মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

অপহরণ ঘোষণার আগেই ভারতে পালিয়েছেন সালাহউদ্দিন!

প্রকাশিত : ১৪ মে ২০১৫
অপহরণ ঘোষণার আগেই ভারতে পালিয়েছেন সালাহউদ্দিন!
  • তার স্বাক্ষর স্ক্যান করে বিবৃতি দেয়া হতো
  • বিবৃতি বন্ধ করতে স্ত্রী হাসিনা আহমেদ অপহরণের কথা বলেন

গাফফার খান/সালাম মশরুর ॥ অপহরণের ঘোষণার আগেই বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদ ভারতে পালিয়েছিলেন। সালাহউদ্দিনের স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যরা তা জানতেন। অজ্ঞাত স্থান থেকে স্ক্যান করা স্বাক্ষর দিয়ে সালাহউদ্দিনের নামেই বিবৃতি পাঠানো হতো। বিবৃতি বন্ধ করার জন্যই সালাহউদ্দিনের স্ত্রী অপহরণের ঘোষণা দিয়েছিলেন। এখন আবার দেশে ফেরার জন্যই ভারতে তিনি পুলিশের কাছে ধরা দিয়েছেন। বাংলাদেশের একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা এমন মতই প্রকাশ করছেন। তাদের মতে নিখোঁজ-রহস্যের জট খুলতে সালাহউদ্দিনকে দেশে ফেরত আনতে হবে। বিষয়টি নিয়ে ভারত সরকারের উচ্চ পর্যায়ের আলোচনা চলছে। তবে কবে নাগাদ সালাহউদ্দিনকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে তা এখনও নিশ্চিত নয়। নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের মামলার অন্যতম আসামি নূর হোসেনের মতো ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশের জন্য দায়েরকৃত মামলার কারণে সালাহউদ্দিনকে দেশে ফেরত আনা বিলম্ব হতে পারে। সালাহউদ্দিনের স্ত্রী বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য হাসিনা আহমেদও স্বামীকে দেশে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন। ভারত যাওয়ার জন্য তিনি ভিসাসহ প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেছেন। এদিকে কোন পথে সালাহউদ্দিন আহমেদ ভারত পালিয়েছেন তা নিয়ে ঢাকা ও সিলেটে চলছে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা। সড়ক পথে শিলং যাওয়ার জন্য সিলেটের কোন বৈধ বা অবৈধ পথই ব্যবহার করতে হয়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত কয়েক মাসে বৈধ পথে সালাহউদ্দিন আহমেদ নামে কোন অভিবাসী সিলেট সীমান্ত পার হয়নি। শিলং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ব্যক্তি সালাহউদ্দিন এ নিয়েও সন্দেহের অবকাশ ছিল। মঙ্গলবার তাঁর স্ত্রী টেলিফোনে কথা বলে বিষয়টি নিশ্চিত করার পরও বুধবার টিভি চ্যানেলে সালাহউদ্দিনের ভিডিও ফুটেজ দেখানোর পর এনিয়ে আর কোন সন্দেহ রাইল না বলে মনে করছেন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ব্যক্তিরা।

বুধবার স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদ নিজেই ভারতে লুকিয়ে ছিলেন। তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কখনই তুলে নিয়ে যায়নি। বিএনপির অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলো। তবে সালাহউদ্দিনকে গ্রেফতারের বিষয়ে ভারত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশকে কিছু জানায়নি। আইনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভারত থেকে তাকে ফিরিয়ে আনা হবে। মঙ্গলবার নিখোঁজ সালাহউদ্দিন আহমেদের স্ত্রী হাসিনা আহমেদ ভারতের অসমের মেঘালয়ে তাঁর স্বামীর হদিস মেলার কথা প্রকাশ করেন। যদিও গত সোমবারই ভারতের মেঘালয় পুলিশের তরফ থেকে সালাহউদ্দিন নামে ৫৪ বছর বয়সী এক বাংলাদেশীকে গ্রেফতারের দাবি করা হয়। অবৈধভাবে অনুপ্রবেশকারী হিসেবে তাঁকে গ্রেফতারের দাবি করে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ভারতে অনুপ্রবেশের দায়ে একটি মামলাও দায়ের করা হয় মেঘালয় পুলিশের তরফ থেকে। মেঘালয় পুলিশের তরফ থেকে বলা হয়, সালাহউদ্দিন আহমেদ উদভ্রান্তের মতো ঘোরাফেরা করছিলেন। তাকে মানসিকভাবে বিধ্বস্ত দেখাচ্ছিল। পুলিশ তার সঙ্গে কথাবার্তা বলে তিনি ভারতীয় নাগরিক নন বলে নিশ্চিত হয়। এরপর তার কাছে ভারতে প্রবেশের কাগজপত্র চাওয়া হয়। তা দেখাতে ব্যর্থ হলে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে থানায় নেয়। থানায় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে পুলিশ তাকে মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করে। তবে তার শরীরে কোন আঘাতের চিহ্ন নেই। হাসপাতাল থেকে সালাহউদ্দিনের সঙ্গে ঢাকায় থাকা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ হয়। পুলিশ মহাপরিদর্শক একেএম শহীদুল হক জানিয়েছেন, সালাহউদ্দিন আহমেদ পলাতক আসামি। তাকে গ্রেফতারের প্রক্রিয়া চলছে। সালাহউদ্দিনের অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের সহায়তা নেয়া হবে। প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ৭ অক্টোবর ফৌজদারি মামলায় বিচারাধীন বা দ-প্রাপ্ত আসামিদের বিনিময়ের সুযোগ রেখে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বন্দীবিনিময় চুক্তি হয়।

ভারত সরকারের সহযোগিতায় শিলং হাসপাতালের সঙ্গে নানা দিক থেকে বাংলাদেশ সরকারের তরফ থেকে যোগাযোগের চেষ্টা হচ্ছে। সালাহউদ্দিন কী ভাবে ভারতে গেছেন তা জানার চেষ্টা চলছে। সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ মানুষের নজর ভিন্ন দিকে ঘুরিয়ে দিতে এমন নাটক সাজানো হয়েছিল কিনা তা খতিয়ে দেখতে জোরালো অনুসন্ধান চলছে। তাকে ফেরত আনা গেলে অনেক রহস্যেরই উদঘাটন হবে। গোয়েন্দা সূত্র বলছে, বন্দীবিনিময় চুক্তির আলোকে সালাহউদ্দিনকে ফেরত আনা সম্ভব। সেক্ষেত্রে ভারতে সালাহউদ্দিনের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের অভিযোগে দায়েরকৃত মামলা বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। ওই মামলার বিচারকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত কঠিন হতে পারে সালাহউদ্দিনকে ফেরত পাওয়া। যেমনটি হয়েছে নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ঘটনায় ভারতে আটক নূর হোসেনের ক্ষেত্রে। চাঞ্চল্যকর এ মামলার অন্যতম আসামি নূর হোসেনকে এখনও বাংলাদেশে ফেরত আনা সম্ভব হয়নি। সালাহউদ্দিনের বিষয়টি দায়েরকৃত মামলার বিচার কার্যক্রমের পাশাপাশি দুই দেশের সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করছে।

গত ৫ জানুয়ারি নিরাপত্তাজনিত কারণে সমাবেশ করার অনুমতি না পেয়ে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া সারাদেশে লাগাতার অবরোধের ডাক দেন। কর্মসূচী সফল করতে অজ্ঞাত স্থান থেকে আত্মগোপনে থেকে সালাহউদ্দিন আহমেদের নামে বিবৃতি আসছিল। বিবৃতিগুলো কিভাবে দেয়া হচ্ছিল তা এখনও গোয়েন্দাদের কাছে স্পষ্ট নয়। ধারণা করা হচ্ছে, তার স্বাক্ষর স্ক্যান করে অজ্ঞাত স্থান থেকে কে বা কারা বিবৃতিগুলো পাঠিয়েছে। তার পরিবারের লোকজন এই বিবৃতি বন্ধ করার জন্যই শেষ পর্যন্ত সালাহউদ্দিনের নিখোঁজ হওয়ার ঘোষণা দেয়। যদিও পরিবারের তরফ থেকে এমন অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করা হয়েছে।

সালাহউদ্দিনের আত্মগোপন ভারতে পুরোপুরি পাকাপোক্ত হওয়ার পর গত ১১ মার্চ সালাহউদ্দিনের স্ত্রী হাসিনা আহমেদের তরফ থেকে তাঁর স্বামীকে গত ১০ মার্চ রাতে ডিবি পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া অভিযোগ করা হতে পারে। এমন দাবি শক্ত করতে সালাহউদ্দিনের স্ত্রী হাইকোর্টের শরণাপন্ন হতে পারেন। আদালত সালাহউদ্দিনকে সন্ধান কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে সরকারের প্রতি নির্দেশনা দেন। সালাহউদ্দিনের স্ত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেও স্মারকলিপি দেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সালাহউদ্দিনের নিখোঁজ হওয়া এবং তার স্ত্রীর কর্মকা- বহু প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে যে রাতে সালাহউদ্দিনকে ডিবি পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার দাবি করা হয়েছে, সেই রাতেই গণমাধ্যমকে এমন তথ্য জানানো হয়নি। বাড়ির মালিক একজন পদস্থ ব্যাংক কর্মকর্তা পরদিন সালাহউদ্দিনের স্ত্রীকে ঘটনাটি জানান। রাতেই ঘটনাটি না জানানোর বিষয়টিও রহস্যজনক। সালাহউদ্দিনের স্ত্রী পরদিন অনেক দেরিতে উত্তরা পশ্চিম থানায় অভিযোগ দায়ের করতে যান। এর অনেক পরে সালাহউদ্দিনের স্ত্রী উচ্চ আদালত ও প্রধানমন্ত্রীর শরণাপন্ন হন। যা স্বাভাবিক কারণেই নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েেেছ। এমনকি সালাহউদ্দিন বৈধভাবে ভারতে যাওয়ার পর পাসপোর্ট ভিসা ছিঁড়ে ফেলে অন্য কোন নাটকের জন্ম দিয়েছেন কিনা প্রশ্ন ওঠেছে সে বিষয় নিয়েও। যদিও সালাহউদ্দিন আহমেদের দুই ছেলে দুই মেয়ের মধ্যে বড় ছেলে সৈয়দ ইব্রাহিম আহমেদ কানাডায় এবং বড় মেয়ে পারমিজ আহমেদ ইকরা মালয়েশিয়ায় বসবাস করেন। দুই সন্তান বিদেশে থাকায় সালাহউদ্দিন পালিয়ে বিদেশ চলে যাওয়ার প্রসঙ্গটি বার বারই ঘুরে ফিরে এসেছিল।

গোয়েন্দা সূত্র বলছে, সালাহউদ্দিন আহমেদ বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটকেও গোলক ধাঁধায় ফেলেছেন। সালাহউদ্দিনের নিখোঁজের বিষয়ে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া বরাবরই সরকারকে দোষারোপ করে আসছিলেন। এমনকি গুম হওয়াদের ফিরিয়ে দিতেও সরকারের প্রতি আহ্বান জানান খালেদা জিয়া। সালাহউদ্দিন আহমেদ গুম হয়েছে বলেও খালেদা জিয়া বহুবার ইঙ্গিত করেন। সালাহউদ্দিনের হদিস করতে সরকার ব্যর্থ হলে মার্কিন কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের হস্তক্ষেপও কামনা করেছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক সেনা প্রধান লে. জেনারেল (অব) মাহবুবুর রহমান।

সংবাদ সম্মেলন ॥ বুধবার রাজধানীর গুলশানের নিজের বাসায় এক সংবাদ সম্মেলনে হাসিনা আহমেদ বলেন, তাঁর স্বামী সুস্থ ও স্বাভাবিক আছেন। তিনি তার স্বামীর সঙ্গে দেখা করতে এবং দেশে ফেরত আনতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন। ভারতের ভিসা পেলেই যত দ্রুত সম্ভব তারা শিলংয়ের উদ্দেশে রওনা হবেন। আকাশ ও স্থল দুই পথেই ভিসার জন্য সকালেই আবেদনপত্র জমা দেয়া হয়েছে। তিনি ও তাঁর বোনজামাই মাহবুবুল করীম বুলবুলসহ চার জনের নামে ভিসার আবেদন করা হয়েছে। বাংলাদেশস্থ ভারতীয় হাইকমিশনে ভিসার জন্য বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মঈন খানসহ তাদের লোকজন যোগাযোগ রাখছেন। ভিসা হাতে পেলেই তিনি বা তারা শিলং রওনা হবেন।

শিলং সিভিল হাসপাতালের বরাত দিয়ে হাসিনা আহমেদ আরও বলেন, চলতি বছরের ১০ মার্চ অচেনা এক দল লোক উত্তরার একটি বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর থেকে তাঁর স্বামী আর কিছুই মনে করতে পারছেন না। সিলেট সীমান্ত থেকে প্রায় একশ’ কিলোমিটার দূরে ভারতের শিলংয়ে তাঁর স্বামী কী ভাবে পৌঁছলেন, তাও তাঁর স্বামী বলতে পারেননি। সংবাদ সম্মেলনে সালাহউদ্দিন আহমেদের প্রেস সচিব সাফওয়ানুল করীম ও ব্যক্তিগত আলোকচিত্রী নুরুল ইসলাম হেলালীও উপস্থিত ছিলেন।

সিলেটে জল্পনা কল্পনা ॥ বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদের নিখোঁজ হওয়া ও ভারতের শিলং এলাকায় তার উপস্থিতিকে সবাই একটি নাটক হিসেবেই দেখছেন। শিলংয়ের খোদ পুলিশ কর্মকর্তাই বলছেন তার চাকরি জীবনে এমনটি কখনও দেখেননি। তিনি ভাল আছেন সুস্থ আছেন অথচ সঠিক তথ্য দিতে পারছেন না। সালাহউদ্দিন রবিবার কোন এক সময় শিলং গিয়ে পৌঁছেছেন। এর পূর্বে তিনি অন্য কোথাও ছিলেন। শিলং যাবার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিনি পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন। তিনি আটক হওয়ার পর এই বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সালাহউদ্দিন সিলেট সীমান্তের যে কোন স্থান দিয়ে ভারতে প্রবেশ করতে পারেন। চোরাই পথে বাংলাদেশ থেকে ভারতে প্রবেশ করে ২০-২২ ঘণ্টা সময়ের মধ্যে বিভিন্ন পথে শিলং গিয়ে পৌঁছানো সম্ভব।

সিলেটের ডাউকি সীমান্ত দিয়ে বৈধভাবে ভারত যাবার ব্যবস্থা রয়েছে। এক্ষেত্রে এই নাগরিককে ভ্রমণের ভিসাসহ প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্র দেখাতে হয়। ১০ মার্চ নিখোঁজ হওয়ার পর সালাহউদ্দিন নামের কোন লোক তামাবিল সীমান্ত দিয়ে ভারত যাননি। তামাবিল ইমিগ্রেশনের কাছে এই ধরনের কোন ব্যক্তির ভারত প্রবেশের তথ্য নেই। সূত্র জানিয়েছে বাংলাদেশ থেকে প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬-৭টা পর্যন্ত সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে যাওয়া যায়। তবে সীমান্তের ওপারে সে সুযোগ হচ্ছে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, সিলেটের ডাউকি এলাকায় বাংলাদেশ ভারত সীমান্তজুড়ে কোন কাটা তারের বেড়া নেই। সিলেট থেকে গোয়াইনঘাট কোম্পানীগঞ্জ দীর্ঘ সীমান্ত এলাকাজুড়ে পাহাড় ও টিলা। বিজিবি ও বিএসএফের চোখ ফাঁকি দিয়ে দু’দেশে যাতায়াত করার সুবিধা রয়েছে। আর এই সুবিধা দু’দেশের লোকজনই গ্রহণ করে থাকে। বিশেষ করে দু’দেশের সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারীদের আত্মীয়স্বজন দু’দেশেই বসবাস করছেন। তারা এভাবেই চোরাই পথে যুগের পর যুগ সীমানা পেরিয়ে একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। যেভাবে চোরাকারবারিরা সীমানা পেরিয়ে যাতায়াত করে থাকে। সচরাচর যারা সীমানা পেরিয়ে যাওয়া আসা করে থাকে তাদের কোন অসুবিধা হয় না। বিপত্তি ঘটে নতুনদের ক্ষেত্রে। নতুন লোক সীমান্ত এলাকা অতিক্রম করে ওপারে যেতে হলে দালালের সাহায্য নিতে হয়। টাকার বিনিময়ে দালাল সীমান্ত এলাকা দিয়ে সুযোগ বুঝে ওপারে পৌঁছে দিতে পারে। একইভাবে ওপার থেকে এপারেও আসতে পারে। তবে খুব সাবধানতা অবলম্বন করে যাতায়াতের এই সুবিধা নিতে হয়। এক সঙ্গে একের অধিক লোক সীমানা অতিক্রম করা ঝুঁকিপূর্ণ। বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিনের শিলং উপস্থিতির সংবাদ শুনে স্থানীয়ভাবে এই বিষয় নানানভাবে আলোচিত হচ্ছে। ডাউকি সীমান্ত থেকে শিলং-এর দূরত্ব প্রায় ৮৪ কিলোমিটার। সড়ক পথে যেতে আড়াই ঘণ্টা সময় লেগে যায়। সালাহউদ্দিন সেখানে বলেছেন তার চোখ বেঁধে তাকে মারুতি গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। মারুতি গাড়ি নিয়ে বাংলাদেশ সীমানা অতিক্রম করে যাবার কোন সুযোগ যেহেতু নেই সেখানে কেবা কারা তাকে কোথায় পেয়ে তার চোখ বেঁধে নিয়ে গেল সেটা নিয়ে আলোচনার অন্ত নেই। রাতের অন্ধকারে দীর্ঘ সীমান্তের যে কোন স্থান দিয়ে অবৈধভাবে প্রবেশ করে সালাহউদ্দিন ভারতে গিয়ে পৌঁছতে পারেন এবং শিলং পর্যন্তও যেতে পারেন। সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ কালাইরাগ সীমান্ত দিয়ে ভারতের লাখাট তানসিং বাজার হয়ে শিলং যাবার সুযোগ রয়েছে। পুলিশের হেফাজতে থাকা সালাহউদ্দিনের সঙ্গে এখন কথা বলা যাচ্ছে না। শিলংয়ে প্রচুর বাঙালীর বসবাস। শিলংয়ের বিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয়ে সিলেট তথা বাংলাদেশের অনেক ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া করে থাকে। এছাড়া ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে এই অঞ্চলের মানুষের ভাল অবস্থান রয়েছে সেখানে। এই অঞ্চলের অনেক রাজনৈতিক নেতার ছেলেমেয়েরা সেখানে পড়াশুনা করছে। বিশেষ করে মেঘালয় থেকে কয়লা আমদানি করার কারণে সিলেটের অসংখ্য কয়লা আমদানিকারক প্রতিনিয়ত শিলং যাতায়াত করে থাকেন। একজন আমদানিকারক জনকণ্ঠের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, সীমান্ত দিয়ে বৈধভাবে বাংলাদেশ থেকে সরাসরি প্রাইভেট যানবাহন নিয়ে ভারত যেতে অনেক ঝক্কি ঝামেলা রয়েছে। এক্ষেত্রে এনবিআরের দুই উর্ধতন কর্তপক্ষেও ছাড়পত্র নিতে হয়। সালাহউদ্দিনকে বাংলাদেশ থেকে কোন ধরনের যানবাহনে করে চোখ বেঁধে ভারতে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি অকল্পনীয়। শিলং-এ অবস্থানরত বাঙালীদের সালাহউদ্দিন নিয়ে জানার আগ্রহের কমতি নেই। পুলিশের হাতে আটকের পর সালাহউদ্দিন স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেছেন ক’জন অচেনা লোক চোখ বেঁধে তাকে কিডন্যাপ করেছে। কিভাবে কারা কোথা থেকে কখন তাকে কিডন্যাপ করেছে সেটা স্পষ্ট করে কিছু বলতে পারেননি।

প্রকাশিত : ১৪ মে ২০১৫

১৪/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: