মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

ক্যাম্পার ভাস্কর্য ॥ কার্জন হল

প্রকাশিত : ১০ মে ২০১৫

কালের আবর্তে ভাষা আন্দোলনের অনেক স্মৃতি আমরা হারিয়ে ফেললেও আজও মাথা উঁচু করে সগর্বে দাঁড়িয়ে আছে ভাষা আন্দোলনের স্মৃতি বিজড়িত প্রাচ্যের অক্সফোর্ডখ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী কার্জন হল। নেই সেই আম গাছ, নেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন কলা ভবন; কিন্তু কার্জন হল যেন স্বমহিমায় জানান দিয়ে যাচ্ছে তার প্রতিবাদের কথা। উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার বিরুদ্ধে প্রথম প্রকাশ্য প্রতিবাদ উচ্চারিত হয় এই সেই ঐতিহাসিক কার্জন হল ভবন থেকে। ১৯০৪ সালে ভারতের ভাইসরয় লর্ড জর্জ নাথানিয়েল কার্জন এ ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন এবং তারই নামানুসারে এ ভবনের নাম হয় কার্জন হল। ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ হলে ঢাকা হয়ে ওঠে পূর্ববঙ্গ ও অসমের রাজধানী। কার্জন হল তখন ব্যবহার হতো প্রাদেশিক রাজধানীর দফতর হিসেবে। ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ হওয়ার পরে কার্জন হল ঢাকা কলেজ ভবন হিসেবে ব্যবহৃত হতে থাকে। ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর এ ভবনটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ভবন হিসেবে ব্যবহার হতে থাকে এবং এখন পর্যন্ত সেভাবেই চলছে। ১৯৪৮ সালের ২৪ মার্চ। এদিন ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠান। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঢাকা এলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি সদম্ভে ঘোষণা দিলেন-উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা। সমবেত শিক্ষার্থীরা না-না বলে তখন ঘোর প্রতিবাদ জানালেন। আর তখনই ভাষা আন্দোলনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে যায় কার্জন হলের নাম। বর্তমানে কার্জন হল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম প্রধান ভবন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বিজ্ঞান অনুষদের অধিকাংশ বিভাগ এ ভবনটিতে। হাইকোর্ট ভবনের দক্ষিণ দিকে এই ঐতিহ্যবাহী কার্জন হল ভবনটি অবস্থিত। ভবনটির পশ্চিমে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ এবং দক্ষিণে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুলাহ হল। কারুকার্যখচিত বিশাল এ ভবনে রয়েছে একটি বিশাল কেন্দ্রীয় হল। এর বাইরের রং লাল। ভবনটির সামনে রয়েছে একটি প্রশস্ত বাগান, যেখানে সবুজের বুক চিরে পশ্চিম থেকে পূর্বে চলে গেছে একটি রাস্তা। এর পেছনে রয়েছে একটি বিশাল পুকুর যার পশ্চিম পাড়ে শেরে বাংলা ফজলুল হক হলের মূল ভবন। দ্বিতল এ ভবন ঢাকার অন্যতম শ্রেষ্ঠ স্থাপত্য হিসেবে বিবেচিত। ভবনটিতে সংযোজিত হয়েছে ইউরোপ ও মোগল স্থাপত্য রীতির অপূর্ব সংমিশ্রণ। এটি বিশেষ করে পরিলক্ষিত হয় অভিক্ষিপ্ত উত্তর দিকের সম্মুখভাগের অশ্বখুরাকৃতির খাঁজকাটা খিলানের মাঝে। আধুনিক স্থাপত্যবিদ্যা এবং মোগল কাঠামোর সমন্বয় তৈরি করা হয়েছে এর খিলান ও গম্বুজগুলো। এর গম্বুজগুলো আবার আধুনিক ইসলামী স্থাপত্যবিদ্যারও নিদর্শন। স্থাপত্যবিদরা জানিয়েছেন, সম্রাট আকবর নির্মিত ফতেহপুর সিক্রির দুর্গের সঙ্গে এ ভবনের স্থাপত্য নকশার মিল রয়েছে। বর্তমান কার্জন হল ভবনটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাজে ব্যবহৃত হলেও এটি ছাত্রছাত্রীরাসহ দেশ-বিদেশের পর্যটকদেরও বিনোদনের অন্যতম কেন্দ্রও বটে। প্রতিদিন বিকেলে এখানে জমে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী ও দেশ-বিদেশের বিনোদন প্রিয় হাজারো মানুষের আড্ডা। কার্জন হলে রাজধানী শহরের কোলাহলের মধ্যেও সবুজের সমারোহ অনাবিল আনন্দের মাধ্যমে খুব সহজেই পৌঁছে দিতে পারে প্রকৃতির কাছে।

ইমাদুল হক

প্রকাশিত : ১০ মে ২০১৫

১০/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: