রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

উলফা ॥ সন্ত্রাসেই সর্বনাশ

প্রকাশিত : ১৪ মে ২০১৫
  • আজিজুর রহমান

গত শতাব্দীর শেষদিকে এশিয়ায় সন্ত্রাসবাদের জন্য যেসব সংগঠন কুখ্যাতি অর্জন করেছিল, এর মধ্যে অন্যতম ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র সংগঠন দি ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অব অসম (ইউএলএফএ) বা উলফা। এরা সংগঠিত হয়েছিল মূলত কেন্দ্রীয় সরকারের শাসন-শোষণ আর নিপীড়নের বিরুদ্ধে লড়াই করে অসম রাজ্যকে ভারত ইউনিয়ন থেকে বিচ্ছিন্ন করে স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে। এই লক্ষ্য সফল করতে উলফা ভারত রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। এরই অংশ হিসেবে গেরিলা যুদ্ধের নামে শুরু করে পুলিশ, আধাসামরিক ও সামরিক বাহিনীর ওপর অতর্কিত আক্রমণ, হত্যা, জনপদ-জনসমাবেশ, বাস-ট্রেনে বোমা হামলা চালিয়ে সাধারণ মানুষ হত্যা, শিল্প-কারখানা সংশ্লিষ্টদের অপহরণ, থানা-ব্যাংক লুট, খুন, রাস্তা-ব্রিজ-পুল ইত্যাদি উড়িয়ে দেয়ার মতো নানা গণবিরোধী সন্ত্রাসী কর্মকা-। ভারতের শত্রুভাবাপন্ন দেশগুলোর জন্য ভারতের বিরুদ্ধে ব্যবহারে উলফা হয়ে ওঠে এক অপ্রতিরোধ্য ও অমোঘ অস্ত্র। দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনৈতিক সমীকরণ বিবেচনায় ভারতের সঙ্গে বৈরী সম্পর্কের সূত্র ধরে প্রতিবেশী অনেক রাষ্ট্রের অতীতের সরকারগুলো উলফাকে আশ্রয়-প্রশ্রয় ও পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছে। এমনকি প্রশিক্ষণ দিয়েও সহায়তা করেছে। উলফার সন্ত্রাসী কর্মকা-ে অর্থ ও অস্ত্র যোগানসহ প্রধান মদদদাতা হিসেবে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের বিরুদ্ধে ভারত বিভিন্ন সময় প্রচুর তথ্য প্রমাণ দিয়ে পাকÑ সরকারের কাছে অভিযোগ জানিয়েছে। ভারতীয় গোয়েন্দারা প্রমাণ পেয়েছে, আইএসআই কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে উলফার নানা তৎপরতায় সহায়তা দিয়ে সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ায় সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে। এরই ধারাবাহিকতায় নেপাল, ভুটান, মিয়ানমার এবং বাংলাদেশে উলফা ঘাঁটি গাড়তে সক্ষম হয়।

১৯৮৯ সালে উলফা প্রথম বাংলাদেশে ঘাঁটি গাড়ে। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের শেষ পর্যায়ে এরশাদের ক্ষমতা ছাড়ার বছরখানেক আগে দেশের চরম রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার সুযোগে তখন বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার গারো পাহাড়সংলগ্ন সীমান্তবর্তী এলাকায় ১৩-১৪টি ক্যাম্প স্থাপন করে সংগঠনটি ভারতবিরোধী তৎপরতা শুরু করে। এরপর খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি (১৯৯১-৯৬) ক্ষমতা গ্রহণের পরই সরকারের সক্রিয় সমর্থন ও সহযোগিতায় উলফা তাদের তৎপরতা আরও ব্যাপক, বিস্তৃত ও জোরদার করতে থাকে। পর্যায়ক্রমে তারা সমরাস্ত্র ও বিস্ফোরকের চালান বাংলাদেশের ওপর দিয়ে অবাধে পাচারের নেটওয়ার্ক গড়ে তোলে। মূলত এই সময় থেকেই উলফার শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা বাংলাদেশে তাদের স্থায়ী আস্তানা গড়ে তুলতে থাকে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যেও নেমে পড়ে।

উলফাকে আশ্রয়-প্রশ্রয় ও সার্বিক সহযোগিতাই নয়, বাংলাদেশের ভূখ- ব্যবহার করে ভারতের অভ্যন্তরে সশস্ত্র হামলা চালিয়ে পশ্চাদভূমি হিসেবে বাংলাদেশে নিরাপদ আশ্রয় নেয়ার সুযোগও সৃষ্টি করে দেয় বিএনপি সরকার। আর এই উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী ৫টি জেলাÑ জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা ও হবিগঞ্জের বিশাল দুর্গম এলাকা কার্যত উলফার দখল ও নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। এখান থেকেই তারা ভারতবিরোধী সকল কর্মকা- পরিচালনা করতে থাকে। এরপর আওয়ামী লীগ (১৯৯১-৯৬) শাসনামলে উলফার সব ধরনের তৎপরতা বন্ধ করে দেয় সরকার। সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে হাসিনা সরকারের কঠোর অবস্থানের কারণে উলফা নেতারা বাংলাদেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়। বিচ্ছিন্নতাবাদ, জঙ্গীবাদসহ সকল ধরনের সন্ত্রাস নির্মূলে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক অঙ্গীকার আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক সমর্থন লাভ করে। এর ফল হিসেবে ১৯৯৭ সালের ২১ ডিসেম্বর সংগঠনটির দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা অনুপ চেটিয়াসহ আরও দুজন নেতা বাবুল শর্মা ও লক্ষ্মীপ্রসাদ বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হন। অনুপ চেটিয়ার কাছ থেকে দুটি বাংলাদেশী পাসপোর্ট উদ্ধার করা হয়। এসব অবৈধ পাসপোর্ট ব্যবহার করে তার আমেরিকা, ব্রিটেন, সুইজারল্যান্ড, স্পেন, থাইল্যান্ড, ফিলিপিন্স, সিঙ্গাপুর, নেপাল, ভুটান, মিয়ানমারসহ বিভিন্ন দেশ ভ্রমণের তথ্য পাওয়া যায়।

অনুপ চেটিয়া উলফার অতি গুরুত্বপূর্ণ নেতা। ভীমকান্ত বুড়াগোহাইন ও অনুপ চেটিয়ার ডাকে ১৯৭৯ সালের ৭ এপ্রিল অরবিন্দ রাজখোয়া, পরেশ বড়ুয়া, প্রদীপ গগৈ, শশধর চৌধুরী, চিত্রবন হাজারিকা, বেনিং রাভা, রামুমেচ, রাজু বড়ুয়া, কমল বোড়া, বৃষ্টি রাজখোয়াসহ বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব শিবসাগর জেলার রঙঘরে এক বৈঠকে মিলিত হয়ে সশস্ত্র বিপ্লবের মাধ্যমে স্বাধীন সার্বভৌম অসম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সংগ্রামের আহ্বান জানান। সেই সঙ্গে গঠন করেন স্বাধীনতাকামী সংগঠন দি ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অব অসম সংক্ষেপে উলফা। প্রথম দিকে সংগঠন পরিচালনার জন্য গঠন করা হয় ১৬ সদস্যের একটি কেন্দ্রীয় কমিটি। পরবর্তীকালে এই কমিটিকে বর্ধিত করে রাজনৈতিক ও সামরিক এই দুই শাখার সমন্বয়ে ২৭ সদস্যবিশিষ্ট একটি শক্তিশালী কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির রাজনৈতিক শাখার সদস্যরা হচ্ছেন : চেয়ারম্যান- অরবিন্দ রাজখোয়া, ভাইস চেয়ারম্যান- প্রদীপ গগৈ, মহাসচিব- অনুপ চেটিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক- অশান্ত বাঘফুকান, অর্থসম্পাদক- চিত্রবন হাজারিকা, আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পদক- শশধর চৌধুরী, তাত্ত্বিক নেতা-ভীমকান্ত বুড়াগোহাইন (প্রয়াত, ফাদার অব উলফা), সাংস্কৃতিক সম্পাদক- প্রণতি ডেকা, সদস্য-মিথ্যাংগ ডাইমার ও রামুমেচ। সামরিক শাখা : কমান্ডার ইন চিফ- পরেশ বড়ুয়া, ডেপুটি কমান্ডার ইন চীফ- রাজু বড়ুয়া, ডেপুটি কমান্ডার ইন চীফ- ধৃষ্টি রাজখোয়া, প্রধান প্রশিক্ষণ অফিসার- কমল বোড়া, সদস্য- বেনিং রাভা, রবিন নেওগ, নিলো চক্রবর্তী, সমরজিৎ চলিহা, চক্র গোহাইন, অমল নাড়কাড়িয়া, তপন বড়ুয়া, চিন্তামনি হাজারিকা, মানিক শর্মা, ভাস্কর চৌধুরী, ভাস্কর দত্ত, প্রহলাদ সাইকিয়া ও মানস গগৈ। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য অসম, মেঘালয়, মনিপুর, ত্রিপুরা, নাগাল্যান্ড, অরুণাচল ও হিমাচলÑ সেভেন সিস্টারস হিসেবে খ্যাত এই ৭ রাজ্যের অন্যতম হচ্ছে অসম। ২০১১ সালের তথ্য অনুযায়ী, ৭৮ হাজার ৫৫০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের ২৭ জেলা নিয়ে গঠিত রাজ্যটির মোট জনসংখ্যা ৩ কোটি ১১ লাখ ৬৯ হাজার ২২৭ জন। জেলাগুলো হচ্ছেÑ ১. বারপেটা, ২. কাছাড়, ৩. বনগাইগাও, ৪. চিরাং, ৫. দাররাং, ৬. ধেমাজি, ৭. ধুবরি, ৮. ডিমাহাসাও, ৯. ডিব্রুগড়, ১০. গোয়ালপাড়া, ১১. গোয়ালঘাট, ১২. হাইলাকান্দি, ১৩. জোড়হাট, ১৪. কামরূপ, ১৫. গুয়াহাটি, ১৬. কারবি, ১৭. নওগাও, ১৮. করিমগঞ্জ, ১৯. কোকরাঝাড়, ২০. লক্ষ্মীমপুর, ২১. মারিগাও ২২. নালবাড়ি, ২৩. শিবসাগর, ২৪. সনিতপুর, ২৫. তিনসুকিয়া, ২৬. উদালগাড়ি ও ২৭. বাকসা। এই জেলাগুলোকে ৪টি ম-ল অর্থাৎ ৪টি অঞ্চলে ভাগ করে শুরু হয় ভারত রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে লড়াই। কিন্তু ক্রমশ এ যুদ্ধ চলে যায় অসমের সাধারণের মানুষের বিরুদ্ধে। দিন যতই যেতে থাকে সংগঠনটি ধীরে ধীরে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসী সংগঠনে পরিণত হয়। প্রথম থেকেই আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে যায় উলফার সকল নেতারা।

পরবর্তীতে বিএনপি-জামায়াত জোট (২০০১-০৬) শাসনামলে উলফা আরও বেপরোয়া ও ভয়ঙ্কর এবং সংগঠনটির তৎপরতা আগের তুলনায় বেশি প্রকাশ্যে চলে আসে। শুধু উলফাই নয়, বিএনপি-জামায়াতের এই শাসনকালে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ৭ রাজ্যের বিচ্ছিন্নতাবাদী বেশ কয়েকটি সংগঠন বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় ঘাঁটি গেড়ে ভারতবিরোধী তৎপরতা চালাতে থাকে। বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক শক্তি বিএনপির সঙ্গে উলফার এই সম্পর্ক তৈরির ক্ষেত্রে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আসামের বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত মুসলমানদের দি মুসলিম ইউনাইটেড লিবারেশন টাইগারস অব অসম (এমইউএলটিএ) বা মুলটা এবং দি মুসলিম ইউনাইটেড লিংকস ফোর্স অব অসম (এমইউএলএফএ) বা মুলফা নামের সংগঠন দুটির সঙ্গে বাংলাদেশের জামায়াতের ইসলামী ও কয়েকটি জঙ্গীগোষ্ঠীর আদর্শগত সম্পর্কের সূত্র ধরে সম্মিলিতভাবে তারা এই ভূমিকা পালন করে। তবে নাটের গুরু পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই তো আছেই। এভাবেই উলফা বাংলাদেশে ঢুকে পড়ে। এবং ধীরে ধীরে ব্যবসা-বাণিজ্যে, প্রশাসনে, সমাজে ও সরকারের অভ্যন্তরে শক্তি সঞ্চয় আর আধিপত্য বিস্তার করে পরিণত হয় সন্ত্রাসের দানব-ফ্রাঙ্কেনস্টাইনে। একপর্যায়ে দেশের অভ্যন্তরেও সন্ত্রাস বিস্তারে অদৃশ্য ভূমিকা রাখতে শুরু করে। উলফা নেতারা অনেকে সীমান্তবর্তী অঞ্চলে তাদের উপজাতি সম্প্রদায়ের মধ্যে বিয়ে এবং ব্যবসা-বাণিজ্য করে অনেকটা স্থায়ী বাসিন্দাদের সমপর্যায়ে উঠে আসে। তাছাড়া প্রচুর অর্থবিত্তের কারণে এসব এলাকায় তাদের ব্যাপক প্রভাববলয়ও গড়ে ওঠে। সর্বোপরি অসমের অহমিয়া জনগোষ্ঠীর সঙ্গে বাংলাদেশের গারো পাহাড় সংলগ্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর দৈহিক আকৃতি ও সংস্কৃতিগত সাদৃশ্য থাকায় উলফাদের তারা ‘স্বজাতি’ ভেবে একাত্মবোধ থেকে অহমিয়াদের স্বাধীনতার প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে ওঠে। এছাড়া অসম স্বাধীনতা লাভ করলে উপজাতি অধ্যুষিত বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকাও অসম রাষ্ট্রে অন্তর্ভুক্ত হবেÑ এমন আকাক্সক্ষা থেকে বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর লোকজন উলফাদের আশ্রয় ও নিরাপত্তাসহ যে কোন সহায়তা দিতে প্রস্তুত থাকত।

উলফার আয়ের প্রধান উৎস ছিল আন্তর্জাতিক অস্ত্র ও মাদক চোরাচালান, বনের কাঠ পাচার, অপহরণ, বাণিজ্য, ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও গুদাম লুট এবং স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিদেশী গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছ থেকে প্রাপ্ত অর্থ। তবে অঢেল অর্থের মালিক এই সংগঠনের নেতাদের অর্থসম্পদের পরিমাণের সঠিক তথ্য পাওয়া খুব কঠিন। কারণ সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলোর অর্থ কঠোর গোপনীয়তা রক্ষা করে এবং এত বেশি হাতবদল হয় যে ওই জটিল-কঠিন অন্ধকার ব্যূহ ভেদ করে প্রকৃত হিসাব বের করা সত্যি দুঃসাধ্য। উলফা বাংলাদেশে বিভিন্ন ব্যবসা খাতেও অর্থ বিনিয়োগ করে। এর মধ্যে রয়েছে মিডিয়া, পানীয়, খাদ্য, আবাসিক হোটেল, বেসরকারী হাসপাতাল এবং একাধিক মোটরযান প্রশিক্ষণ স্কুল। তবে পরেশ বড়ুয়া এককভাবে মনিটরিং করতেন ট্যানারি শিল্প, গার্মেন্টস, নৌ ও সড়ক পরিবহন, ডিপার্টমেন্টাল স্টোরস, ট্রাভেল এজেন্সি খাতে বিনিয়োগ বাণিজ্য।

২০০৫ সালে জানা যায়, বাংলাদেশে উলফার হোটেল ও ব্যাংক হিসাব পরিচালনার খবর। ভারতের সীমান্ত রক্ষাবাহিনী বিএসএফ তখন দাবি করে, ঢাকার মোহাম্মদপুরের তাজমহল রোডে, মিরপুর ও বনানীতে উলফা পরিচালিত ৩টি হোটেল রয়েছে। এছাড়া, সিলেটে আরও ২টি হোটেল রয়েছে। ঢাকার ৩টি হোটেল পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন সবুল বড়ুয়া ওরফে আহমদ, সতীশ শর্মা ওরফে কামাল এবং আশীষ ডেকা ওরফে হোসাইন। সিলেটের জিন্দাবাজার ও বিশ্ববিদ্যালয় সড়কে উলফার হোটেল দুটি পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন দুলাল রায় ওরফে সাইদুল এবং অনিল কুমার দে ওরফে সোহেল। উলফার ৩টি ব্যাংক হিসাবের মধ্যে ১টি ঢাকায়, ১টি সিলেটে ও ১টি চট্টগ্রামে- এই ৩টির হিসাবই ইসলামী ধারার একটি ব্যাংকে খোলা হয়েছিল। সংগঠনটির শীর্ষ পর্যায়ের অন্তত এক ডজন নেতা বাংলাদেশে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেছিল। পরেশ বড়ুয়া কামরুজ্জামান খান নামে এবং উলফাপ্রধান অরবিন্দ রাজখোয়ার ইনামুল হক নামে বাংলাদেশের পাসপোর্ট ব্যবহার করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করার তথ্য পাওয়া যায়। (চলবে)

লেখক : গবেষক

প্রকাশিত : ১৪ মে ২০১৫

১৪/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: