লক্ষ থাকে বজ্রসেনকে মুক্ত করে মিলনের সুখ পাওয়া। শ্যামার নানা পরিকল্পনা যখন ব্যর্থ হয়, তখন সে কাজে লাগায় উত্তীয়কে। এই উত্তীয় অনেক বছরধরে মনে প্রাণে ভালবাসে শ্যামাকে। কিন্তু শ্যামা তা গণ্য করে করে না। উত্তীয় নিজের জীবন দিয়ে ভালবাসার প্রতিদান দেয়। শ্যামার ছলনায় বজ্রসেন তাঁকে প্রত্যাখ্যান করে। শ্যামা চরিত্রে অভিনয় করেছেন নৃত্যশিল্পী ওয়ার্দা রিহাব।

সার্ক চলচ্চিত্র উৎসব উদ্বোধন ॥ ‘নির্মাতাদের উদ্দেশে বলতে চাই, এমন চলচ্চিত্র নির্মাণ করুন যা দেখে প্রেক্ষাগৃহে মানুষ হাসবে, কাঁদবে এবং বের হওয়ার পর জীবন বদলে যাবে।’ সার্ক চলচ্চিত্র সাংবাদিক ফোরাম আয়োজিত ৫ দিনব্যাপী সার্ক চলচ্চিত্র উৎসব উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। তিনি বলেন, চলচ্চিত্র বিভেদ বিভাজন ও সংঘাতের কথা বলে না। চলচ্চিত্র সমাজ ও সংস্কৃতিকে পরিশীলিত করে। মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চলচ্চিত্র নির্মাণ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, এত বড় একটা মহাযুদ্ধ হয়ে গেল, বিশ্বপরিম-লে আলোচনার ঝড় তুলল কিন্তু আমাদের দেশে এখনও সে-মাপের কোন চলচ্চিত্র নির্মাণ হয়নি। এ সময় তিনি মুক্তিযুদ্ধকালীন পরিবেশ-পরিস্থিতিসহ উল্লেখযোগ্য বক্তৃতা ও কূটনীতিক সফলতা গুরুত্বের সঙ্গে তুলে চলচ্চিত্র নির্মাণ করার জন্য নির্মাতাদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানান এবং এর জন্যে সরকারের পক্ষ থেকে যথাযথ সহযোগিতা করবেন বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

প্রকাশিত : ১৪ মে ২০১৫

১৪/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: