কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৩ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

আলো ছড়ালেন আজহার

প্রকাশিত : ১৩ মে ২০১৫
  • মাহমুদুা সুবর্ণা

বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ আর একমাত্র টি২০ ম্যাচে লজ্জাজনকভাবে হার মানে পাকিস্তান। কিন্তু টেস্ট সিরিজেই ঘুরে দাঁড়ায় তারা। খুলনা টেস্ট ড্র হলেও মিরপুর টেস্ট জিতে ১-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতে নেয় পাকিস্তান। আর এর পেছনে বড় ভূমিকা রাখেন আজহার আলী।

অধিনায়ক হলে নাকি ব্যাটিংয়ে চাপ পড়ে। রান তোলা কঠিন হয়ে যায়। ভারতীয় ক্রিকেটের জীবন্ত কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকরও সেই চাপ সামলাতে পারেননি। কিন্তু আজহার আলী যেন ভিন্ন ছাঁচে গড়া। দলেই ছিলেন না অনেক দিন। টেস্ট ব্যাটসম্যান হিসেবেই পরিচিতি পেয়ে গিয়েছিলেন। একদিনের ক্রিকেটে খেলার সুযোগই পাচ্ছিলেন না তেমন। ২০১১ বিশ্বকাপের পর অভিষেক। এরপর ২০১৩ পর্যন্ত ওয়ানডে খেলার সুযোগ পান তিনি ১৪টি। অথচ ২০১০ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত টেস্ট খেলেন তিনি ৩৯টি। খুব ধীরগতির ব্যাটসম্যান। আলগা শট খেলেনই না বলা যায়। যে কারণে টেস্টে প্রতি ১০০ বলে তাঁর রান মাত্র ৩৯.৫৬। ৭৪ ইনিংসে ৭টি শতক আর ১৮টি অর্ধশতক তাঁর। গড় ৪১.৩১। পারফেক্ট টেস্ট বলতে যা বোঝায় তাই। গত বিশ্বকাপে পাকিস্তানের নির্বাচকরা তাঁকে দলেই রাখেননি। কিন্তু বিশ্বকাপের পর চমক দেখালেন তাঁরা। বাংলাদেশ সফরের জন্য পাকিস্তান ওয়ানডে দলের দায়িত্ব চাপিয়ে দেয়া হয় আজহার আলীর ওপর। অনেকেই বিস্মিত হয়েছিলেন নির্বাচকদের এ সিদ্ধান্তে। কিন্তু প্রথম খেলাতেই তিনি নির্বাচকদের আস্থার প্রতিদান দেন ৭২ রানের ইনিংস খেলে। দল হারলেও তাঁর ব্যাটিং নজর কাড়ে সবার। বেশির ভাগ সময় ওয়ান ডাউনে খেলা এ ব্যাটসম্যান বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজে তিন খেলাতেই ওপেনারের দায়িত্ব পালন করেন। পরের খেলাতেও করেন ৩৬ রান। তৃতীয় একদিনের ম্যাচে নিজেকে নিয়ে যান নতুন উচ্চতায়। স্পর্শ করেন ওয়ানডেতে প্রথম তিন অঙ্কের সংখ্যা। ২০১২ সালে একবার শতরানের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন। কিন্তু পাল্লেকেলেতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওই খেলায় ৯৬ রান করে আউট হয়ে যান। কিন্তু মিরপুরের শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে অনেক আত্মবিশ্বাস নিয়ে শুরু করে শতরান স্পর্শ করার পর অবশ্য খেই হারিয়ে ফেলেন তিনি। ১১১ বলে শতরান করে পরের বলেই সাকিব আল হাসানের প্রথম শিকার হয়ে ফিরে যান। ১৭ ওয়ানডেতে কিন্তু তাঁর গড় মন্দ নয়, চমৎকারই, ৪৭.২১। তবে স্ট্রাইক রেট তেমন বেশি নয়, ৭০.১৬। ১৭ খেলাতে তাঁর ছক্কার মার মাত্র একটি। তবে ওয়ানডেতে ৬৬১ রানের মধ্যে চার মেরেছেন ৬১টি। শুধু একদিনের সিরিজেই নয়, টেস্টেও নিজের জাত চেনালেন আজহার আলী। প্রথম টেস্টে নিজেকে মেলে ধরতে না পারলেও দ্বিতীয়টিতেই ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরির মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। তাও আবার নিজস্ব স্টাইলে! হাফসেঞ্চুরি, সেঞ্চুরি, দেড় শ’ এমনকি ডাবল সেঞ্চুরিও পূরণ করলেন ওভারের শেষ বলে। শুধু কি তাই, এসব মাইলফলকে পৌঁছতে আশ্রয় নিলেন বাউন্ডারি কিংবা ওভার বাউন্ডারির। মিরপুরের আকাশে যখন রোদ ও মেঘের লুকোছুরি খেলা, বৃষ্টি হবে কি হবে না এমন চিন্তায় যখন সবাই মগ্ন, তখনই বাংলাদেশের বোলারদের শাসন করে ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি করেন পাকিস্তানের এই ব্যাটসম্যান। দ্বিতীয় টেস্টে ব্যক্তিগত ১৮ রানে নো বলের কল্যাণে বেঁচে যাওয়া আজহার ডাবল সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন সাকিবের বলে ছক্কা মেরে। ঢাকা টেস্টের দ্বিতীয় দিনে ২০তম (১১০তম) ওভারের শেষ বলে সাকিবকে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ৩২৩ বলে আজহার পূর্ণ করেন ১৫০ রান। ১৩৯ ওভারের শেষ বলে সেই সাকিবকেই ছয় মেরে ৪০৬ বলে ডাবল সেঞ্চুরি করেন পাকিস্তানের ওয়ানডে অধিনায়ক আজহার। এর আগে প্রথম দিনে ৭২তম ওভারের পঞ্চম বলে তাইজুলকে মিড অফে চার মেরে ২৩২ বলে সেঞ্চুরি করেন এবং ৪৫তম ওভারের শেষ বলে শুভাগতের বল পয়েন্ট অঞ্চলে ঠেলে দিয়ে এক রান নিয়ে ১৩২ বলে অর্ধশত করেন আজহার। ১৪৭ ওভারের শুরুতে শুভাগতের বলে লং অফে আজহারের উড়ে যাওয়া বলটি লুফে নেন মাহমুদুল্লাহ। সাজঘরে যাওয়ার আগে আজহারের সংগ্রহ ৫২.৮০ গড়ে ২০ চার ও ডাবল ছক্কায় ২২৬ রান। প্রথম দিনে ইউনুসের সঙ্গে ২৫০ এবং দ্বিতীয় দিনে আসাদ শফিকের সঙ্গে ২০৭ রানের পার্টনারশিপ গড়েন তিনি। বাংলাদেশ সফরের শুরু থেকেই পাকিস্তানের অন্যান্য ব্যটিসম্যান সফল না হলেও ধারাবাহিক রান পাচ্ছিলেন আজহার আলী। খুলনা টেস্টে ৮৩ রান করেন তিনি। সফরের শেষটা তিনি রঙিন তুলির অঁাঁচড়ে রাঙালেন ২২৬ রানের কাব্যিক ইনিংস খেলে। সিরিজে দ্বিতীয় পাকিস্তানী ব্যাটসম্যানের ডাবল সেঞ্চুরি এটি। প্রথম টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরি করেন মোহাম্মদ হাফিজ। মোহাম্মদ শহিদকেই সবার আগে অভিনন্দিত করা উচিত পাকিস্তানী ব্যাটসম্যান আজহার আলীর। মাত্র ১৮ রানে থাকা অবস্থায় মোহাম্মদ শহিদ যদি ওই ‘নো’ বলটি না দিতেন, তাহলে আর ক্যারিয়ারে প্রথম ডাবল সেঞ্চুরির দেখা পেতেন না বাংলাদেশ সফরে মিস্টার ধারাবাহিকে পরিণত হওয়া এই ব্যাটসম্যান। এটিসহ মোট আটটি টেস্ট সেঞ্চুরি রয়েছে আজহারের। এর আগে তার ১৫৭ রানের দুটি ইনিংস রয়েছে ইংলান্ড ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। দুটিই ২০১২ সালে। ওই বছরই শ্রীঙ্কার বিপক্ষে পালেকেল্লেতে আরও একটি শতক (১৩৬) রয়েছে তাঁর। এটি ছাড়াও গত বছর ও ২০১১ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে একটি করে সেঞ্চুরি রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আবুধাবিতে গত বছরই দুটি সেঞ্চুরি রয়েছে তাঁর। আট সেঞ্চুরিতে একবার অপরাজিত ও একবার এলবিডব্লিউ ছাড়া বাকি ছয়বারই ক্যাচ আউট হন তিনি। বাংলাদেশের বিপক্ষে পুরো সিরিজেই দুর্দান্ত খেলা আজহার আলী দ্বিতীয় টেস্টের ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন। সেই সঙ্গে সিরিজসেরার পুরস্কারটাও নিজের শোকেসে তোলেন আজহার আলী। বাংলাদেশের বিপক্ষে অসাধারণ পারফর্মেন্স উপহার দেয়া পাকিস্তানের ওয়ানডে অধিনায়ক দারুণ উচ্ছ্বসিত। ব্যাট হাতে এই ধারাবাহিক পারফর্মেন্স পরবর্তী টুর্নামেন্টেও ধরে রাখতে চান তিনি।

প্রকাশিত : ১৩ মে ২০১৫

১৩/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: