আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৭ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

কৃষকের মুখে তবু নেই হাসি

প্রকাশিত : ১৩ মে ২০১৫

ধান উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন স্বয়ংসম্পূর্ণ। প্রথমবারের মতো চাল রফতানিকারক দেশের তালিকায় নামও উঠেছে। এখন বছরে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টন চাল উৎপাদিত হচ্ছে। অথচ বেসরকারী খাতে অবাধে ভারতীয় কমদামী চাল আমদানি করে বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। অনেক দেরিতে হলেও সরকার চালে আমদানি শুল্ক আরোপ করেছে। ভারতীয় চালে বাজার সয়লাব হয়ে পড়ায় দেশের কৃষকরা ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন ক্রমাগত। দু’বছর ধরে আমনে লোকসান দিচ্ছেন তারা। এবার বোরোর দাম নিয়েও শঙ্কা কৃষকের। কৃষি উপকরণ সহজলভ্য হওয়ায় দেশের বিভিন্ন জেলায় এবারও বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। কৃষকের প্রত্যাশার বেশি ফসল ঘরে তুলতে পারলেও ধানের দাম কম হওয়ায় তারা লোকসানের ঝুঁকিতে পড়েছেন। তাই কৃষকের মুখে নেই হাসি। বাজারে ধানের চাহিদাও নেই। নেই বাজার মূল্য। সর্বত্র এখন ধান কাটা ও মাড়াই চলছে- তবে তাতে অতীতের মতো উৎসব ভাব নেই। তিন দফা কালবৈশাখী ঝড়ের আঘাত ও শিলাবৃষ্টিতে ধান গাছ মাটিতে পড়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তারপরও বাম্পার ফলন হওয়ায় প্রথমে কৃষকরা খুশি হলেও বাজারদর ও চাহিদা না থাকায় দুশ্চিন্তা ও হতাশায় নিমজ্জিত তারা। সার, বীজ, কীটনাশক, পানি, সেচ ও দিনমজুরসহ প্রতি বিঘা জমিতে গড়ে ১২/১৩ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এ হিসেবে প্রতিমণ ধান উৎপাদনে খরচ পড়েছে ৮শ’ টাকার বেশি। বাজারে বর্তমানে প্রতিমণ (৪০ কেজি) ধান বিক্রি হচ্ছে প্রকারভেদে ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকায়। মৌসুমের শুরুতে অনেক স্থানে ধানের বাজার চলে গেছে ফড়িয়া-পাইকারদের হাতে। সরকারীভাবেও ধান কেনা শুরু হয়নি। অথচ ১ মে থেকে সংগ্রহ অভিযান শুরু হবে বলে ঘোষণা দিয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয়। দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩২ টাকা কেজি দরে চাল, ২২ টাকা দরে ধান। তাদের হিসেবে প্রতি কেজি বোরো ধান উৎপাদনে ব্যয় হচ্ছে ২০ টাকা, প্রতি কেজি চালে খরচ হচ্ছে ২৭টাকা। কিন্তু বাস্তবে উৎপাদন খরচ আরও বেশি পড়েছে। ফলে কৃষকরা লোকসানের মুখোমুখি এখন। বোরো চাল পুরোদমে বাজারে আসতে শুরু করলে দাম অনেক কমে যেতে পারে। মিল মালিকদের কাছেও প্রচুর চাল মজুদ রয়েছে। এমনিতেই অনেক স্থানে গত দুই বছর ধরে কৃষকরা প্রায় প্রতিটি ফসলের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হয়ে ধান ও পাট চাষ কমিয়ে দিয়েছে। গত তিন মাসের অবরোধ তাদের মেরুদ- অনেকখানি ভেঙ্গে দিয়েছে। ভারত থেকে অবাধে প্রচুর চাল আমদানি করা হচ্ছে আর এ আমদানি নিয়ে খাদ্য অধিদফতরে চলছে লুকোচুরি খেলা। চলতি অর্থবছরের গত নয় মাসে বেসরকারীভাবে চাল আমদানি হয়েছে ১০ লাখ ৮৩ হাজার টন। অথচ এর আগের বছর আমদানি হয়েছিল ৩ লাখ ৭১ হাজার টন। বাংলাদেশের তুলনায় ভারতে চালের দাম কম। তাই আমদানিও বেশি।

দেশে বাম্পার ফলনের পরও অব্যাহতভাবে চাল আমদানি করে কৃষি ও কৃষককে সর্বনাশের পথে ঠেলে দেয়া হচ্ছে যেভাবে, তাতে দেশের বিশাল জনগোষ্ঠী মুখথুবড়ে পড়বে অচিরেই। লোকসানের বৃত্ত হতে বেরিয়ে আসতে পারবে না কৃষক। সরকার চাইলে সাময়িকভাবে চাল আমদানি বন্ধ রাখতে পারে দেশের কৃষি ব্যবস্থা ও কৃষককে সচল রাখার জন্য। সেই সঙ্গে ধান ও চাল সংগ্রহ অভিযান আরও জোরদার করাও জরুরী।

প্রকাশিত : ১৩ মে ২০১৫

১৩/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: