মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

ভিডিও ফুটেজে দশ-বারো জন শনাক্ত, এরা সবাই বহিরাগত

প্রকাশিত : ১৩ মে ২০১৫
  • ঢাবি ক্যাম্পাসে যৌন হয়রানি সম্পর্কে ডিএমপি মুখপাত্র

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় যৌন হয়রানির সঙ্গে জড়িত ১০-১২ জনকে ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে শনাক্ত করেছে পুলিশ। রবিবার ছাত্র ইউনিয়নের ডিএমপি কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচীতে পুলিশের লাঠি-পেটাসহ লাঞ্ছিত করার ঘটনা কেন অবৈধ হবে না এবং জড়িতের বিরুদ্ধে কেন আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে না, তা জানতে এবং আগামী ১৪ জুন এই প্রতিবেদন দিতে স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের আইজিসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি রুল জারি করেছে হাইকোর্টের বেঞ্চ। এ ঘটনায় পুলিশ সদর দফতর ও ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) গঠিত দুই তদন্ত কমিটি ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। সাত দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে ডিএমপির তদন্ত কমিটিকে। তদন্ত কমিটি ঘটনার জন্য দায়ী ও দোষী ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার জন্য সাক্ষ্য, প্রমাণ, আলামত সংগ্রহ, জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে।

বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে যৌন হয়রানির সঙ্গে জড়িত ১০-১২ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (গোয়েন্দা) যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করা হয়েছে।

যাদের শনাক্ত করা হয়েছে, তাদের প্রকৃত নাম, পরিচয় পাওয়া যায়নি। তবে নাম, পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। নাম পরিচয় জানা গেলেই তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। যাদের শনাক্ত করা হয়েছে, তারা কেউই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নয় বলেও দাবি করেছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

ডিএমপির মুখপাত্র মনিরুল ইসলাম বলেন, নির্যাতনকারীরা সবাই বহিরাগত। বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন স্থান থেকে লোকজন আসে। হয়ত তাদের মধ্যে কোন একটি দল এ ঘটনা ঘটিয়েছে। আমরা ফুটেজের মাধ্যমে তাদের চিহ্নিত করেছি। পাশাপাশি বিভিন্ন গণমাধ্যমেও নারী নির্যাতনকারীদের বিষয়ে তথ্য চাওয়া হয়। সেই পরিপ্রেক্ষিতে নানা ধরনের তথ্য পাওয়া গেছে। সব যাচাই-বাছাই করে অন্তত ১০-১২ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা এ ঘটনায় জিরো টলারেন্স নিয়ে কাজ করছি। আমাদের পক্ষ থেকেই নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করা হয়েছে। এ বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত টিমও গঠন করা হয়েছে। ন্যক্কারজনক এ ঘটনার সঙ্গে যারাই জড়িত তাদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানান তিনি।

তদন্তের সঙ্গে ডিএমপির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানান, বর্ষবরণের যৌন হয়রানির ঘটনার পর তদন্ত কমিটির সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠকে মিলিত হন। যৌন নিপীড়কদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করেন তাঁরা। তবে তাঁরা নিশ্চিত হন, নারী লাঞ্ছনাকারী বখাটেরা বহিরাগত। তারা কেউ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নয়। বর্ষবরণের ঘটনার দিনে যৌন হয়রানির ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করছেন অনুসন্ধান কমিটির সদস্যরা। ঘটনার সঙ্গে জড়িত বখাটেদের শনাক্ত করে তাদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান চালাচ্ছে আলাদা কয়েকটি টিম।

পহেলা বৈশাখ বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় কয়েক নারী যৌন হয়রানির শিকার হন। বিষয়টি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার পায়। এ ঘটনায় পরের দিন ১৫ এপ্রিল শাহবাগ থানায় মামলা দায়ের করে পুলিশ।

ঘটনার অনুসন্ধানে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সদস্যরা হলেন, অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম এ্যান্ড অপারেশন) ইব্রাহিম ফাতেমি, যুগ্ম কমিশনার (লজিস্টিক এ্যান্ড প্রকিউরমেন্ট) ওয়াই এম বেলাল হোসেন ও উপ-পুলিশ কমিশনার জাহাঙ্গীর আলম মাতুব্বর।

তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার ইব্রাহিম ফাতেমি বলেন, তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। যারাই এ ধরনের ঘটনা ঘটাক আমরা তাদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি।

বর্ষবরণের দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে যৌন হয়রানির ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলো ধারাবাহিক প্রতিবাদ ও আন্দোলন করে আসছে। গত ১০ মে ছাত্র ইউনিয়ন ডিএমপি কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচী দেয়। এ সময় পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ বাধে। এ ঘটনায় এক ছাত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগে পুলিশের নায়েক আনিসকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এই ঘটনায় পুলিশ সদর দফতর ও ডিএমপির পুলিশ কর্মকর্তাদের মাধ্যমে পৃথক দুইটি তদন্ত কমিটি গঠন করে ঘটনার তদন্ত করা হচ্ছে।

নতুন কর্মসূচী ॥ মঙ্গলবার ধর্মঘট পালনের পর এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন কর্মসূচী ঘোষণা করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে প্রগতিশীল ছাত্র জোট ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী ছাত্র ঐক্য। প্রগতিশীল ছাত্র জোটের সমন্বয়ক ও ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি হাসান তারেক এই কর্মসূচী ঘোষণা করেন। পহেলা বৈশাখে নারীদের ওপর নিপীড়নকারীদের শাস্তি দাবিতে ডিএমপি ঘেরাও মিছিলে হামলাকারীদের শাস্তি দাবি করে তিনি বলেন, আগামী ৭ দিনের মধ্যে দাবি মেনে নেয়া না হলে আগামী ১৬ মে বিকেলে শাহবাগে সংহতি সমাবেশ ও ২০ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাও করা হবে। সংবাদ সম্মেলনে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি সাইফুজ্জামান সাকন, বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রীর সভাপতি সালমান রহমান, ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক লাকী আক্তার, ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল মাহমুদও উপস্থিত ছিলেন।

ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি হাসান তারেক দাবি করেন, কয়েকটি স্থানে হামলা হলেও তাদের ডাকা ধর্মঘট সারাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে পালিত হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, ধর্মঘটের সমর্থনে প্রচার চালানোর সময় সোমবার রাতে ছাত্র ইউনিয়নের খুলনা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) শাখার আহ্বায়ক সুজয় চৌধুরী সাম্যের ওপর হামলা চালায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। মঙ্গলবার সকালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের হামলায় ছাত্রফ্রন্টের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার দফতর সম্পাদক প্রসেনজিৎ সরকার, অর্থ সম্পাদক কৃষ্ণ বর্মণ, সহ-সম্পাদক সমিত ও সদস্য আমিনেষ আহত হন। ছাত্র ইউনিয়নের চট্টগ্রামের চন্দনাইশ থানা শাখার সভাপতি শ্রীকান্ত বৈদ্য ও সাধারণ সম্পাদক অনুপ চক্রবর্তী বরকল এস জেড হাইস্কুলে ধর্মঘটের প্রচারে গেলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালায় বলেও দাবি করা হয় সংবাদ সম্মেলনে।

ধর্মঘট সফল করতে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদ ও বিভাগের সামনে অবস্থান নেন প্রগতিশীল ছাত্রজোট ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী ছাত্র ঐক্যের নেতাকর্মীরা। বিভিন্ন ভবনে তালাও ঝোলায় তারা। ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি লিটন নন্দী বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কয়েকটি বিভাগে পরীক্ষা হয়েছে। তাছাড়া সব বিভাগের শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে আমাদের আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। ধর্মঘটের সমর্থনে বিভিন্ন অনুষদ ও ইনস্টিটিউটে প্রচার চালানোর পর সংবাদ সম্মেলনের আগে ক্যাম্পাসে মিছিল এবং কলা ভবনের সামনে সমাবেশ করে আন্দোলনকারীরা।

প্রক্টর বলেন ॥ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আমজাদ আলী সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, আমরা তাদের (আন্দোলনকারীদের) বলেছি, যে সব বিভাগের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, তার যেন বিঘœ না ঘটে।

প্রকাশিত : ১৩ মে ২০১৫

১৩/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: