রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

ব্যাংক সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে আনার প্রস্তাব এফবিসিসিআইয়ের

প্রকাশিত : ১৩ মে ২০১৫

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ ঋণের বিপরীতে ব্যাংক সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার প্রস্তাব দিয়েছে ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই। জিডিপি প্রবৃদ্ধির আলোকে ৩৪ শতাংশ বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে ঋণ ও আমানতে সুদ হারের ব্যবধান (স্প্রেড) ৩ শতাংশে নামিয়ে আনার কথা বলা হয়েছে। একইসঙ্গে আগামী বাজেটে অবকাঠামো উন্নয়ন, রফতানি প্রণোদনা, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, পর্যটন শিল্পের বিকাশ ও দেশীয় শিল্পের উন্নয়নে কর ও শুল্ক নীতি প্রণয়ন করার প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি।

মঙ্গলবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আসন্ন ২০১৫-১৬ অর্থবছরের জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) পরামর্শক কমিটির ৩৬তম সভায় এফবিসিসিআইয়ের পক্ষে এসব প্রস্তাবনা তুলে ধরেন সংগঠনটির সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ।

এফবিসিসিআইয়ের বাজেট প্রস্তাবনা তুলে ধরে কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, আমাদের অর্থনীতি বেসরকারী বিনিয়োগকেন্দ্রিক। তবে দুর্বল অবকাঠামো ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার অভাবে বিনিয়োগ হচ্ছে না। এছাড়া ব্যাংকের উচ্চ সুদহার, বিদ্যুত ও জ্বালানির অপর্যাপ্ততা, অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা ও শিল্প প্লট না পাওয়ায় বিনিয়োগ থমকে দাঁড়িয়েছে।

তিনি বলেন, অর্থনৈতিক উন্নয়নের বড় নিয়ামক হচ্ছে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা। জাতীয় নির্বাচনের বর্ষপূর্তি কেন্দ্রিক রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা জাতীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। স্থিতিশীল পরিবেশের নিশ্চয়তা ছাড়া বিনিয়োগকারীরা বড় ও দীর্ঘমেয়াদী প্রকল্পে আগ্রহী হয় না। বিনিয়োগের সঠিক পরিবেশ ফিরিয়ে নিয়ে এসে বিশ্বে বাংলাদেশের ইমেজ সঠিকভাবে তুলে ধরার পদক্ষেপ নিতে হবে।

আগামী বাজেট ব্যবসা ও জনবান্ধব করার প্রস্তাব দিয়ে এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, দেশের জনসংখ্যার বড় অংশ ক্ষুদ্র, মাঝারি ও কুটির শিল্পের সঙ্গে জড়িত। জাতীয় বাজেটে এ শিল্পকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে শিল্পনীতিতে এর নির্দিষ্ট সংজ্ঞা নির্ধারণ করা দরকার। শিল্পের দক্ষতা, সক্ষমতা বাড়াতে ও আঞ্চলিক উন্নয়নে স্পেশাল ইকোনমিক জোন দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।

দেশীয় শিল্পবান্ধব বাজেট প্রণয়নের প্রস্তাব করে কাজী আকরাম বলেন, বিদেশী পণ্য আমদানি করে চললে দেশের কর্মসংস্থান কমে যায়। দেশীয় উৎপাদনকে উৎসাহী ও লাভজনক করতে মূলধনী যন্ত্রাংশ আমদানি বিনা শর্তে ১ শতাংশ শুল্কে, উপকরণ ৩ শতাংশ শুল্কে করা দরকার। আর সম্পূর্ণ পণ্য আমদানি নিরুৎসাহী করতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে ১০ শতাংশ ও বিলাসজাত পণ্যে ২৫ শতাংশের বেশি শুল্ক আরোপ করতে হবে। এছাড়া আন্ডার ও ওভার ইনভয়েসের মাধ্যমে মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আমদানি বন্ধ করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে বলে জানান তিনি।

এদিকে, আগামী অর্থবছরের বাজেটে আয়কর ও মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) কমানোর সুপারিশ করেছে এফবিসিসিআই। বাজেট সামনে রেখে এফবিসিসিআইর পক্ষ থেকে আয়কর, মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ও আমদানি পর্যায়ে ৫৮৭টি প্রস্তাব দেয়া হচ্ছে।

এফবিসিসিআইর প্রস্তাবের মধ্যে আয়করের ওপর ১৪১টি প্রস্তাব রয়েছে। এতে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ঘটেছে প্রায় ৭ শতাংশ। গত অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি এর চেয়ে বেশি ছিল। গত অর্থবছরে ব্যক্তিগত করমুক্ত আয়সীমা পরিবর্তন করা হয়নি। এ কারণে ব্যক্তিগত করমুক্ত সীমা ২ লাখ ২০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ২ লাখ ৭৫ হাজার করার প্রস্তাব করেছে সংগঠনটি। এছাড়া বিনিয়োগ আর্কষণ ও শিল্পায়নের স্বার্থে শিল্পের মৌলিক কাঁচামালের ওপর আমদানি পর্যায়ে অগ্রিম আয়কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রস্তাব দিয়েছে এফবিসিসিআই। এখন ৫ শতাংশ হারে আছে। আগামী অর্থবছরের বাজেট সামনে রেখে এফবিসিসিআই মূল্য সংযোজন কর-সংশ্লিষ্ট ১২৮টি প্রস্তাব দিয়েছে।

প্রকাশিত : ১৩ মে ২০১৫

১৩/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: