আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৬ ডিসেম্বর ২০১৬, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

বদলে যাওয়া লাইফস্টাইল

প্রকাশিত : ১১ মে ২০১৫
  • রেজাউল করিম খোকন

সময়ের আবর্তনে আমাদের জীবনযাপন অনেক বদলে গেছে। আমাদের লাইফস্টাইলে যুক্ত হচ্ছে নতুন অনেক কিছুই। ১০-১৫ বছর আগে আমরা যেভাবে চলাফেরা করতাম, খাওয়া-দাওয়া করতাম তার সঙ্গে আজকের চলাফেরা, খাওয়া-দাওয়ায় অনেকটাই তফাৎ লক্ষ্য করা যায়। বিশ বছর আগে আমাদের প্রাত্যহিক জীবনযাপনে এমন অনেক অনুষঙ্গ ছিল যা এখন আর নেই। বিশেষ করে তরুণ কিশোর শিশুদের মধ্যে এই পরিবর্তনটা সহজেই চোখে পড়ে। বিশ পঁচিশ বছর আগে আমরা যারা কিশোর বয়সী ছিলাম তখন আমাদের শৈশব, কৈশোর যেভাবে কেটেছে আজকের শিশু কিশোররা কী সেভাবে তাদের সময়গুলো কাটাচ্ছে? এ প্রশ্নের জবাব খুঁজতে গিয়ে অনেক পরিবর্তন এবং নতুত্বের প্রকাশ দেখা পাই সহজেই।

প্রথমেই খাবার-দাবারের কথা ধরা যাক। তখন আজকের মতো শিশু কিশোরদের জন্য স্ন্যাকস খাবার হিসেবে চিপসের ছড়াছড়ি ছিল না। এখন ঢাকা শহর, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনার অভিজাত এলাকা থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত মফস্বল ও গ্রাম এলাকার সাধারণ একটি দোকানে নানা স্বাদের বর্ণিল প্যাকেটে বিভিন্ন কোম্পানির তৈরির চিপস পাওয়া যায়। যার প্রধান ক্রেতা শিশু কিশোররা। ৯০ এর দশকে শহরে শিশু-কিশোর-কিশোরীদের প্রিয় খাবার ছিল মিমি এবং আজিজ চকলেন। যার সঙ্গে নানা ধরনের আকর্ষণীয় স্টিকার ফ্রি দেয়া হতো। এরপর পটেটো ক্রেকারস এর আবির্ভাব ঘটেছে, রিং চিপস এসেছে, এবং ইহা জনপ্রিয় হয়েছে। ধীরে ধীরে শহরে অভিজাত শ্রেণীর মধ্যে পিৎজা খাবার অভ্যাস চালু হয়। গড়ে ওঠে বেশকিছু পিৎজা শপ। দিনে দিনে শহরজুড়ে পিৎজা ক্রেজ ছড়িয়ে পড়ে। স্রেফ শহরের অভিজাত এলাকাতেই নয়, বড় বড় শহরের সাধারণ এলাকায়ও এখন ফাস্টফুডের দোকানে পিৎজা, বারগার, স্যান্ডউইচ পাওয়া যায়। এখনকার সচ্ছল সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের শিশু-কিশোর-কিশোরীরা ফাস্টফুডের দারুণ ভক্ত। স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হলেও আজকাল নাগরিক জীবনে ফাস্টফুডের আসক্তি কমানো যাচ্ছে না। একইভাবে আইসক্রিমের কথা বলা যায়। আমাদের শৈশবে আইসক্রিমওয়ালাদের ঘুরে ঘুরে, হাঁক ছেড়ে আইসক্রিম ফেরি করতে দেখেছি। এখন পাড়া-মহল্লার দোকানে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের আইসক্রিম পাওয়া যায়। এগুলোর দামও বিভিন্ন। খুব কম দামের ললিজ আইসক্রিম থেকে কিছুটা বেশি দামের কোন এবং ম্যাচো আইসক্রিমের বিক্রির পরিমাণও কম নয়। এর পাশাপাশি কুলফি, মালাই আইসক্রিমের চাহিদা রয়েছে। ছোটবড় সব বয়সীদের প্রিয় একটি খাবার চানাচুরের কদর কমেনি দীর্ঘদিনেও। এখন দোকানে দোকানে আকর্ষণীয় প্যাকেটে নানা ব্র্যান্ডের চানাচুর পাওয়া যায়। বিশ-পঁচিশ বছর আগে পাড়া-মহল্লায় খেলার মাঠে মাথায় টুপি পাগড়ি লাগানো পায়ে ঘুঙুর বাঁধা চোখে সানগ্লাস পরা চানাচুরওয়ালাদের দেখা যেত, যাদের হাতে থাকত একটা অদ্ভুত চোঙা। বিচিত্র উচ্চারণে ‘চান্নাচুর’ ‘চান্নাচুর’ ‘গরম গরম চান্নাচুর’ বলে তারা ঘুরে ঘুরে চানাচুর ফেরি করত। চাইনিজ খাবারের প্রচলন সত্তর দশক থেকেই লক্ষ্য করা যায়। তখন শহরের কিছু কিছু জায়গায় গুটিকতক চাইনিজ রেস্টুরেন্ট ছিল, যেখানে খেতে যেতেন অভিজাত শ্রেণীর ধনাঢ্য পরিবারের লোকজন। এখন শহরের সব এলাকাতেই চাইনিজ রেস্টুরেন্ট দেখা যায়। মফস্বল শহরেও চাইনিজ রেস্টুরেন্ট ব্যবসা ক্রমেই জমজমাট হয়ে উঠেছে। এখন ঘরে ঘরে চাইনিজ খাবার রান্নার ব্যাপারে গৃহিণীরা বেশ অভ্যস্ত হয়ে উঠেছেন বলা যায়। নুডলস, চিকেন ফ্রাই, ভেজিটেবল রাইস খেতে এখন আর চাইনিজ রেস্টুরেন্ট যেতে হয় না। সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারে মাঝে মধ্যেই চাইনিজ রান্নার আয়োজন হয়। এখন ঢাকা-চট্টগ্রাম শহরের অভিজাত এলাকায় চাইনিজের পাশাপাশি থাই ইন্ডিয়ান ইটালিয়ান খাবারের রেস্টুরেন্টগুলো বেশ জমজমাট হয়ে উঠেছে। শহরের বড় বড় দামি রেস্টুরেন্ট পেস্ট্রিশপগুলো আধুনিক ও উন্নতমানের হোম ডেলিভারি সার্ভিস দেয়ার মাধ্যমে এখন নাগরিক জীবনে মোটামুটি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। লক্ষণীয় ব্যাপার হলোÑ পৃথিবীর যে কোন প্রান্ত থেকে এখন ঢাকার বড় বড় দামি পেস্ট্রিশপ, রেস্টুরেন্ট, হোটেলগুলোতে কেক, স্ন্যাকস, পিৎজা ও অন্যান্য খাবার হোম ডেলিভারির অর্ডার দেয়া যায়। বিদেশ থেকেই অর্ডারদাতা ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে বিল পরিশোধ করে দিতে পারছেন। ফলে অনেকেই বিদেশ থেকেই প্রিয়জনকে জন্মদিন কিংবা অন্য উপলক্ষে হোম ডেলিভারি সার্ভিসের মাধ্যমে কেক অথবা প্রিয় কোন খাবার সারপ্রাইজ গিফট হিসেবে পাঠিয়ে চমকে দিচ্ছেন।

এইকভাবে বিনোদন, খেলাধুলা প্রভৃতিতেও দিনে দিনে অনেক পরিবর্তনের ছোঁয়া লেগেছে। ৯০ এর দশকে ঘরে ঘরে বিনোদন মাধ্যম হিসেবে সিনেমা হলে গিয়ে সিনেমা দেখা, টেলিভিশন দেখার পাশাপাশি ভিসিআরে ভিসিপিতে হিন্দি ইংরেজী কলকাতার বাংলা সিনেমা দেখার প্রচলন ছিল। তখন টিভি চ্যানেল বলতে সবেধন নীলমনি বিটিভিই ছিল ভরসা। এরপর স্যাটেলাইট টিভির প্রচলন হয়েছে। ক্যাবল লাইন সংযোগের মাধ্যমে বিদেশী টিভি চ্যানেলের জমকালো নানা অনুষ্ঠান দেখার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এখন বাংলাদেশের প্রায় দুই ডজন বেসরকারী টিভি চ্যানেলে রাতদিন ধরে চলা অনুষ্ঠান দেখছেন দর্শক। আমাদের শৈশব-কৈশোরে বিটিভিতে প্রচারিত সিক্সমিলিয়ন ডলার ম্যান, বায়োনিক ওম্যান, ম্যাকগাইভার, আলাদিন, স্পাইডারম্যান, মিকি মাউস, আলিফলায়লা প্রভৃতি বিদেশী সিরিজ তুমুল জনপ্রিয় ছিল। এরপর শিশুদের মধ্যে টম এ্যান্ড জেরি, পোকেমন, ডোরেমন ডোরা প্রভৃতি কার্টুন ছবির কদর বেড়েছে। এখন যেমন ছোটদের মধ্যে ভারতীয় কার্টুন ছবি ‘মোটু পাতুল’র আকাশ ছোঁয়া জনপ্রিয়তা বেশ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এখন ঘরে ঘরে নিক, কার্টুন নেটওয়ার্ক, ডিমকভারি, ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক চ্যানেলের জনপ্রিয়তা প্রমাণ করে দর্শকদের রুচিও পছন্দে অনেক বিবর্তন ঘটেছে।

ছবি : আকিব

মডেল : জিনি, রাব্বি, আদনান, জেসিকা ও ফাহিম

পোশাক : রঙ

মেকআপ : পারসোনা

স্টাইলিং :

এডলফ খান

প্রকাশিত : ১১ মে ২০১৫

১১/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: