রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

ইন্দোনেশিয়ার সাগরে এবার উদ্ধার ৫শ’ রোহিঙ্গা

প্রকাশিত : ১১ মে ২০১৫
ইন্দোনেশিয়ার সাগরে এবার উদ্ধার ৫শ’ রোহিঙ্গা

স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম অফিস ॥ থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার পর এবার ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম উপকূলে ৫ শতাধিক রোহিঙ্গা নাগরিক বোঝাই দুটি ইঞ্জিনচালিত বোট। এসব রোহিঙ্গা মিয়ানমার ও বাংলাদেশে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করে সেখান থেকে দুর্গম সমুদ্র পথে যে কোন দেশে অভিবাসী হওয়ার ইচ্ছায় যাত্রা করেছিল। গত শনিবার দুই ইঞ্জিন বোট বোঝাই এসব রোহিঙ্গাদের উদ্ধার করেছে ইন্দোনেশিয়ার কোস্টগার্ড ও পুলিশ। সে দেশের অভিবাসন কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে রবিবার আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে ফলাও করে প্রচার হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় নিযুক্ত আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) ডেপুটি চীফ অব মিশন স্টিভ হ্যামিলটন সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, দুই ইঞ্জিন বোট বোঝাই রোহিঙ্গাদের বিশাল এ বহরটি সে দেশের অচেহ প্রদেশের ম্যানথান পুনতংয়ের উদ্দেশে যাচ্ছিল এবং রবিবার গন্তব্যে পৌঁছার কথা ছিল। আইএমও’র পক্ষ থেকে পরিসংখ্যান দিয়ে বলা হয়েছে, একটি বোটে ছিল নারী ও শিশুসহ ৪৩০ জন এবং অপর বোটে ছিল ৭০ জন। উদ্ধারের পর এদের অনেককে স্বাস্থ্যসেবা দেয়া হয়েছে। কেননা, সমুদ্রের দুর্গম পথ পাড়ি দিতে দীর্ঘ সময় লেগে যাওয়ার কারণে এদের অনেকে অনাহারে অর্ধাহারে কাহিল হয়ে পড়েছে। সংবাদ মাধ্যমে বলা হয়েছে, মিয়ানমারে অধিকার বঞ্চিত এবং নির্যাতনের শিকার হয়ে গত কয়েক দশক ধরে সে দেশের রোহিঙ্গা নাগরিকরা মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমাচ্ছে। এ দফতরের ধারণা, সম্প্রতি থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় মানব পাচারের রুটে ব্যাপক কড়াকড়ি আরোপিত হওয়ায় অবৈধ অভিবাসনের এ দলটি ইন্দোনেশিয়াকে টার্গেট করেছিল।

তবে কক্সবাজারের বিভিন্ন সূত্রে বলা হয়েছে, মূলত এ দুটি ইঞ্জিন বোটের টার্গেট ছিল মালয়েশিয়া। এর আগে থাইল্যান্ডে ইতোমধ্যে আবিষ্কৃত বন্দী শিবির ছিল এদের প্রথম ঠিকানা। কিন্তু থাইল্যান্ডে শংখলা প্রদেশে ইতোমধ্যে বন্দী শিবির ও গণকবরের আবিষ্কারের ঘটনার পর সে দেশের সরকার ব্যাপক পাচারবিরোধী অভিযান শুরু করায় এ দুটি ইঞ্জিন বোটে ৫শ’ রোহিঙ্গা নাগরিককে ইন্দোনেশিয়ার পথে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। এ দুটি বোটে শুধু মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নয়, মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে এসে এখান থেকে পাচারের রুটে যাত্রা করতে পারে। তবে বিষয়টি এখনও কোন সংস্থা বা মহল থেকে নিশ্চিত ধারণা দেয়া হয়নি। তবে এটা নিশ্চিত করা হচ্ছে মিয়ানমার ও বাংলাদেশ থেকে যেসব নাগরিক সমুদ্র পথে অবৈধ অভিবাসী হওয়ার জন্য অহরহ যাত্রা করছে এদের সকলের টার্গেট মালয়েশিয়া। মিয়ানমার, বাংলাদেশ, থাইল্যান্ড এবং মালয়েশিয়ার মানব পাচারকারী চক্রের শক্তিশালী একটি চক্র অবৈধ পথে যে পাচার কাজ চালিয়ে আসছে তা মালয়েশিয়াভিত্তিক। থাইল্যান্ড হচ্ছে পাচারকারীদের নিয়ে যাওয়ার পথে ট্রানজিট পয়েন্ট। এ ট্রানজিট পয়েন্টে রেখে এরা অসহায় হতদরিদ্র মানুষদের আটকে রেখে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ আদায় করে থাকে। যারা এতে সমর্থ হয় তাদের মালয়েশিয়ায় পৌঁছে দেয়া হয়। আর যারা ব্যর্থ হয় তাদের বন্দী শিবিরে আটকে রেখে অনাহারে অর্ধাহারে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতে হয়। ইতোমধ্যে থাইল্যান্ডের শংখলা প্রদেশে বহু বন্দীশিবির ও গণকবর আবিষ্কৃত হয়েছে। গণকবর থেকে উদ্ধার হয়েছে গলিত ও পচা লাশ এবং নরকঙ্কাল। এ ঘটনায় জাতিসংঘসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ উদ্বেগ প্রকাশ করার পর থাই সরকার ব্যাপক চাপের মুখে রয়েছে। তাদের স্থল ও সমুদ্রসীমায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। আর এ কারণেই ইন্দোনেশিয়ার সাগরে রোহিঙ্গা নাগরিক বোঝাই এ দুটি ইঞ্জিন বোটের আগমন ঘটে থাকতে পারে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রকাশিত : ১১ মে ২০১৫

১১/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: