আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৬ ডিসেম্বর ২০১৬, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

দেখা ও ধারণ করার শক্তি, পরিণত চিন্তার শিল্পভাষা

প্রকাশিত : ১১ মে ২০১৫
দেখা ও ধারণ করার শক্তি, পরিণত চিন্তার শিল্পভাষা
  • টিটু দেবনাথের আর্টওয়ার্ক

মোরসালিন মিজান ॥ চোখ হঠাৎই আটকে যায়। যেন বড় কোন উৎসব। সে উৎসবের রঙে সেজেছে চারুকলার বকুলতলা। এখানকার বিশালাকৃতির বৃক্ষে যে সবুজ, তার সঙ্গে যোগ হয়েছে গাঢ় লাল রং। লাল রঙের চাকার মতো গোলাকার কিছু আকৃতি তৈরি করে সুতোর সাহায্যে ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে। গাছের ডাল থেকে নিচের দিকে নেমে আসা সুতোয় আকৃতিগুলো ঝুলছে। বকুলতলা থেকে জয়নুল গ্যালারি পর্যন্ত এভাবে সাজানো। লাল সবুজের মিশেলে পরিবেশটা দারুণ রঙিন হয়ে উঠেছে। এর নিচ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার পথ। দর্শনার্থীরা মজা করে হাঁটছেন। দেখে বোঝা যায়Ñ আনন্দভ্রমণ! আদতে এটি একটি ইনস্টলেশন আর্ট। এর মাধ্যমে নিজের কিছু ভাবনার বিস্তার ঘটিয়েছেন শিল্পী টিটু দেবনাথ। প্রাণীর শরীরে রক্তসঞ্চালনের যে প্রক্রিয়া, আর্ট ওয়ার্কের মাধ্যমে তিনি সেটি তুলে ধরেছেন। মেডিক্যাল টার্ম ব্যবহার করে শিল্পীর বলতে চাওয়াÑ রক্তসঞ্চালন ভাল হওয়ার কারণেই প্রাণীকুলের মধ্যে সব সূচকে মানুষ এগিয়ে। মানুষ পর্যবেক্ষণ করতে সক্ষম। চিন্তা করতে ও তা নিজের মতো করে ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করতে সক্ষম। তারও মূলে রক্তসঞ্চালন প্রক্রিয়া। সেই সঞ্চালন প্রক্রিয়ায় যদি মানুষ নিজেই প্রবেশ করার সুযোগ পায়! কেমন অনুভূতি হবে তখন? উত্তর খুঁজতেই ‘চিন্তার উদ্ভাবক’ শিরোনামে গড়া হয়েছে এই স্থাপনা শিল্প।

বাইরের খোলা জায়গায়টি ছাড়াও সাজানো হয়েছে জয়নুল গ্যালারি। সব মিলিয়ে টিটু দেবনাথের শিল্পকর্ম প্রদর্শনীÑ শূন্য, এক। শুক্রবার বিকেলে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। জয়নুল গ্যালারি ঘুরে দেখা যায় ১৪টি চিত্রকর্ম ও ১টি ভিডিও আর্ট। এখানে বিভিন্ন মাধ্যমে নিজের মনোজগতের বাকিটা তুলে ধরতে প্রয়াসী হয়েছেন শিল্পী।

টিটু দেবনাথ সবে চারুকলার পাঠ চুকিয়েছেন। এরপর কিছুটা রয়ে সয়ে প্রথম একক প্রদর্শনী। তবে চিন্তার দিক থেকে পরিণত শিল্পী বলেই মনে হয়। দেখার চোখ আর ধারণ করার ক্ষমতা তাঁর শিল্পকর্ম নির্মাণের কাজটিকে সহজ করে দেয়। প্রচলিত চিন্তার ধুলো ফু দিয়ে উড়িয়ে নিজের মতো করে হেঁটে যান টিটো। গভীরে যান। প্রকৃতির নিগূঢ় রহস্য তাঁকে হাতছানী দিয়ে ডাকে। তিনি নিজেই রহস্যের অংশ হন। সেই রহস্য ভেদ করার দুঃসাহস দেখান কখনও কখনও। প্রথম উদাহরণ হতে পারে ‘অসীম যাত্রা’ শিরোনামে আঁকা চিত্রকর্মটি। এখানে এ্যাক্রেলিকে আঁকা মাছের জীবন। ছুটে চলা। তারপর মৃত্যু। পুরোটাই ছকে আঁকা। এই ছকে আঁকা জীবন মানুষেরও। জীবনচক্র মেনে নিয়েই জীবন। তবে আগেই বলা হয়েছে, শিল্পী এই জীবন মেনে যেমন নিয়েছেন, তেমনি জাল ছিঁড়ে বের হয়ে আসার আকাক্সক্ষা দ্বারা যারপরনাই প্রভাবিত। সে কথাই যেন স্মরণ করিয়ে দেয় তেলরংয়ে আঁকা ‘উচ্চাকাক্সক্ষা’। এখানেও মাছের সাঁতার। প্রতিদিনের জীবন। এ জীবন কোন কোন সময় একঘেয়ে হয়ে পড়ে। কখনওবা নিজের প্রিয় পৃথিবী পুরনো আর পরিত্যক্ত হয়। নতুন কিছু আবিষ্কারের নেশায় বেরিয়ে পড়তে চান শিল্পী। হয়ত তাই একটি মাছকে জলের জীবন ভেদ করে উড়াল দিতে দেখা যায়। প্রায় একইভাবে গভীরে আরও গভীরে যাওয়ার ইচ্ছা শিল্পীকে পথ দেখিয়ে নিয়ে যায়। ‘আমার আত্মার গভীরে’ চিত্রকর্মটি সেই ইচ্ছার বহির্প্রকাশ।

শিল্পীর ‘আকৃতি’ শিরোনামের চিত্রকর্মটিতেও সৃজনশীলতার প্রকাশ ঘটেছে। এখানে আকৃতি ব্যবহার করে নতুন আকৃতি গড়েছেন শিল্পী। কালি দিয়ে ঠোঁটের ছাপ। অসংখ্যা ছাপ পাশাপাশি জুড়ে দিয়ে বিশালাকৃতির ঠোঁট আঁকা হয়েছে।

এসবের বাইরে প্রদর্শনীতে যে ভিডিও আর্ট, সেখানে বিমূর্ততা। এমন অনেক কিছুই ঘটছে যার নির্দিষ্ট কোন রূপ নেই। কিছু ভাবগত। বস্তুগত কিছু। এসবের ব্যাখ্যা নেই কোন। কিংবা ব্যাখ্যা আজও খুঁজে পাওয়া যায়নি।

এভাবে নানা ভাবনা দ্বারা সমৃদ্ধ হয়ে প্রভাবিত হয়ে নিজের শিল্পভাষা তৈরি করেছেন টিটু দেবনাথ। সপ্তাহব্যাপী প্রদর্শনী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চলবে।

প্রকাশিত : ১১ মে ২০১৫

১১/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: