হালকা কুয়াশা, তাপমাত্রা ১৮.৯ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

পাকিস্তানে আইএস হামলায় ৪৩ ইসমাইলিয়া নিহত

প্রকাশিত : ১৪ মে ২০১৫

জনকণ্ঠ ডেস্ক ॥ পাকিস্তানের করাচিতে বন্দুকধারীর এলোপাতাড়ি গুলিতে ইসমাইলিয়া মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্তত ৪৩ জন লোক নিহত ও ২৪ জন আহত হয়েছে। বুধবার সকালে বাসে করে যাওয়ার সময় শহরটির সফুরা চক এলাকায় পৌঁছালে ৬ বন্দুকধারী এ হামলা চালায়। অস্ত্রধারীরা এ হত্যাকা-ে নাইন এমএম পিস্তল ব্যবহার করে। হামলার পর অল্প সময়ের মধ্যেই তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। খবর ডন, বিবিসি ও এএফপির।

আইএস জঙ্গীরা এ হামলা চালিয়েছে বলে ঘটনাস্থলে পাওয়া একটি লিফলেটের সূত্র ধরে পুলিশ জানিয়েছে। এক প্রত্যক্ষদর্শী জানায়, মোটরসাইকেলে করে এসে ছয় বন্দুকধারী বাসের যাত্রীদের মাথা লক্ষ্য করে গুলি চালাতে থাকে। এক পুলিশ সদস্য জানায়, প্রথমে বাইরে থেকে গুলি করে বাসটি থামানো হয়। পরে ভেতরে ঢুকে নির্বিচারে গুলি চালায় তারা। সিন্ধু পুলিশ ইন্সপেক্টর জেনারেল গুলাম হায়দার জামালি বলেন, ঘটনার সময় বাসটিতে ৬০ জন যাত্রী ছিল। যাদের অধিকাংশই ইসমাইলিয়া সম্প্রদায়ের। স্থানীয় হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ২৫ জন পুরুষ ও ১৬ জন নারী রয়েছে। এ ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়া এক নারী বলেন, বন্দুকধারীরা প্রথমে বাসে উঠে শিশুদের আলাদা করে। তারপর সবাইকে মাথা নিচু করতে বলে। তারপর তাদের সঙ্গে থাকা একজনের নির্দেশে একের পর এক গুলি চালাতে থাকে। হামলাকারীরা উর্দুতে কথা বলছিল বলে জানান তিনি। এদিকে ইসমাইলিয়া জাতীয় পরিষদের এক সিনিয়র সদস্য এ হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। বাসটি প্রতিদিন সকাল ৯টায় ছেড়ে যায় এবং এভাবে বাসটি ১০ বছর চলছিল। স্থানীয় আল আজহার গার্ডেন কলোনির এ বাসটিতে বেশিরভাগ আরোহী ছিল ইসমাইলী সম্প্রদায়ের। এক বেঁচে যাওয়া যাত্রীর উদ্ধৃতি দিয়ে এক উদ্ধার কর্মকর্তা বলেন, হামলাকারীরা পুলিশের পোশাক পরিহিত ছিল। তদন্ত কর্মকর্তা তারেক জাদোন বলেন, ঘটনাস্থল থেকে নিরাপত্তা গার্ডদের ব্যবহারের কয়েকটি নীল টুপি উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা পরিচয় প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে বলেছেন, হামলাকারীরা বাসটিতে উঠে যাত্রীদের মাথায় গুলি করে। পুলিশের এক সদস্য জানান, বন্দুকধারীরা বাসটি থামিয়ে প্রথম গুলি চালায় বাইরে থেকে। এরপর তারা বাসটিতে উঠে নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করে। তারা এরপর পরীক্ষা করে দেখেছে কেউ অক্ষত রয়েছে কিনা। তিনি বলেন, বাসটির যাত্রীধারণ ক্ষমতা হচ্ছে ৫২ জন। কিন্তু অতিরিক্ত যাত্রীবাহী ছিল বাসটি। পাকিস্তানে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশেষ করে শিয়াদের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা বেড়ে গেছে। শিয়াদের একটি উপসম্প্রদায় হচ্ছে ইসমাইলীরা। প্রধানত মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠের দেশটিতে ইসমাইলী সম্প্রদায়ের সদস্য রয়েছে প্রায় ২০ শতাংশ। ইসমাইলী ন্যাশনাল কাউন্সিলে এক কর্মকর্তা বলেন, হতাহতদের নিকটবর্তী বেসরকারী মেমন মেডিক্যাল সেন্টারে স্থানান্তর করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ ও সিন্ধু প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী সৈয়দ কায়িম আলী শাহ এ বর্বর হত্যাকা-ের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

প্রকাশিত : ১৪ মে ২০১৫

১৪/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: