মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

সালাহউদ্দিন মেঘালয়ে

প্রকাশিত : ১৩ মে ২০১৫
সালাহউদ্দিন মেঘালয়ে
  • গ্রেফতার করেছে ভারতীয় পুলিশ
  • ফিরিয়ে আনতে ভারত যাচ্ছেন স্ত্রী হাসিনা আহমেদ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ অবশেষে সালাহউদ্দিন নাটকের অবসান হলো। হদিস মিলেছে তার। তিনি এখন মেঘালয়ে। নিখোঁজ হওয়ার ৬৪ দিন পর মঙ্গলবার খোঁজ মিলল বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদের। বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াসহ দলের অন্য নেতারা এবং সালাহউদ্দিনের স্ত্রী হাসিনা আহমেদ ধারাবাহিক মিথ্যাচার চালিয়ে এতদিন বলে আসছিলেন সরকার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সালাহউদ্দিন নিখোঁজের সঙ্গে জড়িত। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বরাবরই বলা হয়েছে সালাহউদ্দিনকে তারা আটক করেননি। বিএনপি যে এতদিন মিথ্যাচার করেছে তার প্রমাণ মিলেছে মঙ্গলবার। কারণ সালাহউদ্দিন এখন ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলংয়ের পাস্তুরহিল এলাকার মিম হ্যানস মানসিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। স্বামীর সঙ্গে ফোনালাপের পর তাকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন স্ত্রী হাসিনা আহমেদ।

এদিকে বিডিনিউজ জানায়, সালাহউদ্দিন আহমেদের স্ত্রী ভারত থেকে স্বামীর ফোন পাওয়ার কথা বলার অন্তত ১২ ঘণ্টা আগে ওই নামে এক বাংলাদেশীকে গ্রেফতার করে মানসিক হাসপাতালে পাঠানোর কথা জানিয়েছে মেঘালয় রাজ্যের পুলিশ। মেঘালয় রাজ্যের শিলং নগর পুলিশের সুপার বিবেক শ্যাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের ভারত প্রতিনিধিকে জানান, সোমবার রাতে শহরের গলফ লিংক এলাকা থেকে ৫৪ বছর বয়সী এক বাংলাদেশীকে তারা গ্রেফতার করেন। ওই ব্যক্তি পুলিশকে বলেন, তার নাম সালাহউদ্দিন আহমেদ, তিনি বাংলাদেশী। কিন্তু ভ্রমণের কাগজপত্র দেখাতে না পারায় পুলিশ তাকে থানায় নিয়ে যায়। তাকে খুবই বিধ্বস্ত দেখাচ্ছিল। কথাবার্তাও স্বাভাবিক বলে মনে হচ্ছিল না। এ কারণে আমরা তাকে মেঘালয় ইনস্টিটিউট অব মেন্টাল হেলথ এ্যান্ড নিউরো সায়েন্সেস হাসপাতালে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেই। জানা যায়, সালাহউদ্দিনকে ভারতে পাঠিয়ে দিয়ে বিএনপি হাইকমান্ড ও তার স্ত্রী হাসিনা খবরটি গোপন রাখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ভারতীয় পুলিশ মেঘালয় থেকে তাকে গ্রেফতারের পর তড়িঘড়ি করে সংবাদ মাধ্যমে এ খবর প্রচার করেন হাসিনা আহমেদ। আর এ খবর প্রচারের আগে তিনি খালেদা জিয়ার সঙ্গেও দেখা করে পরামর্শ নেন।

অভিজ্ঞ মহল মনে করছে, সালাহউদ্দিনের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপি যে নোংরা রাজনীতি করতে চেয়েছিল তা আর সম্ভব হলো না। টানা ৯২ দিন নাশকতামূলক আন্দোলন চালিয়ে বিএনপি জোট ব্যর্থ হওয়ার পর তাদের হাতে আর কোন অস্ত্র ছিল না। তাই সালাহউদ্দিনের নিখোঁজের ঘটনাকে নিয়ে রাজনীতি করতে চেয়েছিল বিএনপি। কিন্তু বিএনপির এ চেষ্টা ভেস্তে যাওয়ায় দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে।

স্বামী সালাহউদ্দিন আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ভারত যাচ্ছেন তার স্ত্রী হাসিনা আহমেদ। ভারত যাওয়ার জন্য ভিসা পেতে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা সাবিহউদ্দিন আহমেদকে সঙ্গে নিয়ে মঙ্গলবার বিকেলেই ভারতীয় দূতাবাসে যান স্ত্রী হাসিনা আহমেদ। তার সঙ্গে আরও দুই আত্মীয় ভিসা চেয়ে ভারতীয় দূতাবাসে আবেদন করেছেন। ভিসা পাওয়ার পর পরই তারা ভারতের মেঘালয়ের উদ্দেশে রওনা দেবেন বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন হাসিনা আহমেদ।

মঙ্গলবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে ভারতের মেঘালয় থেকে স্ত্রী হাসিনা আহমেদকে ফোন করে বেঁচে আছেন বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, ‘আমি বেঁচে আছি, সুস্থ আছি। আমার জন্য দোয়া কর।’ স্বামীর সঙ্গে ফোনে কথা বলা শেষ করে অতি দ্রুত হাসিনা আহমেদ ছুটে যান বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার বাসায়। তিনি খালেদা জিয়াকে স্বামীর সন্ধান পাওয়ার সুখবরটি দিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। এর পর তিনি কিভাবে সালাহউদ্দিনকে দেশে ফিরিয়ে আনা যায় সে ব্যাপারে খালেদা জিয়ার পরামর্শ চান। দুপুরে সোয়া ১২টা থেকে সোয়া ১টা পর্যন্ত খালেদা জিয়ার সঙ্গে প্রয়োজনীয় কথা সেরে হাসিনা আহমেদ তার গুলশানের বাসায় ফিরে আসেন।

বিকেল পৌনে ৩টায় হাসিনা আহমেদ নিজ বাসায় সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করেন। তিনি বলেন, সালাহউদ্দিন আহমেদ এখন ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলংয়ের পাস্তুরহিল এলাকার মিম হ্যানস মানসিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। এক প্রশ্নের জবাবে হাসিনা আহমেদ বলেন, সালাহউদ্দিন ভাল আছেন, সুস্থ আছেন। তাকে ভারতের মেঘালয় থেকে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সহযোগিতা লাগবে। আমি এ ব্যাপারে সরকারের সহযোগিতা চাই। তিনি বলেন, ১০ মার্চ সালাহউদ্দিনকে উত্তরার একটি বাসা থেকে তুলে নেয়ার পর আমি সন্তানদের নিয়ে কিভাবে দিন কাটাচ্ছি তা বলে শেষ করা যাবে না। তাই যত দ্রুত স্বামীকে কাছে ফিরে পাব ততই আমার ও আমার পরিবারের জন্য মঙ্গল। স্বামীর সন্ধান পাওয়ায় আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করে হাসিনা আহমেদ বলেন, এখন মানসিক শান্তি পাচ্ছি। আমার বিশ্বাস ছিল তিনি বেঁচে আছেন।

হাসিনা আহমেদ বলেন, পাস্তুরহিল হাসপাতালের এক চিকিৎসক ফোন করে সালাহউদ্দিনের সঙ্গে কথা বলিয়ে দেন। যার সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি সালাহউদ্দিন আহমেদ কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে হাসিনা বলেন, আমার স্বামীর কণ্ঠ আমি চিনব না এটা কি করে হয়। আমি আমার স্বামীর সঙ্গেই কথা বলছি। তিনি বলেন, আমার স্বামী সুস্থ আছেন বলে আমাকে জানিয়েছেন। আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে তার কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছি। এ ব্যাপারে সবার সহযোগিতা চাই। দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, দেশবাসী ঘটনার পর থেকেই আমাদের পরিবারের সঙ্গে ছিলেন। আমাদের সাহস দিয়েছেন। দোয়া করেছেন। দেশবাসীর কাছে আমরা কৃতজ্ঞ।

সন্ধ্যায় গুলশানের বাসায় আবারও সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন হাসিনা আহমেদ। এ সময় তিনি বলেন, সালাহউদ্দিন আমাকে বলেছেন, তার প্রচ- ঠা- লেগেছে তাই তাকে যেন তাড়াতাড়ি দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হয়।

এদিকে আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, সালাহউদ্দিন আহমেদের সন্ধানে প্রমাণ হয়েছে এতদিন বিএনপি মিথ্যাচার করেছে। মঙ্গলবার দুপুরে আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানম-ির রাজনৈতিক কার্যালয়ে ১৪ দলের এক সভা থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য সংসদ ভবনের মিডিয়া সেলে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে বলেন, মেঘালয় থেকে সালাহউদ্দিন আহমেদের ফোন এসেছে তাও ভাল। কারণ কোন অন্ধকারালয় থেকে তো ফোন আসেনি। তিনি বলেন, গণতন্ত্রের রাজনীতি প্রকাশ্য, অন্তর্ধানে থেকে রাজনীতি হয় না। অন্তরালের রাজনীতি করলে অন্তর্ধানে যেতে হয়। আর বিপদ তখনই আসে।

১০ মে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদ নিখোঁজের ২ মাস পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত তার হদিস না পাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সেই সঙ্গে তিনি অবিলম্বে সালাহউদ্দিনকে ফিরিয়ে দেয়ার দাবি জানান। তিনি অভিযোগ করেন সালাহউদ্দিন আহমেদকে রাজধানীর উত্তরা এলাকার একটি বাসা থেকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকেরা ধরে নিয়ে গেছে। ২ মাস পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত তার কোন হদিস পাওয়া যাচ্ছে না।

সালাহউদ্দিন আহমেদের সন্ধানের খবর পেয়ে বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের মধ্যে স্বস্তি নেমে আসে। খবর শোনার সঙ্গে সঙ্গে দুপুরে নয়াপল্টন বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও সালাহউদ্দিন আহমেদের গুলশানের বাসায় গিয়ে ভিড় করে দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা। সন্ধ্যায় বিএনপি চেয়ারপার্সনের গুলশান কার্যালয়েও দলীয় নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন স্তরের লোকজন ভিড় করে।

প্রসঙ্গত ১০ মার্চ রাতে উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরের ১৩-বি নম্বর সড়কের একটি বাড়ির দোতলার ফ্ল্যাট অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা সালাহউদ্দিন আহমেদকে তুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন তার স্ত্রী। এক পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকেরা তাকে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেন হাসিনা আহমেদ। কিন্তু আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয় সালাহউদ্দিন কোথায় আছেন তারা জানেন না। বিএনপির পক্ষ থেকেও অভিযোগ করা হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সালাহউদ্দিনকে নিয়ে গেছে। নিখোঁজ হওয়ার পর এখানে আছেনÑ ওখানে আছেন বলে বেশ ক’বার গুজব রটে। কিন্তু তার সন্ধান মেলেনি।

বিএনপি জোটের টানা অবরোধ ও দফায় দফায় হরতাল কর্মসূচী এবং বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ে অবস্থানকে কেন্দ্র করে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা চলছিল তখন অজ্ঞাত স্থান থেকে এক মাসের বেশি সময় ধরে বিএনপির নামে গণমাধ্যমে বিবৃতি পাঠান দলের যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদ। এভাবে অজ্ঞাত স্থান থেকে বিবৃতি পাঠানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সমালোচনা হয়।

১০ মার্চ রাতে নিখোঁজ হওয়ার পরদিন সালাহউদ্দিন আহমেদের স্ত্রী হাসিনা আহমেদ গুলশান থানা ও উত্তরা থানায় জিডি করতে চাইলেও পুলিশ তা নেয়নি বলে সে সময় তিনি অভিযোগ করেন। এ ব্যাপারে উচ্চাদালতের স্মরণাপন্ন হওয়ার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেন হাসিনা আহমেদ। সরকারের নির্দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাই সালাহউদ্দিনকে নিয়ে গেছে বলে সে সময় বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়। তবে সরকারের পক্ষ থেকে সে অভিযোগ নাকচ করা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সালাহউদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়নি। তবে তাকে আটক করতে খুঁজছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অপরদিকে সালাহউদ্দিনের নিখোঁজের ঘটনায় তার দলের হাত রয়েছে বলে পাল্টা অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বিএনপিপন্থ’ী আইনজীবীদের সহায়তায় স্বামীর খোঁজ চেয়ে হাসিনা আহমেদ উচ্চ আদালতে যাওয়ার পর সালাহউদ্দিনকে খুঁজে বের করতে নির্দেশ দেন আদালত। এরপর পুলিশের পক্ষ থেকে আদালতকে বলা হয়, তারা এই বিএনপি নেতার কোন খোঁজ জানে না। তবে সালাহউদ্দিনকে খুঁজে পাওয়া গেল কি না সে বিষয়ে নিয়মিত অগ্রগতি প্রতিবেদন দিতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়ে হাইকোর্ট ১২ এপ্রিল আবেদনটি নিষ্পত্তি করে দেয়। এর মধ্যে ১৯ মার্চ ও ৭ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গিয়ে দুই দফা স্মারকলিপি দিয়ে আসেন হাসিনা আহমেদ। তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। কিন্তু তিনি প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাত পাননি।

এদিকে সালাহউদ্দিন নিখোঁজের পর ক’দিন পরপর তার স্ত্রী হাসিনা আহমেদ সংবাদ সম্মেলনসহ বিভিন্ন আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে তার স্বামীকে ফিরে পেতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সরকারের সহযোগিতা চান। বিএনপির পক্ষ থেকেও দফায় দফায় সালাহউদ্দিনকে ফিরে পেতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা চাওয়া হয়।

প্রসঙ্গত সরকারী কর্মকর্তা হিসেবে ১৯৯১-৯৬ মেয়াদের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার এপিএস ছিলেন সালাহউদ্দিন আহমেদ। পরে তিনি চাকরি ছেড়ে কক্সবাজারের চকরিয়া থেকে সংসদ সদস্য হন। এরপর ২০০১ সালে বিএনপি সরকারের সময় যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার স্ত্রী হাসিনা আহমেদ সংসদ সদস্য ছিলেন।

সালাহউদ্দিনের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে- পঙ্কজ শরন ॥ ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার পঙ্কজ শরন বলেছেন, বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদের বিষয়টি বিএনপির পক্ষ থেকে আমাকে জানানো হয়েছে। তার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মঙ্গলবার বিকেলে সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে সাক্ষাত শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

প্রমাণ হলো সালাহউদ্দিনকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অপহরণ করেনিÑ আইজিপি ॥ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) একেএম শহীদুল হক বলেছেন, সালাহউদ্দিনের সঙ্গে তার স্ত্রী হাসিনা আহমেদের কথোপকথনের মাধ্যমে প্রমাণ হলো যে বিএনপির এই নেতাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অপহরণ করেনি। দুপুরে পুলিশ সদর দফতরে সাংবাদিকদের কাছে এমন মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই তার সন্ধান করছিল পুলিশ। বিএনপির এই নেতার বিরুদ্ধে নাশকতার কয়েকটি মামলা আছে। মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি করেছে আদালত। তিনি কিভাবে ভারতে গেলেন তা খতিয়ে দেখা হবে।

প্রকাশিত : ১৩ মে ২০১৫

১৩/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: