আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

অগ্রযাত্রা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ

প্রকাশিত : ১৩ মে ২০১৫
অগ্রযাত্রা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ
  • রোকসানা বেগম

সামনেই ভারতের বিপক্ষে সিরিজ। এক টেস্ট, তিন ওয়ানডের সিরিজ হবে। জুনের প্রথম সপ্তাহে এ সিরিজ খেলতে বাংলাদেশে আসবে ভারত। এ সিরিজে অগ্রযাত্রা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জেই নামতে হবে বাংলাদেশকে।

সেই গত বছরের শেষ দিকে যে জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষে দাপট দেখিয়ে খেলেছে বাংলাদেশ, মাঝখানে বিশ্বকাপে ও সম্প্রতি পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজেও সেই যাত্রা অব্যাহত থেকেছে। সিরিজের শেষ ম্যাচে, দ্বিতীয় টেস্টে হার ছাড়া পুরো সিরিজেই একক আধিপত্য বিস্তার করেছে বাংলাদেশ। সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি করছে। সেই এগিয়ে যাওয়ার পথে আবারও সাফল্য দেখানোর চ্যালেঞ্জই এবার বাংলাদেশের সামনে। ভারতের বিপক্ষে ১০ জুন শুরু হতে যাওয়া টেস্টে জিতে যাবে বাংলাদেশ, এ আশা কেউই করছে না। তবে হারলেও যেন লড়াই করেই হারে। সেই চাওয়া সবার। ড্র করতে পারলে তো বিরাট সাফল্যই মিলে যাবে। তবে ১৮, ২১ ও ২৪ জুন যে তিনটি ওয়ানডে রয়েছে। সেই সিরিজ নিয়ে সবার ভেতরই আছে বড় আশা। সেই আশাও আবার আকাশছোঁয়া নয়। পাকিস্তানের চেয়ে ভারত অনেক শক্তিশালী দল। তা সবারই জানা। তাই বলে বাংলাদেশ একটি ওয়ানডে জিততে পারবে না, সিরিজ জয়ের হাতছানি দিতে পারবে না; এমনটি কেউই ভাবে না। সবার ভাবনায় আছে, যেভাবে বাংলাদেশ দিনের পর দিন সাফল্যের পথে এগিয়ে চলেছে, তাতে এবার ভারতকে চেপে ধরতে পারবে। সবার মনের বিশ্বাস যে সত্য, তা প্রমাণ করার চ্যালেঞ্জও থাকছে বাংলাদেশের সামনে।

সেই চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুতও বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররা। বাংলাদেশ ওয়ানডে দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা ইঙ্গিত দিয়েছেন, ‘আসলে পাকিস্তান থেকে ভারত অনেক শক্তিশালী দল। তাদের ব্যাটিং বিভাগ এবং স্পিন বিভাগ অনেক শক্তিশালী। সম্প্রতি তাদের পেস আক্রমণও ভাল হয়ে উঠেছে। ভারতের স্পিনাররা আইপিএলে অনেক ভাল ফর্মে আছে। আমরা তাদের বড় চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে চাই। আমরা তাদের অনেক ভালভাবেই মোকাবেলা করতে পারব। যদি আমরা ভুলগুলো শুধরে ফেলি।’

মুশফিকুর রহীম বলেছেন, ‘ভারত সিরিজের আগে আমরা বিসিএলে ম্যাচ খেলার সুযোগ পাব। প্রস্তুতিতে এটা কাজে লাগবে। এই সিরিজে যারা ভাল খেলেছে, তারা জানে তাদের কী করতে হবে। যারা খারাপ করেছে, তারা দ্রুত ফর্মে ফিরতে চেষ্টা করবে।’ বোঝাই যাচ্ছে, পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ শেষ হতেই ভারতের বিপক্ষে সিরিজ নিয়ে ক্রিকেটাররা ভাবতে শুরু করে দিয়েছেন। পেশাদার যুগে এমনই হয়। যা গেছে, তা নিয়ে ভাবার কোন অবকাশ নেই। যা আছে, আসছে; তা নিয়েই ভাবতে হয়। বাংলাদেশ ক্রিকেটাররাও তাই করছে।

তবে পাকিস্তানের বিপক্ষে যে দুর্দান্ত একটি সিরিজ গেছে, সেটি কোনভাবেই কী ভোলা যায়? তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে পাকিস্তানকে ‘বাংলাওয়াশ’ করেছে টাইগাররা। প্রথম ওয়ানডেতে ৭৯ রানে হারিয়েছে। এ ম্যাচ জয়ে ১৯৯৯ সালের পর ১৬ বছর পর পাকিস্তানের বিপক্ষে না জেতার আক্ষেপ ঘুচেছে। সেই অধরা জয়টি মিলে গেছে। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৭ উইকেটে যখন জিতল বাংলাদেশ, প্রথমবারের মতো ওয়ানডে সিরিজই জিতে নিল। তৃতীয় ওয়ানডেতে ৮ উইকেটে জিতে পাকিস্তানকে তো হোয়াইটওয়াশই করল বাংলাদেশ। পাত্তাই পায়নি পাকিস্তান। হেসেখেলে পাকিস্তানকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। এরপর যখন একমাত্র টি২০ ম্যাচটি হয়েছে, সেখানেও দাপট দেখিয়েই জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ। প্রথমবারের মতো পাকিস্তানকে টি২০তে হারিয়েছে। তাও ৭ উইকেটের বড় জয়ই তুলে নিয়েছে মাশরাফি বিন মর্তুজার দল।

নির্ধারিত ওভারের খেলা শেষ হয়ে গেল। এবার পাঁচ দিনের টেস্ট ক্রিকেট খেলতে নামে দু’দল। খুলনায় হলো প্রথম টেস্ট। ম্যাচটিতে পাকিস্তানের জেতার সম্ভাবনাই ধরা হলো। একটা সময় পাকিস্তান জেতার সম্ভাবনাও তৈরি করল। কিন্তু আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররা কী খেলাই না দেখালেন! দ্বিশত করা তামিম ও ১৫০ রান করা ইমরুল মিলে প্রথম উইকেটে দ্বিতীয় ইনিংসে ৩১২ রানের জুটির বিশ্বরেকর্ড গড়লেন। এ জুটিতেই পাকিস্তানের সব আশা হতাশায় পরিণত হলো। টেস্ট জেতার স্বপ্ন ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গেল। চতুর্থ আর পঞ্চমদিন তো পাকিস্তানকে খুঁজেই পাওয়া গেল না। এত দুর্দান্ত খেলে ড্র মিলল, যে ড্রতে জয়ের আনন্দ পাওয়া গেল। পুরো সিরিজেই শুধু বাংলাদেশ ক্রিকেটারদের জয়গান গাওয়া হলো। পাকিস্তান ক্রিকেটারদের কোনভাবেই খুঁজে পাওয়া গেল না। বাংলাদেশ এর মধ্যে ইতিহাসের সেরা সাফল্যই কুড়িয়ে নিল। ওয়ানডে সিরিজে পাকিস্তানকে ‘বাংলাওয়াশ’ করে টি২০তেও জিতল। আবার প্রথম টেস্টও ড্র করে নিল। বার বার যে পাকিস্তান নাস্তানাবুদ করত বাংলাদেশকে, এবার উল্টো চিত্রই মিলে গেল।

এবার দ্বিতীয় টেস্টে নামার পালা। মিরপুরে হবে সেই টেস্ট। এ টেস্টে এসে প্রথমবারের মতো পাকিস্তান জয়ের গন্ধ পেল। ওয়ানডের পর টি২০তে জিতে প্রথম টেস্ট ড্র করার পর বাংলাদেশকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখা হয়েছে। সেই স্বপ্ন ছিল একটি টেস্ট জেতারও। দ্বিতীয় টেস্টেই সেই সুযোগ দেখা হয়েছে। কিন্তু এবার আর বাংলাদেশ কুলিয়ে উঠতে পারল না। দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া একটি দল দেখাল চূড়ান্ত লড়াই। যে লড়াইয়ের সামনে এবার আর বাংলাদেশ পারল না। তাতে দ্বিতীয় টেস্টে হারও হলো অনেক বড় ব্যবধানেই। ৩২৮ রানে হারল বাংলাদেশ। খেলা শেষ হতে চার দিনও লাগল না।

দ্বিতীয় টেস্টে বাংলাদেশের ‘যাচ্ছেতাই’ অবস্থা হলো। এর পরও পাকিস্তানের বিপক্ষে যে খেলল বাংলাদেশ, যেভাবে দাপট দেখিয়ে একের পর এক ম্যাচ জিতে নিল, শেষটা যতই রংহীন থাকুক; তবুও ইতিহাসের সেরা সাফল্যই মিলেছে। বাংলাদেশ অধিনায়ক মুশফিকুর রহীমই তা বুঝিয়ে দিয়েছেন, ‘শেষটা সবাই মনে রাখে। তবে আমরা যে এতদূর পর্যন্ত এসেছি, সেটাও কম অর্জন নয়। ভাল খেলার কৃতিত্ব পুরো দলকে এবং টিম ম্যানেজমেন্টকে দিতে হবে। বাংলাদেশ দল সাত মাস ধরেই ভাল ক্রিকেট খেলছে।’

সেই গত বছরের শেষে জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষে সিরিজ থেকেই শুরু হয়েছে জয়যাত্রা। দেশের মাটিতে টানা ১২টি জয় পেয়েছে বাংলাদেশ! জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষে ৫টি ওয়ানডে, তিনটি টেস্ট, পাকিস্তানের বিপক্ষে তিনটি ওয়ানডে, ১টি টি২০ জয় হয়েছে। এর সঙ্গে বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার গৌরবও যুক্ত হয়েছে। পাকিস্তানের বিপক্ষে শেষ টেস্টটিতে হারা ছাড়া পুরো সিরিজে বাংলাদেশই প্রাধান্য দেখিয়েছে। এখন এ প্রাধান্য, দাপট, কর্তৃত্ব সামনে ধরে রাখার পালা। বাংলাদেশ যে সত্যিই ভাল দল হয়ে উঠেছে, সেই প্রমাণ ভারতের বিপক্ষে সিরিজেও দিতে হবে। অগ্রযাত্রা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জই এখন বাংলাদেশের সামনে। এ যাত্রাতেও বাংলাদেশ সফল হোক, সেই প্রত্যাশাই সবার।

প্রকাশিত : ১৩ মে ২০১৫

১৩/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: